১০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের কোন কার্যকরী উদ্যোগ নেই, অবহেলায় ধুঁকছে নাকুগাঁও বধ্যভুমি

  • প্রকাশিত ০৬:২১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ১৪৩ বার দেখা হয়েছে

স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও বধ্যভুমি। পাশের ভারত অংশে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হলেও বাংলাদেশ অংশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের নেই কোন উদ্যোগ। এই বধ্যভূমির বেশিরভাগ জায়গা এখন পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাহাড়ী খরস্রোত ভোগাই নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। যে অংশটুকু রয়েছে তাতেও কখনও খড়ের গাদা, ঝোপঝাড় আবার কখনও গরু ছাগল বিচরণ করতে দেখা যায়।সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মে। এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বর্বরোচিত হামলা চালায় উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের নাকুগাঁও সীমান্তের স্থলবন্দর এলাকায়। পাকহানাদার বাহিনী অতর্কিতভাবে গণহত্যা চালিয়ে ঘন্টা খানিকের মধ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করে অসংখ্য বাংলাদেশ ও ভারতের নিরীহ মানুষকে।স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নাকুগাঁও বধ্যভূমিকে রক্ষার কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এ অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে পাকবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষ। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ বা স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হলেও অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে নাকুগাঁও বধ্যভুমি। স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পরেও সরকারিভাবে দিবসটি পালন করা হয় না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জানা যায়, এদিন পাক-হায়েনাদের হামলায় নিহত হওয়া ৯ জন বিএসএফের হিসেব জানা গেলেও বাংলাদেশিদের সঠিক পরিসংখ্যান আজও জানা যায়নি। নিহত বাঙ্গালীদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল মোতালেব ও আশফাকুর রহমান। এ দুজনের লাশ ভারতের বিএসএফ বাহিনী নাকুগাঁও সীমান্তের ভারত অংশের মসজিদ সংলগ্ন এক কবরস্থানে দাফন করে। বাকি বাঙ্গালীদের লাশ বাংলাদেশে সমাহিত ও ভারতীয়দের ভারতে দাহ করা হয়। আব্দুল মোতালেব নববধূকে ঘরে রেখে ‘জীবন থেকে নেওয়া ছবির প্রিন্ট সাথে নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। এ ছবিটি ভারতের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের অর্থ সংগ্রহ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। তার লেখা ১টি চিঠি ও তার ছবি জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। পারিবারিকভাবে তার স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মাণ করা হয়েছে ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শহীদ আশফাকুর রহমানের পরিচয় অজ্ঞাত। মৃত্যুর পর তার পকেটে ১টি ছবি পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায় তিনি ঘরোয়া পরিবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজ উদ্দিন আহমেদকে খাবার পরিবেশন করছিলেন। এ ছবি দেখেই পাকবাহিনী তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল।এছাড়াও শহীদদের মাঝে যাদের নাম পাওয়া গেছে, তারা হলেন, নুর ইসলাম (ইপিআর), নুরুজ্জামান (পুলিশ), রিয়াজ সরকার, আশরাফ আলী, হযরত আলী, নরেন সাধু, নরেন শীল, নীপেন দে, ফনিন্দ্র দাস, অশ্বনী দাস, আব্বাস সরকার ও তার অষ্টাদশী মেয়ে এবং তার ৮ মাসের ছেলে।এলাকার প্রবীণরা জানান, তখন মুক্তিযুদ্ধ চলছিল। বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বারেঙ্গা পাড়া, চান্দুভূই, ডালু বাজার, মাছংপানি, ছৈপানি ও ডিমাপাড়া সহ বিভিন্ন জায়গায়। দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষ। এ সকল শহীদদের অনেকেই ঘুমিয়ে আছে নাকুগাঁও বধ্যভুমিতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তাদেরকে স্মরণ করা হয় না। আজ পর্যন্তও এ নাকুগাঁও বধ্যভুমিতে কোন স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়নি। অথচ সীমান্তের কুল ঘেঁষে ভারতীয়রা শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মাণ করেছে। এ বধ্যভূমি সংরক্ষণে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকার কোলঘেঁষে নোমেন্স লেন্ড এলাকা হওয়ায় এখানে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা যাচ্ছেনা। তবে এলাকাবাসী জানান, নোমেন্স ল্যান্ড এলাকা হলেও এ বধ্যভূমির আশ পাশে বাংলাদেশ অংশে অনেক বাড়ি-ঘর আর ভারতীয় অংশে বিএসএফ ক্যাম্প ও স্মৃতিফলক নির্মাণ করেছে ভারতীয়রা।

