এম মসিউর রহমান মিলন ফেনীতে কাস্টমস অফিসের কম্পিউটার অপারেটর পরিচয় দিয়ে প্রতারণার আশ্রয়ে কোটিপতি বনে গেছেন ওবায়দুল হক রাসেল নামের এক ভয়াবহ দুর্ধর্ষ প্রতারক। সে ফেনীর দাগুনভুইয়া উপজেলাধীন জায়লস্কর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে। সে ফেনীর এয়ারপোর্ট রোডস্থ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের কতিপয় রাজস্ব কর্মব্বকর্তার যোগসাজশে বিগত বহু বছর যাবত রাজস্ব কর্মকর্তা / ইনকাম ট্যাক্স অফিসার পরিচয় দিয়ে করদাতাদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এবিষয়ে তার সাথে কথা বললে, সে নিজেকে ওই অফিসের নিয়মিত কম্পিউটার অপারেটর বলে পরিচয় দেয়। আবার তার অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাব শরিফুল ইসলাম ও মং সাচিং মার্থার সাথে কথা বললে তারা প্রথমে ওবায়দুল হক রাসেলকে তাদের সরকারী কর্মচারী বলেব সীকার করেননি এবং পরে তারা তাকে মাস্টার রোলের কর্মচারী বলে সীকার করে নেন। কিন্তু এর পক্ষে কোন তথ্য প্রমানাদি দেখাতে পারেননি এ দুই কর্মকর্তা। পরে ওই অফিসের ক্যাশিয়ার জগদীশ চন্দ্র সাহার সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি রাসেলকে চেনেন না এবং তার রেজিস্ট্রারে এ নামে কোন কর্মচারী নাই বলে জানান। তবে এ বিষয়ে রাসেলের নিজ এলাকার বর্তমান মেম্বার নজরুল ইসলাম সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বহু গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে তার বহু বেয়াদবি, দুর্নীতি,প্রতারণা সহ নানা জালজালিয়াতির তথ্য জানা গেছে। সে বাড়ির দাগে ১৫ শতক জায়গার উপর কোটি টাকা ব্যয়ে আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মান করছে। যার একতলা কমপ্লিট ও দোতালা নির্মানাধীন রয়েছে। এ বাড়িতে সম্পুর্ন এয়ার ককন্ডিশন-টাইলস সহ অত্যাধুনিক আসবাবপত্র সজ্জিত করা হয়েছে। এ বাড়ির একটি কক্ষে ৪টি কম্পিউটার স্থাপন করা হয়েছে কর- ভ্যাট আদায়ের বেআইনী জালিয়াতিমুলক কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য। আর এ কাজে সে দুইজন দক্ষ লোক নিয়োগ দিয়ে রেখেছে। এরা হলেন একজন তার শালা সম্রাট, অন্যজন তার ভগ্নিপতি আরমান। এ দুইজন নিয়োগকৃত কর্মচারী দিয়ে বেআইনীভাবে নিজগৃহে সে করদাতাদের কর- ভ্যাট আদায় করে আসছে। বিশ্বসুত্রে জানা গেছে, ২৯ টা ব্রিকফিল্ডের কর- ভ্যাট বেআইনীভাবে আদায় করে আসছে এবং এটা সে নিজ বাড়িতেই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সে করদাতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করলেও সরকারী খাতে জমা দেয় অতি সামান্য টাকা। বাকি টাকা সে নিজে আত্মসাত করে বলে জানা গেছে। ফেনীর প্রভাবশালী রাজস্ব কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এমনটি করে আসছে বলে জানা গেছে। এ ওবায়দুল হক রাসেলের সকাল বেলা নাস্তা খরচ ৫ হাজার টাকা বলে দাবি করে আসছে এলাকাবাসীর কাছে। তাছাড়া সে তার এলাকার সিলোনীয়া বাজারের মাছ বাজার – মাংসের বাজার অস্থির করে রাখে প্রায়শই । গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে সে তার বাড়ীর কাছের ৮ শতক জমি এনামুল হক বাচ্চু থেকে কিনেছে প্রতি শতক ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা মুল্যে। এর পরপরই সে ৩৫ লাখ টাকার পে অর্ডারtt করেছে ঢাকায় ফ্ল্যাট বাড়ি কেনার জন্য। চলতি সপ্তাহে ঢাকায় সে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাট কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত ১৪ জুলাই তারিখে ২৪ লাখ টাকা মূল্যের সিলোনীয়া বাজারের একটি দোকান কেনার জন্য ২ লাখ টাকার বায়না নামা সম্পাদন করেছে। এভাবে সে প্রতি সপ্তাহে প্রায় কোটি টাকার লেনদেন করছে। সপ্তাহে ২ বার সে জমি,বাড়ি, দোকান ইত্যাদি কিনছে। ইতিমধ্যে সে বহু জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে। আসলে ওবায়দুল হক রাসেল কত কোটি টাকার মালিক ? এবং কিইবা তার পেশা ? এত বিশাল আয়ের উৎস কোথায় ? এ প্রশ্ন জনমনে।
০৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম