১ নং পুরানা পল্টনের লেইন এর জমির উপর মামলা করে একদল ভুমি দস্যু ১ নং পুরানা পল্টনের জমি দখল করে প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে হামলা মামলা করে উচ্ছেদ করে বিল্ডিং তৈরী করছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে।
মামলা করা হয় ১নং পুরানা পল্টন লেইন এর জমি বিষয়ে। আদালতের রায়ও আসে ১নং পুরানা পল্টন লেইন এর বাদীর পক্ষে। কিন্তু এ রায়ের বলে বাদী দখল নেয় ১নং পুরানা পল্টন এর জমি। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দুটি নাম একই নাম মনে হলেও লাইন শব্দের কারণে দুটি দুই স্থানের জমি। এ সুক্ষ কারচুপির মাধ্যমে ১নং পুরানা পল্টন এর মালিদের বিরুদ্ধে হামলা মামলার মাধ্যমে উচ্ছেদ করে বিল্ডিং করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরে জমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে জানা যায় ১নং পুরানা পল্টন জায়গাটি একদল সন্ত্রাসী গত সরকারের আমলে দখল করে নিয়ে গত চার বছর ধরে বিল্ডিং নির্মাণ করছে। সন্ত্রাসী ও দখলদাররা এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করে বিভিন্ন ফ্লোর ভাড়া দেয়া শুরু করেছে।
এর মধ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসক বলছে জমিটি তাদের ১নং খতিয়ানভুক্ত। জমিটি জেলা প্রশাসনের দখলে আছে। অপর দিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দাবী করছে জমিটি তাদের এবং তাদের দখলে আছে। সাধারণ জনগণের প্রশ্ন হলো তাহলে সন্ত্রাসীরা জমিটি দখল করে গত চার বছর ধরে এখানে বিল্ডিং নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছে কিভাবে?
সংবাদ সংগ্রহের সময় দৈনিক প্রথম আলোতে ২১ জুলাই ২০২৩ ইং রোজ মঙ্গলবার ”পুরানা পল্টনে নিমার্ণাধীন ১৮ তলা ভবনের অনুমোদন বাতিল” শিরোণামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল তার একটি কপি আমার হাতে হস্তগত হয়। ঐ সংবাদ উল্লেখ করা হয়েছিল যে, রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্মাণাধীন একটি ১৮ তলা ভবনের অনুমোদন বাতিল করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারী খাস খতিয়াতভুক্ত জমিতে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। ঢাকা জেলা প্রশাসকের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তথ্য উপাত্ত যাচাই শেষে রাজউক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন বলছে, পুরানা পল্টন ১নং হোল্ডিংয়ের প্রায় ২৬ কাঠা জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছিল ১৮ তলা ভবনটি। এটি সরকারের পরিত্যক্ত সম্পক্তি। ঢাকা মহানগর জরিপ অনুযায়ী জমিটির ১২.৭৯ শতাংশ জমি (সাড়ে আট কাঠা) খাস জমি।
তখনকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সিবলী সাদিক বলেছিলেন, রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারে গত ছয় মাস আগে উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। বিভিন্ন রেকর্ড পর্যালোচনা করে পুরানা পল্টনে একটি বাড়ীর তথ্য সামনে আসে। সেখানে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরকে অন্ধকারে রেখে আবসন প্রতিষ্ঠান আবেদ হোল্ডিং এফ এ টাওয়ার নামে ১৮ তলা ভবনটি নির্মাণ করছিল।
