১১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করায় স্বাগত জানিয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ৫টি সংগঠনের যৌথ বিবৃতি:

  • প্রকাশিত ০৬:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জুলাই ২০২৪
  • ২৩৭ বার দেখা হয়েছে

আজ ৩১ জুলাই ২০২৪ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ৫টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ(জাসদ), জাতীয় ছাত্র ঐক্য, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন,এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় এক যৌথ বিবৃতিতে যুদ্ধাপরাধীদের দল সন্ত্রাসবাদী জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করায় স্বাগত জানিয়েছে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, জাময়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির এদের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ধমীর্য় উগ্রবাদী, সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অধিনস্থ রাজাকার বাহিনী, আলবদর বাহিনীর সদস্য হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্যরা গণহত্যা, গণধর্ষণ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটনে পৈশাচিক ভুমিকা পালন করেছিলো। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করায় সংবিধানের (৩৮) ধারার ক্ষমতা বলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র সংঘ (পরে ইসলামী ছাত্রশিবির) কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা কান্ডের পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে সংবিধানের (৩৮) ধারার উল্লেখিত অনুচ্ছেদগুলো বাতিল করে ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর পুনরায় বৈধভাবে রাজনীতি করার সুযোগ পায় জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির(পূর্বে ইসলামী ছাত্র সংঘ) ; সামরিক শাসক জিয়ার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির আবারও প্রকাশ্যে রাজনীতিতে আর্বিভুত হয়। সামরিক শাসক জিয়া ও এরশাদের ছায়ায় ৮০’র দশকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির আবারও তাদের সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি চালু করে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, ইনস্টিটিউট, মাদ্রাসা দখল করে গলাকাটা, রগকাটার সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি শুরু করে। গণতান্ত্রিক—প্রগতিশীল সংগঠনের শত শত নেতাকমীর্কে হত্যা এবং হাত পায়ের রগ কেটে চিরদিনের জন্য পঙ্গু বানিয়ে দেয়। যুদ্ধে ব্যবহৃত গান পাউডার ব্যবহার করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল—হোস্টেলে আগুন জ্বালিয়ে ভষ্মিভুত করে দেয়।

৮০’র দশক থেকে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহ ও মুক্তিযোদ্ধারা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধের দাবি করে আসছে। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এর নেতৃত্বে গঠিত ঐতিহাসিক গণআদালত থেকেও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষেদ্ধের দাবি উত্থাপন করা হয়েছিলো। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ক্ষমতায় ফেরার পর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে (৩৮) ধারা ফিরিয়ে আনা হয় এবং জামায়াত ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয়। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিশ্বখ্যাত নিরাপত্তা বিষয়ক থিঙ্কট্যাংক আই এইচ এস জেনস বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ সন্ত্রাস হিসাবে ইসলামী ছাত্র শিবিরের নাম তালিকাভুক্ত করে। দীর্ঘদিন দাবি উঠলেও জামায়েত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়নি। গত ৩০ জুলাই ২০২৪ মঙ্গলবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সভায় চিহ্নিত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়েত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবি উত্থাপন করা হয়। নেতৃদয় যৌথ বিবৃতিতে বলেন জামায়েত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে নিষিদ্ধ করলেই হবে না, একই সাথে জামায়েত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সকল সাংগঠনিক পর্যায়ে যুক্ত ব্যক্তিদেরও সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তালিকা প্রকাশ এবং জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত সকল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টারসহ সকল প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার জোর দাবি জানান।

যৌথ বিবৃতি প্রদানে নেতৃবৃন্দ:

সাদ্দাম হোসেন— সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান— সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

রাশিদুল হক ননী, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ(জাসদ)
মাসুদ আহাম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ(জাসদ)

শাহিনুর রহমান — আহবায়ক, জাতীয় ছাত্র ঐক্য

অতুলন দাস আলো, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী
অদিতি আদ্রিতা সৃষ্টি, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী

রবিন হোসেন জয়— আহবায়ক, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন

 

 

 

