০৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
অবনী অনিমেষ

গারো পাহাড়ে জীবন মরণ লড়াই এর মুখোমুখি হাতি এবং মানুষ

  • প্রকাশিত ০৫:৫০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪
  • ১৩৮ বার দেখা হয়েছে

মরছে মানুষ মরছে হাতি এভাবেই গারো পাহাড়ে জীবন মরণ লড়াই এর মুখোমুখি হাতি এবং মানুষ।গারো পাহাড়ে আতঙ্কের অপর নাম বন্যহাতি। এদের কারণে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে গারো পাহাড়ের মানুষেরা। হাতির তান্ডবে নষ্ঠ হচ্ছে আবাদী ফসল। বন্যহাতির আক্রমণে সীমান্ত এলাকায় ঝরছে একের পর এক তাজা প্রাণ। পাশাপাশি হাতিরাও নির্বংশ হচ্ছে এমনটিই জানালেন এলাকার বন বিভাগ। এনিয়ে বন্যহাতি ও সীমান্তবর্তী কৃষকের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করছে। হাতির তাণ্ডবে ২০২৪ সাল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। অর্থাৎ গত দশ বছরে ৪৩ জনের মৃত্যু হলে প্রতি বছরে ৪.৩ জনের অধিক প্রাণ হারিয়েছে।

অপর দিকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩৩টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এ সব ঘটনায় বনভূমি এবং বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা দিতে সুস্পষ্টভাবে ব্যর্থ হয়েছে বন বিভাগ। হাতির মৃত্যুতে বনে অবৈধ দখলদারদের সম্পৃক্ততা সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।পাহাড়ে হাতি মানুষ মারে,মানুষ হাতি মারে এমন অবস্থার কাটছে সময়।

তারা বলেছেন, শেরপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর এবং কক্সবাজারসহ তিন পার্বত্য জেলায় বন্যহাতি বছরের বিভিন্ন সময় লোকালয়ে চলে আসে। বন্যহাতির কারণে কৃষকের ফল-ফসল ও বসতভিটার অনেক ক্ষতি হয়েছে।

তবে মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্বে অবশ্য মানুষ অপেক্ষা বন্যহাতির মৃত্যু ঘটেছে তুলনামূলকভাবে বেশি। হাতির তাণ্ডব থেকে নিজেদের ফসল বাঁচাতে সীমান্ত এলাকা কৃষকেরা রাত জেগে মশাল জ্বালিয়ে ও ঘণ্টা বাজিয়ে পালাক্রমে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন।

নিজেদের শত শত একর ফসল রক্ষার্থে নিজেদের জীবন বাজী রেখে হাতির আক্রমণ রুখার চেষ্টা করছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ে নির্ভোরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহ বিভাগের আওতায় ভারত সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের তিনটি এবং ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া মিলে গারো পাহাড় অধ্যুষিত পাঁচ উপজেলায় গত এক মাসে বন্য হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৬ কৃষকের। মানুষের প্রতিরোধে বন্য হাতি মারা গেছে একটি। আর বন্য হাতি হত্যার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে মামলাও।

মানুষ-হাতির অব্যাহত এ দ্বন্দ্বে এভাবে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, লম্বা হচ্ছে ঘরবাড়ি বিনষ্টসহ ফসলহানির তালিকা। আবার বন্য হাতি হত্যার মামলায় জড়িয়েও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক। আরেকদিকে সরকারের বন বিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে হাতির আক্রমণ দমনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হলেও সব কর্মসূচি ও উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র মতে, ২০০২ সাল থেকে বন্য হাতির উপদ্রব বেড়ে যায় শেরপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলার পাহাড়ি গ্রামগুলোতে। ফসল, ঘরবাড়ি, গাছপালা ও গবাদি পশুসহ নানা ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বাড়তে থাকে মৃত্যুর মিছিল। নারী থেকে শিশু কেউ বাদ পড়েনি এ মৃত্যুর মিছিল থেকে।

গত প্রায় দুই যুগে শেরপুর সীমান্তে বন্য হাতির আক্রমণে নিহতের সংখ্যা ৭০-এর ওপরে। আহতের সংখ্যা কয়েকশ। হাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় পতিত জমির সংখ্যাও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে মানুষের পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে বন্য হাতির মৃত্যুর সংখ্যাও দশের অধিক।

