দেশে আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন বাহিনী এখনো সরব হতে পারেনি।অন্য দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তি বিশেষের নোংরা ভিডিও তৈরী করে সম্প্রচারের হুমকীর ঘটনা বাড়ছে।ভিন্ন অসংখ্য চক্র এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোংরা ভিডিও সম্প্রচার করার ভয় দেখিয়ে বিকাশ,নগদ ও অন্য পন্হায় মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ঢাকার কোন এক থানার অভিজাত এলাকার এক বাসিন্দা বড় মাপের ব্যবসায়ি।ওই ব্যবসায়ি ইমো,টুইটার ফেসবুক,ম্যাসেন্জার,হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।তার ফেসবুকে একদিন অপরিচিত এক নারী ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। তিনি ওই নারীর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট কনফার্ম করেন নি।তিনি ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট ডিলিট করে দেন।ক’ দিন পর ওই ব্যবসায়িকে সেই নারী আবার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়।ব্যবসায়ি সায় দেন নি।অথচ ওই নারী কনফার্ম করার রিকোয়েস্ট করে রাখে।কৌতুহল বশত ব্যবসায়ি রিকোয়েস্টটি একসেপ্ট করে।এবার ম্যাসেন্জারে কথা বলা,ম্যাসেজ পাঠানো শুরু হয়।ব্যবসায়ি মজা পেয়ে যায়।ব্যবসায়ির হোয়াটসঅ্যাপেও নারীটি যোগাযোগ শুরু করে।তারা ভিডিও কলে যুক্ত হয়।এক দিনের ভিডিও কলের দৃশ্য ওই নারী রেকর্ড করে।সেই রেকর্ডটি এডিট করে ব্যবসায়ির গলার নিচ থেকে সব অংশ নগ্ন করে ভিডিওটি সুপার ভিডিওতে রূপান্তর করা হয়।নারীটি সেই ভিডিও ক্লিপ ব্যবসায়ির মোবাইল ফোনে পাঠায়।ব্যবসায়ির উপর যেন আকাশের বজ্রপাত পরলো। নারীটি এরপর দশ লাখ টাকা দাবী করে বসলো।টাকা না পেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা সম্প্রচার করার হুমকী দেয়।ব্যবসায়ি ভয়ে,আতকংকে কাবু হয়ে গেলো।তিনি নারীর দেয়া বিকাশ নম্বরে ক ‘ দফায় লক্ষাধিক টাকা পাঠিয়ে ভিডিওটি ডিলিট করার আকুতি জানায়।কিন্তু আকুতি গৃহীত হয়নি।আরো টাকা দাবী করা হয়।নিরূপায় হয়ে তিনি মোটা অংকের আরো টাকা বিকাশে পাঠাতে বাধ্য হন।টাকা যতই পাঠানো হচ্ছে–দাবী ততই সরব হচ্ছে।তিনি ঘনিষ্ঠজনদের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বললেন।ঘনিষ্ঠজনরা তাকে পুলিশ ও আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন বাহিনীর আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেয়।সে মতে তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারন ডায়েরী(জিডি) করেন।এরপরও তার হয়রানী থেকে মুক্তি মিলেনি। তবে,চাঁদাবাজির অংক পুষে যাওয়ায় এক দিন নিজ ইচ্ছায় নারীটি চাঁদাবাজি থেকে সটকে পরে।
রাজধানীর আরো এক নাগরিক সরকারী পদস্হ কর্মকর্তা।তিনি মাসে অনেক টাকা উপার্জন করেন।তিনিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সব ক’ টি সূবিধা নেন।তার হোয়াটসঅ্যাপে হটাৎ এক দিন এক নারী রিং করে।তিনি কল রিসিভ করেন।তাকে ওই নারী পরিচিত দাবী করে।চাকুরীজীবি ব্যক্তি চিনতে ব্যর্থ হয়।কল বিচ্ছিন্ন করে দেয়।এরপর অন্য এক দিন সেই নারী আবার হোয়াটসঅ্যাপে রিং করে রসালো কথা শুরু করে।এমন ভাবে বেশ ক ‘ দিন নারীটি যোগাযোগ করে দূর থেকে সম্পর্ক মজবুত করে।তারা দুইজন ভিডিও কলে কথা বলে।এভাবে ক ‘দিন তাদের যোগাযোগ চলে। নারীটি কোন এক চাইনিজ রেস্টুরেন্টে মিলিত হবার প্রস্তাব দেয়। চাকুরীজীবি সায় দেয়।দেখা, কথা হয়।ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।হটাৎ একদিন চাকুরীজীবির আগের ভিডিও কলের দৃশ্য এডিট করে অশ্লীল ভিডিও বানিয়ে পাঠানো হয়।