০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
হুমায়ূন মুজিব|

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে হলিডে মার্কেট ও ফুটপাতে আবারো শুরু হয়েছে বেপোয়ারা চাঁদাবাজি

  • প্রকাশিত ১০:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৪
  • ৩৯৫ বার দেখা হয়েছে

রাজধানীর প্রায় সর্বত্রই ফুটপাত ধান্ধার চাঁদাবাজেরা স্বীকৃত ও বেপোয়ারাভাবে বহাল ছিল। ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগে চাঁদাবাজেরা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে কাড়িকাড়ি টাকা চাঁদা হিসেবে হাতিয়ে নিত। ক্ষেত্র বিশেষে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাবান অনেকেসহ সচেতনদের সবাই ভূক্তভোগী হয়েও নির্বীকার। যেন তারা বশিকরণের জালে আটকা অথবা চোখ রাঙানির ভয়ে বোবা। ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর কিছুটা স্বস্তি দেখা দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সে আশার দীপ নিভিয়ে ফিরে এসেছে নীরব চাঁদাবাজির সেই ভয়াবহ পুরোনো চিত্র।রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল হকার্স হলিডে মার্কেট সরেজমিনে গেলে দেখা যায় নীরবে চলছে চাঁদাবাজি নিযমিত ফুটপাত দোকানীদের চাঁদা দিতে হয় ৩০০ টাকা । সাপ্তাহিক হলিডে মার্কেটের দিন শুক্র ও শনিবার চাাঁদা দিতে হয় ৪০০ টাকা। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় চাঁদাবাজ সাইফুল চক্র চাঁদা নিত ১০০ টাকা। শুনা যায় সেই চক্রের সুবিধা পেত পুলিশ প্রশাসনও। এখন ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলেও চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহাই মিলেনি হকারদের উল্টো চাঁদার হার বেড়েছে চারগুণ। প্রকাশ্যে হকাররা চাাঁদার কথা স্বীকার করতেও ভয় পায়। দিনের শেষ ভাগে বাদ আসর এই নয়া চাঁদাবাজের প্রতিনিধিরা গোপনে এই চাঁদা সংগ্রহ করে থাকেন, সাংবাদিক বা সচেতন কোন মানুষের অবস্থান টের পেলে সরে যান। হকার বা দোকানীরা এদের ভয়ে তটস্থ থাকেন। এই চক্র তাদের বলেন কেউ যেন চাঁদার বিষয়ে কারো কাছে মুখ না খোলেননাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন হকার বলেন, একটি বিশেষ দলের পরিচয় দিয়ে জেল ফেরত আসামী সন্ত্রাসী মাসুদ চক্র এই চাঁদাবাজি করছে। এই মাসুদ গংয়ের সাথে যুক্ত আছেন সোহেল,কাওসার ,শাহীন, রাজন,মাসুম,সাজিদ ও শাহজালাল সহ আরো অনেকে।।উল্লেখ্য করোনাকালীন সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিরীন আক্তারের সহযোগিতায় ও পৃষ্টপোষকতায় হকারদের কল্যাণে সম্পূণ্য চাঁদা মুক্ত হলিডে মার্কেট চালু হয়েছিল। কিন্তু করেনার পর রাজনৈতিক দূষ্টচক্রের কাছে তা পরাস্ত হয়।কেউই যেন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস রাখে না। বরং দেখভালে ব্যস্ত ওই সব হরেক রঙ্গের বন্ধু-বান্ধব। আর এ সুযোগে ওই সব চাঁদাবাজরা হকারসহ ওই সবার মাথায় কাঠাল রেখে চাঁদাবাজির টাকায় আলিশান জীবন লুফে মরিয়া রয়েছে নিরীহের রক্ত চোষায়। পথচারী ভোগান্তিকে রুপ দিচ্ছে- চাঁদাবাজি ধান্ধাবাজিতে। আর রাজধানীর অতিব গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকার তুলনামূলক সচেতন লোকজনের বিচরনের জায়গা মতিঝিলে এর ওই ফুটপাতের জায়গা ফুট মেপে বিক্রি ও ভাড়ার সাথে সড়কের জায়গাও একইভাবে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। ৪৯ফুট/৫৯ফুট চৌকির জায়গা এককালিন এক -দুইলাখ পর্যন্ত ও দৈনিক তিন’শ-পাঁচ’শ টাকা আদায় করে আসছে। এককালিন মোটা টাকার বাইরে হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ৩০ হাজার হারে পেমেন্টের নামে মাসে প্রায় নয় লক্ষাধিক ও হলিডে মার্কেটের নামে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা লুটে নিচ্ছে।চাঁদাবাজির বিষয়ে বাংলাদেশ হকার্স সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আন্তর্জাতিক হকার্স ফেডারেশনের নেতা শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন বলেন, বেশিরভাগ হকারদের নির্দিষ্ট স্থান ও তালিকা না থাকার কারনে ভাসমান অবস্থায় ব্যবসা করতে হয় যে কারনে অবাধ চাঁদাবাজির সুযোগ তৈরী হয়। এ সমস্যার সমাধান করতে হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে থাইল্যান্ড,মালয়েশিয়া ও ভারতে যেভাবে আইনী নীতিমালার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থান ও নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্যবসা করার সুযোগ দিয়ে সেসব দেশের সরকার বিপুল রাজস্ব আদায় করছে। একইভাবে আমাদের দেশের হকারদের ব্যবসা করার সুযোগ দিলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেতে পারে। তিনি মনে করেন নিবন্ধন না থাকায় সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।(চরবে)