গত বছর বন্য হাতি হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো কয়েকজন কৃষক হাজতবাসও করেন। আগে সন্ধ্যা বা রাতে তান্ডবলীলা চালালেও সম্প্রতি দিনের বেলায়ই লোকালয়ে হানা দিচ্ছে বন্য হাতির পাল। তবে গত এক মাসে বন্য হাতির তান্ডব ও বন্য হাতি দ্বারা কৃষক মৃত্যুর মিছিল আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

এদিকে গত ২০২৩ সালের পহেলা মে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার মালাকোচা গ্রামে হাতির আক্রমণে প্রাণ হারান কৃষক আবদুল করিম (২৮)। ১৯ এপ্রিল ধোবাউড়া উপজেলায় সুমন আহমেদ (১২) নামে এক কিশোর মারা যায় বন্য হাতির আক্রমণে। ২২ এপ্রিল ঈদের দিন হালুয়াঘাট উপজেলার গাবরাখালী গ্রামে ফসল রক্ষা করতে গিয়ে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান কৃষক ফরজুল ইসলাম (৩০)।

২৫ এপ্রিল হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ এপ্রিল মারা যান নালিতাবাড়ী উপজেলার পূর্ব সশেমচুড়া গ্রামের কৃষক বিজয় সাংমা (৫২)। ১ মে শ্রীবরদী উপজেলার মালাকোচা গ্রামে ফসল রক্ষা করতে গিয়ে হাতির আক্রমণে মারা যান কৃষক আবদুল হামিদ (৫৫)।

অন্যদিকে ২ মে রাতে হালুয়াঘাট উপজেলার বরাক গ্রামের হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান কৃষক ইদ্রিস আলী (৬০)। ৬ মে ঝিনাইগাতী উপজেলার বাঁকাকুড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় বন্য হাতির মরদেহ।

সবমিলিয়ে এক মাসে ছয় কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্য হাতির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হাতি প্রতিরোধে বন বিভাগের কার্যকরী কোনো ভূমিকা না থাকায় হতাশা ও শঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।

বন বিভাগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে শতাধিক বন্য হাতির পাল ৪-৫টি ভাগে ভাগ হয়ে গভীর জঙ্গলে অবস্থান করে। দিনে-রাতে যেকোনো সময় খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে তান্ডব চালাচ্ছে এরা। এ ছাড়াও ৬০-৭০টি বন্য হাতির পাল দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া টপকে অবস্থান করছে ভারতের গভীর জঙ্গলে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে হালুয়াঘাটের গাজিরভিটা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান এর সঙ্গে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন জানান, সীমান্তবর্তী মানুষ বন্য হাতি আতঙ্কে রয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এখানে হাতি প্রতিরোধে বন বিভাগের কোনো নজরদারি নেই।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন আমার রেঞ্জ থেকে মোট চৌদ্দ লক্ষ টাকা টাকা বিতরণ করা হয়েছে।এর মধ্যে দুই জনের নিহত আহত একজন এবং ত্রিশ পঁয়ত্রিশ জন ফসল ক্ষতিগ্রস্তের টাকা পেয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বন বিভাগের গোপালপুর বিট কর্মকর্তা মাজাহারুল হক এর সঙ্গে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে জানান, হাতি প্রতিরোধে এলাকাবাসীকে সচেতনতা সৃষ্টি করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ছাড়াও বন বিভাগ থেকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে।

বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মানুষ ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর নানা চেষ্টা করে। তবে এমন কোন চেষ্টাকে কিছুতেই সমর্থন করা যায় না যার ফলে হাতি মারা পড়ে।বন বিভাগকে এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে হাতি বা অন্য কোন বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে আসার প্রয়োজন না হয়। বনে খাদ্যের জোগান নিশ্চিত হলে তাদের লোকালয়ে আসার প্রয়োজন পড়বে না।

