কাজী ফয়সাল আহমেদ মিথুন একজন জুলাইযোদ্ধা ও ডেমরা থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক। যার শরীরে এখনো গুলির প্রিন্টার বিদ্যমান। তিনি দেশের মানুষের মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন বলে জুলাইয়ের আহত যোদ্দা হিসেবে কোন সনদ গ্রহণ করেননি। সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধা নীতে ও অস্বীকার করেছিলেন।
অপরপক্ষে কাজী ফয়সাল আহমেদ মিঠুন দৈনিক রুপবানী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার, ডিপিসি নিউজ ২৪ অনলাইন নিউজ কোটালের সাব এডিটর ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা “সাস” নিউজ এজেন্সির সিইও। এছাড়া তিনি ঢাকা প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য। তিনি বর্তমানে একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
১০-১২ জনের একটি প্রতারক গ্রুপ, যারা সাধারণ মানুষদের হানি ট্রাপে ফেলে নেশা জাতীয় দ্রব্য দ্বারা অজ্ঞান করে ডাকাতি-ছিনতাই করে, মানুষকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেলিং করে, টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়। এছাড়া মোবাইল ছিনতাই ও বাসা বাড়ি থেকে মোবাইল চুরি করে বিক্রয় করা ও তাদের কাজ। এমন একটি প্রতারক চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে যাত্রাবাড়ী – ডেমরা থানার মধ্যবর্তী অঞ্চল আল-আমিন রোড ও আইডিয়াল রোড এলাকায়। যারা এ কাজের সাথে জড়িত তারা হলো তুষার, প্রিন্স খান (মেহেদী), সুমি আক্তার, বাবু, মোঃ ফারুক, আলম শেখ সহ আরো কয়েকজন। তারা সংঘবদ্ধ ভাবে কৌশলে হানি ট্রাপ ও ব্ল্যাকমেল এর মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে।
এলাকার লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায় সুমি আক্তার একজন প্রসিদ্ধ দেহ ব্যবসায়ী। মোবাইল চোর সিন্ডিকেট এর প্রধান প্রিন্স খান, তুষার ডাকাত ও ছিনতাই, চাঁদাবাজি দলের সরদার। এবং অন্যরা তাদের বিভিন্ন কাজের বিভিন্ন সময়ের সহযোগী।
বিগত ১০ জুলাই রাত আনুমানিক ৮ ঘটিকার দিকে কোনাপাড়া মাতুয়াইল নিউমার্কেটের সামনে সুমি আক্তার তার ডিভোর্সী দুই স্বামী প্রিন্স খান ও স্বপন ওরফে হেদুর সাথে তুষারের নেতৃত্বে ঝগড়া হয়। তখন তুষারের সাথে ছিল ফারুক, বাবু সহ আরো সাত আট জন। তাদের ঝগড়ার সময় অনেক লোকজন জড়ো হলে তাদেরকে রাস্তা ছাড়তে বলে তারা মান্নান হাই স্কুলের মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় একটি দোকানে গিয়ে বিচারে বসে। তখন তুষার সাংবাদিক কাজী ফয়সাল আহমেদ মিথুনকে ছবি তোলার জন্য ডেকে নেয় এবং বলে দুই পার্টিই আমার বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তাদের আলাপ আলোচনা করতে করতে রাত প্রায় ১ঃ০০ বেজে গেছে। তখন নাইটগার্ড শাহ আলম তাদেরকে নিরাপত্তার অজুহাতে মার্কেটের দোতলা থেকে নামিয়ে দেয়। এরই মধ্যে তুষার মোবাইলে সাংবাদিক মিঠুনকে সুমি আক্তারের নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা আদায় করে দেওয়ার জন্য বলে। মিঠুন অপারগতা প্রকাশ করলে তুষার হুমকি দিয়ে বলে যে ” সুমি নিকট থেকে টাকা আদায় করে দিতে না পারলে, তোমার কাছ থেকে দিবা, নতুবা আমি তোমাকে দেখে নিব।” রাত একটার দিকে সাংবাদিক মিঠুন বাসায় চলে যায়। দারোয়ান শাহ আলম জানায় সাংবাদিক অটোতে উঠে বাসায় চলে যাওয়ার পর মার্কেটের সামনে আবার সুমি আক্তার ও তার দুই ডিভোর্সি স্বামীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়। সেখানে তুষার ও তার সহযোগীরা উপস্থিত ছিল। তখন উপস্থিত লোকজন সুমি আক্তার ও তার পরিচিত মনি নামে এক মহিলাকে সবুজ নামে এক রিক্সাওয়ালার রিক্সায় তুলে দেয়। তাদেরকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য। সবুজের সাথে কথা বলে জানা যায় সবুজ তাদেরকে ডগাইর তাদের বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আসে। কিন্তু সুমি আক্তার পরের দিন সকালে যাত্রাবাড়ী থানায় গিয়ে বলে আমাকে গত রাতে গণধর্শন করা হয়েছে। তখন তার পরনে পরিপাটি পোশাক পরা ছিল। ধর্শনের এক নম্বর আসামি করা হয় সাংবাদিক কাজী ফয়সাল আহমেদ মিথুনকে। যার মামলা নংঃ ৩৩, তারিখঃ ১৩ জুলাই ২০২৫। মামলার বাদি মোঃ আলম শেখ, সুমি আক্তারের পিতা। মামলার ঘটনার স্থান দেখানো হয়েছে ডগাইর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে, কোনাপাড়া থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে, মিনি কক্সবাজারের আরো অনেক ভিতরে রাত আনুমানিক ২ ঘটিকার সময়। এখানে একটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সুমি আক্তারের বাসায় রিস্কাওয়ালা তাকে রাত দেড়টায় পৌঁছে দেয়, এখানেই প্রশ্ন রাত দুইটায় আবার সে কেন মাতুয়াল নিউমার্কেটে আসলো ? কি করতে ? এলাকাবাসীর অভিযোগ মামলাটির সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মামলাটি তদন্ত না করে কামরুজ্জামান তালুকদার মামলাটির রেকর্ড করলো কিভাবে? বর্তমানে সকলের মোবাইল কল চেক করে জানা গেছে ঘটনার মূল রহস্য। মাতুয়াল নিউমার্কেট থেকে ঘটনার স্থল পর্যন্ত ১৪ সিসি ক্যামেরা আছে, প্রশ্ন উঠেছে ঘটনার দিন রাত ২ টার পর থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটের চেক না করে, মামলার সত্য মিথ্যা যাচাই না করে, এমন একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করল কিভাবে? প্রত্যক্ষদর্শীরা বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে।
মিথুনের ছোট ভাই কাজী ফুয়াদ আহমেদ সাদ্দামের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সুমি আক্তার তুষার ও মামলার বাদি মোঃ আলম শেখ তাদের বলেছে, এক লক্ষ টাকা দিলে তারা মামলাটি তুলে নিবে বলে জানা গেছে।