বিবাহ বিচ্ছেদের পরও বাচ্চা দেখার ছলে পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ মেলামেশা করেন অর্ক ওভারসীজ এর স্বত্বাধিকারী আরাফাত হোসাইন সোহাগ। স্বামীর মর্যাদা ও সন্তানের স্বীকৃতির দাবিতে ভুক্তভোগী খাদিজা আক্তার একটি সংবাদ সম্মেলন করেন গত ২০শে ডিসেম্বর- ২০২৪ তারিখ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাগর রুনি হলে।
নারী উদ্যোক্তা ভুক্তভোগী খাদিজা আক্তারের ১৫ মিনিটের বক্তব্যে তার দাবিসমূহ তুলে ধরেন এবং সাংবাদিকদের বলেন, আমার স্বামীর অস্বাভাবিক আচরণের কারণ কি আপনারা বিষয়টি সরেজমিনে অনুসন্ধান করুন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবির আহ্বান করেন। ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলনের কিছুদিন পর তার স্বামীর অফিসে সাংবাদিকদের নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গেলে অর্ক ওভারসীজ এর স্বত্বাধিকারী ও উক্ত প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতণ কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী ও দলীয় লোকজনদের ফোন করে ডাকেন।
ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে তিনি তেমন কোনো উত্তর না দিয়েই স্বামী-স্ত্রী দুজন তর্ক-বিতর্ক করতে থাকেন এবং অর্ক ওভারসীজ এর স্বত্বাধিকারী আরাফাত হোসেন সোহাগ সাংবাদিকদের একের পর এক হুমকি-ধামকি ও ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য বলেন। সাংবাদিকগণ সোহাগকে বলেন, খাদিজা আক্তার আপনাকে স্বামী দাবি করেন এবং আপনাদের ডিভোর্সের পরও পুনরায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আপনি অবৈধ মেলামেশা করেন, তার ভরণ-পোষণ ও আপনাদের সন্তানের অধিকার নিয়ে সে একটি সংবাদ সম্মেলন করছে। তার সত্যতা যাচাই করতে আমরা এসেছি শুধু শুধূ আপনি লোকজন ডেকে আমাদেরকে হুমকি-ধামকি দেওয়ার কোন মানে হয়না। তারপরও আরাফাত হোসেন সোহাগ বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করে ডেকে ঝামেলা সৃষ্টি করতে চান। বেশ কয়েকজন অফিস স্টাফ সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত, হেনস্থা, ক্যামেরা ভেঙে ফেলার হুমকি ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও বন্ধ করে দেন। ঘটনাস্থলে আরো দুজন সাংবাদিক উপস্থিত হলে, চারজন সাংবাদিককে অর্ক ওভারসিজ এর অফিসে জোরপূর্বক আটকে রাখেন। কিছুক্ষণ পর দুজন সাংবাদিক কৌশলে বের হয়ে অন্য সাংবাদিকদের খবর দেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় অবগত করা হয়।
এদিকে আরাফাত হোসেন সোহাগ ও তার অফিস স্টাফগণ ক্রমাগত বিভিন্ন ব্যক্তিদেরকে ডেকে তেমন সাড়া না পাওয়ায়, সোহাগের প্রথম স্ত্রীকে ডেকে আনেন। পরে সোহাগের প্রথম স্ত্রী এসে সোহাগের দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেন এবং সাংবাদিকদেরও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। অর্ক ওভারসীজ এর সকলে মিলে বিভিন্ন দলীয় প্রভাব দেখাবার চেষ্টা করে। পরে তেমন কোনো লোকের সাড়া না পেয়ে পল্টন থানায় বিষয়টি জানালে একজন অফিসার ও একজন কনস্টেবল এসে ঘটনাটি শুনে বিষয়টি মিউচুয়াল এর জন্য জানান এবং ঘটনাস্থলে বহিরাগত কয়েকজন লোক দেখে প্রশাসন সোহাগের দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাবার জন্য অনুরোধ করেন। সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।
অর্ক ওভারসীজ এর অফিসে সাংবাদিকদের উপর হামলার বিষয় নিয়ে অন্যান্য সাংবাদিকদের সাথে আলোচনা করলে সকল সাংবাদিক ভাইয়েরা বলেন, পল্টন থানায় জিডি করুন, সাংবাদিক সাগর চৌধুরী ভোলা অন্যান্য সাংবাদিকদের নিয়ে একটি জিডি দায়ের করেন, যার নম্বরঃ 1533, তারিখঃ 23/01/2025 ইং।
সাংবাদিকদের উপর হামলা ও সাংবাদিকদের হেনস্তা করার কারণে সাংবাদিকগণ মানববন্ধনসহ বিভিন্নভাবে পত্রিকায় নিউজ করতে চাইলে, অত্র অঞ্চলের বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের পল্টন থানার সভাপতি জনাব নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বুঝিয়ে বলেন, বিষয়টি যেহেতু আমার এলাকায়, সেক্ষেত্রে বিষয়টি নিয়ে বড় কোন ঝামেলা না করে অর্ক ওভারসিজ এর সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়টি সমাধানের জন্য আমাকে দু-চার দিন সময় দিন।
সাংবাদিকদের উপর হামলার কারণ ও জিডির কপি নিয়ে প্রশাসনসহ অর্ক ওভারসিজ অফিসে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখান ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সোহাগ অফিসে ডাকেন এবং বিএনপির পরিচয় দেন সোহাগ। তবে পূর্বে আরাফাত হোসেন সোহাগ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিকট থেকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা নিতেন এবং সহযোগিতা করতেন। যেহেতু অর্ক ওভারসীজ একটি আদম ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, সেক্ষেত্রে সব সময় দলীয় প্রভাব দেখিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেন এবং সে টাকা ফেরৎ চাইতে আসলে নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অঢেল সম্পদের মালিক বনে যান আরাফাত হোসেন সোহাগ। সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও সমস্যা সমাধানে উক্ত এলাকায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের থানার সভাপতি সাংবাদিক নাসির উদ্দিন গংকে তেমন তোয়াক্কা করেন না। এক্ষেত্রে সাংবাদিকরা মামলা ও সংবাদ সম্মেলন এবং মানববন্ধন করার প্রস্তুতি নেন ও আওয়ামী লীগের দোষর অর্ক ওভারসীজ এর স্বত্বাধিকারী আরাফাত হোসেন সোহাগকে গ্রেফতারের দাবী তুলে।
এদিকে অর্ক ওভারসিজ এর বিরুদ্ধে রয়েছে নানাবিধ অভিযোগ, যেমন লোভনীয় চাকরির অফার দিয়ে বিদেশে নিয়ে কাঙ্খিত সেই চাকরি না দেওয়া, নারী পাচার ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজকে বিদেশে নিবেন এমন কথা বলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ নানাবিধ অভিযোগে অভিযুক্ত অর্ক ওভারসিজ এর স্বত্বাধিকারী আরাফাত হোসেন সোহাগের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী খাদিজা আক্তারের থেকে বিভিন্ন সময়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন আরাফাত হোসেন সোহাগ। দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা আক্তার এর আত্মীয়-স্বজনকে বিদেশে নেবার প্রলভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। খাদিজা আক্তার সোহাগের নিকট উক্ত টাকা ফেরৎ চাইলে, তিনি (সোহাগ) বিভিন্ন লোকের কাছে নালিশ করেন যে, খাদিজা আক্তার আমার কাছে থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা চায়, আমি সেই চাঁদার টাকা না দেয়ায় আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনসহ নানাবিধ অভিযোগ করেন এবং তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।