০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
হাবিব সরকার স্বাধীন:

রাজধানীর বনানীর মাদক ব্যবসায় জনি-জাকিরের রাজত্ব

  • প্রকাশিত ০১:৪১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ১৮৭ বার দেখা হয়েছে
রাজধানীর বনানীর মাদক ব্যবসা এখন জনি ও জাকিরের দখলে। বর্তমানে তারা এতটাই আলোচিত যে মানুষের মুখে মুখে তাদের নাম। বনানীর আমতলী, চেয়ারম্যানবাড়ি, সৈনিক ক্লাব, টিএন্ডটি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন গোডাউন বস্তি ও বনানী ২ নম্বর রোড এলাকা ঘিরে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসায় এখন তাদের রাজত্ব!

সাহাদাত হোসেন জনি ও জাকির ওরফে পিচ্চি জাকির। আগে তাদের অপরাধ কান্ড অপহরণ, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ফিটিং, পতিতার দালালির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে তারা মাদক ব্যবসায় দানবীয় রাজত্ব কায়েম করেছে। দুজনের বিরুদ্ধে বনানী, গুলশান সহ বিভিন্ন থানায় অন্তত দশটি করে মামলা রয়েছে। জেলে যাওয়া তাদের জন্য মামুলি ব্যাপার। অসংখ্যবার জেল খাটলেও থেমে নেই তাদের অপরাধ। জেল থেকে বারবার বারবার জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। প্রতিবার বের হয়ে নতুন নতুন আপরাধে জড়ান। জেলখানা এখন যেন তাদের ঘরবাড়ি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জনির বড় ভাই রনি সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে বনানী থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। আর জাকির ডিবি পুলিশের কথিত সোর্স। সৈনিক ক্লাব সিনেমা হল এলাকায় তার আনাগোনা বেশি। জাকিরের সাথে মিলে জনি সৈনিক ক্লাব এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, পতিতার দালালি করে। এছাড়া তারা কড়াইল বস্তি এলাকার চোরের সর্দার বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে। কোথায় চুরি করতে হবে তার পরিকল্পনা এবং চোরেরা চুরি করার পরে চুরির মালামাল বেচার দায়িত্ব তাদের।
একটি সূত্রে জানা যায়, আগে জনি-জাকির ছিল আত্মগোপনে। শুধুমাত্র অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময়ই তাদের দেখা যেত। অপরাধ করেই গা ঢাকা দিতেন। ৫ আগষ্টের গণ অভ্যুত্থানের পর জনি তার ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে প্রকাশ্যেই জড়াচ্ছেন অপরাধে। জনি-জাকির মিলে নিয়ন্ত্রণ করছেন অপরাধীর একটি বড় সিন্ডিকেট। তার মধ্যে নতুন করে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তারা।
কথিত আছে জনির ভাই রনিরও বনানীতে গাড়ির শো রুমের ব্যবসার আড়ালে মদ/বিয়ারের ব্যবসা করেন। তার মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট আলাদা। এই তথ্য দিয়েছেন বনানীতে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম।
মহাখালী আমতলীর স্থায়ী বাসিন্দা শেখ সাদী সরদার জানান, ‘জনি ও জাকির দু’জনেই দাগী সন্ত্রাসী। আগে তাদের বিরুদ্ধে দুর্বল মানুষদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, চুরি, ছিনতাই, বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে দেহ ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া যেত। এখন তারা নাকি বড় মাদক ব্যবসায়ী। আমি নিজেও মানুষের নিরাপত্তা বিবেচনায় তাদের কয়েকবার পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছি। আবার জামিনে বেরিয়ে যায়।’
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়- বনানীর আমতলী, চেয়ারম্যানবাড়ি, সৈনিক ক্লাব, টিএন্ডটি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন গোডাউন বস্তি ও বনানী ২ নম্বর রোড এলাকায় বর্তমানে মাদক ব্যবসার মহাজন বনে গেছেন জনি। খুচরা সব মাদক ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণ এখন তার হাতে। তার সাথে বনিবনা না হলে কেউ মাদক ব্যবসা করতে পারে না। এসব এলাকায় জানির একক রাজত্ব!তার ডান হাত হিসেবে পরিচিত সৈনিক ক্লাবের পিচ্চি জাকির। জাকির পুলিশের সোর্স হবার সুবাদে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়।
তথ্য পাওয়া যায়, জনি আগে পালিয়ে বেড়াতো। তার অপরাধ কান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে নিজের স্বজন-পরিবারের লোকজনই তাকে অস্বীকার করতেন। আত্বীয় বলে পরিচয় দিতেন না। মানুষের বিচারে ত্যাক্ত হয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরে জায়গা দিতো না। দুদিন পর পর পুলিশ বাসায় এসে খোঁজ করতো। তবে এখন ক্ষমতার পালাবদলে ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রকাশ্যেই অপরাধ কান্ড সংঘটিত করছেন। তার মধ্যে যেন লাগামহীন মাদক কারবার। কথিত আছে ভাইয়ের মদদেই জনি এখন বেপরোয়া। ইদানিং অনুষ্ঠিত বিএনপি’র কয়েকটি কর্মসূচিতে জনিকে রনির সঙ্গেই উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এখন জানির নামে কেউ অভিযোগ দিলে উল্টো তাকেই মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়।
জনির সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে বলেন, ‘আমার যা পারেন করে নিয়েন। আমি কাউরে ভয় পাই না। আমার নামে নিউজ করে কিছু হবেনা।’
এ বিষয়ে বনানী থানার ওসি মো. রাসেল সারোয়ার বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

হাবিব সরকার স্বাধীন:

রাজধানীর বনানীর মাদক ব্যবসায় জনি-জাকিরের রাজত্ব

প্রকাশিত ০১:৪১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪
রাজধানীর বনানীর মাদক ব্যবসা এখন জনি ও জাকিরের দখলে। বর্তমানে তারা এতটাই আলোচিত যে মানুষের মুখে মুখে তাদের নাম। বনানীর আমতলী, চেয়ারম্যানবাড়ি, সৈনিক ক্লাব, টিএন্ডটি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন গোডাউন বস্তি ও বনানী ২ নম্বর রোড এলাকা ঘিরে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসায় এখন তাদের রাজত্ব!

