০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সোনার বাংলা পার্টি কর্তৃক আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকের প্রদত্ত বক্তব্য :

  • প্রকাশিত ০৯:২৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩২ বার দেখা হয়েছে

সর্বজনীন গণতন্ত্রের জন্য ” রাজনৈতিক দল / জোটভিত্তিক প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সরকার গঠন ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সোনার বাংলা পার্টি ‘র সভাপতি সৈয়দ হারুন -অর-রশীদ সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এইউজেড প্রিন্স এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক, বাংলা একাডেমির সভাপতি, রাষ্ট্র ভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির সভাপতি এবং সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, প্রধান বক্তা সোনার বাংলা পার্টি ‘র সাবেক সভাপতি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আব্দুন নুর, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ও গণপরিষদ আন্দোলনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ জাসদের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, আজাদ, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, সোনার বাংলা পার্টি ‘র সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদ, ফরওয়ার্ড পার্টি ‘র সদস্য সচিব মাহবুবুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ সমতা পার্টি ‘ র সভাপতি হানিফ বাংলাদেশি, বাংলাদেশ মানবতাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. সুফি সাগর সামস, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি ‘ র সভাপতি এডভোকেট সুমন সরকার, লাইব্রেরি আন্দোলনের প্রধান সাবেক সচিব কাশেম মাসুদ, নাগরিক অধিকার পার্টি ‘ র সভাপতি এডভোকেট রবিউল হোসেন,সোনার বাংলা পার্টি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান চৌধুরী, মুক্তি ও উন্নতি বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেন, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সংগঠক ফরহাদ হোসেন, সম্মানিত আইটি বিশেষজ্ঞ সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, উপস্থিত ছিলেন স্যোসাল জাষ্টিস ফোরাম এর প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সোনার বাংলা পার্টি ‘র বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব ও কর্মীবৃন্দ।

সভাপতি সৈয়দ হারুন -অর-রশীদ তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানান। এবং সর্বজনীন গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল বা জোটভিত্তিক প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সরকার গঠন নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান ও উক্ত আনুপাতিক পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন করে মনোনয়ন বানিজ্য, ভোট কেনা – বেঁচা, কেন্দ্র দখল ইত্যাদি থেকে জাতিকে রক্ষার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, আপনারা ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি অস্তিত্ব সংকটে পতিত। একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আগ্রাসন,ফ্যাসিবাদ,সন্ত্রাসবাদ,দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচার বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি হুমকির সম্মুখীন। অপরদিকে জাতীয় নির্বাচন, জুলাই সনদ,সংবিধান ও রাষ্ট্রের সংস্কার নিয়ে চলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের খবরদারি। এহেন অবস্থায়, আমাদের মুক্তি ও উন্নতির জন্য দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে বাংলাদেশকে রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন,
আপনারা অবশ্যই উপলব্ধি করেন যে, নিঃরাজনীতিরকরণের প্রক্রিয়ায় পড়ে বাংলাদেশের রাজনীতির এখন যে দশা, তাতে এর মৌলিক পুনর্গঠন দরকার। রাজনীতিতে এখন আর রাজনীতি নেই, আছে কেবল নগ্ন ক্ষমতার লড়াই। গণতন্ত্র এখন নির্বাচনতন্ত্রে পরিনত হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণ করা হচ্ছে সম্পত্তি অর্জনের লক্ষ্যে। রাজনীতি পরিনত হয়েছে নোংরা ব্যবসায়ে। ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়েই প্রমাণিত হয়েছে, এদেশে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচন করার যোগ্যতা রাখে না। গণতন্ত্রের নামে চলে গনবিরোধী কার্যক্রম,সামরিক শাসন, জরুরি অবস্থা, সংঘাত -সংঘর্ষ, হিংসা -প্রতিহিংসা ও প্রাণহানি। বড় দলগুলো জনগণের উপর আস্থা হারিয়ে ক্ষমতা দখলের জন্য ক্রমাগত বৃহৎ শক্তিবর্গের স্হানীয় দূতাবাসগুলোতে চক্রান্ত করছে, বিদেশি আগ্রাসন -শক্তিকে আমাদের দেশের রাজনীতিতে টেনে এনেছে। নির্বাচন করার জন্য অরাজনৈতিক নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছে, এমনকি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি আবার ফিরিয়ে এনেছে, কিন্তু পতনমুখী রাজনীতির উন্নতির জন্য কিছুই করা হয়নি। ১৯৮০ – র দশকের শুরু থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে যে এনজিও – সিভিল সোসাইটির বিশিষ্ট নাগরিকরা ” রাজনীতির সঙ্ঘবদ্ধ আম্পায়ার” হয়ে রাজনীতি শূন্য করার কাজ করছেন, বরং তাদের দ্বারা শুভকর কিছুই হয়নি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির কথিত নির্বাচন, ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে করা ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডামি ভোটে পরিনত করা। গণতন্ত্রের নামে সরকার, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামায়াতের হীন কার্যকলাপ ভুলে যাওয়ার মতো নয়। গত ১৫ বছর ফ্যাসিষ্ট হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার এমন হীন কাজ করে নাই,যা বাংলাদেশের মানুষ কোনো দিন ভুলতে পারবে সেইজন্যই ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট হাসিনার মতো ঘৃণিত পলায়ন পৃথিবীর ইতিহাসে কমই হয়েছে। সেই কারণেই সোনার বাংলা পার্টি মনে করে ‘ সন্ত্রাসবাদ একটি রাজনৈতিক ব্যধি”।
জনগণের মধ্যে জাতীয় চেতনা দুর্বল এবং অনৈক্য ক্রমবর্ধমান। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশও দুর্বল। জাতিরাষ্ট্র রূপে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা নিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে দেখা যায় নানা দ্বিধা -দ্বন্দ্ব, চালান হতে থাকে নিঃরাজনীতিকরণের কার্যক্রম । গণতন্ত্রের নামে চলছে সম্পূর্ণ ধোঁকাবাজি।মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ থেকে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সর্বত্রই করা হয়েছে গণতন্ত্র বিরোধী উত্তরাধিকার- ভিত্তিক নেতৃত্ব ও পরিবারতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামো। জাতীয় সংসদ ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান সমূহে প্রতিনিধি নির্বাচনের যোগ্যতাও সরকার ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি রাখে না। বড় রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিরাই জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে হীন দলীয় স্বার্থে বৃহৎ শক্তিবর্গের স্থানীয় দূতাবাসগুলোতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্টের নির্দিষ্ট ডেস্কে ছুটাছুটি করেন। অপ্রধান রাজনৈতিক দলগুলো বিকাশহীন এবং তাদের মধ্যে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার কোন আকাঙ্খায় খুঁজে পাওয়া যায় না।
সমাজতন্ত্রের কথা সংবিধানে বিস্তৃত পরিসরেই লেখা আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যেকটিই সমাজতন্ত্র বিরোধী। তারা চলছে সাম্রাজ্যবাদের বিশ্বস্ত অনুসারী হয়ে, মুক্ত- বাজার অর্থনীতি ও অবাধ প্রতিযোগিতাবাদ নিয়ে। ‘বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য ‘পরিহার করে তারা চলে বহুত্ববাদ নিয়ে যাতে রাষ্ট্রগঠন বানচাল হয়।
‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে চলছে তীব্র বিরোধ। একপক্ষ চায় অপরপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে চিরদিনের জন্য শেষ করে দিয়ে চিরজয়ী হতে। স্বার্থন্ধ ক্রিয়া – প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কোন সুস্থ রাজনীতির সন্ধান পাওয়া যায় না। সাম্রাজ্যবাদী ও কায়েমি- স্বার্থবাদী শক্তিসমূহের সামরিক আক্রমণ ও লুটতরাজের প্রতিক্রিয়ায় চলছে সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড। এই অবস্থায় চালানো হচ্ছে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
সোনার বাংলা পার্টি ‘র সাবেক সভাপতি শেষ আব্দুন নুর বলেন, আপনারা প্রায় সকলেই জানেন, সোনার বাংলা পার্টি ২০০৯ সালের পর থেকেই সর্বজনীন গণতন্ত্রের জন্য ” রাজনৈতিক দল / জোটভিত্তিক প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ধারণাটি বিভিন্ন সময়ে মতবিনিময় সভা, পার্টি ‘র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায়, মানববন্ধন কর্মসূচি, গোলটেবিল বৈঠক করে জাতির উদ্দেশ্যে এর ভালো ও মন্দদিক তুলে ধরেছে। ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার রক্তের বিনিময়ে উক্ত গণঅভ্যুত্থান মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
জাতীয় সংসদ গঠিত হবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে। জাতীয় সংসদে মোট ৩০০ প্রতিনিধি থাকবেন। নির্বাচন হবে রাজনৈতিক দল বা জোটভিত্তিক। বিভিন্ন দলের নির্বাচিত প্রার্থীর সংখ্যা নির্ধারিত হবে নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের সঙ্গে প্রত্যেক দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। প্রদত্ত মোট ভোটের জন্য ৩০০ আসন হলে আনুপাতিকভাবে কোন দলের প্রাপ্ত ভোটের জন্য কত আসন হবে, নির্বাচন কমিশন তা স্থির করবে। নির্বাচনের পূর্বেই প্রত্যেক দল প্রার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনে প্রধান করবেন। দলের প্রার্থী তালিকায় দলের মনোনয়ন অনুযায়ী মহিলা ও পুরুষেরা থাকবেন। নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন দলের অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রার্থী তালিকা থেকে নির্বাচিতদের নামের তালিকা ঘোষণা করবে। মন্ত্রী পরিষদও গঠিত হবে বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচিত সদস্য সংখ্যার অনুপাতে মন্ত্রী নিয়ে। মন্ত্রী -প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা অনধিক ৫০ হতে পারে। জাতীয় সংসদের নির্বাচনে যেসব দল সংবিধানে নির্দেশিত ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা লাভ করবে সেই সব দলই আনুপাতিক হারে মন্ত্রীত্ব লাভ করবে। গণজাগরণ দেখা দিলে ভোট চোর, ভোটডাকাত, ব্যালট বাক্স ছিনতাইকারী, নির্বাচনে বিপত্তি সৃষ্টিকারী ও ভাওতাবাজরা অপকর্ম করতে পারবেনা। সরকার সবসময় সংবিধান প্রচার করবে এবং জনগণকে নিয়ে সংবিধান অনুযায়ী কাজ করবে।

