০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
অপূর্ব কুমার পাল

সংকট মোচনের প্রধান চাবি- চেতনার অগ্নিবীণা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ।

  • প্রকাশিত ০৪:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অগাস্ট ২০২৪
  • ২০৮ বার দেখা হয়েছে

১৯৭৫ সালর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার দীর্ঘ সময় পরে ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি (দল) হিসেবে ক্ষমতায় আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই শেখ হাসিনাকে হত্যার
চেষ্টা করে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা (স্বাধীনতা বিরোধী) চক্র।

১/ ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি-
চট্রগ্রাম লালদীঘি ময়দানে যাওয়ার সময় শেখ হাসিনার উপর হামলা করা হয়। এতে সাত জন নিহত ও তিন শতাধিক আহত হন।

২/ ১৯৮৯ সালের ১১ আগষ্ট-
রাত ১২টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। শেখ হাসিনা তখন ওই ভবনেই ছিলেন। সন্ত্রাসীরা ভবন লক্ষ্য করে গুলি চালায় ও একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তবে গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা।

৩/ ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর-
জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন চলাকালে রাজধানীর গ্রীণ রোডে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমাবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের গুলি তার গাড়িতে লাগলেও অল্পের জন্য বেঁচে যান শেখ হাসিনা।

৪/ ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর-
ট্রেনমার্চ করার সময় পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনের বগি লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো গুলি ছোড়া হয়। সে সময় অসংখ্য গুলি তার বগিতে বিদ্ধ হলেও তিনি অক্ষত থাকেন।

৫/ ১৯৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর-
শেখ রাসেল স্কয়ারে সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় শেখ হাসিনার উপর গুলিবর্ষণ করা হয়।

৬/ ১৯৯৬ সালের ৭ মার্চ-
সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ৭ই মার্চের ভাষণের স্মরণে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন আকস্মাৎ একটি মাইক্রোবাস থেকে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ চালাতে থাকে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়।

৭/ ১৯৯৯ সালে-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলেমেয়েসহ ৩১ জনকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে ই-মেইল চালাচালির খবর আসে। এতে জানানো হয় ওই ই-মেইলটি পাঠিয়েছিলেন ইন্টার এশিয়া টিভির মালিক শোয়েব চৌধুরী।

৮/ ২০০০ সালের ২০ জুলাই-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার জনসভাস্থলের অদূরে ও হ্যালিপ্যাডের কাছে পুঁতে রাখা হয় যথাক্রমে ৮৪ কেজি ও ৭৬ কেজি ওজনের দুটি বোমা কিন্তু সৌভাগ্যবশত আগেই ওই বোমাগুলির হদিস পেয়ে যান গোয়েন্দারা। শক্তিশালী বোমা দুটি বিস্ফোরিত হলে কেবল শেখ হাসিনা নন, নিহত হতেন বহু মানুষ।

৯/ ২০০১ সালের ২৯ মে-
খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্ভোধন করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বিষয়টি আগে থেকে জানতে পেরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানস্থলে বোমা পুঁতে রাখে জঙ্গি সংগঠন হুজির সদস্যরা। গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতায় আগেই বোমাটি উদ্ধার ও নিস্ক্রিয় করা হয়।

১০/ ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর-
নির্বাচনী প্রচারাভিযানে সিলেট যান শেখ হাসিনা। সেখানে আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন স্থলে জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল তার। সে সময়ও জনসভাস্থলে বোমা পুঁতে রেখে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল হুজি। কিন্তু জনসভার একদিন আগে মাত্র ৫০০ গজ দূরের একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে হুজির দুই সদস্য নিহত হলে সে পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যায়।

১১/ ২০০২ সালের ৪ মার্চ-
যুবদল ক্যাডার খালিদ বিন হেদায়েত নওগাঁয় বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে তৎকালীন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা চালায়।

১২/ ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর-
শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গাড়ি বহরে হামলা চালানো হয়। বিএনপি-জামায়াত-শিবির সাতক্ষীরা কলারোয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে শেখ হাসিনার উপর হামলা চালায়।

১৩/ ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল-
বরিশালের গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে গুলিবর্ষণ করে জামায়াত-বিএনপির ঘাতক চক্র।

১৪/ ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট-
শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয় নেতা-কর্মী-দেহরক্ষীদের মানবঢালের জন্য প্রাণে বাঁচেন।এই হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান এবং আরও ২৩ জন নেতা-কর্মী নিহত হন।আহত হন ৪শত জন।

১৫/ ২০০৭ সালে-
সাবজেলে বন্দি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর খাবারে দেওয়া হয়েছিল স্লো পয়জন।উদ্দেশ্য ছিল ক্রমাগত বিষ দিয়ে তাঁকে হত্যার করা। স্লো পয়জনিংয়ের কারণে একসময় শেখ হাসিনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০০৮ সালের ১১ জুন ১১ মাস কারাভোগের পর শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি পান।

১৬/ ২০১১ সালে-
শ্রীলংকার একটি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের সাথে বাংলাদেশের শত্রুরাষ্ট্র পাকিস্তান এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চুক্তি করে এবং সেজন্য আগাম পেমেন্টও দেওয়া হয়। শ্রীলংকার সেই সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের আততায়ীদের টিম গাড়ি করে কলকাতা বিমানবন্দরে যাবার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে ভেস্তে যায় শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনাটি।

১৭/ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি লে.ক.শরিফুল হক ডালিম এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ জন অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য সামরিক অভ্যুথানের চক্রান্ত করে। যা উইকিলিকসের সৌদি আরবের এক গোপন বার্তায় প্রকাশ পায়। হংকংয়ে বসবাসরত এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ইসরাক আহম্মদ এ পরিকল্পনায় অর্থায়ন করেন বলে গোপন বার্তায় উল্ল্যেখ করা হয়েছে।

১৮/ ২০১৪ সালে-
শেষদিকে প্রশিক্ষিত নারী জঙ্গিদের মাধ্যমে মানববোমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১৫০ জন নারী ও ১৫০ জন যুবককাল বিশেষ প্রশিক্ষণরত অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে ওই ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যায়।

১৯/ ২০১৫ সালের ৭ মার্চ-
সোহরাওয়াদী উদ্যানের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে কারওয়ানবাজার এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে বোমা হামলার চেষ্টা চালায় জঙ্গি সংগঠন জামাঅতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) সদস্যরা। কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণও ঘটায় তারা।

এত এত হামলার পরেও পিতা,মাতা,ভাই,স্বজনহারা এই মানুষটি দেশি,বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে,দেশের জনগণকে করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে আজও।

একবারের জন্যও যিনি এদেশ, এদেশের জনগণকে ঝুঁকিতে রেখে পালিয়ে যাননি,যাবেনওনা তিনি শেখ হাসিনা।যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল, যা বাঙালি জাতির স্বপ্ন ছিল তা অনেকটাই পুরণ করেছেন তিনি, আরো অসংখ্য পরিকল্পনা হাতে নিয়ে এগিয়ে চলছেন প্রিয় শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার এত এত বছর পরে এসেও কোমলমতি ছাত্র/ছাত্রীদের বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনকে হাতিয়ার করে দেশের বহুকালের স্বপ্ন ঘেরা স্থাপনা গুলো ধংস করে দেওয়া এটা কতটুকু নির্মমতা আর এরা কারা?১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে প্রথম রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিটিভি দখল করেছিল স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানী দালারেরা। ২০২৪ সালের ১৮ই জুলাই আবার একই নারকীয়কান্ড দেখলো বিশ্ব! প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শিতার জন্য আজ দেশ ও দেশের জনগণ এখনো নিরাপধে আছেন তা না হলে এই দেশকে জঙ্গি গোষ্ঠী গৃহযুদ্ধে পরিণত করতো। শেখ হাসিনা সেই নেত্রী করোনায় যখন সাড়া পৃথিবী কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি তখনও তিনি এই দেশকে,এই দেশের জনগণকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় রাখার চেষ্টা করেছেন এবং রেখেছেন। সকল ষড়যন্ত্র রুখে আপনি দেশ ও জনগণের সর্বোচ্চ ঠিকানা হয়ে সকল রাষ্ট্রদ্রোহীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবেন এই প্রত্যাশা হে সংকট মোচনের প্রধান চাবি।  শেখ হাসিনা আপনি জাগ্রত জনতার। শেখ হাসিনা আপনি এই জাতির সংকট মোচনের প্রধান চাবি।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