এজন্য নির্বিচারে বন ধবংস বন্ধ করা জরুরি। বন্যপ্রাণীর জন্য আর কিছু করতে হবে না, মানুষ যেন বন ধ্বংস না করে সেটা নিশ্চিত করলেই চলবে। তাহলে খাবারের জন্য হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের আর লোকালয়ে আসতে হবে না। বনই তাদের খাবারের জোগান দেবে বলে বন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোটের (বিএনসিএ) আহ্বায়ক ও পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার জানান, হাতি আমাদের জায়গায় আসেনি। আমরা মূলত হাতি চলাচলের পথে ঢুকে পড়েছি। হাতি চলাচলের জায়গা দখল করে বাড়ি ঘর করেছি। এ বিষয়ে তিনি দু:খ প্রকাশ করে দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন, হাতি রক্ষায় বন বিভাগ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের কার্যক্রম কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।হাতির মতো এত বড় প্রাণীকে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে না পারার অর্থই হলো অন্য প্রাণীগুলোও খুবই হুমকিতে রয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের পরিবেশে। বনের পতাকাধারী প্রাণী হাতি ২০২১ সালে প্রাণ হারিয়েছে ৩৪টি বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভারতের মেঘালয় প্রদেশের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত জনপদ শ্রীবরদীর রাজার পাহাড়, নেওয়াবাড়ি টিলা, ঝোঁলগাঁও, বালিজুড়ি, কোচপাড়া, রাঙ্গাজান, কাড়ামারা, কর্ণজোড়া, বাবলাকোনা, হারিয়েকোনা, পাঁচমেঘাদল, গারোপাড়াসহ ১২-১৫টি গ্রামে বাঙালি ও হিন্দু গারো, কোচ হাজংসহ বিভিন্ন গোত্র মিলে প্রায় ২০-৩০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। ওই সব এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের ভূখণ্ডে রয়েছে বিশাল বনভূমি।

বাংলাদেশের বনাঞ্চল অপেক্ষাকৃত সমতল। ভারতের গহীন বনাঞ্চলে রয়েছে অগণিত বুনো হাতি। হাতি দল বেঁধে সমতল ভূমিতে চলাফেরা ও আহার করতে সহজ মনে করে থাকে।তাই সময় অসময়ে বুনো হাতির পাল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ওইসব সমতল বনাঞ্চলের আবাসিক ও কৃষিপ্রধান এলাকায় চলে আসে। পাহাড়ে বসবাসরত বাড়িঘর, ফসলাদি জমি ও বিভিন্ন বাগানে বন্যহাতি ঢুকে ধ্বংসলীলা চালায়। আবার ফিরেও যায় হাতির পাল।

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শহীদুল ইসলাম সাঈদ দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন গত ২৬ বছর যাবত গারো পাহাড়ে জীবন মরণ লড়াই এর মুখোমুখি হাতি এবং মানুষ এর এই জীবন মরণ সমস্যার শেষ কোথায়??বন্য প্রাণী সংরক্ষণ করা যেমন আমাদের সকলের দায়িত্ব ঠিক তেমন পাহাড়ী এলাকায় মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার সহ সংশ্লিষ্টদের।

আদিবাসী নেতা শ্রীবরদী উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান প্রাঞ্জল এম সাংমার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন, গ্রামবাসীরা হাতির উপদ্রপ থেকে বাঁচতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। তবে এখনও স্থায়ী কোন সমাধান হয়নি। এজন্য দিনদিন বন্যহাতির তাণ্ডবে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।বন্যহাতির তাণ্ডবে আহত নিহত এর পরিবার অনেকেই ক্ষতিপূরণ পাইনি।