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

হুমায়ূন মুজিব|

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনে হলিডে মার্কেট ও ফুটপাতে আবারো শুরু হয়েছে বেপোয়ারা চাঁদাবাজি

প্রকাশিত ১০:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৪

রাজধানীর প্রায় সর্বত্রই ফুটপাত ধান্ধার চাঁদাবাজেরা স্বীকৃত ও বেপোয়ারাভাবে বহাল ছিল। ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগে চাঁদাবাজেরা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে কাড়িকাড়ি টাকা চাঁদা হিসেবে হাতিয়ে নিত। ক্ষেত্র বিশেষে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাবান অনেকেসহ সচেতনদের সবাই ভূক্তভোগী হয়েও নির্বীকার। যেন তারা বশিকরণের জালে আটকা অথবা চোখ রাঙানির ভয়ে বোবা। ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর কিছুটা স্বস্তি দেখা দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সে আশার দীপ নিভিয়ে ফিরে এসেছে নীরব চাঁদাবাজির সেই ভয়াবহ পুরোনো চিত্র।রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল হকার্স হলিডে মার্কেট সরেজমিনে গেলে দেখা যায় নীরবে চলছে চাঁদাবাজি নিযমিত ফুটপাত দোকানীদের চাঁদা দিতে হয় ৩০০ টাকা । সাপ্তাহিক হলিডে মার্কেটের দিন শুক্র ও শনিবার চাাঁদা দিতে হয় ৪০০ টাকা। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় চাঁদাবাজ সাইফুল চক্র চাঁদা নিত ১০০ টাকা। শুনা যায় সেই চক্রের সুবিধা পেত পুলিশ প্রশাসনও। এখন ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলেও চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহাই মিলেনি হকারদের উল্টো চাঁদার হার বেড়েছে চারগুণ। প্রকাশ্যে হকাররা চাাঁদার কথা স্বীকার করতেও ভয় পায়। দিনের শেষ ভাগে বাদ আসর এই নয়া চাঁদাবাজের প্রতিনিধিরা গোপনে এই চাঁদা সংগ্রহ করে থাকেন, সাংবাদিক বা সচেতন কোন মানুষের অবস্থান টের পেলে সরে যান। হকার বা দোকানীরা এদের ভয়ে তটস্থ থাকেন। এই চক্র তাদের বলেন কেউ যেন চাঁদার বিষয়ে কারো কাছে মুখ না খোলেননাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন হকার বলেন, একটি বিশেষ দলের পরিচয় দিয়ে জেল ফেরত আসামী সন্ত্রাসী মাসুদ চক্র এই চাঁদাবাজি করছে। এই মাসুদ গংয়ের সাথে যুক্ত আছেন সোহেল,কাওসার ,শাহীন, রাজন,মাসুম,সাজিদ ও শাহজালাল সহ আরো অনেকে।।উল্লেখ্য করোনাকালীন সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিরীন আক্তারের সহযোগিতায় ও পৃষ্টপোষকতায় হকারদের কল্যাণে সম্পূণ্য চাঁদা মুক্ত হলিডে মার্কেট চালু হয়েছিল। কিন্তু করেনার পর রাজনৈতিক দূষ্টচক্রের কাছে তা পরাস্ত হয়।কেউই যেন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস রাখে না। বরং দেখভালে ব্যস্ত ওই সব হরেক রঙ্গের বন্ধু-বান্ধব। আর এ সুযোগে ওই সব চাঁদাবাজরা হকারসহ ওই সবার মাথায় কাঠাল রেখে চাঁদাবাজির টাকায় আলিশান জীবন লুফে মরিয়া রয়েছে নিরীহের রক্ত চোষায়। পথচারী ভোগান্তিকে রুপ দিচ্ছে- চাঁদাবাজি ধান্ধাবাজিতে। আর রাজধানীর অতিব গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকার তুলনামূলক সচেতন লোকজনের বিচরনের জায়গা মতিঝিলে এর ওই ফুটপাতের জায়গা ফুট মেপে বিক্রি ও ভাড়ার সাথে সড়কের জায়গাও একইভাবে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। ৪৯ফুট/৫৯ফুট চৌকির জায়গা এককালিন এক -দুইলাখ পর্যন্ত ও দৈনিক তিন’শ-পাঁচ’শ টাকা আদায় করে আসছে। এককালিন মোটা টাকার বাইরে হকারদের কাছ থেকে দৈনিক ৩০ হাজার হারে পেমেন্টের নামে মাসে প্রায় নয় লক্ষাধিক ও হলিডে মার্কেটের নামে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা লুটে নিচ্ছে।চাঁদাবাজির বিষয়ে বাংলাদেশ হকার্স সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আন্তর্জাতিক হকার্স ফেডারেশনের নেতা শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন বলেন, বেশিরভাগ হকারদের নির্দিষ্ট স্থান ও তালিকা না থাকার কারনে ভাসমান অবস্থায় ব্যবসা করতে হয় যে কারনে অবাধ চাঁদাবাজির সুযোগ তৈরী হয়। এ সমস্যার সমাধান করতে হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে থাইল্যান্ড,মালয়েশিয়া ও ভারতে যেভাবে আইনী নীতিমালার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থান ও নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্যবসা করার সুযোগ দিয়ে সেসব দেশের সরকার বিপুল রাজস্ব আদায় করছে। একইভাবে আমাদের দেশের হকারদের ব্যবসা করার সুযোগ দিলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেতে পারে। তিনি মনে করেন নিবন্ধন না থাকায় সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।(চরবে)