০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কথিত স্ত্রীর ধর্ষন মামলায় হেফাজত নেতা মামুনুল হক খালাস

  • প্রকাশিত ০৮:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪
  • ১১৭ বার দেখা হয়েছে

 

 

আবু সাঈদ কাদেরীঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার কথিত স্ত্রীর ধর্ষন মামলায় হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম ২৪ অক্টোবর(বৃহস্পতিবার) ঘোষিত মামলার রায়ে মামুনুল হককে খালাস প্রদান করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর রাকিব উদ্দিন আহমেদ বলেন,মামুনুল হকের বিরুদ্ধে থাকা ধর্ষন মামলার রায় ঘোষনা হয়েছে।বিজ্ঞ বিচারক জেসমিন আরা বেগম ঘোষিত রায়ে মামুনুল হককে খালাস প্রদান করেন।রাষ্ট্র পক্ষের ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রোমেল মোল্লা অনুরুপ ভাবে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামুনুল হকের আইনজীবি ওমর ফারুক নয়ন বলেন,নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার পানাম এলাকার সোনারগাঁ রয়েল রিসোট নামক একটি হোটেলের ৫০৩ নম্বর কক্ষে ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন যুগ্ন মহাসচিব ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হককে বৈধ স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্নাসহ ওই এলাকার যুবলীগ, ছাত্রলীগের একটি দল অবরুদ্ধ করে।সেখানে পরে পুলিশ যায় ও মামুনুল হকসহ তার কথিত স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে।ওই হোটেলে ঘটনার দিন পুলিশ এবং যুবলীগ,ছাত্রলীগের বাহিনীর উপস্হিতিতে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও বেশ ক’ টি মাদ্রাসার ছাত্ররা গিয়ে মামুনুল হককে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার মোহাম্মদপুর এলাকার জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৮ এপ্রিল তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ দল অন্য মামলার আসামী হিসেবে মামুনুল হককে গ্রেফতার করে।সোনারগাঁও থানায় ঘটনার ২৭ দিন পর ৩০ এপ্রিল প্রশাসনিক চাপে স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্না বাদী হয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।পুলিশ স্ত্রীর মামলায় মামুনুল হককে গ্রেফতার দেখায়।পুলিশ ধর্ষনের প্রাথমিক সত্যতা না পেলেও ওই মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন।জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অভিযোগ (চার্জ) গঠন হয়। আদালতে পরবর্তীতে স্বাক্ষ্য গ্রহন শুরু হয়। মামলায় বাদীনি জান্নাত আরা ঝর্নার ছেলে আব্দুর রহমান সহ ৪০ জনকে স্বাক্ষী করা হয়।আদালতে ২০২১ সালের ২৪ জুলাই বাদীনি জান্নাত আরা ঝনা স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।আদালতে পর্যায়ক্রমে পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) এস এম শফিকুল ইসলাম,উপ সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) মতিউর রহমান এবং আনিসুর রহমান ও শেখ মোঃ ফরিদ এবং কর্ন কুমার হালদার,থানা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু,ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সোহাগ রনি,নাজমুল হাসান শান্ত, মোঃ শফিকুল ইসলাম, রতন মিয়া,রিসোর্টের এক্সিকিউটিভ অফিসার মাহবুবুর রহমান, মিডিয়া অফিসার জাকির হোসেন,
সুপারভাইজার আব্দুল আজিজ,রিসিপশন অফিসার নাজমুল ইসলাম অনিক,আনসার সদস্য রতন বড়াল, মোঃ ইসমাইল, সংবাদকর্মী নূর নবীসহ মোট ২৬ জন তাদের স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।আমরা সব সময় বাদীনি মামুনুল হকের বৈধ স্ত্রী দাবী করে আসছিলাম।বাদীনিও বৈধ স্ত্রী হওয়ায় মেডিক্যাল চেকআপ (ডাক্তারী পরীক্ষা) করায় নি।বাদীনির ছেলে আব্দুর রহমানও তার মায়ের সাথে মামুনুল হকের বিয়ের বিষয়টি স্বাক্ষে বলেছেন।
জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এর আদালত থেকে ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল মামুনুল হক জামিন লাভ করেন।কাশিমপুর কারাগার থেকে ৩ মে মুক্তি পান।এরপর তিনি অসুস্হ্য থাকায় আদালতে হাজির হন নি।ফলে আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়। এদিকে ওই আদালতের বিচারক পরিবর্তন হয়।আদালতে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম দায়িত্ব নেন।ওই আদালতে পরবর্তীতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। আদালত ১৪ অক্টোবর রায়ের দিন ধার্য করলেও হয়নি।আদালতে ২৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রায় ঘোষনা হয়।বিজ্ঞ বিচারক জেসমিন আরা বেগম আদালতে উপস্হিত মামুনুল হককে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।আসামী পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক নয়ন বলেন,আদালত থেকে ন্যায় বিচার পেয়েছি।রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

