১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এই পদ্মা এই মেঘনা গানের রচয়িতা গীতিকার ও সুরকার অধ্যাপক আবু জাফরের ইন্তেকাল

  • প্রকাশিত ০৫:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৫৩ বার দেখা হয়েছে

কৃষান পাল : কুষ্টিয়ার গৌরব, সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গনের অতি পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট লেখক গবেষক শিক্ষাবিদ ইসলামী ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আবু জাফর ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার সময় ঢাকায় ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি ডায়াবেটিস, কিডনী, হার্টসহ বিভিন্ন রোগে দীর্ঘদিন ভুগছিলেন।
অধ্যাপক আবু জাফর ছিলেন একজন গীতিকার, কবি ও সংগীত শিল্পী। এক সময়ে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। তার বাচনিক ভঙ্গী, প্রতিভা ও কর্মকাণ্ডের কারণে সর্বমহলে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন।
তিনি কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন, সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি, দ্যা স্কলারস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। লালন শিল্পী ফরিদা পারভীনের স্বামী ছিলেন। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
‘এই পদ্মা এই মেঘনা’, ‘তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গায়’-সহ অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার ছিলেন অধ্যাপক আবু জাফর। পেশাগতজীবনে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক। চুয়াডাঙ্গা কলেজ ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
অধ্যাপক আবু জাফর ১৯৪৩ সালের ১৫ মে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের গড়ের বাড়ী কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম খোন্দকার মহ. জমির উদ্দিন। আবু জাফর চুয়াডাঙ্গা কলেজে ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি রাজশাহী ও ঢাকা বেতার ও টেলিভিশনে নিয়মিত সঙ্গীত শিল্পী এবং গীতিকার ছিলেন। তার দেশত্ববোধক গান ও আধুনিক গান বিভিন্ন মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তিনি অনেকগুলো গ্রন্থ রচনা করেন। এর মধ্যে নতুন রাত্রি পুরনো দিন (কাব্য), বাজারে দূর্ণাম তবু তুমিই সর্বস্ব (কাব্য), বিপ্লবোত্তর সোভিয়েত কবিতা (অনুবাদ কাব্য) উল্লেখযোগ্য। তার সহধর্মিণী ফরিদা পারভীন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট লালন শিল্পী হিসাবে পরিচিত।
তাঁর রচিত দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান তুমুল আলোড়ন তুলেছিল। একাধিক কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি। এর মধ্যে ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ উল্লেখযোগ্য।
তিনি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে যেমন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেছিলেন তেমনি ইসলামী ভাবাপন্ন, গবেষক ও লেখক হিসাবেও সর্ব মহলে সমাদৃত। তার মধ্যে ইসলামী চিন্তা চেতনার যে প্রতিফলন উদ্ভাসিত হয়েছে তা দেখে ও তার লেখনীর ফলে দেশের বিভিন্ন মহল হতবাক হয়েছে। অধ্যাপক আবু জাফরের মধ্যে যে পরিবর্তন এ জন্য সকলের নিকট তিনি প্রশংসনীয় ছিলেন। ১৯৯৫ সালে তিনি হজবওত পালন করেন। তিনি মহানবীর (সা.) মহাজীবনসহ আরো অনেক ইসলামী গ্রন্থ রচনা করেছেন।

Tag :

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তারাগঞ্জে সাংবাদিকে হুমকি দিলেন আবু সাঈদ হত্যামামলার আসামী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান

এই পদ্মা এই মেঘনা গানের রচয়িতা গীতিকার ও সুরকার অধ্যাপক আবু জাফরের ইন্তেকাল

প্রকাশিত ০৫:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪

কৃষান পাল : কুষ্টিয়ার গৌরব, সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গনের অতি পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট লেখক গবেষক শিক্ষাবিদ ইসলামী ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আবু জাফর ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার সময় ঢাকায় ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি ডায়াবেটিস, কিডনী, হার্টসহ বিভিন্ন রোগে দীর্ঘদিন ভুগছিলেন।
অধ্যাপক আবু জাফর ছিলেন একজন গীতিকার, কবি ও সংগীত শিল্পী। এক সময়ে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন। তার বাচনিক ভঙ্গী, প্রতিভা ও কর্মকাণ্ডের কারণে সর্বমহলে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন।
তিনি কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ছিলেন, সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি, দ্যা স্কলারস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। লালন শিল্পী ফরিদা পারভীনের স্বামী ছিলেন। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
‘এই পদ্মা এই মেঘনা’, ‘তোমরা ভুলেই গেছো মল্লিকাদির নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা যদি না বিঁধিল গায়’-সহ অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার ছিলেন অধ্যাপক আবু জাফর। পেশাগতজীবনে তিনি ছিলেন একজন শিক্ষক। চুয়াডাঙ্গা কলেজ ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
অধ্যাপক আবু জাফর ১৯৪৩ সালের ১৫ মে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের গড়ের বাড়ী কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম খোন্দকার মহ. জমির উদ্দিন। আবু জাফর চুয়াডাঙ্গা কলেজে ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি রাজশাহী ও ঢাকা বেতার ও টেলিভিশনে নিয়মিত সঙ্গীত শিল্পী এবং গীতিকার ছিলেন। তার দেশত্ববোধক গান ও আধুনিক গান বিভিন্ন মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তিনি অনেকগুলো গ্রন্থ রচনা করেন। এর মধ্যে নতুন রাত্রি পুরনো দিন (কাব্য), বাজারে দূর্ণাম তবু তুমিই সর্বস্ব (কাব্য), বিপ্লবোত্তর সোভিয়েত কবিতা (অনুবাদ কাব্য) উল্লেখযোগ্য। তার সহধর্মিণী ফরিদা পারভীন বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট লালন শিল্পী হিসাবে পরিচিত।
তাঁর রচিত দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গান তুমুল আলোড়ন তুলেছিল। একাধিক কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি। এর মধ্যে ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’ উল্লেখযোগ্য।
তিনি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে যেমন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেছিলেন তেমনি ইসলামী ভাবাপন্ন, গবেষক ও লেখক হিসাবেও সর্ব মহলে সমাদৃত। তার মধ্যে ইসলামী চিন্তা চেতনার যে প্রতিফলন উদ্ভাসিত হয়েছে তা দেখে ও তার লেখনীর ফলে দেশের বিভিন্ন মহল হতবাক হয়েছে। অধ্যাপক আবু জাফরের মধ্যে যে পরিবর্তন এ জন্য সকলের নিকট তিনি প্রশংসনীয় ছিলেন। ১৯৯৫ সালে তিনি হজবওত পালন করেন। তিনি মহানবীর (সা.) মহাজীবনসহ আরো অনেক ইসলামী গ্রন্থ রচনা করেছেন।