দিনাজপুরের পার্বতীপুরে জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির আয়োজিত ব্যানারে ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্য দাবী আদায়ের লক্ষ্যে ৬ দফার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী। ১৫ জুলাই সোমবার সকাল ১০ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত পার্বতীপুর উপজেলার বৈদ্যনাথপুর হতে বড়পুকুরিয়া পাতিগ্রাম পর্যন্ত এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এলাকাবাসীর দাবিগুলো হলো- সার্ভকৃত বসতবাড়ীর ক্ষতিপূরণের টাকা দ্রুত প্রদান করা, মসজিদ-কবরস্থান সহ অধিগ্রহণকৃত জমির বয়েকা টাকা পরিশোধ করা, জনসাধারণের চলাচলের জন্য বৈদ্যনাথপুর হতে বৈগ্রাম পর্যন্ত রাস্তাটি পূর্বের ন্যায় পাকা করা, সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী ঘর ঘর চাকরির ব্যবস্থা করা, কয়লাখনি কর্তৃক সৃষ্ট পানীয় জলের সংকট দ্রুত নিরোসন করা, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা বসবাসের অযোগ্য বসতবাড়ি বা স্থাপনার স্থায়ীভাবে সমাধান করা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত অসহায়তার সাথে ঝুঁকিপূর্ণ জীবন যাপন করছি। এখানে ১০৪০০টি পরিবার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছে। কখন জানি কি হয় এই ভয়ে কাতর এলাকাবাসী। মাঠির নিচ থেকে কয়লা উত্তোলন করার ফলে কম্পনের সৃষ্টি হওয়ায় অনেক ঘর-বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। ছোট্ট বাচ্চারা আতংকে থাকে এই বুঝি তাদের মৃত্যু নিশ্চিত। কম্পনের ফলে রাতে ঘুমাতে পারেন না কেউই। দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে ৮টি গ্রাম। উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলো হলো- বাঁশপুকুর,গোয়ালপাড়া, চেরাপাড়া, কাজীপাড়া, বৈদ্যনাথপুর। এই এলাকাগুলো মৃত্যুপুরী হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আমরা অনশন-ধর্মঘট পালন করব। প্রয়োজনে শেষ সম্বল টুকু বিক্রি করে হলে আমরা আন্দোলন করে আমদের দাবি বাস্তবায়ন করব।
উক্ত মানববন্ধনে গোলাম কিবরিয়া চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, হামিদপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইদুর রহমান, ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল কাদের সহ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি লিয়াকত আলী, রুহুল আমিন, আমিনুল ইসলাম, ফরহাদ আলী প্রমূখ।