সম্মানিত আলোচক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ,বর্তমান সংসদীয় নির্বাচন ব্যবস্থায় ৩০০ টি আসনে আলাদা আলাদা প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে রাজনৈতিক দলগুলো। বর্তমান পদ্ধতিতে নির্বাচনে একটি আসনে চারজন প্রার্থী চারটি দল থেকে নির্বাচন করছে। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৮৫ শতাংশ। এর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় জন প্রার্থী প্রত্যেকে ২০ শতাংশ করে ভোট পেয়েছে।আর চতুর্থ প্রার্থী ভোট পেয়েছে ২৫ শতাংশ। বর্তমান পদ্ধতিতে চতুর্থ প্রার্থী এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। আর তিনটি দলের ষাট শতাংশ ভোট কোন কাজে আসলো না। এতে সংসদে প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ থাকে না। আর আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে ভোটের আগে প্রতিটি দল ক্রম ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। প্রতিটি দল তার প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন সংখ্যা পাবে। একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সংসদ সদস্য যেহেতু আইন প্রণেতা, সেই কারণে সেই সংসদ সদস্য বাংলাদেশের সংসদ সদস্য হবেন। কোন থানা বা আসনের সংসদ সদস্য হবে না। এতে করে এই সংসদ সদস্যের এলাকাভিত্তিক কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। এবং লুটপাট ও দুর্নীতিও থাকবে না। বাংলাদেশ হবে, বাংলা ভাষার রাষ্ট্ররূপে। বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের রাষ্ট্র রূপে গড়ে তুলতে হবে।
পৃথিবীর অনেক দেশেই এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়ে থাকে। যেমন ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, সাউথ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক সহ পৃথিবীর প্রায় ৯২ টি দেশেই এই আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়ে থাকে। দেশের জনগণ ভোট দিবেন দলের আদর্শ ও নীতি দেখে, কোন মার্কা দেখে নয়। আপনারা জানেন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ আইনের ৯০ বি ধারা যুক্ত করে রাজনৈতিক দলের জন্য নিবন্ধনের যে আইন করা হয়েছে, এই আইন গণতন্ত্র ও রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার আইন। তাই এই কালো আইন, সংবিধান বিরোধী ও গণবিরোধী। তাই এই কাল আইন বাতিল করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক দলের তালিকা সরকার বা নির্বাচন কমিশনে থাকতে পারে। যেহেতু নির্বাচন হবে আনুপাতিক পদ্ধতিতে সেই কারণে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বা মার্কার প্রয়োজন নেই। মানুষ ভোট দিবেন রাজনৈতিক দলকে, কোন ব্যক্তি বা মার্কাকে নয়। নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে একটি করে ব্যালট নম্বর দিবেন, দেশের জনগণ সেই ব্যালট নম্বরে ভোট দিবেন। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে, নির্বাচন কমিশন, বিভাগীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। সংসদে কোন উচ্চকক্ষ ও নিম্ন কক্ষ থাকিবে না, এটা করে কোন বৈষম্য সৃষ্টি করা যাবে না।

মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর ও নাজমুল হক প্রধান বলেন,
সর্বজনীন গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল বা জোটভিত্তিক প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক পদ্ধতিতে সরকার গঠিত হলে রাষ্ট্রের অনেকগুলি কাজ সহজ হবে। যেমন :

১) এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে, মার্কার বানিজ্য বন্ধ হবে এবং টাকা দিয়ে ভোট কেনার সুযোগ থাকবে না।
২) উক্ত পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কেন্দ্র দখল হবে না এবং মতলব পূরণ হবে না। ৩) পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে অপরাজনীতির সংস্কৃতি কবর রচনা হবে।
৪) আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি সদস্য হবেন। ভোটারদের ভোট বিফলে যাবে না।
৫) ফ্যাসিবাদ রুখতে পি আর পদ্ধতি দরকার। কোনো দল দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেলেই আবারও ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে। ন্যায়বিচার মানেই অংশীদারিত্ব। ক্ষমতা যতবেশি বিকেন্দ্রীকরণ হবে, ততই দেশের জনগণের জন্য মঙ্গল।
৬) এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কালো টাকার মালিক, দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচাকারীরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না।
৭) কোন রাজনৈতিক দল যত শতাংশ ভোট পাবে, সংসদে তারা সেই অনুপাতে আসন পাবেন। নির্বাচনে এই পদ্ধতি চালু হলে তা সুশাসন নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৮) অনেক দল ভোটে খুব সামান্য পার্থক্য থাকলেও সংসদে একটি আসনও পায় না। কিন্তু উক্ত পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে, তাতে ন্যূনতম ভোট পেলেও সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি থাকার সুযোগ হয় সংসদে। ফলে সংসদ হয়ে ওঠে সর্বদলীয় সরকার বা জাতীয় সরকারের আদলে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

Tag :
জনপ্রিয়

৩৬ টি শীর্ষ শুন্য পদ এখন ও খালি এলজিইডি তে স্থবিরতা

সোনার বাংলা পার্টি কর্তৃক আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকের প্রদত্ত বক্তব্য :

