শরতের অশিশিরভেজা ভোরে শিউলিরা ঝরে পড়ে,
তার গন্ধে খুলে যায় বেঁচে থাকার জানালা।
তটিনীর জলে ভেসে আসে ক্ষুদ্র ঢেউ,
প্রতিটি তরঙ্গ যেন হৃদয়ের গোপন ব্যথায় হাত রাখে।
কাশবনের বুক হাওয়ায় দুলে ওঠে,
অদৃশ্য এক আহ্বান যেন জাগে আত্মার গভীরে।
সবুজের মাঠে পড়ে ঝিকিমিকি আলো,
মানুষের ক্লান্তি গলে যায় সেই আভায়।
তৃণের ডগায় শিশির ঝকমক করে মুক্তোর মতো,
প্রতিটি কণায় জমে থাকে সময়ের অমলিন গান।
শালুকের সাদা পাপড়ি উড়ে পুকুরের জলে,
বাতাসের মোলায়েম ছোঁয়ায় জেগে ওঠে জীবনের আভাস।
আকাশে মেঘে লুকিয়ে থাকে নীলের নীরবতা,
সেই গভীরতায় ডুবে যায় মানুষের অন্তহীন আর্তি।
শরৎ আসে ভোরের আলোয় ভরে ওঠে প্রাণ,
আর মনে প্রশ্ন জাগে
কে সেই অনন্ত স্রষ্টা, যিনি সৌন্দর্যের ভিতরেই লুকিয়ে রাখেন তার শাশ্বত সত্তা?