০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

  • প্রকাশিত ১০:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪
  • ২৩৫ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের ৩৬ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সাগরময় আচার্যকে সভাপতি ও বিজয় হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তাঁরা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সভাপতি সাগরময় পুরকৌশল বিভাগ থেকে ২০২৩ সালে স্নাতক শেষ করেছেন, তবে তিনি এখনো স্নাতকোত্তরে ভর্তি হননি। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক বিজয় মেকাট্রনিকস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত।

তবে দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় পর হওয়া চুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কমিটিকে বিতর্কমুক্ত রাখতে পারলো না কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। চুয়েটে ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি এতো বছর পর হওয়া কমিটিতে সভাপতি বানানো হয়েছে একজন অছাত্র, মাদকসেবী এবং কর্মীহীন প্রার্থীকে। অভিযোগের শেষ নেই নির্বাচিত সভাপতি সাগরময় আচার্যের বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি আদ্যন্ত ১৮’র র‍্যাগ কনসার্টের সময় সভাপতি তার দুই বহিরাগত বন্ধুদের সাথে মদ খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাথেই দুর্ব্যবহার করে। পরে এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে পোস্টার ছাপিয়ে সাগরময় আচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের একাংশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে এই কমিটি প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ২ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও। এতসব অভিযোগে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

নতুন কমিটিতে সভাপতি পদ পাওয়া সাগরময় আচার্য সম্পর্কে ছাত্রলীগ কর্মীরা বলেন, সাগর পুরকৌশল বিভাগ থেকে ২০২৩ সালে স্নাতক শেষ করেছেন। ফলে বর্তমানে তার ছাত্রত্ব নেই। এরপর থেকে তিনি সাংগঠনিক কাজে খুব বেশি সক্রিয় ছিল না। ছাত্রলীগের কোন কর্মীই তার উগ্র মানসিকতার কারণে তার পাশে ভিড়তো না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চুয়েট ছাত্রলীগ কর্মী জানান, ‘চুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় এক নেতার সাথে আর্থিক চুক্তিতে সাগরময় সভাপতি হয়েছে। চুয়েটে কি ছাত্রলীগমনা শিক্ষার্থীর আকাল পড়েছে যে এরকম অছাত্রে এবং কর্মীহীন একজনকে নেতা বানাতে হবে? কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আবারও প্রমাণ করলো, সংগঠনের জন্য মেধা, যোগ্যতা বা ত্যাগ এগুলো শুধু মুখের বুলি আসল যোগ্যতা টাকা।’

গত বুধবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চুয়েট ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী এক বছরের জন্য এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৩৬ সদস্যের কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে ১৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৮ জনকে রাখা হয়েছে। সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া সাগরময় চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী এবং সাধারণ সম্পাদক বিজয় হোসেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছিল ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ১৬১ সদস্যের ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে সৈয়দ ইমাম বাকের ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন দায়িত্ব পান। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এই কমিটির কার্যক্রম বিলুপ্ত ঘোষণা করে। একই সঙ্গে নতুন কমিটির জন্য পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। এর পর থেকে কমিটি না থাকায় কয়েকটি উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

চুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

প্রকাশিত ১০:৪৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের ৩৬ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সাগরময় আচার্যকে সভাপতি ও বিজয় হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। তাঁরা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সভাপতি সাগরময় পুরকৌশল বিভাগ থেকে ২০২৩ সালে স্নাতক শেষ করেছেন, তবে তিনি এখনো স্নাতকোত্তরে ভর্তি হননি। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক বিজয় মেকাট্রনিকস ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত।

তবে দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় পর হওয়া চুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কমিটিকে বিতর্কমুক্ত রাখতে পারলো না কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। চুয়েটে ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি এতো বছর পর হওয়া কমিটিতে সভাপতি বানানো হয়েছে একজন অছাত্র, মাদকসেবী এবং কর্মীহীন প্রার্থীকে। অভিযোগের শেষ নেই নির্বাচিত সভাপতি সাগরময় আচার্যের বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি আদ্যন্ত ১৮’র র‍্যাগ কনসার্টের সময় সভাপতি তার দুই বহিরাগত বন্ধুদের সাথে মদ খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সাথেই দুর্ব্যবহার করে। পরে এই ঘটনায় ক্যাম্পাসে পোস্টার ছাপিয়ে সাগরময় আচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের একাংশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে এই কমিটি প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ২ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও। এতসব অভিযোগে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

নতুন কমিটিতে সভাপতি পদ পাওয়া সাগরময় আচার্য সম্পর্কে ছাত্রলীগ কর্মীরা বলেন, সাগর পুরকৌশল বিভাগ থেকে ২০২৩ সালে স্নাতক শেষ করেছেন। ফলে বর্তমানে তার ছাত্রত্ব নেই। এরপর থেকে তিনি সাংগঠনিক কাজে খুব বেশি সক্রিয় ছিল না। ছাত্রলীগের কোন কর্মীই তার উগ্র মানসিকতার কারণে তার পাশে ভিড়তো না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চুয়েট ছাত্রলীগ কর্মী জানান, ‘চুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় এক নেতার সাথে আর্থিক চুক্তিতে সাগরময় সভাপতি হয়েছে। চুয়েটে কি ছাত্রলীগমনা শিক্ষার্থীর আকাল পড়েছে যে এরকম অছাত্রে এবং কর্মীহীন একজনকে নেতা বানাতে হবে? কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ আবারও প্রমাণ করলো, সংগঠনের জন্য মেধা, যোগ্যতা বা ত্যাগ এগুলো শুধু মুখের বুলি আসল যোগ্যতা টাকা।’

গত বুধবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চুয়েট ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী এক বছরের জন্য এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৩৬ সদস্যের কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে ১৮ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ৮ জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৮ জনকে রাখা হয়েছে। সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া সাগরময় চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী এবং সাধারণ সম্পাদক বিজয় হোসেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছিল ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। ১৬১ সদস্যের ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে সৈয়দ ইমাম বাকের ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন দায়িত্ব পান। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এই কমিটির কার্যক্রম বিলুপ্ত ঘোষণা করে। একই সঙ্গে নতুন কমিটির জন্য পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়। এর পর থেকে কমিটি না থাকায় কয়েকটি উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।