এই বিষয়ে সরাসরি কথা হয় হাতির সাথে লড়াই করে যাদের বেঁচে থাকতে হয় সেই নালিতাবাড়ির সীমান্তবর্তী এলাকার বাতকুচি টিলা পাড়া গ্রামের মোঃ গোলাম মাওলার সাথে তিনি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন
বছরে পাঁচ মাস জীবন মরণ লড়াই এর মুখোমুখি হতে হয় আমার,আমাদের গ্রামের সবাই কে।পাহাড়ী এলাকায় হাতির উপদ্রব এর একমাত্র কারন হাতির খাদ্যের অভাব। হাতি সহ অন্যান্য জীবজন্তুর বসবাসের উপযোগী বনায়ন না থাকায় হাতি মানুষের ঘরবাড়িতে প্রবেশ ও ভাংচুর করে খাদ্য খোঁজে। অথচ সরকার এর সুন্দর পরিকল্পনা
ছিল সেগুলো বাস্তবায়ন না করে বন বিভাগ এর অধীনে সমস্ত পাহাড়ে একাশি ও ইউক্লেপিটাস গাছ লাগানো হয়।একাশি ও ইউক্লেপিটাস গাছের পাতা কোন প্রাণী খাবার হিসেবে গ্রহণ করে না এবং এইসব গাছের ডালে পাখি পর্যন্ত বসে না।অথচ সরকারের যে পরিকল্পনা ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের পদক্ষেপ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে ছিল।সৈই উদ্দেশ্যে কে নস্যাৎ করে বন বিভাগ এমন কাঠ গাছ লাগিয়েছে যেটা কোন প্রাণী এমনকি হাতি খাবার হিসেবে গ্রহণ করে না।গত সাত থেকে আট বছর আগে তৎকালীন বন কর্মকর্তা দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্পে শাল,সেগুন,অর্জুন,গজারী আরো অন্যান্য দীর্ঘ মেয়াদী গাছের চারার জন্য নার্সারি তৈয়ার করে যে নার্সারিতে বীজ বপন থেকে শুরু করে পাহাড়ে গাছ লাগানো পর্যন্ত সত্তর লক্ষ টাকা খরচ করে সমস্ত পাহাড়ে গাছ লাগিয়েছিলেন।বন বিভাগের সঠিক রক্ষানাবেক্ষণ না থাকার কারনে সব গাছ নষ্ট হয়ে যায়।

বন্যহাতির তাণ্ডবে নিহত মৃত সোহরাব আলী পুত্রবধূ এবং হাতি হত্যা মামলার আসামি শহীদুল ইসলাম স্ত্রী মোছাঃ জামেলা খাতুন দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন আজ বারো বছর আগে বন্যহাতির তাণ্ডবে নিহত হয় আমার শ্বশুর।বন বিভাগ থেকে কোন প্রকার টাকা পয়সা পাই নাই। মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এর সাথে দেখা করছিলাম উনি বলছে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী, বন্যপ্রাণীর আক্রমণে কোন ব্যক্তি নিহত হলে তার পরিবারকে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। বন্যপ্রাণীর আক্রমণে গুরুতর আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে অনধিক এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান রয়েছে। তবে ২০২১ এর আগের কথা তিনি জানেন না।এহন আমার স্বামী হাতি হত্যা মামলার আসামি শহীদুল ইসলাম তার এটাই অপরাধ গ্রামবাসীর কথায় জেনারেটর ভ্যান গাড়িতে উঠাইছে।

এই বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে ময়মনসিংহ বন বিভাগ সহকারী বন সংরক্ষক জনাব মোঃ সাদেকুল ইসলাম খান এর সাথে কথা হলে তিনি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী, বন্যপ্রাণীর আক্রমণে কোন ব্যক্তি নিহত হলে তার পরিবারকে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। বন্যপ্রাণীর আক্রমণে গুরুতর আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে অনধিক এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান রয়েছে। তবে ২০২১ এর আগের কথা বলতে পারবো না।

এ বিষয়ে জানার জন্য ময়মনসিংহ বন বিভাগ উপ-বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ.ন.ম. আব্দুল ওয়াদুদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন বন বিভাগ হাতি এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব সময় তৎপর কিন্তু লোকবল সংকটের কারনে অনেক সময় সেবা দিতে বিলম্ব হয়। বন্য হাতির আক্রমনে নিহত,আহত,এবং ফসল ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে আশি লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।যারা এখনো পাইনি সেগুলোর আবেদনগত ত্রুটি আছে।

বন সংরক্ষক এর সাথে এই বিষয়ে জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন হাতি -মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসন করতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। হাতি দেখতে শত শত মানুষের সমাগম, হৈচৈ, ছবি তোলা, ভিডিও করার হিড়িক পড়ে যায়। এতে করে হাতির বিরক্তির উদ্রেক হয়। মানুষের মৃত্যুর/ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়। সরকারের ক্ষতিপূরণ নীতিমালা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক চাহিত তথ্যাদি সরবরাহ সাপেক্ষে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব। ২০২১ সালের পূর্বের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেয়া যাবে না এমন কোন কথা বিধিমালায় বলা নাই। তবে আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগবে।

Tag :
জনপ্রিয়

খুলনায় গ্যাস সরবরাহের দাবিতে খুলনা নাগরিক সমাজের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

