০১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে ফ্যাসিবাদের দোসরদের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর রেমিট্যান্স মেলার নামে দেশ থেকে অর্থপাচারের ফন্দি বাংলাদেশ রিপোর্ট:

  • প্রকাশিত ০৬:৫৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
  • ২৭ বার দেখা হয়েছে

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তবর্তীকালীন সরকার কাজ করছে দেশ থেকে নতুন করে অর্থপাচার বন্ধে। সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে ফ্যাসিবাদী আমলে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার। এমন এক সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের ব্যাংক ও অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের এক শ্রেনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী অর্থপাচারকারীদের খপ্পড়ে পড়েছেন। দেশ বিদেশে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের চিহ্নিত দোসররা নানাভাবে ফন্দি আঁটছে নতুন করে পুরনো কায়দায় দেশ থেকে অর্থ পাচারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক একটি অর্থ পাচারকারী সিন্ডিকেট আয়োজন করছে এমনএকটিরেমিট্যান্স মেলা। এই মেলায় ফ্যাসিবাদী আমলের বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আতিউর রহমানের শূণ্যস্থান পূরণ করতে যাচ্ছেন নতুন বাংলাদেশের বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ডঃ আহসান এইচ মনসুর। তার সাথে আছেন অন্যান্য ব্যাংক কর্মকর্তাগণ।
কথিত রেমিট্যান্স মেলার আয়োজক নিউইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের বিশ্বজিৎ সাহা। বাংলাদেশ-ইউএসএ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিইউসিআই) এবং ইউএসএ বাংলাদেশ বিজনেস লিঙ্কের নামে আগামী ১৯ ও ২০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে নিউইয়র্কে চতুর্থ বাংলাদেশ রেমিট্যান্স মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান হয়েছে। জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টে এ আয়োজনের পুরোধা হিসেবে নাম রয়েছে: আহবায়ক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, প্রেসিডেন্ট বিইউসিআই; ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিইউসিআই; ও প্রধান সমন্বয়কারী- বিশ্বজিৎ সাহা, সিইও বিইউসিআই। আয়োজকবৃন্দ বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ও বেসরকারি খাতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে চিঠি লিখে গত তিনটি রেমিট্যান্স মেলায় যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে, তাদের অ্যাওয়ার্ড প্রদানসহ আয়োজকদের বিভিন্ন কর্মতৎপরতার বাহারি বয়ান দিয়ে এবারের মেলায় আরো অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথা জানায়। তাদের কাছ থেকে চাওয়া হয় বিভিন্ন অংকের আর্থিক অনুদান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রধান অতিথি হিসেবে ২০২৫ সালের রেমিট্যান্স মেলা উদ্বোধন করবেন বলে চিঠিতে জানান হয়। আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ১৮ এপ্রিল নিউইয়র্ক পৌঁছাবেন। মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন, ড. মোঃ হাবিবুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক, মনোয়ার উদ্দীন আহমেদ, পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক, মোঃ হাফিজুর রহমান, প্রশাসক, এফবিসিসিআই, মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, চেয়ারম্যান, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, আব্দুল হাই সরকার, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস, সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, চেয়ারম্যান, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, চেয়ারম্যান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, নজরুল ইসলাম স্বপন, চেয়ারম্যান, এক্সিম ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি, মোঃ মেহমুদ হোসেন, চেয়ারম্যান, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, মনজুরুর রহমান, চেয়ারম্যান, পূবালী ব্যাংক