১৯৮৮ ইং সালে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম বেলায়েত হোসেন খসরু ও ১৯৯২ সালের ২৭ জুন জেলা প্রশাসক এখানে স্মৃতি সৌধ নির্মাণের জন্য ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।অজ্ঞাত কারনে সে কাজের কোন অগ্রগতি হয়নি। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী সরজমিনে এই গণকবরের করুন হাল দেখে দ্রুত একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণের মৌখিক নির্দেশ দিলেও এ যাবতকালেও কোন কাজ হয়নি। অথচ ভারত অংশের বধ্যভূমিকে নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে সিমেন্ট ও কংক্রিটের পাইলিং করে তীর রক্ষাবাঁধ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিসৌধ। শুধু অবহেলায় পড়ে আছে আমাদের গৌরবের স্মৃতি।

এই বধ্যভূমির পার্শ্ববর্তী বাড়ীর প্রত্যক্ষদর্শী শ্রী রাজকুমার (৬২) বলেন, আমি দেখেছি এখানে পাকহাদার শত্রু“রা অনেক মানুষ হত্যা করার পর এখানে তাদের গণকবর দেওয়া হয়েছে। সরকার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে এই বধ্যভূমির জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি।

নাকুগাঁও গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আমির ফকির (৭৬) জানান, সে দিনের ভয়াল স্মৃতির কথা। এ দেশের মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুমুক্ত করার জন্য প্রাণ বাজি রেখে যুদ্ধ করছে, আমিও দৃঢ়চিত্তে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। ১৯৭১ সালের ২৫মে হঠাৎ নাকুগাঁও এ পাকবাহীরা আক্রমণ করে অগণিত ভারতের মিত্রবাহিনী ও বাংলাদেশি মুক্তিবাহিনীসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। নাইলা (পাট) জাগের মতো হেইদিন মানুষকে গণকবর দেওয়া অইছিল। কিন্তু এখানে আইজও কোন প্রকার স্মৃতি সৌধ বা স্মৃতিফলক নির্মাণ করা অয় নাই।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শাহাবুদ্দিন (৭৫) বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখতে নাকুগাঁও বধ্যভুমিতে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক নির্মাণের বিষয়টি সরাসরি জেলা প্রশাসন দেখভাল করে থাকেন। তাই জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

কবি সাযযাদ কাদির বন্ধু অবন্ধু ও নক্ষত্রের ছায়া জামিল জাহাঙ্গীর

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের কোন কার্যকরী উদ্যোগ নেই, অবহেলায় ধুঁকছে নাকুগাঁও বধ্যভুমি

