০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে আমাদের করণীয়

  • প্রকাশিত ০৪:১৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬৬ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং আতিথেয়তার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। কক্সবাজারের বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, পানাম নগর কিংবা সিলেটের চা-বাগান—সবই বিশ্ববাসীর কাছে আকর্ষণীয়। তবুও দেশের পর্যটন শিল্প এখনও প্রত্যাশিত সম্ভাবনা পূরণ করতে পারেনি। এই খাতকে সমৃদ্ধ ও টেকসই করার জন্য আমাদের কিছু করণীয় হলো:
১. অবকাঠামো উন্নয়ন
পর্যটন স্থানে নিরাপদ সড়ক, মানসম্মত হোটেল-মোটেল, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণে বাড়বে।
২. নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা
পর্যটকরা যেখানে ভ্রমণ করেন, সেখানে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ভ্রমণকালে প্রতারণা, হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণের মতো সমস্যা দূর করতে হবে।
৩. প্রচারণা ও বিপণন
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম ফেয়ার ও গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে হবে। মানসম্মত ছবি, ভিডিও ও তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করা সম্ভব।
৪. প্রশিক্ষণ ও দক্ষ জনবল তৈরি
ট্যুর গাইড, হোটেল ম্যানেজমেন্ট কর্মী এবং পর্যটন-সম্পর্কিত সেবাদানকারীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। দক্ষ জনবল পর্যটন অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করবে।
৫. পরিবেশ সংরক্ষণ
সুন্দরবন, পাহাড়, সমুদ্রসৈকত ও প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থানগুলিকে দূষণ ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে হবে। ইকো-ট্যুরিজমের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
৬. নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ
সরকারি নীতির সহায়তা, ট্যাক্স রেয়াত, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) এর মাধ্যমে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।
৭. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ
লোকসংগীত, হস্তশিল্প, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও লোকজ সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করলে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ। সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এই খাতকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব। যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রধান পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।
রিফাত মাহবুব সাকিব – লেখক, গবেষক, কলামিস্ট, ব্যাংকার

Tag :
জনপ্রিয়

বাঁশখালীতে ছাত্রদলের প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধীরাই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশে আমাদের করণীয়

প্রকাশিত ০৪:১৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং আতিথেয়তার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। কক্সবাজারের বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, পানাম নগর কিংবা সিলেটের চা-বাগান—সবই বিশ্ববাসীর কাছে আকর্ষণীয়। তবুও দেশের পর্যটন শিল্প এখনও প্রত্যাশিত সম্ভাবনা পূরণ করতে পারেনি। এই খাতকে সমৃদ্ধ ও টেকসই করার জন্য আমাদের কিছু করণীয় হলো:
১. অবকাঠামো উন্নয়ন
পর্যটন স্থানে নিরাপদ সড়ক, মানসম্মত হোটেল-মোটেল, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণে বাড়বে।
২. নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা
পর্যটকরা যেখানে ভ্রমণ করেন, সেখানে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ভ্রমণকালে প্রতারণা, হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণের মতো সমস্যা দূর করতে হবে।
৩. প্রচারণা ও বিপণন
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম ফেয়ার ও গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে হবে। মানসম্মত ছবি, ভিডিও ও তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করা সম্ভব।
৪. প্রশিক্ষণ ও দক্ষ জনবল তৈরি
ট্যুর গাইড, হোটেল ম্যানেজমেন্ট কর্মী এবং পর্যটন-সম্পর্কিত সেবাদানকারীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। দক্ষ জনবল পর্যটন অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করবে।
৫. পরিবেশ সংরক্ষণ
সুন্দরবন, পাহাড়, সমুদ্রসৈকত ও প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থানগুলিকে দূষণ ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে হবে। ইকো-ট্যুরিজমের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
৬. নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ
সরকারি নীতির সহায়তা, ট্যাক্স রেয়াত, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) এর মাধ্যমে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।
৭. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ
লোকসংগীত, হস্তশিল্প, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও লোকজ সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করলে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ। সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এই খাতকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব। যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রধান পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।
রিফাত মাহবুব সাকিব – লেখক, গবেষক, কলামিস্ট, ব্যাংকার