পিএলসি, মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, চেয়ারম্যান, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি, ইঞ্জিনিয়ার মো. মোখলেসুর রহমান, চেয়ারম্যান, এসবিএসি ব্যাংক পিএলসির, মতি উল হাসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, মোহাম্মদ আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পূবালী ব্যাংক পিএলসি, তারেক রিয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এনআরবি ব্যাংক পিএলসি প্রমুখ। এছাড়া বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনেক ব্যক্তিবর্গ মেলায় উপস্থিত থাকবেন।সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং, অ্যাপ ডেভলপার, মানি এক্সচেঞ্জ ও বিভিন্ন চ্যানেল পার্টনার মেলায় অংশ নিবে বলে জানানো হয়েছে।
দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো চিঠিতে রেমিট্যান্স মেলায় টাইটেল স্পন্সর (একজন) হিসেবে অংশগ্রহণ করতে হলে তাকে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫০ লাখ টাকা; পাওয়ার্ড বাই স্পন্সরের (একজন) জন্য ৩০ লাখ টাকা; চারজন প্রোগ্রাম স্পন্সর হিসেবে থাকবেন, যাদের প্রত্যেকেকে দিতে হবে ১২ লাখ টাকা করে। মেলায় যারা বুথ নেবেন, তাদেরকে ৩৬ বর্গফুট আয়তনের বুথের জন্য দিতে হবে বুথপ্রতি ৫ হাজার ডলার করে এবং এর সঙ্গে যোগ হবে ভ্যাট ও ট্যাক্স। যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী স্বৈরশাসনামলে সুবিধাভোগী বিশ্বজিৎ সাহার ইউএসএ বাংলাদেশ বিজনেস লিঙ্ক ও মুক্তধারা নিউইয়র্ক এই মেলার মূল আয়োজক সংগঠন। দুটি সংগঠনেরই প্রেসিডেন্ট বিশ্বজিৎ সাহা। মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিশ্বজিৎ সাহা প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী ঘরানার সক্রিয় কতিপয় বুদ্ধিজীবী ও অ্যাক্টিভিষ্টদের ব্যবহার করেন ঢাল হিসেবে। তিনি তাদেরকে দিয়েই অনেক কথা বলিয়ে থাকেন, নিজের অসদুদ্দেশ্যকে আড়াল করার জন্য।
বিগত দেড় দশকে এসব ব্যাংক কর্মকর্তা নিউইয়র্কের বিশ্বজিত সাহার ব্যক্তিসর্বস্ব একটি সিন্ডিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়েন। বছরে একাধিকবার এই ব্যক্তি কথিত রেমিট্যান্স ও বই মেলায় আয়োজন করতো। আর এসব মেলার পৃষ্ঠপোষক ও অংশীদার হিসেবে ব্যাংকগুলো মোটা অংকের অর্থের যোগান দিতো বিশ্বজিত সাহাকে। এসব মেলার আড়ালে চলতো বড় ধরণের অর্থ পাচার। ফ্যাসিবাদের দোসর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান বরাবরই ছিলেন এসব মেলার প্রধান অতিথি। এবারো একই কায়দায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গর্ভনর ডঃ আহসান এইচ মনসুর আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় কথিত রেমিট্যান্স মেলায় প্রধান অতিথি থাকছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তার সাথে থাকছেন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের একঝাঁক চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তা। সাধারণ প্রবাসীদের সাথে নূন্যতম কোন সম্পর্ক নেই এমন ব্যক্তি বিশ্বজিতের মেলায় তাদের অংশগ্রহণ কার স্বার্থে? জানা গেছে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে মেলায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাগণ অর্থ পাচারের পুরনো বন্দোবস্তের পথেই হাঁটছেন। এছাড়া তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও রাজনৈতিক এজেন্ডা। সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মাত্র মাস দেড়েক পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন সরকারের অর্থে। তিনি আবারো আসছেন বিশ্বজিতের মেলায়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে সম্পর্কহীন এমন ব্যক্তি আয়োজিত মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বংলাদেশীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এখনো কিভাবে ব্যাংক কর্মকর্তাগণ এমন দায়িত্বহীন কর্মকান্ডে জড়াচ্ছেন।
কে এই বিশ্বজিৎ সাহা
নিউইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রধান বিশ্বজিৎ সাহা। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পতিত স্বৈরাচারের অন্যতম সার্টিফায়েড দোসর। বিগত দেড় দশকে দেশের লুটেরা শ্রেনি তার মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ যুক্তরষ্ট্রে ও ভারতে পাচার করেছে এবং নিউইয়র্কে বইমেলার আড়ালে নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আদম পাচার করেছেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিশেষ করে টার্গেট করেন ক্ষমতাবান রাজনীতিক ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও মালিকদের। বছরে একাধিকবার বই ও বাণিজ্য মেলার নামে আদম পাচার করে বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন বিশ্বজিৎ। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আওয়ামী ঘরানার কতিপয় কথিত বুদ্ধিজীবীকে ব্যবহার করে আসছেন ঢাল হিসেবে। স্বৈরাচারের শীর্ষ পর্যায়ে ছিল তার অবাধ বিচরণ। জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের পূর্বে বিশ্বজিৎ সাহার বইমেলা, বাণিজ্যমেলা এবং রেমিট্যান্স মেলায় অতিথি, পৃষ্ঠপোষক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রায় শতভাগই ছিলো ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী শ্রেনির।
দেশের অর্থ পাচারকারীদের ঘনিষ্ট সহচর বিশ্বজিৎ সাহা নিউইয়র্কের বিলাসবহুল হোটেলে এসব মেলার আয়োজন করতেন লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করে। আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর হঠাৎই তিনি মুখোশ পাল্টে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটানের হোটেল ম্যারিয়ট মার্কেসে আয়োজন করেন বাণিজ্য মেলা। পরের মাসে গত ২০ ও ২১ অক্টোবর দুদিনব্যাপী রেমিট্যান্স মেলার আয়োজন করেন। নিউইয়র্কে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় এক ডজন রেমিট্যান্স হাউজ রয়েছে। এমনকি তাদের একটি সংগঠনও সক্রিয়। তাদেরকে পাশ কাটিয়ে এমন ব্যক্তির আয়োজিত মেলায় অংশ নেন বাংলাদেশের কতিপয় ব্যাংকের কর্মকর্তা। বছর না ঘুরতেই বিশ্বজিৎ সাহা বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজসে করে নতুন করে আবার রেমিট্যান্স মেলার ঘোষণা দেন।
আগে শুধু বইমেলার নামে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে আদম আমদানী এবং অর্থ পাচারকারীদের সহযোগিতার অভিযোগ ছিলো বিশ্বজিত সাহার বিরুদ্ধে। বিগত দেড় দশকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার আমলে বিভিন্ন ধরণের মেলা আয়োজনের আড়ালে এই ব্যবসায়কে আরো সম্প্রসারিত করেন তিনি। প্রায় এক দশক পূর্বে বাংলাদেশের সাবেক সরকার প্রধানকে খুশী করতে “শেখ মুজিব হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি” প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন বিশ্বজিৎ। এর মাধ্যমে আওয়ামী সরকারের সান্নিধ্যে চলে যান তিনি। হাতিয়ে নেন মোটা অংকের অর্থ। নানাবিধ উসিলায় বিশ্বজিত সখ্যতা গড়ে তুলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থ উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সাথে। এভাবেই কপাল খুলে যায় বিশ্বজিৎ সাহার। নিউইয়র্কে তিনি একের পর এক বিভিন্ন নামে মেলা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে থাকেন। আর এসব অনুষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগানদাতা হিসেবে উঠে আসে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী ব্যাংক, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সহ অনেক ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক। নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানগুলোতে বড় ধরণের আর্থিক সহযোগিতার জন্য বিশ্বজিৎ বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তুলেন এফবিসিসিআই কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান ও বিভিন্ন বেসরকারী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সাথে।
