দীর্ঘ দুই বছর পেরিয়ে বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রভাব এখনো দেশে দেশে বিদ্যমান। করোনার প্রভাবে এমনিতেই বিপর্যস্ত অর্থনীতি, জীবনহানি, কর্মহীনতা, বেকারত্ব বৃদ্ধিসহ নানাবিধ জটিলতার মাঝে রাশিয়া, ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্ত হয়েছে বিশ্বব্যাপী জ্বালানী মূল্য বৃদ্ধি। ফলশ্রুতিতে নিত্যদিনের বর্ধিত ব্যয় ক্রমেই জনমনে বিপন্নতা ও অস্থিরতা এখন সমাজ রাষ্ট্র অসহনীয় সংকেট নিয়ে দুবির্সহ হয়েছে উঠেছে। রাষ্ট্র, সমাজ ও সভ্যতার সংকটের ফলশ্রুতিতে ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কার মতো একটি প্রাচীন শক্তিশালী রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বিপর্যয় আমাদের মতো রাষ্ট্রের জন্য একটি অশনি সংকেত যদিও আমাদের সরকার প্রধান জোর গলায় উচ্চারণ করছেন যে এই বিপর্যয় নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হবার কারণ নেই। তবে ইতোমধ্যে আমাদের জাতীয় অগ্রযাত্রা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞগণ শঙ্কা প্রকাশ করছেন। এই বিষয়টির উপর গুরুত্বারোপ করে দেশের উন্নয়ন ও মেগা প্রজেক্ট, ধনী ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম, অর্থপাচার, লুটপাট, কাজের ধীরগতি, অপচয়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি এই সকল অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে দায়িত্বশীলদের তেমন কোন কর্মতৎপরতা প্রতিকারের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছেনা।
আমরা মনে করি জাতীয় সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার স্বার্থে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি চলমান কার্যক্রম ও বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদারদের থেকে নেওয়া ধন ও তা পরিশোধের বিষয়ে পর্যালোচনা হওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, মুদ্রা তহবিলের রির্জাভের ক্রমবর্ধমান ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এর নানান শঙ্কা তৈরী হচ্ছে। সাধারণ মানুষ তাদের পারিবারিক নিরাপত্তা নিয়ে যেমন শঙ্কিত হচ্ছে তেমনি আয় উর্পাজনের ভারসাম্য এখন তলানিভে চলে যাচ্ছে।
এই অবস্থায় চলতে থাকলে ব্যাংকিং সেক্টরে এর প্রভাব দ্রুত পড়তে শুরু করবে। অনেকে তাদের জমানো অর্থ ব্যাংকে রাখতে নিরাপদ মনে নাও করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে যতই আশ্বস্ত করা হোক না কেন তা কোন কাজে আসবে বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন না।
আমরা মনে করি জাতীয় অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকার আশুকরণীয় হিসেবে দ্রুত সময়ে একটি রোডম্যাপ তৈরী করে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করুন।
আমাদের অর্থনীতি সচল রাখার বিষয়টি রপ্তানী নির্ভর গার্মেন্টস শিল্প এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে বটে এর পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স নির্ভরতার কথা সকলে এক বাক্যে শিকার করবেন। পূর্বেই বলা হয়েছে বৈশ্বিক মহামারী করোনায় বিশ্বব্যাপী যে বিপর্যয় চলছে তার প্রভাব আমাদের গার্মেন্টস শিল্পে যেমন লক্ষণীয় তেমনি ইতোমধ্যে কয়েক লক্ষ প্রবাসী কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। দেশে বিভিন্ন শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েও অনেকে কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। করোনার শুরু থেকে এই সকল বিপর্যয়ের বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণ অনেক সর্তকবানী উচ্চারণ করলেও বিকল্প কোন কর্মের বিষয়ে এখানো সরকারের পক্ষ থেকে তেমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলতে অনেকেই নিজের শেষ সম্বল নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে দেশের প্রতিটি শহরের মোড়ে দাঁড়ালে ৬০ বছরের উধ্ব থেকে ২০ বছরের বালকদের বাইক নিয়ে অপেক্ষা করার যে চিত্র তা সকলের নজরে পড়ে। এতে কতটা আয় রোজগার হয় তা খতিয়ে দেখা দরকার। এই বিষয়টি কোন অবস্থায় বিকল্প কর্মসংস্থান যে নয় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মূলত টেকসই বা স্থায়ী কোন উৎপাদন-বন্টন কাজের ব্যবস্থা না করা গেলে দেশে যে কোন ধরনের বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে তা মাথায় নিতে কালবিলম্ব করা মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। দেশের রাজনীতির স্থিতিশীলতার বিষয়টি সামনে রেখে এখনো জাতীয়ভাবে অনেক পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ আছে। পাশাপাশি সরকারী বেসরকারী সকল কাজে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, মানবপাচার, অর্থপাচারসহ সামাজিক অনাচারের নীতিনিষ্ট বিচার নিশ্চত করে স্থিতিশীল স্বদেশ গড়তে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এগুতে হবে।
সালেহ আহমেদ – সাবেক ছাত্র নেতা ও সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন।