১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
মিজানুর রহমান     বিশেষ প্রতিনিধি                                            দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা 

পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধকরণ আইন ও প্রকৃত  বাস্তবতা 

  • প্রকাশিত ০৩:১৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ১৫৭ বার দেখা হয়েছে
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের ২০২৩ ইং সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছরের ওপরে ধূমপায়ীর সংখ্যা শতকরা ৩৯ দশমিক ১, যা ২০১৯ ইং সালে ও ছিল ৩৫ শতাংশ। এখন ছেলেদের মধ্যে ধূমপায়ীর সংখ্যা ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেয়েদের মধ্যে এ সংখ্যা ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ধূমপানে বিশ্বের মধ্যে আমাদের অবস্থান অষ্টম। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেটের ধোঁয়া ডিজেলের ধোঁয়ার থেকে ১০ গুণ বেশি ক্ষতিকর। ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশে ১ লক্ষ ২৬ হাজার মানুষ মারা যান। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে আর ও মারা যান ২৪ হাজার ৭৫৭ জন ( ডেইলি স্টার, ২৪ ফেব্রুয়ারি – ২০১৯ ইং) । ধূমপানের কারণে দেশে ৩০ বছরের ওপরে অসুস্থ্য মানুষ প্রায় ৭০ লক্ষ ( ডেইলি স্টার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ইং) । শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার, হৃদরোগ, যৌন ক্ষমতা হ্রাস,  শরীরের স্বাভাবিক  কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ধূমপানের ভূমিকা রয়েছে। দেশে অসংক্রামক রোগে মারা যান ৬৭ শতাংশ মানুষ যার মধ্যে হৃদরোগে মৃত্যুর হার ৩০, ক্যান্সারে ১২, শ্বাসতন্ত্রের রোগে ১০, ডায়াবেটিসে ৩ এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগে ১২ শতাংশ। এসব রোগীর প্রতি ২৮ জনে ২৫ জন ধূমপায়ী এবং মাত্র ৩ জন অধূমপায়ী ( কালবেলা, ১৬ নভেম্বর ২০২২ ইং) । যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপায়ীদের মাদক গ্রহণের পরিমাণ  অধূমপায়ীদের তুলনায় ২২ গুণ বেশি ( যুগান্তর, ০৯ জানুয়ারি ২০২২ ইং) । ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার জনসাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৫৬ তম সম্মেলনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণ  Framework Convention on Tobacco Control ( FCTC)  নামীয় কনভেনশনে ১৬ জুন ২০০৩ ইং তারিখে বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার ( নিয়ন্ত্রণ) আইন – ২০০৫ ইং এর ৪| ( ১) ধারা ৭ এর বিধান সাপেক্ষে রাষ্ট্রের কোন ব্যক্তি পাবলিক প্লেসে ও জনপরিবহণে কোন অবস্থাতেই ধূমপান করতে পারবেন না। ১ [ ( ২) কোন ব্যক্তি উপধারা ১ এর বিধান লংঘন করলে তিনি অনধিক ৩০০ শত টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরণের অপরাধ সংঘটন করলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দন্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডিত হবেন। প্রবল স্বেচ্ছাচারী মনোভাব এবং আইন না মানার প্রবণতাই এই দেশে অঘোষিত আইন হয়ে গেছে। এই দেশে আইন তৈরিই হয় যেন আইন ভাঙার জন্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দূর পাল্লার পরিবহনগুলোতে ধূমপান একেবারে কমে আসলেও, জেলা শহর ও গ্রামের বিভিন্ন লোকাল পরিবহন, নৌযান সমূহ, বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট,  কাঁচা বাজার ও বিপনি বিতান এমনকি নাগরিক জীবনে একটু সতেজ নিঃশ্বাস নিতে গড়ে ওঠা পার্কগুলোতে ও দেদারসে ধূমপান চললে ও প্রতিরোধ করার যেন কেউ নেই। এসব জায়গায় মাত্রাতিরিক্ত ধূমপানের কারণে বিশেষ করে মহিলা ও শিশু সহ অনেক অধূমপায়ী পুরুষরা ও পরোক্ষভাবে ধূমপানের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
সরকার কে বেশি রাজস্ব প্রদান করা অন্যতম প্রধান  হচ্ছে টোবাকো খাত। তাদের অবদান জিডিপির ১ দশমিক ৪ শতাংশ। রাজস্বের বিরাট একটি আয় টোবাকো খাত থেকে আসে বিধায় পাবলিক প্লেসে ধূমপান বিরোধী আইন থাকা সত্ত্বেও বরাবরই সরকার কঠোরভাবে আইনটি প্রয়োগ করা থেকে সম্পূর্ণ উদাসীনতা অবলম্বন করে আসছে। একটি আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা না গেলে সেই আইনটি প্রণয়ন করা একরকম অর্থহীন। একটি সুস্থ স্বাভাবিক জাতিসত্তা গঠনের বৃহত্তর স্বার্থে পাবলিক প্লেসে ধূমপান করা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন সমস্ত ব্যক্তি স্বার্থ ও ভয়ভীতির ঊর্ধে উঠে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। আশাকরি অনতিবিলম্বে সরকার পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধকরণ আইনটির বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
Tag :

সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তারাগঞ্জে সাংবাদিকে হুমকি দিলেন আবু সাঈদ হত্যামামলার আসামী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান

মিজানুর রহমান     বিশেষ প্রতিনিধি                                            দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা 

পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধকরণ আইন ও প্রকৃত  বাস্তবতা 

প্রকাশিত ০৩:১৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের ২০২৩ ইং সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছরের ওপরে ধূমপায়ীর সংখ্যা শতকরা ৩৯ দশমিক ১, যা ২০১৯ ইং সালে ও ছিল ৩৫ শতাংশ। এখন ছেলেদের মধ্যে ধূমপায়ীর সংখ্যা ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেয়েদের মধ্যে এ সংখ্যা ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ধূমপানে বিশ্বের মধ্যে আমাদের অবস্থান অষ্টম। এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেটের ধোঁয়া ডিজেলের ধোঁয়ার থেকে ১০ গুণ বেশি ক্ষতিকর। ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশে ১ লক্ষ ২৬ হাজার মানুষ মারা যান। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে আর ও মারা যান ২৪ হাজার ৭৫৭ জন ( ডেইলি স্টার, ২৪ ফেব্রুয়ারি – ২০১৯ ইং) । ধূমপানের কারণে দেশে ৩০ বছরের ওপরে অসুস্থ্য মানুষ প্রায় ৭০ লক্ষ ( ডেইলি স্টার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ইং) । শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার, হৃদরোগ, যৌন ক্ষমতা হ্রাস,  শরীরের স্বাভাবিক  কর্মক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো বিষয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ধূমপানের ভূমিকা রয়েছে। দেশে অসংক্রামক রোগে মারা যান ৬৭ শতাংশ মানুষ যার মধ্যে হৃদরোগে মৃত্যুর হার ৩০, ক্যান্সারে ১২, শ্বাসতন্ত্রের রোগে ১০, ডায়াবেটিসে ৩ এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগে ১২ শতাংশ। এসব রোগীর প্রতি ২৮ জনে ২৫ জন ধূমপায়ী এবং মাত্র ৩ জন অধূমপায়ী ( কালবেলা, ১৬ নভেম্বর ২০২২ ইং) । যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপায়ীদের মাদক গ্রহণের পরিমাণ  অধূমপায়ীদের তুলনায় ২২ গুণ বেশি ( যুগান্তর, ০৯ জানুয়ারি ২০২২ ইং) । ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার জনসাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৫৬ তম সম্মেলনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণ  Framework Convention on Tobacco Control ( FCTC)  নামীয় কনভেনশনে ১৬ জুন ২০০৩ ইং তারিখে বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার ( নিয়ন্ত্রণ) আইন – ২০০৫ ইং এর ৪| ( ১) ধারা ৭ এর বিধান সাপেক্ষে রাষ্ট্রের কোন ব্যক্তি পাবলিক প্লেসে ও জনপরিবহণে কোন অবস্থাতেই ধূমপান করতে পারবেন না। ১ [ ( ২) কোন ব্যক্তি উপধারা ১ এর বিধান লংঘন করলে তিনি অনধিক ৩০০ শত টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং উক্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরণের অপরাধ সংঘটন করলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দন্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডিত হবেন। প্রবল স্বেচ্ছাচারী মনোভাব এবং আইন না মানার প্রবণতাই এই দেশে অঘোষিত আইন হয়ে গেছে। এই দেশে আইন তৈরিই হয় যেন আইন ভাঙার জন্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দূর পাল্লার পরিবহনগুলোতে ধূমপান একেবারে কমে আসলেও, জেলা শহর ও গ্রামের বিভিন্ন লোকাল পরিবহন, নৌযান সমূহ, বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট,  কাঁচা বাজার ও বিপনি বিতান এমনকি নাগরিক জীবনে একটু সতেজ নিঃশ্বাস নিতে গড়ে ওঠা পার্কগুলোতে ও দেদারসে ধূমপান চললে ও প্রতিরোধ করার যেন কেউ নেই। এসব জায়গায় মাত্রাতিরিক্ত ধূমপানের কারণে বিশেষ করে মহিলা ও শিশু সহ অনেক অধূমপায়ী পুরুষরা ও পরোক্ষভাবে ধূমপানের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
সরকার কে বেশি রাজস্ব প্রদান করা অন্যতম প্রধান  হচ্ছে টোবাকো খাত। তাদের অবদান জিডিপির ১ দশমিক ৪ শতাংশ। রাজস্বের বিরাট একটি আয় টোবাকো খাত থেকে আসে বিধায় পাবলিক প্লেসে ধূমপান বিরোধী আইন থাকা সত্ত্বেও বরাবরই সরকার কঠোরভাবে আইনটি প্রয়োগ করা থেকে সম্পূর্ণ উদাসীনতা অবলম্বন করে আসছে। একটি আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা না গেলে সেই আইনটি প্রণয়ন করা একরকম অর্থহীন। একটি সুস্থ স্বাভাবিক জাতিসত্তা গঠনের বৃহত্তর স্বার্থে পাবলিক প্লেসে ধূমপান করা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন সমস্ত ব্যক্তি স্বার্থ ও ভয়ভীতির ঊর্ধে উঠে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। আশাকরি অনতিবিলম্বে সরকার পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধকরণ আইনটির বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।