সাহাদাত হোসেন জনি ও জাকির ওরফে পিচ্চি জাকির। আগে তাদের অপরাধ কান্ড অপহরণ, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ফিটিং, পতিতার দালালির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে তারা মাদক ব্যবসায় দানবীয় রাজত্ব কায়েম করেছে। দুজনের বিরুদ্ধে বনানী, গুলশান সহ বিভিন্ন থানায় অন্তত দশটি করে মামলা রয়েছে। জেলে যাওয়া তাদের জন্য মামুলি ব্যাপার। অসংখ্যবার জেল খাটলেও থেমে নেই তাদের অপরাধ। জেল থেকে বারবার বারবার জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। প্রতিবার বের হয়ে নতুন নতুন আপরাধে জড়ান। জেলখানা এখন যেন তাদের ঘরবাড়ি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জনির বড় ভাই রনি সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে বনানী থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। আর জাকির ডিবি পুলিশের কথিত সোর্স। সৈনিক ক্লাব সিনেমা হল এলাকায় তার আনাগোনা বেশি। জাকিরের সাথে মিলে জনি সৈনিক ক্লাব এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, পতিতার দালালি করে। এছাড়া তারা কড়াইল বস্তি এলাকার চোরের সর্দার বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে। কোথায় চুরি করতে হবে তার পরিকল্পনা এবং চোরেরা চুরি করার পরে চুরির মালামাল বেচার দায়িত্ব তাদের।
একটি সূত্রে জানা যায়, আগে জনি-জাকির ছিল আত্মগোপনে। শুধুমাত্র অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময়ই তাদের দেখা যেত। অপরাধ করেই গা ঢাকা দিতেন। ৫ আগষ্টের গণ অভ্যুত্থানের পর জনি তার ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে প্রকাশ্যেই জড়াচ্ছেন অপরাধে। জনি-জাকির মিলে নিয়ন্ত্রণ করছেন অপরাধীর একটি বড় সিন্ডিকেট। তার মধ্যে নতুন করে ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তারা।
কথিত আছে জনির ভাই রনিরও বনানীতে গাড়ির শো রুমের ব্যবসার আড়ালে মদ/বিয়ারের ব্যবসা করেন। তার মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট আলাদা। এই তথ্য দিয়েছেন বনানীতে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম।
মহাখালী আমতলীর স্থায়ী বাসিন্দা শেখ সাদী সরদার জানান, ‘জনি ও জাকির দু’জনেই দাগী সন্ত্রাসী। আগে তাদের বিরুদ্ধে দুর্বল মানুষদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, চুরি, ছিনতাই, বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে দেহ ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া যেত। এখন তারা নাকি বড় মাদক ব্যবসায়ী। আমি নিজেও মানুষের নিরাপত্তা বিবেচনায় তাদের কয়েকবার পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছি। আবার জামিনে বেরিয়ে যায়।’
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়- বনানীর আমতলী, চেয়ারম্যানবাড়ি, সৈনিক ক্লাব, টিএন্ডটি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন গোডাউন বস্তি ও বনানী ২ নম্বর রোড এলাকায় বর্তমানে মাদক ব্যবসার মহাজন বনে গেছেন জনি। খুচরা সব মাদক ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণ এখন তার হাতে। তার সাথে বনিবনা না হলে কেউ মাদক ব্যবসা করতে পারে না। এসব এলাকায় জানির একক রাজত্ব!তার ডান হাত হিসেবে পরিচিত সৈনিক ক্লাবের পিচ্চি জাকির। জাকির পুলিশের সোর্স হবার সুবাদে কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়।
তথ্য পাওয়া যায়, জনি আগে পালিয়ে বেড়াতো। তার অপরাধ কান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে নিজের স্বজন-পরিবারের লোকজনই তাকে অস্বীকার করতেন। আত্বীয় বলে পরিচয় দিতেন না। মানুষের বিচারে ত্যাক্ত হয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরে জায়গা দিতো না। দুদিন পর পর পুলিশ বাসায় এসে খোঁজ করতো। তবে এখন ক্ষমতার পালাবদলে ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রকাশ্যেই অপরাধ কান্ড সংঘটিত করছেন। তার মধ্যে যেন লাগামহীন মাদক কারবার। কথিত আছে ভাইয়ের মদদেই জনি এখন বেপরোয়া। ইদানিং অনুষ্ঠিত বিএনপি’র কয়েকটি কর্মসূচিতে জনিকে রনির সঙ্গেই উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এখন জানির নামে কেউ অভিযোগ দিলে উল্টো তাকেই মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়।
জনির সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে বলেন, ‘আমার যা পারেন করে নিয়েন। আমি কাউরে ভয় পাই না। আমার নামে নিউজ করে কিছু হবেনা।’
এ বিষয়ে বনানী থানার ওসি মো. রাসেল সারোয়ার বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’