প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে, সময় একদিকে এগিয়ে চলে, আর জীবনও তার নির্দিষ্ট পথে চলতে থাকে। এভাবেই একদিন এক গাছের কলা পেকে যায়। তবে আজকের গল্প শুধু সেই কলা নিয়ে নয়, বরং একটি বিশেষ ঘটনা নিয়ে যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখায়।
এই গাছের কলা পেকে গেছে, তবে কাটা যাবে না—কারণ ওই গাছের শাখায় এখন একটি পাখি তার বাচ্চাদের নিয়ে বাস করছে। ছোট্ট পাখিরা এখনো উড়তে শিখেনি, আর তাদের প্রথম উড়ানটি হতে চলেছে তাদের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাদের স্বাধীনতা, তাদের আকাশে মুক্তভাবে উড়ার অধিকারকে সম্মান জানাতে হবে। তাই যতক্ষণ না তারা নিজেদের পাখনাগুলো শক্ত করে উড়তে শিখবে, ততক্ষণ ওই কলা গাছ থেকে কোন কলা কাটা যাবে না।
এটি নিছক একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য, কিন্তু আমাদের জন্য এর মধ্যে একটি গভীর অর্থ লুকিয়ে রয়েছে। পাখির বাচ্চারা যেমন তাদের উড়াল দিতে শিখতে চায়, তেমনই আমাদের সকলেরই স্বাধীনভাবে বাঁচার, চলার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। পাখির চোখে, পৃথিবী এক বিশাল আকাশ, আর তাদের জন্য সেই আকাশটিই একমাত্র সঠিক জায়গা। আমাদেরও তেমনই নিজের পথ খুঁজে নেওয়ার এবং স্বাধীনভাবে জীবন কাটানোর অধিকার আছে।
এই প্রসঙ্গে, যখন আমরা প্রকৃতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকি, তখন তার শিখিয়ে দেওয়া নানা শিক্ষা আমাদের জীবনের দিকনির্দেশক হয়ে ওঠে। পাখিদের মতো আমরা যদি নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বপ্নের জন্য লড়াই করি, তাহলে হয়তো আমরা জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা পেয়ে যাব: “নিজের পথেই হোক, স্বাধীনভাবে বাঁচতে হবে।”
তবে সেই স্বাধীনতা পাওয়ার আগে, অনেক কিছু শিখতে হয়। ছোট পাখিদের মতো আমাদেরও জীবনযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হয়, কিন্তু একবার সেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে, আমরা যেন আকাশে উড়ে গিয়ে নিজের জীবনকে পূর্ণতা দিতে পারি।
তাহলে চলুন, পাখিদের মতো নিজেদের জীবনকে সত্যিকারভাবে স্বাধীন করে তুলি। কলা কাটা যাক, কিন্তু আমাদের আত্মবিশ্বাস যেন কাটানো না যায়।
ভালো থাকুক পাখিগুলো, তাদের মুক্ত আকাশে উড়তে শিখুক, এবং আমরা সবাই শিখি প্রকৃতির কাছ থেকে প্রকৃত স্বাধীনতার মানে।
ছবিঃ সংগৃহীত