প্রকাশিত ০৯:২৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ অগাস্ট ২০২৫

সর্বজনীন গণতন্ত্রের জন্য ” রাজনৈতিক দল / জোটভিত্তিক প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সরকার গঠন ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সোনার বাংলা পার্টি ‘র সভাপতি সৈয়দ হারুন -অর-রশীদ সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এইউজেড প্রিন্স এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক, বাংলা একাডেমির সভাপতি, রাষ্ট্র ভাষা বাংলা রক্ষা কমিটির সভাপতি এবং সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, প্রধান বক্তা সোনার বাংলা পার্টি ‘র সাবেক সভাপতি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের আহ্বায়ক শেখ আব্দুন নুর, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ও গণপরিষদ আন্দোলনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ জাসদের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, আজাদ, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, সোনার বাংলা পার্টি ‘র সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদ, ফরওয়ার্ড পার্টি ‘র সদস্য সচিব মাহবুবুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ সমতা পার্টি ‘ র সভাপতি হানিফ বাংলাদেশি, বাংলাদেশ মানবতাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. সুফি সাগর সামস, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি ‘ র সভাপতি এডভোকেট সুমন সরকার, লাইব্রেরি আন্দোলনের প্রধান সাবেক সচিব কাশেম মাসুদ, নাগরিক অধিকার পার্টি ‘ র সভাপতি এডভোকেট রবিউল হোসেন,সোনার বাংলা পার্টি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোলাইমান চৌধুরী, মুক্তি ও উন্নতি বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেন, অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সংগঠক ফরহাদ হোসেন, সম্মানিত আইটি বিশেষজ্ঞ সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, উপস্থিত ছিলেন স্যোসাল জাষ্টিস ফোরাম এর প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সোনার বাংলা পার্টি ‘র বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব ও কর্মীবৃন্দ।

