বিশ্বের প্রতিটি দেশে নানা রকম কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও রাষ্ট্রিয় ভাবে পালিত হচ্ছে। এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘করবো ভূমি পুনরুদ্ধার, রুখবো মরুময়তা, অর্জন করতে হবে মোদের খরা সহনশীলতা’।
১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি উদযাপন করা শুরু হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতি বছরই দিবসটি সারাবিশ্বের বিভিন্ন শহরে, আলাদা আলাদা প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে পালিত হয়। জানা যায়, ১৯৬৮ সালের ২০ মে জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক পরিষদের কাছে একটি চিঠি পাঠায় সুইডেন সরকার। চিঠির বিষয়বস্তু ছিল প্রকৃতি ও পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে তাদের গভীর উদ্বেগের কথা। সে বছরই জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সাধারণ অধিবেশনের আলোচ্য সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরের বছর জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং সমাধানের উপায় খুজতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তখন সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সম্মতিতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ১৯৭২ সালের ৫ থেকে ১৬ জুন জাতিসংঘ মানব পরিবেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনটি ইতিহাসের প্রথম পরিবেশ-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের স্বীকৃতি পায়। পরে ১৯৭৩ সালে সম্মেলনের প্রথম দিন ৫ জুনকে জাতিসংঘ ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। এরপর ১৯৭৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিবছর দিবসটি সারা বিশ্বে পালন করা হচ্ছে।
ভূমি পুনরুদ্ধার এবং মরুকরন ও খরার বিরুদ্ধে অভিযোজন ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এই বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদ্যাপিত হয়েছে।
মরুকরন মোকাবিলায় জাতিসংঘ কনভেনশন অনুসারে পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ ভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে, যা সরাসরি প্রভাবিত করছে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যাকে। বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় অর্ধেকই (৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার) এতে পড়েছে হুমকির মুখে।
বাস্ততন্ত্র পুনরুদ্ধার (২০২১-২০৩০) সংক্রান্ত জাতিসংঘ দশকের একটি মূলস্তম্ভ হচ্ছে ভূমি পুনরুদ্ধার। বিশ্বজুড়ে বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে ভূমি পুনরুদ্ধার, যা এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্যও গুরুত্বপূর্ন।
তারই ধারাবাহিকতায় ভিডিএএল এর সম্মানিত সি.ই.ও জনাব মোঃ শামীম হোসেন, প্রশাসনিক প্রধান মোঃ মোসলেম আলী এবং প্যানেল মেয়র ও ৯ নং ওয়ার্ডের কমিশনার জনাব মোঃ আমজাদ হোসেন এর সমন্বয়ে এবং সার্বিক সহযোগিতায় এই দিবস উপলক্ষে চারা বিতরণ, বৃক্ষরোপন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
নিম্নোক্ত কর্মসূচি গুলো আয়োজন করেছে:
১। গাছের চারা বিতরণ: পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ভিডিএএল এর পক্ষথেকে ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় (৩৫০০ টি) গাছের চারা বিতরণ করা হয়। যেগুলো হলো বনজ, ফলজ, ঔষধী এবং শোভাবর্ধন কারী গাছ যেমন- আম, জাম,
কাঠাল, আমড়া, নিম, অর্জুন, কাঠবাদাম এবং পেয়ারা। স্কুলের ছেলেমেয়েরা যাতে গাছ চিনতে পারে এবং গাছের প্রতি আগ্রহ বাড়ে তার জন্য প্রতিটি গাছের বাংলা ইংরেজি নামের সাথে বৈজ্ঞানিক নাম যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
২। সচেতনতামূলক পোষ্টার এবং ব্যানার: পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহেরারচালা, শ্রীপুর, গাজীপুর
এলাকায় বিভিন্ন রকমের পোষ্টার এবং ব্যানার টানিয়ে দেয়া হয়। পরিবেশ বিষয় নানা ধরনের স্লোগান এবং পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাণী সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারবে বলে ভিডিএএল বিশ্বাস করে।
৩। ডাস্টবিন বিতরণ: রাস্তাঘাটে বর্জ্য আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে উৎসাহি করতে রাস্তার পাশের (৫০) দোকান গুলোতে সুন্দর পরিবেশ বান্ধব ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়েছে এবং সেই সাথে পলিথিন এবং অনটাইম প্ল- াস্টিক ব্যবহারের অপকারিতা বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
৪। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান: পরিবেশ দিবসের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভিডিএএল এর কর্মী এবং উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি বিশাল টিম ভিডিএএল এর ১ নং গেট থেকে নতুন বাজার হয়ে ভিডিএএল এর তিন নং গেট পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তার পাশের ময়লা আবর্জনা, পলিথিন ইত্যাদি পরিষ্কার করে যা এলাকার লোকজনের মধ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করেছে।
৫। ফ্রি চিকিৎসা সেবা: পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বহেরারচালা, লিচুবাগান এলাকায় একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। ভিডিএএল এর মেডিকেল টিম এলাকার লোকদের মধ্যে ফ্রি চিকিতসা সেবা দিয়েছে। সেই সাথে প্রয়োজন অনুসারে ঔষধ পত্র বিতরণের পাশা পাশি প্রতিটা ব্যক্তিকে একটি করে ঔষধী/ফলজ গাছ দেয়া হয়েছে। উক্ত ফ্রি চিকিৎসা সেবায় (২৭০) জন সেবা গ্রহন করেছে।
৬। পরিবেশ দিবসের র্যালি: “করবো ভূমি পুনরুদ্ধার, রুখবো মরুময়তা, অর্জন করতে হবে মোদের খরা সহনশীলতা” এই স্লোগান সম্বলিত ব্যানার নিয়ে ফ্যাক্টরীর বিভিন্ন সংগঠন/কমিটির সমন্বয়ে একটি র্যালির আয়োজন করা হয়। উক্ত র্যালি ফ্যাক্টরীর প্রতিটা রাস্তায় প্রদক্ষিন করে সকলের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে কাজ করে। কমিটির সদস্যরা এবং বিভিন্ন সকশনের কর্মীরা উক্ত র্যালিতে স্বতস্ফূর্ত অংশ গ্রহন করেছে।
৭। পাখির অভয়ারণ্য সৃষ্টি: বনভূমি উজার এবং গাছপালা কাটার কারনে প্রকৃতিতে পাখির আবাস সংকোচিত হয়ে আসছে। তাই ভিডিএএলর এর উদ্যোগে মাটির তৈরি পাখির বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করে দেয়া হয়েছে। ভিডিএএল আশা করে সবাই মিলে যদি জিব বৈচিত্র রক্ষায় কাজ করি তবে পৃথিবী আরো বেশি মানুষ এবং প্রানির বাস যোগ্য করে তুলতে পারবো।
৮। বৃক্ষরোপন: বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে ফ্যাক্টরীর অভ্যন্তরে এবং আশেপাশের এলাকাই বৃক্ষরোপণ করা হয়। এবং বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে কারখানার উক্ত কার্যক্রম ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলমান থাকিবে।