প্রতিবছর শেখ হাসিনা যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগদান করতে আসতেন, সেই সময় তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে কৌশলে তার সফরসঙ্গীদের অতিথি করে কাজ বাগিয়ে নিতেন। বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও থেমে নেই বিশ্বজিৎ সাহার এসব প্রতারণাপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন। এজন্য তিনি যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে । গত মাসে প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘে যোগদান করতে নিউইয়র্কে আসেন। এসময় তার হোটেল লবিতে দৌড়ঝাপ করতে দেখা যায় বিশ্বজিৎ সাহাকে। সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণ নেই তার কোন অনুষ্ঠানেই। প্রবাসীর প্রশ্ন বাংলাদেশে কোন অর্থও প্রেরণ করেন না সেই ব্যক্তি কিভাবে এতোবড় রেমিট্যান্স মেলার আয়োজন করছেন? এসব মেলার আড়ালে বিশ্বজিৎ সাহা তার প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পাচারের হাবে পরিণত করেছেন। তার এবারের মেলা আয়োজনেও বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক বড় ধরণের আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে।
মেলার মওসুমে তাদের অনেকে আদম পাচার করে এসেছেন অর্থের বিনিময়ে। এবারও এই চক্রটি বেশ সক্রিয়। বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মোটা অংকের অর্থ দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বিশ্বজিৎ সাহাকে। বিশ্বজিৎ সাহা দীর্ঘ তিন দশক যাবত মুক্তধারা বইমেলার নামে করে আসছেন বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও আদম ব্যবসা। অবৈধভাবে মুক্তধারার নাম ব্যবহার করার কারণে বাংলাদেশে মামলাও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। শেখ মুজিব হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’র প্রবক্তা বিশ্বজিৎ হাসিনা সরকারের আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের মালিক বনেছেন। তিনিই আবার কৌশলে স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশের অপচেষ্টা করছেন প্রতিনিধিত্ব করার। সচেতন প্রবাসী বাংলাদেশীরা ইতোমধ্যেই এই প্রচেষ্টা রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রশ্ন অন্তবর্তী সরকারের অভ্যন্তরে থেকে কারা এসব প্রতারণামূলক কর্মকান্ডে সহযোগিতা করছে?

Tag :

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তারাগঞ্জে সাংবাদিকে হুমকি দিলেন আবু সাঈদ হত্যামামলার আসামী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান

নিউইয়র্কে ফ্যাসিবাদের দোসরদের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর রেমিট্যান্স মেলার নামে দেশ থেকে অর্থপাচারের ফন্দি বাংলাদেশ রিপোর্ট:

প্রকাশিত ০৬:৫৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তবর্তীকালীন সরকার কাজ করছে দেশ থেকে নতুন করে অর্থপাচার বন্ধে। সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে ফ্যাসিবাদী আমলে বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার। এমন এক সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের ব্যাংক ও অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের এক শ্রেনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী অর্থপাচারকারীদের খপ্পড়ে পড়েছেন। দেশ বিদেশে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের চিহ্নিত দোসররা নানাভাবে ফন্দি আঁটছে নতুন করে পুরনো কায়দায় দেশ থেকে অর্থ পাচারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। নিউইয়র্ক ভিত্তিক একটি অর্থ পাচারকারী সিন্ডিকেট আয়োজন করছে এমনএকটিরেমিট্যান্স মেলা। এই মেলায় ফ্যাসিবাদী আমলের বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আতিউর রহমানের শূণ্যস্থান পূরণ করতে যাচ্ছেন নতুন বাংলাদেশের বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ডঃ আহসান এইচ মনসুর। তার সাথে আছেন অন্যান্য ব্যাংক কর্মকর্তাগণ।
কথিত রেমিট্যান্স মেলার আয়োজক নিউইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের বিশ্বজিৎ সাহা। বাংলাদেশ-ইউএসএ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিইউসিআই) এবং ইউএসএ বাংলাদেশ বিজনেস লিঙ্কের নামে আগামী ১৯ ও ২০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে নিউইয়র্কে চতুর্থ বাংলাদেশ রেমিট্যান্স মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান হয়েছে। জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টে এ আয়োজনের পুরোধা হিসেবে নাম রয়েছে: আহবায়ক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, প্রেসিডেন্ট বিইউসিআই; ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিইউসিআই; ও প্রধান সমন্বয়কারী- বিশ্বজিৎ সাহা, সিইও বিইউসিআই। আয়োজকবৃন্দ বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ও বেসরকারি খাতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে চিঠি লিখে গত তিনটি রেমিট্যান্স মেলায় যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে, তাদের অ্যাওয়ার্ড প্রদানসহ আয়োজকদের বিভিন্ন কর্মতৎপরতার বাহারি বয়ান দিয়ে এবারের মেলায় আরো অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনার কথা জানায়। তাদের কাছ থেকে চাওয়া হয় বিভিন্ন অংকের আর্থিক অনুদান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রধান অতিথি হিসেবে ২০২৫ সালের রেমিট্যান্স মেলা উদ্বোধন করবেন বলে চিঠিতে জানান হয়। আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ১৮ এপ্রিল নিউইয়র্ক পৌঁছাবেন। মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন, ড. মোঃ হাবিবুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক, মনোয়ার উদ্দীন আহমেদ, পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক, মোঃ হাফিজুর রহমান, প্রশাসক, এফবিসিসিআই, মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, চেয়ারম্যান, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, আব্দুল হাই সরকার, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস, সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, চেয়ারম্যান, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, চেয়ারম্যান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, নজরুল ইসলাম স্বপন, চেয়ারম্যান, এক্সিম ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি, মোঃ মেহমুদ হোসেন, চেয়ারম্যান, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, মনজুরুর রহমান, চেয়ারম্যান, পূবালী ব্যাংক পিএলসি, মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, চেয়ারম্যান, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি, ইঞ্জিনিয়ার মো. মোখলেসুর রহমান, চেয়ারম্যান, এসবিএসি ব্যাংক পিএলসির, মতি উল হাসান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, মোহাম্মদ আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পূবালী ব্যাংক পিএলসি, তারেক রিয়াজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এনআরবি ব্যাংক পিএলসি প্রমুখ। এছাড়া বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনেক ব্যক্তিবর্গ মেলায় উপস্থিত থাকবেন।সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং, অ্যাপ ডেভলপার, মানি এক্সচেঞ্জ ও বিভিন্ন চ্যানেল পার্টনার মেলায় অংশ নিবে বলে জানানো হয়েছে।
দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো চিঠিতে রেমিট্যান্স মেলায় টাইটেল স্পন্সর (একজন) হিসেবে অংশগ্রহণ করতে হলে তাকে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫০ লাখ টাকা; পাওয়ার্ড বাই স্পন্সরের (একজন) জন্য ৩০ লাখ টাকা; চারজন প্রোগ্রাম স্পন্সর হিসেবে থাকবেন, যাদের প্রত্যেকেকে দিতে হবে ১২ লাখ টাকা করে। মেলায় যারা বুথ নেবেন, তাদেরকে ৩৬ বর্গফুট আয়তনের বুথের জন্য দিতে হবে বুথপ্রতি ৫ হাজার ডলার করে এবং এর সঙ্গে যোগ হবে ভ্যাট ও ট্যাক্স। যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী স্বৈরশাসনামলে সুবিধাভোগী বিশ্বজিৎ সাহার ইউএসএ বাংলাদেশ বিজনেস লিঙ্ক ও মুক্তধারা নিউইয়র্ক এই মেলার মূল আয়োজক সংগঠন। দুটি সংগঠনেরই প্রেসিডেন্ট বিশ্বজিৎ সাহা। মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিশ্বজিৎ সাহা প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী ঘরানার সক্রিয় কতিপয় বুদ্ধিজীবী ও অ্যাক্টিভিষ্টদের ব্যবহার করেন ঢাল হিসেবে। তিনি তাদেরকে দিয়েই অনেক কথা বলিয়ে থাকেন, নিজের অসদুদ্দেশ্যকে আড়াল করার জন্য।
বিগত দেড় দশকে এসব ব্যাংক কর্মকর্তা নিউইয়র্কের বিশ্বজিত সাহার ব্যক্তিসর্বস্ব একটি সিন্ডিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়েন। বছরে একাধিকবার এই ব্যক্তি কথিত রেমিট্যান্স ও বই মেলায় আয়োজন করতো। আর এসব মেলার পৃষ্ঠপোষক ও অংশীদার হিসেবে ব্যাংকগুলো মোটা অংকের অর্থের যোগান দিতো বিশ্বজিত সাহাকে। এসব মেলার আড়ালে চলতো বড় ধরণের অর্থ পাচার। ফ্যাসিবাদের দোসর বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান বরাবরই ছিলেন এসব মেলার প্রধান অতিথি। এবারো একই কায়দায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গর্ভনর ডঃ আহসান এইচ মনসুর আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় কথিত রেমিট্যান্স মেলায় প্রধান অতিথি থাকছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তার সাথে থাকছেন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের একঝাঁক চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তা। সাধারণ প্রবাসীদের সাথে নূন্যতম কোন সম্পর্ক নেই এমন ব্যক্তি বিশ্বজিতের মেলায় তাদের অংশগ্রহণ কার স্বার্থে? জানা গেছে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ে মেলায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাগণ অর্থ পাচারের পুরনো বন্দোবস্তের পথেই হাঁটছেন। এছাড়া তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও রাজনৈতিক এজেন্ডা। সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মাত্র মাস দেড়েক পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন সরকারের অর্থে। তিনি আবারো আসছেন বিশ্বজিতের মেলায়। প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে সম্পর্কহীন এমন ব্যক্তি আয়োজিত মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বংলাদেশীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এখনো কিভাবে ব্যাংক কর্মকর্তাগণ এমন দায়িত্বহীন কর্মকান্ডে জড়াচ্ছেন।
কে এই বিশ্বজিৎ সাহা
নিউইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রধান বিশ্বজিৎ সাহা। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পতিত স্বৈরাচারের অন্যতম সার্টিফায়েড দোসর। বিগত দেড় দশকে দেশের লুটেরা শ্রেনি তার মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ যুক্তরষ্ট্রে ও ভারতে পাচার করেছে এবং নিউইয়র্কে বইমেলার আড়ালে নাম ভাঙ্গিয়ে অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আদম পাচার করেছেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিশেষ করে টার্গেট করেন ক্ষমতাবান রাজনীতিক ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও মালিকদের। বছরে একাধিকবার বই ও বাণিজ্য মেলার নামে আদম পাচার করে বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন বিশ্বজিৎ। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আওয়ামী ঘরানার কতিপয় কথিত বুদ্ধিজীবীকে ব্যবহার করে আসছেন ঢাল হিসেবে। স্বৈরাচারের শীর্ষ পর্যায়ে ছিল তার অবাধ বিচরণ। জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের পূর্বে বিশ্বজিৎ সাহার বইমেলা, বাণিজ্যমেলা এবং রেমিট্যান্স মেলায় অতিথি, পৃষ্ঠপোষক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রায় শতভাগই ছিলো ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী শ্রেনির।
দেশের অর্থ পাচারকারীদের ঘনিষ্ট সহচর বিশ্বজিৎ সাহা নিউইয়র্কের বিলাসবহুল হোটেলে এসব মেলার আয়োজন করতেন লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করে। আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর হঠাৎই তিনি মুখোশ পাল্টে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটানের হোটেল ম্যারিয়ট মার্কেসে আয়োজন করেন বাণিজ্য মেলা। পরের মাসে গত ২০ ও ২১ অক্টোবর দুদিনব্যাপী রেমিট্যান্স মেলার আয়োজন করেন। নিউইয়র্কে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় এক ডজন রেমিট্যান্স হাউজ রয়েছে। এমনকি তাদের একটি সংগঠনও সক্রিয়। তাদেরকে পাশ কাটিয়ে এমন ব্যক্তির আয়োজিত মেলায় অংশ নেন বাংলাদেশের কতিপয় ব্যাংকের কর্মকর্তা। বছর না ঘুরতেই বিশ্বজিৎ সাহা বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজসে করে নতুন করে আবার রেমিট্যান্স মেলার ঘোষণা দেন।
