১০:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চৌদ্দগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুকে জুতার মালা পড়িয়ে হেনস্থার ভিডিও ভাইরাল

  • প্রকাশিত ০৮:৩১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ১০১ বার দেখা হয়েছে

 

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আব্দুল হাই কানু (বীর প্রতীক) কে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে স্থানীয় কতিপয় যুবক কর্তৃক লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে।

গত রোববার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হেনস্থার শিকার হন বলে স্বীকার করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কান (বীর প্রতীক)। এ ঘটনার ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সেদিন রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি সমগ্র দেশে সমালোচনার ঝড় বইছে।

স্থানীয়রা বলছেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানু বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মুজিবুল হকের রোষানলে পড়ে বিগত ৮ বছর এলাকায় যেতে পারেননি তিনি। আওয়ামী লীগের আমলে তার বাড়িঘরে হামলা করাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়। রোববার দুপুরে তাকে বাড়ির পাশে তাকে একা পেয়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ অন্তত ১৫/২০ জন ব্যক্তি তাকে হেনস্থা করে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে দেয়। পরে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। তাদেরই একজন ঘটনার ভিডিও ধারন করে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দু’জন ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুর হাত টেনে সামনে নিয়ে যাচ্ছেন। কানুর গলায় রশি দিয়ে বাঁধা কয়েকটি জুতা দেখা যায়। তার আশপাশে ঘিরে ছিল আরো জনা পনের লোক। একপর্যায়ে কানু জুতার মালা সরিয়ে ও হাত জোড় করে মাফ চেয়ে এলাকায় থাকার আকুতি জানালেও তাকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিতে থাকেন ঘিরে থাকা লোকজন। ওই ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, “এক গ্রাম লোকের সামনে মাফ চাইতে পারবেন কি না?” তখন কানুকে দুই হাত উপরে তুলে করজোড়ে মাফ চাইতে দেখা যায়। ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় ওই মুক্তিযোদ্ধাকে ফেনীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানু সাংবাদিকদের বলেন, “স্থানীয় প্রবাসী আবুল হাসেমের নেতৃত্বে অহিদ, রাসেল, পলাশসহ ১০ থেকে ১২ জন লোক আমাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক জুতার মালা গলায় দিয়ে ভিডিও ধারণ করে। আমি বিগত সময়ে তাদের কোনো ক্ষতি করিনি।” থানায় অভিযোগ কেন দিতে চাইছেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল হাই কানু বলেন, “বিচার কার কাছে চাইব, মামলা দিয়ে আর কী হবে? এমন বাংলাদেশের জন্যই কি জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলাম?”

অভিযুক্ত আবুল হাসেম বা ঘটনার সময় উপস্থিত অন্যান্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.টি.এম আক্তার উজ জামান বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধাকে যারা লাঞ্ছিত করেছে, তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।” ৭৮ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুর বাড়ি উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের লুদিয়ারা গ্রামে। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হেনস্থাকারীরাও একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগি মুক্তিযোদ্ধা মোবাইল ফোনে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিলেন। তবে, এ বিষয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন না বলেও জানিয়েছেন। রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় আবারও তাকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের নাম-পরিচয় সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তারাগঞ্জে সাংবাদিকে হুমকি দিলেন আবু সাঈদ হত্যামামলার আসামী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান

চৌদ্দগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুকে জুতার মালা পড়িয়ে হেনস্থার ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত ০৮:৩১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪

 

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আব্দুল হাই কানু (বীর প্রতীক) কে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে স্থানীয় কতিপয় যুবক কর্তৃক লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে।

গত রোববার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হেনস্থার শিকার হন বলে স্বীকার করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কান (বীর প্রতীক)। এ ঘটনার ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সেদিন রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি সমগ্র দেশে সমালোচনার ঝড় বইছে।

স্থানীয়রা বলছেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানু বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মুজিবুল হকের রোষানলে পড়ে বিগত ৮ বছর এলাকায় যেতে পারেননি তিনি। আওয়ামী লীগের আমলে তার বাড়িঘরে হামলা করাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়। রোববার দুপুরে তাকে বাড়ির পাশে তাকে একা পেয়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ অন্তত ১৫/২০ জন ব্যক্তি তাকে হেনস্থা করে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে দেয়। পরে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। তাদেরই একজন ঘটনার ভিডিও ধারন করে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দু’জন ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুর হাত টেনে সামনে নিয়ে যাচ্ছেন। কানুর গলায় রশি দিয়ে বাঁধা কয়েকটি জুতা দেখা যায়। তার আশপাশে ঘিরে ছিল আরো জনা পনের লোক। একপর্যায়ে কানু জুতার মালা সরিয়ে ও হাত জোড় করে মাফ চেয়ে এলাকায় থাকার আকুতি জানালেও তাকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিতে থাকেন ঘিরে থাকা লোকজন। ওই ব্যক্তিদের মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, “এক গ্রাম লোকের সামনে মাফ চাইতে পারবেন কি না?” তখন কানুকে দুই হাত উপরে তুলে করজোড়ে মাফ চাইতে দেখা যায়। ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় ওই মুক্তিযোদ্ধাকে ফেনীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানু সাংবাদিকদের বলেন, “স্থানীয় প্রবাসী আবুল হাসেমের নেতৃত্বে অহিদ, রাসেল, পলাশসহ ১০ থেকে ১২ জন লোক আমাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক জুতার মালা গলায় দিয়ে ভিডিও ধারণ করে। আমি বিগত সময়ে তাদের কোনো ক্ষতি করিনি।” থানায় অভিযোগ কেন দিতে চাইছেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল হাই কানু বলেন, “বিচার কার কাছে চাইব, মামলা দিয়ে আর কী হবে? এমন বাংলাদেশের জন্যই কি জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলাম?”

অভিযুক্ত আবুল হাসেম বা ঘটনার সময় উপস্থিত অন্যান্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.টি.এম আক্তার উজ জামান বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধাকে যারা লাঞ্ছিত করেছে, তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।” ৭৮ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই কানুর বাড়ি উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের লুদিয়ারা গ্রামে। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হেনস্থাকারীরাও একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগি মুক্তিযোদ্ধা মোবাইল ফোনে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিলেন। তবে, এ বিষয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন না বলেও জানিয়েছেন। রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় আবারও তাকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের নাম-পরিচয় সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”