অবনী অনিমেষ

গারো পাহাড়ে জীবন মরণ লড়াই এর মুখোমুখি হাতি এবং মানুষ

প্রকাশিত ০৫:৫০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪

মরছে মানুষ মরছে হাতি এভাবেই গারো পাহাড়ে জীবন মরণ লড়াই এর মুখোমুখি হাতি এবং মানুষ।গারো পাহাড়ে আতঙ্কের অপর নাম বন্যহাতি। এদের কারণে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে গারো পাহাড়ের মানুষেরা। হাতির তান্ডবে নষ্ঠ হচ্ছে আবাদী ফসল। বন্যহাতির আক্রমণে সীমান্ত এলাকায় ঝরছে একের পর এক তাজা প্রাণ। পাশাপাশি হাতিরাও নির্বংশ হচ্ছে এমনটিই জানালেন এলাকার বন বিভাগ। এনিয়ে বন্যহাতি ও সীমান্তবর্তী কৃষকের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করছে। হাতির তাণ্ডবে ২০২৪ সাল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। অর্থাৎ গত দশ বছরে ৪৩ জনের মৃত্যু হলে প্রতি বছরে ৪.৩ জনের অধিক প্রাণ হারিয়েছে।

অপর দিকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৩৩টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। এ সব ঘটনায় বনভূমি এবং বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা দিতে সুস্পষ্টভাবে ব্যর্থ হয়েছে বন বিভাগ। হাতির মৃত্যুতে বনে অবৈধ দখলদারদের সম্পৃক্ততা সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।পাহাড়ে হাতি মানুষ মারে,মানুষ হাতি মারে এমন অবস্থার কাটছে সময়।

তারা বলেছেন, শেরপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর এবং কক্সবাজারসহ তিন পার্বত্য জেলায় বন্যহাতি বছরের বিভিন্ন সময় লোকালয়ে চলে আসে। বন্যহাতির কারণে কৃষকের ফল-ফসল ও বসতভিটার অনেক ক্ষতি হয়েছে।

তবে মানুষ ও হাতির দ্বন্দ্বে অবশ্য মানুষ অপেক্ষা বন্যহাতির মৃত্যু ঘটেছে তুলনামূলকভাবে বেশি। হাতির তাণ্ডব থেকে নিজেদের ফসল বাঁচাতে সীমান্ত এলাকা কৃষকেরা রাত জেগে মশাল জ্বালিয়ে ও ঘণ্টা বাজিয়ে পালাক্রমে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন।

নিজেদের শত শত একর ফসল রক্ষার্থে নিজেদের জীবন বাজী রেখে হাতির আক্রমণ রুখার চেষ্টা করছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ে নির্ভোরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহ বিভাগের আওতায় ভারত সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের তিনটি এবং ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া মিলে গারো পাহাড় অধ্যুষিত পাঁচ উপজেলায় গত এক মাসে বন্য হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৬ কৃষকের। মানুষের প্রতিরোধে বন্য হাতি মারা গেছে একটি। আর বন্য হাতি হত্যার অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে মামলাও।

মানুষ-হাতির অব্যাহত এ দ্বন্দ্বে এভাবে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, লম্বা হচ্ছে ঘরবাড়ি বিনষ্টসহ ফসলহানির তালিকা। আবার বন্য হাতি হত্যার মামলায় জড়িয়েও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষক। আরেকদিকে সরকারের বন বিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে হাতির আক্রমণ দমনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হলেও সব কর্মসূচি ও উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র মতে, ২০০২ সাল থেকে বন্য হাতির উপদ্রব বেড়ে যায় শেরপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলার পাহাড়ি গ্রামগুলোতে। ফসল, ঘরবাড়ি, গাছপালা ও গবাদি পশুসহ নানা ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বাড়তে থাকে মৃত্যুর মিছিল। নারী থেকে শিশু কেউ বাদ পড়েনি এ মৃত্যুর মিছিল থেকে।

গত প্রায় দুই যুগে শেরপুর সীমান্তে বন্য হাতির আক্রমণে নিহতের সংখ্যা ৭০-এর ওপরে। আহতের সংখ্যা কয়েকশ। হাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় পতিত জমির সংখ্যাও বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচতে মানুষের পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে বন্য হাতির মৃত্যুর সংখ্যাও দশের অধিক।

