০২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অধ্যাপক ড. মু. নজরুল ইসলাম তামিজী :

হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলায় জামিন পেলেন কবি অশোক ধর : ঘটনার প্রেক্ষিতে কিছু কথা

  • প্রকাশিত ০৩:২৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩২ বার দেখা হয়েছে

দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা সম্পাদক কবি অশোক ধরের ওপর চালানো হয়রানি, হামলা ও মিথ্যা মামলা শুধু একজন ব্যক্তির দুর্ভোগ নয়, বরং বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা। একজন সম্পাদক, কবি এবং মানবাধিকারকর্মীকে বছরের পর বছর ধরে ভয়ভীতি, হামলা ও মামলা দিয়ে নিস্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা—এ এক সুপরিকল্পিত দমনচক্রের প্রতিচ্ছবি।

১. সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় আঘাত

যেখানে গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের বিবেকের ভূমিকা রাখে, সেখানে সাংবাদিক বা সম্পাদককে ভয়ভীতি ও মামলা দিয়ে হয়রানি করা মানে আসলে পুরো গণমাধ্যমকেই দুর্বল করে দেওয়া। কবি অশোক ধরের বিরুদ্ধে বারবার মামলা দায়ের এবং প্রাণনাশের হুমকি একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়: যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরবে, তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

২. আইনের অপব্যবহার

খুব সহজেই দেখা যায়, চাঁদাবাজি বা ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের আড়ালে তাঁকে লক্ষ্য করে মামলাগুলো সাজানো হয়েছে। প্রমাণের অভাবে একের পর এক মামলা ভেঙে পড়ছে। এটি প্রমাণ করে আমাদের আইনি কাঠামো কত সহজে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় এবং প্রকৃত বিচারিক প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা সম্ভব হয়।

৩. ভূমিদস্যুতা ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়

ভূমিদস্যু ইমতিয়াজ উদ্দীন হিরন কর্তৃক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা থেকে আজ জামিন পেয়েছেন কবি অশোক ধর। এ ঘটনায় ভূমিদস্যুদের ভূমিকা অত্যন্ত স্পষ্ট। সরকারি জমি দখল, ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে আইনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা—এসব প্রবণতা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে। সাংবাদিকরা যখন এ ধরনের অপরাধ উন্মোচন করেন, তখন তারাই হয়ে ওঠেন টার্গেট।

৪. আদালতের রায় : আশার আলোকরেখা

সাম্প্রতিক একটি মামলায় খালাসপ্রাপ্তি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। এটি প্রমাণ করে যে দীর্ঘ হয়রানির পরও সত্য ও ন্যায়বিচার শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—যে মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির ভেতর দিয়ে একজন সম্পাদককে যেতে হলো, তার প্রতিকার কোথায়?

৫. করণীয় ও সুপারিশ

আইনের সংস্কার: মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা কমাতে কঠোর আইনগত দায়দায়িত্ব আরোপ করা প্রয়োজন।

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন: সাংবাদিক ও সম্পাদকদের জন্য একটি কার্যকর সুরক্ষা কাঠামো প্রণয়ন অপরিহার্য।

প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা বন্ধ করতে হবে।

সমাজের সচেতনতা: ভূমিদস্যুতা ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে।

অশোক ধরের ঘটনা একটি দৃষ্টান্ত। এটি কেবল ব্যক্তিগত ভোগান্তির গল্প নয়, বরং সমাজে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর কাছে গণমাধ্যম কতটা নাজুক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে তার নগ্ন প্রমাণ। তাঁর জামিন ও খালাস আমাদের শেখায়—ন্যায়বিচার বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু চিরকাল অস্বীকৃত থাকে না। এখন প্রয়োজন, এই অভিজ্ঞতাকে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজে লাগানো।

Tag :
জনপ্রিয়

তারেক রহমান যেন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে না পারে, সে জন্য ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত

অধ্যাপক ড. মু. নজরুল ইসলাম তামিজী :

হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলায় জামিন পেলেন কবি অশোক ধর : ঘটনার প্রেক্ষিতে কিছু কথা

প্রকাশিত ০৩:২৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা সম্পাদক কবি অশোক ধরের ওপর চালানো হয়রানি, হামলা ও মিথ্যা মামলা শুধু একজন ব্যক্তির দুর্ভোগ নয়, বরং বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা। একজন সম্পাদক, কবি এবং মানবাধিকারকর্মীকে বছরের পর বছর ধরে ভয়ভীতি, হামলা ও মামলা দিয়ে নিস্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা—এ এক সুপরিকল্পিত দমনচক্রের প্রতিচ্ছবি।

১. সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় আঘাত

যেখানে গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের বিবেকের ভূমিকা রাখে, সেখানে সাংবাদিক বা সম্পাদককে ভয়ভীতি ও মামলা দিয়ে হয়রানি করা মানে আসলে পুরো গণমাধ্যমকেই দুর্বল করে দেওয়া। কবি অশোক ধরের বিরুদ্ধে বারবার মামলা দায়ের এবং প্রাণনাশের হুমকি একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়: যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরবে, তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

২. আইনের অপব্যবহার

খুব সহজেই দেখা যায়, চাঁদাবাজি বা ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের আড়ালে তাঁকে লক্ষ্য করে মামলাগুলো সাজানো হয়েছে। প্রমাণের অভাবে একের পর এক মামলা ভেঙে পড়ছে। এটি প্রমাণ করে আমাদের আইনি কাঠামো কত সহজে অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় এবং প্রকৃত বিচারিক প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করা সম্ভব হয়।

৩. ভূমিদস্যুতা ও প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়

ভূমিদস্যু ইমতিয়াজ উদ্দীন হিরন কর্তৃক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা থেকে আজ জামিন পেয়েছেন কবি অশোক ধর। এ ঘটনায় ভূমিদস্যুদের ভূমিকা অত্যন্ত স্পষ্ট। সরকারি জমি দখল, ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে আইনকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করা—এসব প্রবণতা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে। সাংবাদিকরা যখন এ ধরনের অপরাধ উন্মোচন করেন, তখন তারাই হয়ে ওঠেন টার্গেট।

৪. আদালতের রায় : আশার আলোকরেখা

সাম্প্রতিক একটি মামলায় খালাসপ্রাপ্তি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক। এটি প্রমাণ করে যে দীর্ঘ হয়রানির পরও সত্য ও ন্যায়বিচার শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—যে মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির ভেতর দিয়ে একজন সম্পাদককে যেতে হলো, তার প্রতিকার কোথায়?

৫. করণীয় ও সুপারিশ

আইনের সংস্কার: মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা কমাতে কঠোর আইনগত দায়দায়িত্ব আরোপ করা প্রয়োজন।

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন: সাংবাদিক ও সম্পাদকদের জন্য একটি কার্যকর সুরক্ষা কাঠামো প্রণয়ন অপরিহার্য।

প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা বন্ধ করতে হবে।

সমাজের সচেতনতা: ভূমিদস্যুতা ও অপব্যবহারের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে।

অশোক ধরের ঘটনা একটি দৃষ্টান্ত। এটি কেবল ব্যক্তিগত ভোগান্তির গল্প নয়, বরং সমাজে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর কাছে গণমাধ্যম কতটা নাজুক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে তার নগ্ন প্রমাণ। তাঁর জামিন ও খালাস আমাদের শেখায়—ন্যায়বিচার বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু চিরকাল অস্বীকৃত থাকে না। এখন প্রয়োজন, এই অভিজ্ঞতাকে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজে লাগানো।