মোটা টাকার বিনিময়ে ৮ মাসের বাচ্চা গর্ভপাতের চেষ্টা ও পুলিশের ভয়ে শালিসি বৈঠক থেকে শালিসিয়ানরা পালালেন।
১৯ অক্টোবর শনিবার সলঙ্গা থানার মাসুয়াকান্দি গ্রামের ভিকটিমের দাদা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা জুরান আলীর বাড়ীতে এ বিষয়ে একটি শালিস হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার হাটিকুমরুলের দাদনপুর গ্রামের রাশিদুল ইসলামের মেয়ে রাশিদা খাতুন (১৪) এর পেটে থাকা ৮ মাসের বাচ্চাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গর্ভপাতের মাধ্যমে সন্তান নষ্ট করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে একটি চক্র। জানাগেছে, দাদনপুর গ্রামের প্রভাবশালী বুলবুলের বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসেবে কাজ করত রাশিদা খাতুন (১৪)। হঠাৎ বুলবুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম, রাশিদার শারীরিক নানা পরিবর্তন দেখে কাঠির মাধ্যমে অন্তঃসত্ত্বা পরীক্ষা করলে রাশিদা অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে জানা যায়। এ সময় বুলবুলের স্ত্রী তাকে কাজে থেকে বের করে দেন।
পরে তার প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজন প্রথমে সিরাজগঞ্জ রোডস্থ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ডাঃ জিবুন্নেসার অধিনে আল্টাসনোগ্রাম করান। তাতে রাশিদা সে সময় ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়। পরে তার কাছে তার পেটের বাচ্চার বাবা কে জানতে চাইলে সে জানান,সে যার বাড়ীতে কাজ করতো সেই বাড়ির মালিক বুলবুল সাহেবের ছেলে বগুড়ার এক মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আবু জার (১৫) তাকে জোরপূর্বক ধর্ষন করেছে। যার ফলে তার পেটে বাচ্চা হয়েছে ।
এ বিষয়ে (১৬ সেপ্টেম্বর) সলঙ্গা থানায় ভিকটিমের বাবা রাশিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বুলবুল হোসেনের ছেলে আবু জার এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে রাশিদা খাতুন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন,বুলবুলের বাড়ী থাকা অবস্থায় তার ছেলে আবু জার আমাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। আমার পেটের বাচ্চার বাবা আবু জার। আমি আমার সন্তানের পিতৃ পরিচয় চাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাদনপুর গ্রামের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন-বুলবুল তার ছেলেকে বাঁচাতে মেয়েটিকে মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে এই গর্ভপাতের প্রচেষ্টা চালায়। এখন অন্য কাউকে মোটা টাকা বিনিময়ে তার সাথে মেয়েটিকে ব্যাকডেট দিয়ে কাবিনের মধ্যমে বিয়ে দিয়ে বাচ্চাটির পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত করবে। পরে আবার তালাক দিয়ে মামলা শেষ করবে বলে বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়াচ্ছে। তবে বাচ্চা নষ্টের পাঁয়তারার বিষয়টি অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিদা ও তার বাবা রাশিদুল ইসলাম।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুঠোফোনে অভিযুক্ত আবু জারের বাবা বুলবুল বলেন,আমরা মাসুয়াকান্দিতে বসেছিলাম।
সেখানে অন্য একটি ছেলের সাথে মেয়েটির ব্যাগডেট তারিখে একটা কাবিনে বিয়ে দেয়ার এবং ২ মাস পর আবার তালাক দেয়ার মাধ্যমে বিষয়টি শেষ করার মোটামুটি একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওখানে আলম চেয়ারম্যান এর বৌ সাথী খাতুন দরবারে উপস্থিত হওয়াতে স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীরা একটু ভুল বুঝেছে। আশা করি দ্রুতই শেষ হবে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম রবিউল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। দরবার শালিসের বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে জানলাম,তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ নেয়া হবে।