অপূর্ব কুমার পাল

সংকট মোচনের প্রধান চাবি- চেতনার অগ্নিবীণা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ।

প্রকাশিত ০৪:১৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অগাস্ট ২০২৪

১৯৭৫ সালর ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার দীর্ঘ সময় পরে ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি (দল) হিসেবে ক্ষমতায় আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই শেখ হাসিনাকে হত্যার
চেষ্টা করে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা (স্বাধীনতা বিরোধী) চক্র।

১/ ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি-
চট্রগ্রাম লালদীঘি ময়দানে যাওয়ার সময় শেখ হাসিনার উপর হামলা করা হয়। এতে সাত জন নিহত ও তিন শতাধিক আহত হন।

২/ ১৯৮৯ সালের ১১ আগষ্ট-
রাত ১২টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। শেখ হাসিনা তখন ওই ভবনেই ছিলেন। সন্ত্রাসীরা ভবন লক্ষ্য করে গুলি চালায় ও একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তবে গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত না হওয়ায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা।

৩/ ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর-
জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন চলাকালে রাজধানীর গ্রীণ রোডে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমাবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের গুলি তার গাড়িতে লাগলেও অল্পের জন্য বেঁচে যান শেখ হাসিনা।

৪/ ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর-
ট্রেনমার্চ করার সময় পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনের বগি লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো গুলি ছোড়া হয়। সে সময় অসংখ্য গুলি তার বগিতে বিদ্ধ হলেও তিনি অক্ষত থাকেন।

৫/ ১৯৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর-
শেখ রাসেল স্কয়ারে সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় শেখ হাসিনার উপর গুলিবর্ষণ করা হয়।

৬/ ১৯৯৬ সালের ৭ মার্চ-
সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ৭ই মার্চের ভাষণের স্মরণে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন আকস্মাৎ একটি মাইক্রোবাস থেকে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ চালাতে থাকে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়।

৭/ ১৯৯৯ সালে-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলেমেয়েসহ ৩১ জনকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে ই-মেইল চালাচালির খবর আসে। এতে জানানো হয় ওই ই-মেইলটি পাঠিয়েছিলেন ইন্টার এশিয়া টিভির মালিক শোয়েব চৌধুরী।

৮/ ২০০০ সালের ২০ জুলাই-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার জনসভাস্থলের অদূরে ও হ্যালিপ্যাডের কাছে পুঁতে রাখা হয় যথাক্রমে ৮৪ কেজি ও ৭৬ কেজি ওজনের দুটি বোমা কিন্তু সৌভাগ্যবশত আগেই ওই বোমাগুলির হদিস পেয়ে যান গোয়েন্দারা। শক্তিশালী বোমা দুটি বিস্ফোরিত হলে কেবল শেখ হাসিনা নন, নিহত হতেন বহু মানুষ।

৯/ ২০০১ সালের ২৯ মে-
খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্ভোধন করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বিষয়টি আগে থেকে জানতে পেরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানস্থলে বোমা পুঁতে রাখে জঙ্গি সংগঠন হুজির সদস্যরা। গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতায় আগেই বোমাটি উদ্ধার ও নিস্ক্রিয় করা হয়।

১০/ ২০০১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর-
নির্বাচনী প্রচারাভিযানে সিলেট যান শেখ হাসিনা। সেখানে আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন স্থলে জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল তার। সে সময়ও জনসভাস্থলে বোমা পুঁতে রেখে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল হুজি। কিন্তু জনসভার একদিন আগে মাত্র ৫০০ গজ দূরের একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে হুজির দুই সদস্য নিহত হলে সে পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যায়।

১১/ ২০০২ সালের ৪ মার্চ-
যুবদল ক্যাডার খালিদ বিন হেদায়েত নওগাঁয় বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে তৎকালীন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা চালায়।

১২/ ২০০২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর-
শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর গাড়ি বহরে হামলা চালানো হয়। বিএনপি-জামায়াত-শিবির সাতক্ষীরা কলারোয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে শেখ হাসিনার উপর হামলা চালায়।

১৩/ ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল-
বরিশালের গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে গুলিবর্ষণ করে জামায়াত-বিএনপির ঘাতক চক্র।