সভাপতি সৈয়দ হারুন -অর-রশীদ তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানান। এবং সর্বজনীন গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল বা জোটভিত্তিক প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সরকার গঠন নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান ও উক্ত আনুপাতিক পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন করে মনোনয়ন বানিজ্য, ভোট কেনা – বেঁচা, কেন্দ্র দখল ইত্যাদি থেকে জাতিকে রক্ষার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, আপনারা ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি অস্তিত্ব সংকটে পতিত। একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আগ্রাসন,ফ্যাসিবাদ,সন্ত্রাসবাদ,দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচার বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি হুমকির সম্মুখীন। অপরদিকে জাতীয় নির্বাচন, জুলাই সনদ,সংবিধান ও রাষ্ট্রের সংস্কার নিয়ে চলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের খবরদারি। এহেন অবস্থায়, আমাদের মুক্তি ও উন্নতির জন্য দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়ে বাংলাদেশকে রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন,
আপনারা অবশ্যই উপলব্ধি করেন যে, নিঃরাজনীতিরকরণের প্রক্রিয়ায় পড়ে বাংলাদেশের রাজনীতির এখন যে দশা, তাতে এর মৌলিক পুনর্গঠন দরকার। রাজনীতিতে এখন আর রাজনীতি নেই, আছে কেবল নগ্ন ক্ষমতার লড়াই। গণতন্ত্র এখন নির্বাচনতন্ত্রে পরিনত হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণ করা হচ্ছে সম্পত্তি অর্জনের লক্ষ্যে। রাজনীতি পরিনত হয়েছে নোংরা ব্যবসায়ে। ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়েই প্রমাণিত হয়েছে, এদেশে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচন করার যোগ্যতা রাখে না। গণতন্ত্রের নামে চলে গনবিরোধী কার্যক্রম,সামরিক শাসন, জরুরি অবস্থা, সংঘাত -সংঘর্ষ, হিংসা -প্রতিহিংসা ও প্রাণহানি। বড় দলগুলো জনগণের উপর আস্থা হারিয়ে ক্ষমতা দখলের জন্য ক্রমাগত বৃহৎ শক্তিবর্গের স্হানীয় দূতাবাসগুলোতে চক্রান্ত করছে, বিদেশি আগ্রাসন -শক্তিকে আমাদের দেশের রাজনীতিতে টেনে এনেছে। নির্বাচন করার জন্য অরাজনৈতিক নির্দলীয় নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছে, এমনকি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি আবার ফিরিয়ে এনেছে, কিন্তু পতনমুখী রাজনীতির উন্নতির জন্য কিছুই করা হয়নি। ১৯৮০ – র দশকের শুরু থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে যে এনজিও – সিভিল সোসাইটির বিশিষ্ট নাগরিকরা ” রাজনীতির সঙ্ঘবদ্ধ আম্পায়ার” হয়ে রাজনীতি শূন্য করার কাজ করছেন, বরং তাদের দ্বারা শুভকর কিছুই হয়নি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির কথিত নির্বাচন, ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে করা ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ডামি ভোটে পরিনত করা। গণতন্ত্রের নামে সরকার, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামায়াতের হীন কার্যকলাপ ভুলে যাওয়ার মতো নয়। গত ১৫ বছর ফ্যাসিষ্ট হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার এমন হীন কাজ করে নাই,যা বাংলাদেশের মানুষ কোনো দিন ভুলতে পারবে সেইজন্যই ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট হাসিনার মতো ঘৃণিত পলায়ন পৃথিবীর ইতিহাসে কমই হয়েছে। সেই কারণেই সোনার বাংলা পার্টি মনে করে ‘ সন্ত্রাসবাদ একটি রাজনৈতিক ব্যধি”।
জনগণের মধ্যে জাতীয় চেতনা দুর্বল এবং অনৈক্য ক্রমবর্ধমান। রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশও দুর্বল। জাতিরাষ্ট্র রূপে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা নিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে দেখা যায় নানা দ্বিধা -দ্বন্দ্ব, চালান হতে থাকে নিঃরাজনীতিকরণের কার্যক্রম । গণতন্ত্রের নামে চলছে সম্পূর্ণ ধোঁকাবাজি।মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদ থেকে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সর্বত্রই করা হয়েছে গণতন্ত্র বিরোধী উত্তরাধিকার- ভিত্তিক নেতৃত্ব ও পরিবারতান্ত্রিক ক্ষমতা কাঠামো। জাতীয় সংসদ ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান সমূহে প্রতিনিধি নির্বাচনের যোগ্যতাও সরকার ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি রাখে না। বড় রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিরাই জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে হীন দলীয় স্বার্থে বৃহৎ শক্তিবর্গের স্থানীয় দূতাবাসগুলোতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্টের নির্দিষ্ট ডেস্কে ছুটাছুটি করেন। অপ্রধান রাজনৈতিক দলগুলো বিকাশহীন এবং তাদের মধ্যে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার কোন আকাঙ্খায় খুঁজে পাওয়া যায় না।
সমাজতন্ত্রের কথা সংবিধানে বিস্তৃত পরিসরেই লেখা আছে। কিন্তু প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যেকটিই সমাজতন্ত্র বিরোধী। তারা চলছে সাম্রাজ্যবাদের বিশ্বস্ত অনুসারী হয়ে, মুক্ত- বাজার অর্থনীতি ও অবাধ প্রতিযোগিতাবাদ নিয়ে। ‘বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য ‘পরিহার করে তারা চলে বহুত্ববাদ নিয়ে যাতে রাষ্ট্রগঠন বানচাল হয়।
‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে চলছে তীব্র বিরোধ। একপক্ষ চায় অপরপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে চিরদিনের জন্য শেষ করে দিয়ে চিরজয়ী হতে। স্বার্থন্ধ ক্রিয়া – প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কোন সুস্থ রাজনীতির সন্ধান পাওয়া যায় না। সাম্রাজ্যবাদী ও কায়েমি- স্বার্থবাদী শক্তিসমূহের সামরিক আক্রমণ ও লুটতরাজের প্রতিক্রিয়ায় চলছে সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড। এই অবস্থায় চালানো হচ্ছে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।
সোনার বাংলা পার্টি ‘র সাবেক সভাপতি শেষ আব্দুন নুর বলেন, আপনারা প্রায় সকলেই জানেন, সোনার বাংলা পার্টি ২০০৯ সালের পর থেকেই সর্বজনীন গণতন্ত্রের জন্য ” রাজনৈতিক দল / জোটভিত্তিক প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ধারণাটি বিভিন্ন সময়ে মতবিনিময় সভা, পার্টি ‘র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায়, মানববন্ধন কর্মসূচি, গোলটেবিল বৈঠক করে জাতির উদ্দেশ্যে এর ভালো ও মন্দদিক তুলে ধরেছে। ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার রক্তের বিনিময়ে উক্ত গণঅভ্যুত্থান মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
জাতীয় সংসদ গঠিত হবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে। জাতীয় সংসদে মোট ৩০০ প্রতিনিধি থাকবেন। নির্বাচন হবে রাজনৈতিক দল বা জোটভিত্তিক। বিভিন্ন দলের নির্বাচিত প্রার্থীর সংখ্যা নির্ধারিত হবে নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের সঙ্গে প্রত্যেক দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। প্রদত্ত মোট ভোটের জন্য ৩০০ আসন হলে আনুপাতিকভাবে কোন দলের প্রাপ্ত ভোটের জন্য কত আসন হবে, নির্বাচন কমিশন তা স্থির করবে। নির্বাচনের পূর্বেই প্রত্যেক দল প্রার্থীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনে প্রধান করবেন। দলের প্রার্থী তালিকায় দলের মনোনয়ন অনুযায়ী মহিলা ও পুরুষেরা থাকবেন। নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন দলের অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রার্থী তালিকা থেকে নির্বাচিতদের নামের তালিকা ঘোষণা করবে। মন্ত্রী পরিষদও গঠিত হবে বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচিত সদস্য সংখ্যার অনুপাতে মন্ত্রী নিয়ে। মন্ত্রী -প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা অনধিক ৫০ হতে পারে। জাতীয় সংসদের নির্বাচনে যেসব দল সংবিধানে নির্দেশিত ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা লাভ করবে সেই সব দলই আনুপাতিক হারে মন্ত্রীত্ব লাভ করবে। গণজাগরণ দেখা দিলে ভোট চোর, ভোটডাকাত, ব্যালট বাক্স ছিনতাইকারী, নির্বাচনে বিপত্তি সৃষ্টিকারী ও ভাওতাবাজরা অপকর্ম করতে পারবেনা। সরকার সবসময় সংবিধান প্রচার করবে এবং জনগণকে নিয়ে সংবিধান অনুযায়ী কাজ করবে।