গত বছর বন্য হাতি হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো কয়েকজন কৃষক হাজতবাসও করেন। আগে সন্ধ্যা বা রাতে তান্ডবলীলা চালালেও সম্প্রতি দিনের বেলায়ই লোকালয়ে হানা দিচ্ছে বন্য হাতির পাল। তবে গত এক মাসে বন্য হাতির তান্ডব ও বন্য হাতি দ্বারা কৃষক মৃত্যুর মিছিল আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

এদিকে গত ২০২৩ সালের পহেলা মে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার মালাকোচা গ্রামে হাতির আক্রমণে প্রাণ হারান কৃষক আবদুল করিম (২৮)। ১৯ এপ্রিল ধোবাউড়া উপজেলায় সুমন আহমেদ (১২) নামে এক কিশোর মারা যায় বন্য হাতির আক্রমণে। ২২ এপ্রিল ঈদের দিন হালুয়াঘাট উপজেলার গাবরাখালী গ্রামে ফসল রক্ষা করতে গিয়ে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান কৃষক ফরজুল ইসলাম (৩০)।

২৫ এপ্রিল হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ এপ্রিল মারা যান নালিতাবাড়ী উপজেলার পূর্ব সশেমচুড়া গ্রামের কৃষক বিজয় সাংমা (৫২)। ১ মে শ্রীবরদী উপজেলার মালাকোচা গ্রামে ফসল রক্ষা করতে গিয়ে হাতির আক্রমণে মারা যান কৃষক আবদুল হামিদ (৫৫)।

অন্যদিকে ২ মে রাতে হালুয়াঘাট উপজেলার বরাক গ্রামের হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মারা যান কৃষক ইদ্রিস আলী (৬০)। ৬ মে ঝিনাইগাতী উপজেলার বাঁকাকুড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় বন্য হাতির মরদেহ।

সবমিলিয়ে এক মাসে ছয় কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্য হাতির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হাতি প্রতিরোধে বন বিভাগের কার্যকরী কোনো ভূমিকা না থাকায় হতাশা ও শঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।

বন বিভাগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে শতাধিক বন্য হাতির পাল ৪-৫টি ভাগে ভাগ হয়ে গভীর জঙ্গলে অবস্থান করে। দিনে-রাতে যেকোনো সময় খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে তান্ডব চালাচ্ছে এরা। এ ছাড়াও ৬০-৭০টি বন্য হাতির পাল দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া টপকে অবস্থান করছে ভারতের গভীর জঙ্গলে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে হালুয়াঘাটের গাজিরভিটা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান এর সঙ্গে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন জানান, সীমান্তবর্তী মানুষ বন্য হাতি আতঙ্কে রয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এখানে হাতি প্রতিরোধে বন বিভাগের কোনো নজরদারি নেই।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বন বিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন আমার রেঞ্জ থেকে মোট চৌদ্দ লক্ষ টাকা টাকা বিতরণ করা হয়েছে।এর মধ্যে দুই জনের নিহত আহত একজন এবং ত্রিশ পঁয়ত্রিশ জন ফসল ক্ষতিগ্রস্তের টাকা পেয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন আমি দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বন বিভাগের গোপালপুর বিট কর্মকর্তা মাজাহারুল হক এর সঙ্গে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে জানান, হাতি প্রতিরোধে এলাকাবাসীকে সচেতনতা সৃষ্টি করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ছাড়াও বন বিভাগ থেকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে।

বন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মানুষ ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর নানা চেষ্টা করে। তবে এমন কোন চেষ্টাকে কিছুতেই সমর্থন করা যায় না যার ফলে হাতি মারা পড়ে।বন বিভাগকে এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে হাতি বা অন্য কোন বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে আসার প্রয়োজন না হয়। বনে খাদ্যের জোগান নিশ্চিত হলে তাদের লোকালয়ে আসার প্রয়োজন পড়বে না।