প্রকাশিত ০৬:২১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও বধ্যভুমি। পাশের ভারত অংশে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হলেও বাংলাদেশ অংশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের নেই কোন উদ্যোগ। এই বধ্যভূমির বেশিরভাগ জায়গা এখন পাশ দিয়ে বয়ে চলা পাহাড়ী খরস্রোত ভোগাই নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে। যে অংশটুকু রয়েছে তাতেও কখনও খড়ের গাদা, ঝোপঝাড় আবার কখনও গরু ছাগল বিচরণ করতে দেখা যায়।সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মে। এই দিনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বর্বরোচিত হামলা চালায় উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের নাকুগাঁও সীমান্তের স্থলবন্দর এলাকায়। পাকহানাদার বাহিনী অতর্কিতভাবে গণহত্যা চালিয়ে ঘন্টা খানিকের মধ্যে নৃশংসভাবে হত্যা করে অসংখ্য বাংলাদেশ ও ভারতের নিরীহ মানুষকে।স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নাকুগাঁও বধ্যভূমিকে রক্ষার কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এ অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে পাকবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষ। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ বা স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হলেও অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে আছে নাকুগাঁও বধ্যভুমি। স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পরেও সরকারিভাবে দিবসটি পালন করা হয় না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জানা যায়, এদিন পাক-হায়েনাদের হামলায় নিহত হওয়া ৯ জন বিএসএফের হিসেব জানা গেলেও বাংলাদেশিদের সঠিক পরিসংখ্যান আজও জানা যায়নি। নিহত বাঙ্গালীদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল মোতালেব ও আশফাকুর রহমান। এ দুজনের লাশ ভারতের বিএসএফ বাহিনী নাকুগাঁও সীমান্তের ভারত অংশের মসজিদ সংলগ্ন এক কবরস্থানে দাফন করে। বাকি বাঙ্গালীদের লাশ বাংলাদেশে সমাহিত ও ভারতীয়দের ভারতে দাহ করা হয়। আব্দুল মোতালেব নববধূকে ঘরে রেখে ‘জীবন থেকে নেওয়া ছবির প্রিন্ট সাথে নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। এ ছবিটি ভারতের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের অর্থ সংগ্রহ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। তার লেখা ১টি চিঠি ও তার ছবি জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। পারিবারিকভাবে তার স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মাণ করা হয়েছে ১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শহীদ আশফাকুর রহমানের পরিচয় অজ্ঞাত। মৃত্যুর পর তার পকেটে ১টি ছবি পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায় তিনি ঘরোয়া পরিবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও তাজ উদ্দিন আহমেদকে খাবার পরিবেশন করছিলেন। এ ছবি দেখেই পাকবাহিনী তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল।এছাড়াও শহীদদের মাঝে যাদের নাম পাওয়া গেছে, তারা হলেন, নুর ইসলাম (ইপিআর), নুরুজ্জামান (পুলিশ), রিয়াজ সরকার, আশরাফ আলী, হযরত আলী, নরেন সাধু, নরেন শীল, নীপেন দে, ফনিন্দ্র দাস, অশ্বনী দাস, আব্বাস সরকার ও তার অষ্টাদশী মেয়ে এবং তার ৮ মাসের ছেলে।এলাকার প্রবীণরা জানান, তখন মুক্তিযুদ্ধ চলছিল। বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বারেঙ্গা পাড়া, চান্দুভূই, ডালু বাজার, মাছংপানি, ছৈপানি ও ডিমাপাড়া সহ বিভিন্ন জায়গায়। দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে শহীদ হন মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষ। এ সকল শহীদদের অনেকেই ঘুমিয়ে আছে নাকুগাঁও বধ্যভুমিতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তাদেরকে স্মরণ করা হয় না। আজ পর্যন্তও এ নাকুগাঁও বধ্যভুমিতে কোন স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়নি। অথচ সীমান্তের কুল ঘেঁষে ভারতীয়রা শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মাণ করেছে। এ বধ্যভূমি সংরক্ষণে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকার কোলঘেঁষে নোমেন্স লেন্ড এলাকা হওয়ায় এখানে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা যাচ্ছেনা। তবে এলাকাবাসী জানান, নোমেন্স ল্যান্ড এলাকা হলেও এ বধ্যভূমির আশ পাশে বাংলাদেশ অংশে অনেক বাড়ি-ঘর আর ভারতীয় অংশে বিএসএফ ক্যাম্প ও স্মৃতিফলক নির্মাণ করেছে ভারতীয়রা।

১৯৮৮ ইং সালে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম বেলায়েত হোসেন খসরু ও ১৯৯২ সালের ২৭ জুন জেলা প্রশাসক এখানে স্মৃতি সৌধ নির্মাণের জন্য ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।অজ্ঞাত কারনে সে কাজের কোন অগ্রগতি হয়নি। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী সরজমিনে এই গণকবরের করুন হাল দেখে দ্রুত একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণের মৌখিক নির্দেশ দিলেও এ যাবতকালেও কোন কাজ হয়নি। অথচ ভারত অংশের বধ্যভূমিকে নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে সিমেন্ট ও কংক্রিটের পাইলিং করে তীর রক্ষাবাঁধ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিসৌধ। শুধু অবহেলায় পড়ে আছে আমাদের গৌরবের স্মৃতি।

এই বধ্যভূমির পার্শ্ববর্তী বাড়ীর প্রত্যক্ষদর্শী শ্রী রাজকুমার (৬২) বলেন, আমি দেখেছি এখানে পাকহাদার শত্রু“রা অনেক মানুষ হত্যা করার পর এখানে তাদের গণকবর দেওয়া হয়েছে। সরকার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে এই বধ্যভূমির জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি।

নাকুগাঁও গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা আমির ফকির (৭৬) জানান, সে দিনের ভয়াল স্মৃতির কথা। এ দেশের মুক্তিযোদ্ধারা শত্রুমুক্ত করার জন্য প্রাণ বাজি রেখে যুদ্ধ করছে, আমিও দৃঢ়চিত্তে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। ১৯৭১ সালের ২৫মে হঠাৎ নাকুগাঁও এ পাকবাহীরা আক্রমণ করে অগণিত ভারতের মিত্রবাহিনী ও বাংলাদেশি মুক্তিবাহিনীসহ অসংখ্য সাধারণ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। নাইলা (পাট) জাগের মতো হেইদিন মানুষকে গণকবর দেওয়া অইছিল। কিন্তু এখানে আইজও কোন প্রকার স্মৃতি সৌধ বা স্মৃতিফলক নির্মাণ করা অয় নাই।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শাহাবুদ্দিন (৭৫) বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখতে নাকুগাঁও বধ্যভুমিতে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক নির্মাণের বিষয়টি সরাসরি জেলা প্রশাসন দেখভাল করে থাকেন। তাই জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।