জালিয়াতি ও প্রতারণার দায়ে ভবনটির অনুমোদন বাতিল করেছে রাজউক। সরকারী এ সম্পত্তি জেলা প্রশাসন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবী করলেও বাস্তবতা হচ্ছে ঐ জায়গায় একটি বেসরকারী কোম্পানী বিল্ডিং নির্মাণ করছে। রাজউকের অনুমোদন বাতিলকৃত ও জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবীকৃত ঐ ভুমির উপর নির্মিত ১৮ তলা ভবনের বিভিন্ন ফ্লোর ভাড়া দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক ভাড়াটিয়া ভবনে উঠে কাজকর্ম শুরু করেছে।
ভুমি দস্যুদের এহেন কর্মকান্ডের রহস্য কি অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, ১নং পুরানা পল্টনের এস এ ১০৬৮ ও ১০৬৯ দাগ এর জমির পরিমাণ ২৬ (ছাব্বিশ) কাঠা। উক্ত জমিটির পাকিস্থান আমলে মালিক ছিলেন চারজন, তারা হলেন আয়াতুন নেছা, মহিবুন নেছা, জয়নুল হোসেন ও কামরুল হোসাইন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তারা দেশ ত্যাগ করে চলে গেলে বাংলাদেশ সরকার উক্ত সম্পত্তি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে। ১৯৭২ সালের পরিত্যাক্ত সম্পত্তির আইন অনুযায়ী সরকার উক্ত জমির দখল বুঝে নেয় এবং ১৯৮৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জমিটি পুর্ত মন্ত্রণালয়ে পরিত্যাক্ত সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়। সরকার ১৯৭২ সনের বাংলাদেশ পরিত্যাক্ত সম্পক্তি (নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও হস্তান্তর) আদেশ (১৯৭২ সনের রাষ্ট্রপতির ১৬ নং অধ্যাদেশ) এর অধীন পরিত্যাক্ত সম্পক্তি হিসেবে দখল নেওয়া হয়েছে। অতএব উক্ত গেজেটভুক্ত সম্পক্তির মালিক পুর্তমন্ত্রণালয়। এ সম্পত্তিতে কোন ব্যক্তির মালিকানা দাবী করার আর কোন সুযোগ নেই। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। পুর্তমন্ত্রণালয় গেজেট জারীর পর জমিতে যারা হোটেল দোকান তৈরী করে পাকিস্থান আমল থেকে বসবাস করে আসছিল তাদের নিকট জমিটি বিক্রয়ের প্রস্তাব করলে দখলদারগণ জমিটি ক্রয়ে রাজি হয়। ফলে জমি বিক্রয় মুল্য নির্ধারণ করে জমিটি বিক্রয় করে দেয়। জমিটি যাদের কাছে বিক্রয় করে দেয় তারা হলেন, গৃহায়ন ও গণপুর্ত স্বারকনং-শা-১০/১ আর- ১৪৪/৮২/৫০৭ তারিখ ০২/১২/৮৬ইং মোতাবেক কামরুন নাহার (রহমান ট্রেডাস) এর অনুকুলে ২৮,৩৬৪ (আটাশ হাজার তিনশত চৌষট্টি) টাকা বিক্রয় প্রস্তাব প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে তিনি ডাউন্ট প্রেমেন্ট বাবদ ৫৬৭৩ (পাঁচ হাজার ছয়শত তিয়াত্তর) টাকা জনতা ব্যাংকের পেঅর্ডার নং – ০৪৪৩১২ও পেঅর্ডার নং-২০১১১৩ তারিখ ১৭/০১/৯৪ইং দুইটি পেঅর্ডারে মোট (২২,৬৯১+৫৬৭৩) ২৮৩৬৪(আটাশ হাজার তিনশ চৌষট্টি টাকা জমা দেন। সমুদয় টাকা জমা দেয়ার পর তার সাথে ০৮/০৯/৯৭ ইং তারিখ বিক্রয় চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তিপত্রে জমির এস এ খতিয়ান নং-১৪৫,১৪৬,১৪১, দাগ নং ১০৬৮ ও ১০৬৯ মোতাবেক চুক্তি সম্পাদিত করা হয়। গৃহায়ন