এজন্য নির্বিচারে বন ধবংস বন্ধ করা জরুরি। বন্যপ্রাণীর জন্য আর কিছু করতে হবে না, মানুষ যেন বন ধ্বংস না করে সেটা নিশ্চিত করলেই চলবে। তাহলে খাবারের জন্য হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীদের আর লোকালয়ে আসতে হবে না। বনই তাদের খাবারের জোগান দেবে বলে বন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ প্রকৃতি সংরক্ষণ জোটের (বিএনসিএ) আহ্বায়ক ও পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার জানান, হাতি আমাদের জায়গায় আসেনি। আমরা মূলত হাতি চলাচলের পথে ঢুকে পড়েছি। হাতি চলাচলের জায়গা দখল করে বাড়ি ঘর করেছি। এ বিষয়ে তিনি দু:খ প্রকাশ করে দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন, হাতি রক্ষায় বন বিভাগ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের কার্যক্রম কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।হাতির মতো এত বড় প্রাণীকে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে না পারার অর্থই হলো অন্য প্রাণীগুলোও খুবই হুমকিতে রয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের পরিবেশে। বনের পতাকাধারী প্রাণী হাতি ২০২১ সালে প্রাণ হারিয়েছে ৩৪টি বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভারতের মেঘালয় প্রদেশের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত জনপদ শ্রীবরদীর রাজার পাহাড়, নেওয়াবাড়ি টিলা, ঝোঁলগাঁও, বালিজুড়ি, কোচপাড়া, রাঙ্গাজান, কাড়ামারা, কর্ণজোড়া, বাবলাকোনা, হারিয়েকোনা, পাঁচমেঘাদল, গারোপাড়াসহ ১২-১৫টি গ্রামে বাঙালি ও হিন্দু গারো, কোচ হাজংসহ বিভিন্ন গোত্র মিলে প্রায় ২০-৩০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। ওই সব এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের ভূখণ্ডে রয়েছে বিশাল বনভূমি।

বাংলাদেশের বনাঞ্চল অপেক্ষাকৃত সমতল। ভারতের গহীন বনাঞ্চলে রয়েছে অগণিত বুনো হাতি। হাতি দল বেঁধে সমতল ভূমিতে চলাফেরা ও আহার করতে সহজ মনে করে থাকে।তাই সময় অসময়ে বুনো হাতির পাল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ওইসব সমতল বনাঞ্চলের আবাসিক ও কৃষিপ্রধান এলাকায় চলে আসে। পাহাড়ে বসবাসরত বাড়িঘর, ফসলাদি জমি ও বিভিন্ন বাগানে বন্যহাতি ঢুকে ধ্বংসলীলা চালায়। আবার ফিরেও যায় হাতির পাল।

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শহীদুল ইসলাম সাঈদ দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন গত ২৬ বছর যাবত গারো পাহাড়ে জীবন মরণ লড়াই এর মুখোমুখি হাতি এবং মানুষ এর এই জীবন মরণ সমস্যার শেষ কোথায়??বন্য প্রাণী সংরক্ষণ করা যেমন আমাদের সকলের দায়িত্ব ঠিক তেমন পাহাড়ী এলাকায় মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার সহ সংশ্লিষ্টদের।

আদিবাসী নেতা শ্রীবরদী উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান প্রাঞ্জল এম সাংমার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন, গ্রামবাসীরা হাতির উপদ্রপ থেকে বাঁচতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। তবে এখনও স্থায়ী কোন সমাধান হয়নি। এজন্য দিনদিন বন্যহাতির তাণ্ডবে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।বন্যহাতির তাণ্ডবে আহত নিহত এর পরিবার অনেকেই ক্ষতিপূরণ পাইনি।