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করায় স্বাগত জানিয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ৫টি সংগঠনের যৌথ বিবৃতি:

প্রকাশিত ০৬:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ জুলাই ২০২৪

আজ ৩১ জুলাই ২০২৪ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ৫টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ(জাসদ), জাতীয় ছাত্র ঐক্য, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন,এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় এক যৌথ বিবৃতিতে যুদ্ধাপরাধীদের দল সন্ত্রাসবাদী জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করায় স্বাগত জানিয়েছে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, জাময়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির এদের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ধমীর্য় উগ্রবাদী, সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অধিনস্থ রাজাকার বাহিনী, আলবদর বাহিনীর সদস্য হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্যরা গণহত্যা, গণধর্ষণ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটনে পৈশাচিক ভুমিকা পালন করেছিলো। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করায় সংবিধানের (৩৮) ধারার ক্ষমতা বলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র সংঘ (পরে ইসলামী ছাত্রশিবির) কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা কান্ডের পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে সংবিধানের (৩৮) ধারার উল্লেখিত অনুচ্ছেদগুলো বাতিল করে ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর পুনরায় বৈধভাবে রাজনীতি করার সুযোগ পায় জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির(পূর্বে ইসলামী ছাত্র সংঘ) ; সামরিক শাসক জিয়ার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির আবারও প্রকাশ্যে রাজনীতিতে আর্বিভুত হয়। সামরিক শাসক জিয়া ও এরশাদের ছায়ায় ৮০’র দশকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির আবারও তাদের সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি চালু করে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, ইনস্টিটিউট, মাদ্রাসা দখল করে গলাকাটা, রগকাটার সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি শুরু করে। গণতান্ত্রিক—প্রগতিশীল সংগঠনের শত শত নেতাকমীর্কে হত্যা এবং হাত পায়ের রগ কেটে চিরদিনের জন্য পঙ্গু বানিয়ে দেয়। যুদ্ধে ব্যবহৃত গান পাউডার ব্যবহার করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হল—হোস্টেলে আগুন জ্বালিয়ে ভষ্মিভুত করে দেয়।

৮০’র দশক থেকে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহ ও মুক্তিযোদ্ধারা জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধের দাবি করে আসছে। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ শহীদ জননী জাহানারা ইমাম এর নেতৃত্বে গঠিত ঐতিহাসিক গণআদালত থেকেও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষেদ্ধের দাবি উত্থাপন করা হয়েছিলো। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে ক্ষমতায় ফেরার পর সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে (৩৮) ধারা ফিরিয়ে আনা হয় এবং জামায়াত ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয়। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক বিশ্বখ্যাত নিরাপত্তা বিষয়ক থিঙ্কট্যাংক আই এইচ এস জেনস বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ সন্ত্রাস হিসাবে ইসলামী ছাত্র শিবিরের নাম তালিকাভুক্ত করে। দীর্ঘদিন দাবি উঠলেও জামায়েত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়নি। গত ৩০ জুলাই ২০২৪ মঙ্গলবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সভায় চিহ্নিত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ও যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়েত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবি উত্থাপন করা হয়। নেতৃদয় যৌথ বিবৃতিতে বলেন জামায়েত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে নিষিদ্ধ করলেই হবে না, একই সাথে জামায়েত ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সকল সাংগঠনিক পর্যায়ে যুক্ত ব্যক্তিদেরও সন্ত্রাসবাদী হিসেবে তালিকা প্রকাশ এবং জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিয়ন্ত্রিত সকল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোচিং সেন্টারসহ সকল প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার জোর দাবি জানান।

যৌথ বিবৃতি প্রদানে নেতৃবৃন্দ:

সাদ্দাম হোসেন— সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান— সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

রাশিদুল হক ননী, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ(জাসদ)
মাসুদ আহাম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ(জাসদ)

শাহিনুর রহমান — আহবায়ক, জাতীয় ছাত্র ঐক্য

অতুলন দাস আলো, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী
অদিতি আদ্রিতা সৃষ্টি, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী

রবিন হোসেন জয়— আহবায়ক, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন