০৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মিরপুর -১, সেনাবাহিনীর অভিযানে চুড়িপট্টির কামাল গ্রেফতার

  • প্রকাশিত ০৭:০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ নভেম্বর ২০২৪
  • ১৪৬ বার দেখা হয়েছে

মোঃ মনির হোসেন

মিরপুর-১ মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে চাঁদাবাজির তাণ্ডব: সেনাবাহিনীর নজরদারিতে চক্রের মূলহোতা চিহ্নিত।
মিরপুরের মার্কেটগুলোর সামনের ফুটপাতে চাঁদাবাজী নতুন কিছু নয়, বিগত শাসনামলে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় ও মার্কেট কমিটির যোগসাজশে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দোকানের পজিশন ও দৈনিক চাঁদা আদায় করতো চাঁদাবাজরা। একাধিক ব্যক্তিকে চাঁদা দেয়ায় বেরে যায় বিভিন্ন নিত্যপন্য সামগ্রী দাম। তারই মুল্য দিতে হয় জনসাধারণকে, চওড়া মুল্যে কিনতে হয় ক্রেতাদের প্রয়াজনী সামগ্রী। এই চাঁদাবাজ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে একাধিকবার নিউজ প্রকাশিত হলেও এ চক্রের হাত থেকে নিস্তার পাননি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। গত ৫ ই আগষ্ট সৌরশাসনের পতনের পরও চাঁদাবাজির হাত বদল হয়েছে, বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি। সাম্প্রতিক বিষয়টি সেনাবাহিনীর নজরে আসলে সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি চালায় ও ১ ই নভেম্বর সফল অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজ চক্রের চুরিপট্টির কামালকে গ্রেফতার করে,জিজ্ঞেসাবাদশেষে তাকে শাহআলী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়,রাজধানীর মিরপুর-১ মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে চাঁদাবাজির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে সেনাবাহিনী সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি চালায় এবং চাঁদাবাজির পেছনে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তৎপর হয়। চাঁদাবাজির এই তাণ্ডবের ফলে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা ছোট বড় ব্যবসায়ী কেউই এড়াতে পারছেন না। ব্যবসায়ী মহলের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চাঁদাবাজ চুরিপট্টির কামালকে সনাক্ত করা হয়। কামাল দৈনিক বিভিন্ন দোকান হতে অবৈধভাবে ২৫-৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে। এই চক্রের মূল হোতা কবির নামক জনৈক ব্যক্তি। কোন ব্যবসায়ী চাঁদা প্রদানে অনীহা প্রকাশ করলে কবির গং ও কামালের লোকদের মাধ্যমে প্রত্যেককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হত।

এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, কবির মার্কেটের একচ্ছত্র প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে বহু ব্যবসায়ীকে হয়রানি করেছেন। সেনাবাহিনী এই প্রভাবশালী ব্যক্তির পূর্ববর্তী কার্যকলাপ ও চলাফেরা যাচাই করলে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। তদন্তে প্রকাশ, কবির দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগ নেতা নিখিলের সাথে কাজ করছেন। তাদের এই তৎপরতায় মিরপুর-১ এলাকায় একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় ব্যবসায়ী, কেউই চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পাননি। এই শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্র স্থানীয় জনগণকে দমিয়ে রেখেছে, যারা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

এখন সেনাবাহিনীর এই তৎপরতায় চাঁদাবাজি চক্রের মূলহোতাদের নাম ও তথ্য উঠে আসায় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী মহল কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নিরলস প্রচেষ্টায় এই চক্রের মূলোৎপাটনের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অচিরেই কবীরসহ সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Tag :
জনপ্রিয়

খুলনায় গ্যাস সরবরাহের দাবিতে খুলনা নাগরিক সমাজের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মিরপুর -১, সেনাবাহিনীর অভিযানে চুড়িপট্টির কামাল গ্রেফতার

প্রকাশিত ০৭:০৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ নভেম্বর ২০২৪

মোঃ মনির হোসেন

মিরপুর-১ মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে চাঁদাবাজির তাণ্ডব: সেনাবাহিনীর নজরদারিতে চক্রের মূলহোতা চিহ্নিত।
মিরপুরের মার্কেটগুলোর সামনের ফুটপাতে চাঁদাবাজী নতুন কিছু নয়, বিগত শাসনামলে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় ও মার্কেট কমিটির যোগসাজশে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দোকানের পজিশন ও দৈনিক চাঁদা আদায় করতো চাঁদাবাজরা। একাধিক ব্যক্তিকে চাঁদা দেয়ায় বেরে যায় বিভিন্ন নিত্যপন্য সামগ্রী দাম। তারই মুল্য দিতে হয় জনসাধারণকে, চওড়া মুল্যে কিনতে হয় ক্রেতাদের প্রয়াজনী সামগ্রী। এই চাঁদাবাজ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে একাধিকবার নিউজ প্রকাশিত হলেও এ চক্রের হাত থেকে নিস্তার পাননি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। গত ৫ ই আগষ্ট সৌরশাসনের পতনের পরও চাঁদাবাজির হাত বদল হয়েছে, বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি। সাম্প্রতিক বিষয়টি সেনাবাহিনীর নজরে আসলে সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি চালায় ও ১ ই নভেম্বর সফল অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজ চক্রের চুরিপট্টির কামালকে গ্রেফতার করে,জিজ্ঞেসাবাদশেষে তাকে শাহআলী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়,রাজধানীর মিরপুর-১ মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে চাঁদাবাজির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে সেনাবাহিনী সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি চালায় এবং চাঁদাবাজির পেছনে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তৎপর হয়। চাঁদাবাজির এই তাণ্ডবের ফলে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা ছোট বড় ব্যবসায়ী কেউই এড়াতে পারছেন না। ব্যবসায়ী মহলের সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চাঁদাবাজ চুরিপট্টির কামালকে সনাক্ত করা হয়। কামাল দৈনিক বিভিন্ন দোকান হতে অবৈধভাবে ২৫-৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে। এই চক্রের মূল হোতা কবির নামক জনৈক ব্যক্তি। কোন ব্যবসায়ী চাঁদা প্রদানে অনীহা প্রকাশ করলে কবির গং ও কামালের লোকদের মাধ্যমে প্রত্যেককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হত।

এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, কবির মার্কেটের একচ্ছত্র প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে বহু ব্যবসায়ীকে হয়রানি করেছেন। সেনাবাহিনী এই প্রভাবশালী ব্যক্তির পূর্ববর্তী কার্যকলাপ ও চলাফেরা যাচাই করলে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। তদন্তে প্রকাশ, কবির দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগ নেতা নিখিলের সাথে কাজ করছেন। তাদের এই তৎপরতায় মিরপুর-১ এলাকায় একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় ব্যবসায়ী, কেউই চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি পাননি। এই শক্তিশালী চাঁদাবাজ চক্র স্থানীয় জনগণকে দমিয়ে রেখেছে, যারা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

এখন সেনাবাহিনীর এই তৎপরতায় চাঁদাবাজি চক্রের মূলহোতাদের নাম ও তথ্য উঠে আসায় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী মহল কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নিরলস প্রচেষ্টায় এই চক্রের মূলোৎপাটনের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং অচিরেই কবীরসহ সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।