সম্মানিত আলোচক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ,বর্তমান সংসদীয় নির্বাচন ব্যবস্থায় ৩০০ টি আসনে আলাদা আলাদা প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে রাজনৈতিক দলগুলো। বর্তমান পদ্ধতিতে নির্বাচনে একটি আসনে চারজন প্রার্থী চারটি দল থেকে নির্বাচন করছে। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৮৫ শতাংশ। এর মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় জন প্রার্থী প্রত্যেকে ২০ শতাংশ করে ভোট পেয়েছে।আর চতুর্থ প্রার্থী ভোট পেয়েছে ২৫ শতাংশ। বর্তমান পদ্ধতিতে চতুর্থ প্রার্থী এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। আর তিনটি দলের ষাট শতাংশ ভোট কোন কাজে আসলো না। এতে সংসদে প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ থাকে না। আর আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে ভোটের আগে প্রতিটি দল ক্রম ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। প্রতিটি দল তার প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন সংখ্যা পাবে। একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, সংসদ সদস্য যেহেতু আইন প্রণেতা, সেই কারণে সেই সংসদ সদস্য বাংলাদেশের সংসদ সদস্য হবেন। কোন থানা বা আসনের সংসদ সদস্য হবে না। এতে করে এই সংসদ সদস্যের এলাকাভিত্তিক কোন কর্তৃত্ব থাকবে না। এবং লুটপাট ও দুর্নীতিও থাকবে না। বাংলাদেশ হবে, বাংলা ভাষার রাষ্ট্ররূপে। বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের রাষ্ট্র রূপে গড়ে তুলতে হবে।
পৃথিবীর অনেক দেশেই এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়ে থাকে। যেমন ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, সাউথ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক সহ পৃথিবীর প্রায় ৯২ টি দেশেই এই আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়ে থাকে। দেশের জনগণ ভোট দিবেন দলের আদর্শ ও নীতি দেখে, কোন মার্কা দেখে নয়। আপনারা জানেন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ আইনের ৯০ বি ধারা যুক্ত করে রাজনৈতিক দলের জন্য নিবন্ধনের যে আইন করা হয়েছে, এই আইন গণতন্ত্র ও রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার আইন। তাই এই কালো আইন, সংবিধান বিরোধী ও গণবিরোধী। তাই এই কাল আইন বাতিল করতে হবে। শুধু রাজনৈতিক দলের তালিকা সরকার বা নির্বাচন কমিশনে থাকতে পারে। যেহেতু নির্বাচন হবে আনুপাতিক পদ্ধতিতে সেই কারণে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বা মার্কার প্রয়োজন নেই। মানুষ ভোট দিবেন রাজনৈতিক দলকে, কোন ব্যক্তি বা মার্কাকে নয়। নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে একটি করে ব্যালট নম্বর দিবেন, দেশের জনগণ সেই ব্যালট নম্বরে ভোট দিবেন। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে, নির্বাচন কমিশন, বিভাগীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। সংসদে কোন উচ্চকক্ষ ও নিম্ন কক্ষ থাকিবে না, এটা করে কোন বৈষম্য সৃষ্টি করা যাবে না।

মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর ও নাজমুল হক প্রধান বলেন,
সর্বজনীন গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল বা জোটভিত্তিক প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক পদ্ধতিতে সরকার গঠিত হলে রাষ্ট্রের অনেকগুলি কাজ সহজ হবে। যেমন :

১) এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে, মার্কার বানিজ্য বন্ধ হবে এবং টাকা দিয়ে ভোট কেনার সুযোগ থাকবে না।
২) উক্ত পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কেন্দ্র দখল হবে না এবং মতলব পূরণ হবে না। ৩) পি আর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে অপরাজনীতির সংস্কৃতি কবর রচনা হবে।
৪) আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি সদস্য হবেন। ভোটারদের ভোট বিফলে যাবে না।
৫) ফ্যাসিবাদ রুখতে পি আর পদ্ধতি দরকার। কোনো দল দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেলেই আবারও ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে। ন্যায়বিচার মানেই অংশীদারিত্ব। ক্ষমতা যতবেশি বিকেন্দ্রীকরণ হবে, ততই দেশের জনগণের জন্য মঙ্গল।
৬) এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কালো টাকার মালিক, দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচাকারীরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না।
৭) কোন রাজনৈতিক দল যত শতাংশ ভোট পাবে, সংসদে তারা সেই অনুপাতে আসন পাবেন। নির্বাচনে এই পদ্ধতি চালু হলে তা সুশাসন নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৮) অনেক দল ভোটে খুব সামান্য পার্থক্য থাকলেও সংসদে একটি আসনও পায় না। কিন্তু উক্ত পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে, তাতে ন্যূনতম ভোট পেলেও সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি থাকার সুযোগ হয় সংসদে। ফলে সংসদ হয়ে ওঠে সর্বদলীয় সরকার বা জাতীয় সরকারের আদলে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।