০৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শ্রীপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ২জন নিহত ২৩ জন গুলিবিদ্ধ হাইওয়ে থানা ৪টি পুলিশ বক্স এবং ৩ টি পুলিশের গাড়ীতে আগুন

  • প্রকাশিত ১০:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৪
  • ২৬২ বার দেখা হয়েছে

 

 

গাজীপুরের শ্রীপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ২জন নিহত ২৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হাইওয়ে থানা, ৪টি পুলিশ বক্স এবং ৩ টি পুলিশের গাড়ীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। চলে দিনব্যাপী দাওয়া পাল্টা দাওয়া গুলি আগুন আর সংঘর্ষের ঘটনা।

শনিবার সকালে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আন্দোলনকারীদের দাওয়াখেয়ে পিছু হটে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। পরে দুপুর ১২ টার সময় বিপুল শঙ্খক পুলিশ সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে ছাত্রদের উপর গুলি বর্ষন করে। এ সময় ৯জন আন্দোলন কারি গুলিবিদ্ধ হয় । এদের মধ্যে ৬ জনকে মুমূর্ষ অবস্থায় ময়মনসিং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষ কালে বিক্ষুপ্ত শিক্ষার্থীরা মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে অবস্থিত ৪ টি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করে এবং ২টি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মাওনা রাস্তার শ্রীপুর রুটে পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে এক শিক্ষার্থী নিহত হলে তার লাশ নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শ্রীপুর থানা গেড়াওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

এ সময় মাওনা শ্রীপুর সড়কের পাশে মাওনা হাইওয়ে পুলিশের বহুতল ভবনে ভাঙচুর চালিয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার পুলিশদের অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা ও জেলা পুলিশের বিপুল সংখ্যক পুলিশ এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছাত্রভঙ্গ করে মাওনা হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে শ্রীপুর থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের গুলিতে জাহাঙ্গীর মুন্সি নামের এক লেপ তুসক ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে নিহত হয় এবং ১৪জন আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হয় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিহত জাহাঙ্গীর মুন্সীর বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। সে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় শশুর বাড়িতে থেকে লেপতোষকের ব্যবসা করতো।
পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ওই লাশ নিয়ে ৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে শ্রীপুর থানা ঘেড়াওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে গাজীপুর থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এনে শ্রীপুর চৌরাস্তায় ব্যারিকেট তৈরি করে।
আন্দোলনকারীরা শ্রীপুর চৌরাস্তা পৌঁছার পর বিপুলসংখ্যক পুলিশের বেরিকেটে পড়লে শুরু হয় আবারও সংঘর্ষ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ এবং আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি অবস্থায় অবস্থান করছেন।

শনিবার সকাল পৌনে এগারোটা থেকে বৈষম্য বিরোধী হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে জমায়েত হয়ে নয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এবং পুলিশ এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করলে এ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

 

Tag :
জনপ্রিয়

খুলনায় গ্যাস সরবরাহের দাবিতে খুলনা নাগরিক সমাজের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

শ্রীপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ২জন নিহত ২৩ জন গুলিবিদ্ধ হাইওয়ে থানা ৪টি পুলিশ বক্স এবং ৩ টি পুলিশের গাড়ীতে আগুন

প্রকাশিত ১০:২৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৪

 

 

গাজীপুরের শ্রীপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে ২জন নিহত ২৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হাইওয়ে থানা, ৪টি পুলিশ বক্স এবং ৩ টি পুলিশের গাড়ীতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। চলে দিনব্যাপী দাওয়া পাল্টা দাওয়া গুলি আগুন আর সংঘর্ষের ঘটনা।

শনিবার সকালে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আন্দোলনকারীদের দাওয়াখেয়ে পিছু হটে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। পরে দুপুর ১২ টার সময় বিপুল শঙ্খক পুলিশ সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে ছাত্রদের উপর গুলি বর্ষন করে। এ সময় ৯জন আন্দোলন কারি গুলিবিদ্ধ হয় । এদের মধ্যে ৬ জনকে মুমূর্ষ অবস্থায় ময়মনসিং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষ কালে বিক্ষুপ্ত শিক্ষার্থীরা মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে অবস্থিত ৪ টি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করে এবং ২টি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মাওনা রাস্তার শ্রীপুর রুটে পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে এক শিক্ষার্থী নিহত হলে তার লাশ নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শ্রীপুর থানা গেড়াওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

এ সময় মাওনা শ্রীপুর সড়কের পাশে মাওনা হাইওয়ে পুলিশের বহুতল ভবনে ভাঙচুর চালিয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার পুলিশদের অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা ও জেলা পুলিশের বিপুল সংখ্যক পুলিশ এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছাত্রভঙ্গ করে মাওনা হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে শ্রীপুর থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের গুলিতে জাহাঙ্গীর মুন্সি নামের এক লেপ তুসক ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে নিহত হয় এবং ১৪জন আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হয় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিহত জাহাঙ্গীর মুন্সীর বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। সে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় শশুর বাড়িতে থেকে লেপতোষকের ব্যবসা করতো।
পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ওই লাশ নিয়ে ৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে শ্রীপুর থানা ঘেড়াওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে গাজীপুর থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এনে শ্রীপুর চৌরাস্তায় ব্যারিকেট তৈরি করে।
আন্দোলনকারীরা শ্রীপুর চৌরাস্তা পৌঁছার পর বিপুলসংখ্যক পুলিশের বেরিকেটে পড়লে শুরু হয় আবারও সংঘর্ষ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ এবং আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি অবস্থায় অবস্থান করছেন।

শনিবার সকাল পৌনে এগারোটা থেকে বৈষম্য বিরোধী হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে জমায়েত হয়ে নয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এবং পুলিশ এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করলে এ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।