ও পুর্তমন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের গাফিলতির কারণে কামরুন নাহারের অনুকুলে এখন পর্যন্তও বিক্রয় দলিল সম্পাদন করে দেয়া হয়নি। এর মধ্যে কামরুন নাহার বৃদ্ধ বয়সে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে তিনি ফারুক হোসেন নামে একজন আত্মীয়কে আমমোক্তার রেখে মারা যান। বর্তমানে কামরুন নাহারের আমমোক্তার ফারুক হোসেন বিভিন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পত্র দিয়ে দলিল পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে আমমোক্তার ফারুক হোসেন বলেন, দলিল পাওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কামরুন নাহারের বিক্রয় চুক্তির দলিলে জমির পরিমান দেখানো হয়েছে ০.০৯ কাঠা। অর্থাৎ তিনি যতটুকু জমি যতটুকু দখলে ছিলেন ততটুকুরই দলিল সম্পাদিত হয়।
কামরুন নাহার মারা যাওয়ার পর তার সম্পত্তি ও রহমান ট্রেডার্সের বৈধ মালিক হন ফারুক হোসেন। তিনি দখলে থাকা অবস্থায় একদল সন্ত্রাসী ও ভুমিদস্যু জোর পূর্বক তার দোকান বাড়ী ঘর ভেঙ্গে তাকে জোর পূর্বক জমি থেকে উচ্ছেদ করে যা সম্পূর্ণ উদেশ্যমুলক ও বেআইনী। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় একদল ভুমি দস্যু জমিটি অবৈধভাবে দখল করার জন্য জৈনক এহসানুল করিম গং বাদী হয়ে বাংলাদেশ এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার রিট পিটিশন নং ২৯৪২/২০০৩।
দরখাস্তকারী এহসানুল করিম গং তাদের দরখাস্তে উল্লেখ করেন যে ১ নং পুরানা পল্টন লেন তাদের দখলে আছে এবং উহা গৃহায়ন ও পুর্তমন্ত্রণালয়ের গেজেট বহির্ভুত জমি। তারা উক্ত জমির খাজনা খারিজ করেই বসবাস করছে। এটি সরকারের পরিত্যক্ত সম্পত্তি নয়। ঘটনাটি সত্য। আদালতও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে। সরকারী পক্ষ জবাব না দিলে দেখা যায় যে ১ নং পুরানা পল্টন লাইন সরকারী গেজেটের বাহিরের সম্পত্তি এ কারণে আদালত তাদের দাবী বৈধ বলে রায় দেয়। কিন্তু বিপত্তি দেখা দিয়েছে অন্য জায়গায়। তারা রায় পেয়েছে ১নং পুরানা পল্টন লাইন এর পক্ষে, কিন্তু তারা দখল করেছে ১নং পুরানা পল্টনের পরিত্যক্ত সম্পত্তি যা ২৩/৯/১৯৮৬ সালে গৃহায়ন ও পুর্তমন্ত্রণালয় পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত করে। গেজেটের ক্রমিক নং ৫৪, ১নং পুরানা পল্টন। সন্ত্রাসী ও ভুমি দস্যুরা চালাকী করে ১নং পুরানা পল্টন লাইন এর উপর মামলা করে রায় নিয়ে ১নং পুরানা পল্টনে বসবাসকারী সরকারী লীজ প্রাপ্ত ও ক্রয়কারীদের জোর পূর্বক ও অবৈধভাবে উচ্ছেদ করে জমি দখল করে নিয়ে আবেদ হোল্ডিং লিঃ নামে একটি ডেভেলেপার কোম্পানী তৈরী করে উক্ত জমি দেখিয়ে রাজউক থেকে অনুমোদন নিয়ে ১৮ তলা ভবন তৈরী করে বিক্রি ও ভাড়া দেয়। বর্তমানে সরকারীভাবে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার ব্যবস্থা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুক্তি সম্পাদনের সোয়া দুই যুগেও জমির দলিল দেয়নি গৃহায়ণ ও পুর্তমন্ত্রণালয় সুক্ষ কারচুপিতে পুরানা পল্টনের ঐ ভুমিতে ১৮ তলা নির্মাণ করছে কারা
Tag :
জনপ্রিয়