১৪/ ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট-
শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয় নেতা-কর্মী-দেহরক্ষীদের মানবঢালের জন্য প্রাণে বাঁচেন।এই হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান এবং আরও ২৩ জন নেতা-কর্মী নিহত হন।আহত হন ৪শত জন।

১৫/ ২০০৭ সালে-
সাবজেলে বন্দি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর খাবারে দেওয়া হয়েছিল স্লো পয়জন।উদ্দেশ্য ছিল ক্রমাগত বিষ দিয়ে তাঁকে হত্যার করা। স্লো পয়জনিংয়ের কারণে একসময় শেখ হাসিনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০০৮ সালের ১১ জুন ১১ মাস কারাভোগের পর শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি পান।

১৬/ ২০১১ সালে-
শ্রীলংকার একটি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের সাথে বাংলাদেশের শত্রুরাষ্ট্র পাকিস্তান এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চুক্তি করে এবং সেজন্য আগাম পেমেন্টও দেওয়া হয়। শ্রীলংকার সেই সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের আততায়ীদের টিম গাড়ি করে কলকাতা বিমানবন্দরে যাবার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে ভেস্তে যায় শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনাটি।

১৭/ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি লে.ক.শরিফুল হক ডালিম এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ জন অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য সামরিক অভ্যুথানের চক্রান্ত করে। যা উইকিলিকসের সৌদি আরবের এক গোপন বার্তায় প্রকাশ পায়। হংকংয়ে বসবাসরত এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ইসরাক আহম্মদ এ পরিকল্পনায় অর্থায়ন করেন বলে গোপন বার্তায় উল্ল্যেখ করা হয়েছে।

১৮/ ২০১৪ সালে-
শেষদিকে প্রশিক্ষিত নারী জঙ্গিদের মাধ্যমে মানববোমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১৫০ জন নারী ও ১৫০ জন যুবককাল বিশেষ প্রশিক্ষণরত অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে ওই ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যায়।

১৯/ ২০১৫ সালের ৭ মার্চ-
সোহরাওয়াদী উদ্যানের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে কারওয়ানবাজার এলাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে বোমা হামলার চেষ্টা চালায় জঙ্গি সংগঠন জামাঅতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) সদস্যরা। কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণও ঘটায় তারা।

এত এত হামলার পরেও পিতা,মাতা,ভাই,স্বজনহারা এই মানুষটি দেশি,বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র থেকে দেশকে,দেশের জনগণকে করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে আজও।

একবারের জন্যও যিনি এদেশ, এদেশের জনগণকে ঝুঁকিতে রেখে পালিয়ে যাননি,যাবেনওনা তিনি শেখ হাসিনা।যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল, যা বাঙালি জাতির স্বপ্ন ছিল তা অনেকটাই পুরণ করেছেন তিনি, আরো অসংখ্য পরিকল্পনা হাতে নিয়ে এগিয়ে চলছেন প্রিয় শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার এত এত বছর পরে এসেও কোমলমতি ছাত্র/ছাত্রীদের বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনকে হাতিয়ার করে দেশের বহুকালের স্বপ্ন ঘেরা স্থাপনা গুলো ধংস করে দেওয়া এটা কতটুকু নির্মমতা আর এরা কারা?১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে প্রথম রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বিটিভি দখল করেছিল স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানী দালারেরা। ২০২৪ সালের ১৮ই জুলাই আবার একই নারকীয়কান্ড দেখলো বিশ্ব! প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার দুরদর্শিতার জন্য আজ দেশ ও দেশের জনগণ এখনো নিরাপধে আছেন তা না হলে এই দেশকে জঙ্গি গোষ্ঠী গৃহযুদ্ধে পরিণত করতো। শেখ হাসিনা সেই নেত্রী করোনায় যখন সাড়া পৃথিবী কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি তখনও তিনি এই দেশকে,এই দেশের জনগণকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় রাখার চেষ্টা করেছেন এবং রেখেছেন। সকল ষড়যন্ত্র রুখে আপনি দেশ ও জনগণের সর্বোচ্চ ঠিকানা হয়ে সকল রাষ্ট্রদ্রোহীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবেন এই প্রত্যাশা হে সংকট মোচনের প্রধান চাবি।  শেখ হাসিনা আপনি জাগ্রত জনতার। শেখ হাসিনা আপনি এই জাতির সংকট মোচনের প্রধান চাবি।