কথিত স্ত্রীর ধর্ষন মামলায় হেফাজত নেতা মামুনুল হক খালাস

প্রকাশিত ০৮:২৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৪

 

 

আবু সাঈদ কাদেরীঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার কথিত স্ত্রীর ধর্ষন মামলায় হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক বেকসুর খালাস পেয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম ২৪ অক্টোবর(বৃহস্পতিবার) ঘোষিত মামলার রায়ে মামুনুল হককে খালাস প্রদান করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর রাকিব উদ্দিন আহমেদ বলেন,মামুনুল হকের বিরুদ্ধে থাকা ধর্ষন মামলার রায় ঘোষনা হয়েছে।বিজ্ঞ বিচারক জেসমিন আরা বেগম ঘোষিত রায়ে মামুনুল হককে খালাস প্রদান করেন।রাষ্ট্র পক্ষের ভারপ্রাপ্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রোমেল মোল্লা অনুরুপ ভাবে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামুনুল হকের আইনজীবি ওমর ফারুক নয়ন বলেন,নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার পানাম এলাকার সোনারগাঁ রয়েল রিসোট নামক একটি হোটেলের ৫০৩ নম্বর কক্ষে ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন যুগ্ন মহাসচিব ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হককে বৈধ স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্নাসহ ওই এলাকার যুবলীগ, ছাত্রলীগের একটি দল অবরুদ্ধ করে।সেখানে পরে পুলিশ যায় ও মামুনুল হকসহ তার কথিত স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে।ওই হোটেলে ঘটনার দিন পুলিশ এবং যুবলীগ,ছাত্রলীগের বাহিনীর উপস্হিতিতে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও বেশ ক’ টি মাদ্রাসার ছাত্ররা গিয়ে মামুনুল হককে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার মোহাম্মদপুর এলাকার জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৮ এপ্রিল তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ দল অন্য মামলার আসামী হিসেবে মামুনুল হককে গ্রেফতার করে।সোনারগাঁও থানায় ঘটনার ২৭ দিন পর ৩০ এপ্রিল প্রশাসনিক চাপে স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্না বাদী হয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।পুলিশ স্ত্রীর মামলায় মামুনুল হককে গ্রেফতার দেখায়।পুলিশ ধর্ষনের প্রাথমিক সত্যতা না পেলেও ওই মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন।জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অভিযোগ (চার্জ) গঠন হয়। আদালতে পরবর্তীতে স্বাক্ষ্য গ্রহন শুরু হয়। মামলায় বাদীনি জান্নাত আরা ঝর্নার ছেলে আব্দুর রহমান সহ ৪০ জনকে স্বাক্ষী করা হয়।আদালতে ২০২১ সালের ২৪ জুলাই বাদীনি জান্নাত আরা ঝনা স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।আদালতে পর্যায়ক্রমে পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) এস এম শফিকুল ইসলাম,উপ সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) মতিউর রহমান এবং আনিসুর রহমান ও শেখ মোঃ ফরিদ এবং কর্ন কুমার হালদার,থানা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু,ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সোহাগ রনি,নাজমুল হাসান শান্ত, মোঃ শফিকুল ইসলাম, রতন মিয়া,রিসোর্টের এক্সিকিউটিভ অফিসার মাহবুবুর রহমান, মিডিয়া অফিসার জাকির হোসেন,
সুপারভাইজার আব্দুল আজিজ,রিসিপশন অফিসার নাজমুল ইসলাম অনিক,আনসার সদস্য রতন বড়াল, মোঃ ইসমাইল, সংবাদকর্মী নূর নবীসহ মোট ২৬ জন তাদের স্বাক্ষ্য প্রদান করেন।আমরা সব সময় বাদীনি মামুনুল হকের বৈধ স্ত্রী দাবী করে আসছিলাম।বাদীনিও বৈধ স্ত্রী হওয়ায় মেডিক্যাল চেকআপ (ডাক্তারী পরীক্ষা) করায় নি।বাদীনির ছেলে আব্দুর রহমানও তার মায়ের সাথে মামুনুল হকের বিয়ের বিষয়টি স্বাক্ষে বলেছেন।
জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এর আদালত থেকে ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল মামুনুল হক জামিন লাভ করেন।কাশিমপুর কারাগার থেকে ৩ মে মুক্তি পান।এরপর তিনি অসুস্হ্য থাকায় আদালতে হাজির হন নি।ফলে আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়। এদিকে ওই আদালতের বিচারক পরিবর্তন হয়।আদালতে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম দায়িত্ব নেন।ওই আদালতে পরবর্তীতে দুই পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। আদালত ১৪ অক্টোবর রায়ের দিন ধার্য করলেও হয়নি।আদালতে ২৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে রায় ঘোষনা হয়।বিজ্ঞ বিচারক জেসমিন আরা বেগম আদালতে উপস্হিত মামুনুল হককে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।আসামী পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক নয়ন বলেন,আদালত থেকে ন্যায় বিচার পেয়েছি।রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।