০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে ঋণের দায়ে যুবকের কিডনি বিক্রি : টাকা না পেয়ে আত্ন হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ

  • প্রকাশিত ০৪:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
  • ৯৭ বার দেখা হয়েছে

রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা : রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের ওমর ফারুক ( ২৬ ) নামে এক যুবক ঋণের দায়ে কিডনি বিক্রি করে টাকা না পেয়ে আত্ন হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ওমর ফারুক উপরের উল্রেখিত গ্রামের বাবর আলীর ছেলে বলে গত ১৯ আগষ্ট সভাপতি/ সম্পাদক রাজবাড়ী জেলা প্রেস ক্লাব বরাবর দেয়া একটি মানবিক আবেদন পত্রে উল্লেখ করেছেন। ওমর ফারুক তার ঐ আবেদন পত্রে উল্লেখ করেন যে, সে মাদরাসায় লেখা পড়া করার পর ২০১৯ সালে একটি মসজিদে খেদমতের মধ্যে দিয়ে তার কর্ম জীবন শুরু করে।

এরপর সে বন্ধুদের পরামর্শে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাওলাত এনে একটি অন লাইন প্রতিষ্ঠানে ইনভেষ্ট করে। টাকা ইনভেষ্টের ৩ মাস পর ঐ অন লাইন প্রতিষ্ঠানের লোকজন পালিয়ে চলে যায়। এরপর ফারুক অটো চালাতে থাকে। অটো চালানোর পাশাপাশি সে আবার টাকা পয়সা লোন নিয়ে একটি খাবার হোটেল করে। এই হোটেল ব্যবসাতেও প্রচুর টাকা লোকসান যায়। এ সব কারণে সে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মানুষের কাছে ঋণী হয়ে যায়। এরপর একদিকে ঋণের বোঝা ও পাওনাদারদের গালিগালাজ এবং টাকা পরিষধের জন্য চাপ সৃষ্টি সহ নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে পেতে থাকে দিন রাত মানুসিক যন্ত্রনা। ওমর ফারুক তার ঐ আবেদন পত্রে আরো উল্লেখ করে যে, ঋণের বোঝা ও চাপ সহ্য করতে না পেরে সে আত্ন হত্যার চিন্তা ভাবনা করে। কিন্তু তার এক বছরের একটি পুত্র সন্তান থাকায় সে আত্ন হত্যার পথ থেকে সড়ে গিয়ে একটি কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। সর্ব শেষ দালালের মাধ্যমে কিডনি বিক্রি করেও কোন টাকা পয়সা পায় না। দালাল সব টাকা পয়সা নিয়ে উধাও হয়ে যায়।

অপর দিকে তার খাবারের হোটেল ব্যবসার সময় তার মা একটি সমিতি থেকে ১ লক্ষ টাকা ঋণ এনে ফারুককে দেয়। ঐ টাকা পরিশোধ না করায় তার মার নামে মামলা হয়। এ মামলায় গত ১৮ আগষ্ট তার মাকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। মার গ্রেফতারের খবর পেয়ে ওমর ফারুক আত্ন হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সর্ব শেষ ওমর ফারুক গত ১৯ আগষ্ট রাজবাড়ী জেলা প্রেস ক্লাব বরাবর দেয়া মানবিক আবেদন পত্রে উল্লেখ করেছে যে, ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য আমার শরীরের আরেকটি অংগ বিক্রি অথবা আত্ন হত্যা ছাড়া আমার আর কোন পথ খোলা নাই।

তাই আমি বেঁচে থাকার জন্য দেশের হৃদয়বান ও মহৎ ব্যক্তিদের কাছে পরামর্শ ও যে কোন সহযোগীতা কামনা করছি।
মোবাইল নং – ০১৩২১- ৯২২৫৯৮

Tag :
জনপ্রিয়

৩৬ টি শীর্ষ শুন্য পদ এখন ও খালি এলজিইডি তে স্থবিরতা

রাজবাড়ীতে ঋণের দায়ে যুবকের কিডনি বিক্রি : টাকা না পেয়ে আত্ন হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ

প্রকাশিত ০৪:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

রাজবাড়ী জেলা সংবাদদাতা : রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের ওমর ফারুক ( ২৬ ) নামে এক যুবক ঋণের দায়ে কিডনি বিক্রি করে টাকা না পেয়ে আত্ন হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ওমর ফারুক উপরের উল্রেখিত গ্রামের বাবর আলীর ছেলে বলে গত ১৯ আগষ্ট সভাপতি/ সম্পাদক রাজবাড়ী জেলা প্রেস ক্লাব বরাবর দেয়া একটি মানবিক আবেদন পত্রে উল্লেখ করেছেন। ওমর ফারুক তার ঐ আবেদন পত্রে উল্লেখ করেন যে, সে মাদরাসায় লেখা পড়া করার পর ২০১৯ সালে একটি মসজিদে খেদমতের মধ্যে দিয়ে তার কর্ম জীবন শুরু করে।

এরপর সে বন্ধুদের পরামর্শে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাওলাত এনে একটি অন লাইন প্রতিষ্ঠানে ইনভেষ্ট করে। টাকা ইনভেষ্টের ৩ মাস পর ঐ অন লাইন প্রতিষ্ঠানের লোকজন পালিয়ে চলে যায়। এরপর ফারুক অটো চালাতে থাকে। অটো চালানোর পাশাপাশি সে আবার টাকা পয়সা লোন নিয়ে একটি খাবার হোটেল করে। এই হোটেল ব্যবসাতেও প্রচুর টাকা লোকসান যায়। এ সব কারণে সে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মানুষের কাছে ঋণী হয়ে যায়। এরপর একদিকে ঋণের বোঝা ও পাওনাদারদের গালিগালাজ এবং টাকা পরিষধের জন্য চাপ সৃষ্টি সহ নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে পেতে থাকে দিন রাত মানুসিক যন্ত্রনা। ওমর ফারুক তার ঐ আবেদন পত্রে আরো উল্লেখ করে যে, ঋণের বোঝা ও চাপ সহ্য করতে না পেরে সে আত্ন হত্যার চিন্তা ভাবনা করে। কিন্তু তার এক বছরের একটি পুত্র সন্তান থাকায় সে আত্ন হত্যার পথ থেকে সড়ে গিয়ে একটি কিডনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। সর্ব শেষ দালালের মাধ্যমে কিডনি বিক্রি করেও কোন টাকা পয়সা পায় না। দালাল সব টাকা পয়সা নিয়ে উধাও হয়ে যায়।

অপর দিকে তার খাবারের হোটেল ব্যবসার সময় তার মা একটি সমিতি থেকে ১ লক্ষ টাকা ঋণ এনে ফারুককে দেয়। ঐ টাকা পরিশোধ না করায় তার মার নামে মামলা হয়। এ মামলায় গত ১৮ আগষ্ট তার মাকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। মার গ্রেফতারের খবর পেয়ে ওমর ফারুক আত্ন হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সর্ব শেষ ওমর ফারুক গত ১৯ আগষ্ট রাজবাড়ী জেলা প্রেস ক্লাব বরাবর দেয়া মানবিক আবেদন পত্রে উল্লেখ করেছে যে, ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য আমার শরীরের আরেকটি অংগ বিক্রি অথবা আত্ন হত্যা ছাড়া আমার আর কোন পথ খোলা নাই।

তাই আমি বেঁচে থাকার জন্য দেশের হৃদয়বান ও মহৎ ব্যক্তিদের কাছে পরামর্শ ও যে কোন সহযোগীতা কামনা করছি।
মোবাইল নং – ০১৩২১- ৯২২৫৯৮