এই বিষয়ে সরাসরি কথা হয় হাতির সাথে লড়াই করে যাদের বেঁচে থাকতে হয় সেই নালিতাবাড়ির সীমান্তবর্তী এলাকার বাতকুচি টিলা পাড়া গ্রামের মোঃ গোলাম মাওলার সাথে তিনি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন
বছরে পাঁচ মাস জীবন মরণ লড়াই এর মুখোমুখি হতে হয় আমার,আমাদের গ্রামের সবাই কে।পাহাড়ী এলাকায় হাতির উপদ্রব এর একমাত্র কারন হাতির খাদ্যের অভাব। হাতি সহ অন্যান্য জীবজন্তুর বসবাসের উপযোগী বনায়ন না থাকায় হাতি মানুষের ঘরবাড়িতে প্রবেশ ও ভাংচুর করে খাদ্য খোঁজে। অথচ সরকার এর সুন্দর পরিকল্পনা
ছিল সেগুলো বাস্তবায়ন না করে বন বিভাগ এর অধীনে সমস্ত পাহাড়ে একাশি ও ইউক্লেপিটাস গাছ লাগানো হয়।একাশি ও ইউক্লেপিটাস গাছের পাতা কোন প্রাণী খাবার হিসেবে গ্রহণ করে না এবং এইসব গাছের ডালে পাখি পর্যন্ত বসে না।অথচ সরকারের যে পরিকল্পনা ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের পদক্ষেপ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে ছিল।সৈই উদ্দেশ্যে কে নস্যাৎ করে বন বিভাগ এমন কাঠ গাছ লাগিয়েছে যেটা কোন প্রাণী এমনকি হাতি খাবার হিসেবে গ্রহণ করে না।গত সাত থেকে আট বছর আগে তৎকালীন বন কর্মকর্তা দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্পে শাল,সেগুন,অর্জুন,গজারী আরো অন্যান্য দীর্ঘ মেয়াদী গাছের চারার জন্য নার্সারি তৈয়ার করে যে নার্সারিতে বীজ বপন থেকে শুরু করে পাহাড়ে গাছ লাগানো পর্যন্ত সত্তর লক্ষ টাকা খরচ করে সমস্ত পাহাড়ে গাছ লাগিয়েছিলেন।বন বিভাগের সঠিক রক্ষানাবেক্ষণ না থাকার কারনে সব গাছ নষ্ট হয়ে যায়।

বন্যহাতির তাণ্ডবে নিহত মৃত সোহরাব আলী পুত্রবধূ এবং হাতি হত্যা মামলার আসামি শহীদুল ইসলাম স্ত্রী মোছাঃ জামেলা খাতুন দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন আজ বারো বছর আগে বন্যহাতির তাণ্ডবে নিহত হয় আমার শ্বশুর।বন বিভাগ থেকে কোন প্রকার টাকা পয়সা পাই নাই। মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এর সাথে দেখা করছিলাম উনি বলছে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী, বন্যপ্রাণীর আক্রমণে কোন ব্যক্তি নিহত হলে তার পরিবারকে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। বন্যপ্রাণীর আক্রমণে গুরুতর আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে অনধিক এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান রয়েছে। তবে ২০২১ এর আগের কথা তিনি জানেন না।এহন আমার স্বামী হাতি হত্যা মামলার আসামি শহীদুল ইসলাম তার এটাই অপরাধ গ্রামবাসীর কথায় জেনারেটর ভ্যান গাড়িতে উঠাইছে।

এই বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে ময়মনসিংহ বন বিভাগ সহকারী বন সংরক্ষক জনাব মোঃ সাদেকুল ইসলাম খান এর সাথে কথা হলে তিনি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী দ্বারা আক্রান্ত জানমালের ক্ষতিপূরণ বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী, বন্যপ্রাণীর আক্রমণে কোন ব্যক্তি নিহত হলে তার পরিবারকে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। বন্যপ্রাণীর আক্রমণে গুরুতর আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে অনধিক এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিধান রয়েছে। তবে ২০২১ এর আগের কথা বলতে পারবো না।

এ বিষয়ে জানার জন্য ময়মনসিংহ বন বিভাগ উপ-বন সংরক্ষক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আ.ন.ম. আব্দুল ওয়াদুদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন বন বিভাগ হাতি এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব সময় তৎপর কিন্তু লোকবল সংকটের কারনে অনেক সময় সেবা দিতে বিলম্ব হয়। বন্য হাতির আক্রমনে নিহত,আহত,এবং ফসল ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে আশি লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।যারা এখনো পাইনি সেগুলোর আবেদনগত ত্রুটি আছে।

বন সংরক্ষক এর সাথে এই বিষয়ে জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা কে বলেন হাতি -মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসন করতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। হাতি দেখতে শত শত মানুষের সমাগম, হৈচৈ, ছবি তোলা, ভিডিও করার হিড়িক পড়ে যায়। এতে করে হাতির বিরক্তির উদ্রেক হয়। মানুষের মৃত্যুর/ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়। সরকারের ক্ষতিপূরণ নীতিমালা অনুযায়ী বিধি মোতাবেক চাহিত তথ্যাদি সরবরাহ সাপেক্ষে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব। ২০২১ সালের পূর্বের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেয়া যাবে না এমন কোন কথা বিধিমালায় বলা নাই। তবে আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগবে।