০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়, বিশেষ প্রতিনিধি

হরিজন পল্লীতে হামলার অভিযোগ রক্তাক্ত ঢাকার মিরনজল্লা হরিজন পল্লী:

  • প্রকাশিত ১১:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪
  • ৪৪৮ বার দেখা হয়েছে

রাজধানীর বংশাল থানার মিরনজল্লা হরিজন পল্লীর হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আউয়াল হোসেনের নেতৃত্বে স্বশস্ত্র বহিরাগতদের বিরুদ্ধে।  বুধবার বেলা একটার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডের পাশে মিরনজিল্লা সুইপার কলোনিতে এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে হরিজন সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায়  তীব্র প্রতিবাদ  নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সনাতন পার্টি(BSP) ও বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সুমন কুমার রায়, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের  মুখপাত্র সাজন মিশ্র, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের  সভাপতি এডভোকেট বিধান বিহারী গোস্বামী, সিনিয়র সহ-সভাপতি  সাংবাদিক সুজন দে, সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত চক্রবর্তী, সমন্বয়ককারী নারায়ন রায়,  সনাতন সেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের সভাপতি নীহার চন্দ্র হাওলাদার। এছাড়া এই সকল সংগঠনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ  জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিরনজিল্লা এলাকায় নির্মিত নতুন ভবনে হরিজন সম্প্রদায়ের ৬৬ জন বাসিন্দাকে তুলে দিতে সেখানে গিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনিরুজ্জামান। এ সময় স্থানীয় কাউন্সিলর আউয়াল হোসেন  স্বশস্ত্র অবস্থায় বহিরাগত লোকদের  নিয়ে আতর্কিত হামলা চালায় । হামলায় অনেকে আহত হন,মন্দিরের চেয়ার ভাংচুর করেন, মন্দির প্রতিমা ভাংচুর- এর চেষ্টা করলে হরিজন সম্প্রদায়ের অনেকে আহত হন। ঐ সময় হামলাকারীরা মন্দিরে দানবাক্স চুরি করে নিয়ে যান এবং মা বোনদের টানাহেঁচড়া করার অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা।পরবর্তীতে হরিজন সম্প্রদায় প্রতিরোধ গড়ে তুললে কমিশনারের লোকজন বাইরে  গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে অনেকে আহত হন, আহতদের তাৎক্ষনিক চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যাওয়া হয়।

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, মিরনজিল্লা সুইপার কলোনিতে করপোরেশনের প্রায় ৩ দশমিক ২৭ একর জমি আছে। সেখানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, মিরনজিল্লা সুইপার কলোনিতে করপোরেশনের প্রায় ৩ দশমিক ২৭ একর জমি আছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করে আসছেন। কলোনির এক পাশে ২৭ শতাংশ জমিতে আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মাণ চায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি। তাই সেখানকার কিছু বাসাবাড়ি ভেঙে দিতে হবে। আগের কাঁচাবাজারটি ১৭ শতাংশ জমিতে ছিল। বাকি জমি থেকে স্থাপনা সরাতে গত ১০ ও ১১ জুন অভিযান চালাতে গিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি। কিন্তু হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেদিন অভিযান চালানো যায়নি।

 

উচ্ছেদ ঠেকাতে পরে আদালতে গেছেন হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। ১৩ জুন আদালত মিরনজিল্লা সুইপার কলোনিতে থাকা হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের উচ্ছেদপ্রক্রিয়ার ওপর ৩০ দিনের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছিলেন।আজকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে শুনানি হয়েছে আগামী কাল অধিকতর শুনানির জন্য রয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ  বিষয়ে ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায়, বিশেষ প্রতিনিধি

হরিজন পল্লীতে হামলার অভিযোগ রক্তাক্ত ঢাকার মিরনজল্লা হরিজন পল্লী:

প্রকাশিত ১১:২৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুলাই ২০২৪

রাজধানীর বংশাল থানার মিরনজল্লা হরিজন পল্লীর হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আউয়াল হোসেনের নেতৃত্বে স্বশস্ত্র বহিরাগতদের বিরুদ্ধে।  বুধবার বেলা একটার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডের পাশে মিরনজিল্লা সুইপার কলোনিতে এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে হরিজন সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায়  তীব্র প্রতিবাদ  নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সনাতন পার্টি(BSP) ও বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সুমন কুমার রায়, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের  মুখপাত্র সাজন মিশ্র, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের  সভাপতি এডভোকেট বিধান বিহারী গোস্বামী, সিনিয়র সহ-সভাপতি  সাংবাদিক সুজন দে, সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত চক্রবর্তী, সমন্বয়ককারী নারায়ন রায়,  সনাতন সেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের সভাপতি নীহার চন্দ্র হাওলাদার। এছাড়া এই সকল সংগঠনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ  জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিরনজিল্লা এলাকায় নির্মিত নতুন ভবনে হরিজন সম্প্রদায়ের ৬৬ জন বাসিন্দাকে তুলে দিতে সেখানে গিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনিরুজ্জামান। এ সময় স্থানীয় কাউন্সিলর আউয়াল হোসেন  স্বশস্ত্র অবস্থায় বহিরাগত লোকদের  নিয়ে আতর্কিত হামলা চালায় । হামলায় অনেকে আহত হন,মন্দিরের চেয়ার ভাংচুর করেন, মন্দির প্রতিমা ভাংচুর- এর চেষ্টা করলে হরিজন সম্প্রদায়ের অনেকে আহত হন। ঐ সময় হামলাকারীরা মন্দিরে দানবাক্স চুরি করে নিয়ে যান এবং মা বোনদের টানাহেঁচড়া করার অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা।পরবর্তীতে হরিজন সম্প্রদায় প্রতিরোধ গড়ে তুললে কমিশনারের লোকজন বাইরে  গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে অনেকে আহত হন, আহতদের তাৎক্ষনিক চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যাওয়া হয়।

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, মিরনজিল্লা সুইপার কলোনিতে করপোরেশনের প্রায় ৩ দশমিক ২৭ একর জমি আছে। সেখানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, মিরনজিল্লা সুইপার কলোনিতে করপোরেশনের প্রায় ৩ দশমিক ২৭ একর জমি আছে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করে আসছেন। কলোনির এক পাশে ২৭ শতাংশ জমিতে আধুনিক কাঁচাবাজার নির্মাণ চায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি। তাই সেখানকার কিছু বাসাবাড়ি ভেঙে দিতে হবে। আগের কাঁচাবাজারটি ১৭ শতাংশ জমিতে ছিল। বাকি জমি থেকে স্থাপনা সরাতে গত ১০ ও ১১ জুন অভিযান চালাতে গিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি। কিন্তু হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেদিন অভিযান চালানো যায়নি।

 

উচ্ছেদ ঠেকাতে পরে আদালতে গেছেন হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। ১৩ জুন আদালত মিরনজিল্লা সুইপার কলোনিতে থাকা হরিজন সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের উচ্ছেদপ্রক্রিয়ার ওপর ৩০ দিনের স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দিয়েছিলেন।আজকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে শুনানি হয়েছে আগামী কাল অধিকতর শুনানির জন্য রয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ  বিষয়ে ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।