চাকুরীজীবিকে বিয়ে করার জন্য হুমকী দেয়া হয়।বিয়ে না করলে “ভিডিও, কথোপকথন” আড্ডার ফুটেজ ফাইল করে মামলা করার হুমকীও দেয়া হয়।ফলে মান সন্মান রক্ষার্থে চাকুরীজীবি ক ‘ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টির ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পায়।সিআইডির একজন কর্মকর্তা এমন ঘটনা জানিয়ে আরো বলেন,নারায়ণগঞ্জের কোন এক থানা এলাকার একজন বাসিন্দা বিশেষ একটি পেশায় জড়িত।সেই বিশেষ পেশার ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচিত এক নারীর খপ্পরে পরেন।নারীটি ভারতীয় নম্বর থেকে তার হোয়াটসঅ্যাপে রিং করে।নারীটি হিন্দি ভাষায় তার সাথে কথা বলে।তার সাথে আগ বাড়িয়ে বন্ধুর মতো কথা বলে।নারীটি তার সাথে ভিডিও কলে কথা বলে।নারীটি প্রেমিকার মতো ভাব নিয়ে কথা বলে।নারীর মুখের ও ঠোটের অঙ্গিভঙ্গি পুরানো প্রেমিকার মতো উপস্হাপিত করতো।নারীটি ভিডিও কলের দৃশ্য এডিট করে অশ্লীল ভিডিও বানায়।এরপর তার নিকট বানানো ভিডিওটি পাঠিয়ে নারীটি দশ লাখ টাকা দাবী করে।নারীটি দাবীকৃত টাকা না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা সম্প্রচার করে মান সন্মানের হানী ঘটানোর হুমকী দেয়। নিরূপায় হয়ে ব্যক্তিটি পাঁচ দিনে প্রায় পঞ্চান্ন হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে বাধ্য হয়।বিশেষ পেশার ওই ব্যক্তি মিথ্যা ভিডিওকে ভয় পেয়ে আরো টাকা দিতে প্রস্তুত হয়।সাহসী পেশার ওই ব্যক্তিটি পাঁচ দিনেই মানষিক ভাবে দূর্বল হয়ে পরে। তিনি অস্হির ও দুশ্চিন্তাগ্রস্হ হয়ে পরেন।তার এমন বাহ্যিক রূপ দেখে স্ত্রী কারন জানতে চায়।তিনি স্ত্রীকে ঘটনাটি খুলে বলেন। স্ত্রী তাকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেন।তিনি নিকটস্হ থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরী করেন।থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ডায়েরী নিলেও সাইবার ক্রাইম ঠেকাতে বা অপরাধীকে গ্রেফতার করতে তথ্য প্রযুক্তির শূন্যতার কথা জানান।ওসি বলেন,সারা দেশে থানা এবং আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন বাহিনীর কার্যালয়ে অগাস্টে হামলা,আগুন সন্ত্রাস ও হত্যাকান্ডের সময় তথ্য প্রযুক্তির উপকরনসহ পুরো ব্যবস্হাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।প্রশাসন তা মেরামত করতে শুরু করেছে।তবে, আগে যারা আইটি স্পেশালিষ্ট ছিলো বা সাইবার ক্রাইম নিয়ে কাজ করতো-তাদের প্রায় সবার অন্যত্র বদলী হওয়ায় পারদর্শি কেউ নেই।তাই এ মুহুর্তে আপনার বিষয়টির কোন ব্যবস্হা নেয়া যাচ্ছে না।পিবিআই ‘ র এক কর্মকর্তা জানান,সারা দেশে এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে।বেশির ভাগ ঘটনা বিওআইপির অবৈধ ব্যবহারের মাধমে বিদেশি ফোন নম্বর দিয়ে ঘটানো হচ্ছে।কখনো কখনো আবার দেশি মোবাইল ফোন নম্বর দিয়েও ঘটানোর পর তা পরিত্যাক্ত করা হচ্ছে।ফলে সময় সাপেক্ষ এবং কষ্টদায়ক বিষয়টির উদঘাটন এবং অপরাধি গ্রেফতারের সংখ্যা নগন্য।এদিকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ” সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিসিএএফ) ” গবেষনা শেষে ২০২২ সালে বলেছে, ভূক্তভোগীরা আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন বাহিনীর নিকট প্রতিকার পেতে অভিযোগ করেন।কিন্তু ৫৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ অভিযোগকারীই কোন প্রতিকার পায় নি। তবে,আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন বাহিনীর সদিচ্ছার কারণে ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ ভূক্তভোগী ফল পেয়েছে।