আগে শুধু বইমেলার নামে বাংলাদেশ ও ভারত থেকে আদম আমদানী এবং অর্থ পাচারকারীদের সহযোগিতার অভিযোগ ছিলো বিশ্বজিত সাহার বিরুদ্ধে। বিগত দেড় দশকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার আমলে বিভিন্ন ধরণের মেলা আয়োজনের আড়ালে এই ব্যবসায়কে আরো সম্প্রসারিত করেন তিনি। প্রায় এক দশক পূর্বে বাংলাদেশের সাবেক সরকার প্রধানকে খুশী করতে “শেখ মুজিব হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি” প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন বিশ্বজিৎ। এর মাধ্যমে আওয়ামী সরকারের সান্নিধ্যে চলে যান তিনি। হাতিয়ে নেন মোটা অংকের অর্থ। নানাবিধ উসিলায় বিশ্বজিত সখ্যতা গড়ে তুলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থ উপদেষ্টা মশিউর রহমান ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সাথে। এভাবেই কপাল খুলে যায় বিশ্বজিৎ সাহার। নিউইয়র্কে তিনি একের পর এক বিভিন্ন নামে মেলা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে থাকেন। আর এসব অনুষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগানদাতা হিসেবে উঠে আসে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী ব্যাংক, অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সহ অনেক ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক। নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানগুলোতে বড় ধরণের আর্থিক সহযোগিতার জন্য বিশ্বজিৎ বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তুলেন এফবিসিসিআই কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান ও বিভিন্ন বেসরকারী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সাথে।
প্রতিবছর শেখ হাসিনা যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগদান করতে আসতেন, সেই সময় তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে কৌশলে তার সফরসঙ্গীদের অতিথি করে কাজ বাগিয়ে নিতেন। বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগষ্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও থেমে নেই বিশ্বজিৎ সাহার এসব প্রতারণাপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন। এজন্য তিনি যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে । গত মাসে প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘে যোগদান করতে নিউইয়র্কে আসেন। এসময় তার হোটেল লবিতে দৌড়ঝাপ করতে দেখা যায় বিশ্বজিৎ সাহাকে। সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণ নেই তার কোন অনুষ্ঠানেই। প্রবাসীর প্রশ্ন বাংলাদেশে কোন অর্থও প্রেরণ করেন না সেই ব্যক্তি কিভাবে এতোবড় রেমিট্যান্স মেলার আয়োজন করছেন? এসব মেলার আড়ালে বিশ্বজিৎ সাহা তার প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পাচারের হাবে পরিণত করেছেন। তার এবারের মেলা আয়োজনেও বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক বড় ধরণের আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে।
মেলার মওসুমে তাদের অনেকে আদম পাচার করে এসেছেন অর্থের বিনিময়ে। এবারও এই চক্রটি বেশ সক্রিয়। বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মোটা অংকের অর্থ দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বিশ্বজিৎ সাহাকে। বিশ্বজিৎ সাহা দীর্ঘ তিন দশক যাবত মুক্তধারা বইমেলার নামে করে আসছেন বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা ও আদম ব্যবসা। অবৈধভাবে মুক্তধারার নাম ব্যবহার করার কারণে বাংলাদেশে মামলাও হয়েছে তার বিরুদ্ধে। শেখ মুজিব হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি’র প্রবক্তা বিশ্বজিৎ হাসিনা সরকারের আমলে বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের মালিক বনেছেন। তিনিই আবার কৌশলে স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশের অপচেষ্টা করছেন প্রতিনিধিত্ব করার। সচেতন প্রবাসী বাংলাদেশীরা ইতোমধ্যেই এই প্রচেষ্টা রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রশ্ন অন্তবর্তী সরকারের অভ্যন্তরে থেকে কারা এসব প্রতারণামূলক কর্মকান্ডে সহযোগিতা করছে?