১০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রসেনজিৎ বিশ্বাস:

যশোর জেলার চৌগাছা থানার ওপেন ঘুষ বাণিজ্য।

  • প্রকাশিত ০২:২৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ৭৮ বার দেখা হয়েছে

 

যশোর জেলার চৌগাছা থানার ক্লোজড ওসি পায়েল আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিল একটা মারামারি অভিযোগ মিমাংসা করে দিবে বলে। ঐ অভিযোগে আমাকে এক নং আসামি করা হয়েছে।
এস আই মারুফ ঐ অভিযোগের সকল আসামিদের থানায় ডাকলে আমরা গেছিলাম। এস আই মারুফ আমাকে বলে ওসি স্যার বলেছে একটা কেস নিতে। তারপর যা হবে আপনি তো ভালোই জানেন। আমি বললাম এখন কি করতে হবে বলে আপনি মনে0 করেন?? এস আই মারুফ বলল অভিযোগ টা মিমাংসা0 করে নেন কিছু টাকা দিয়ে। ওসি স্যারের কাছে আপনাকে নিয়ে গিয়ে কথা বলে দিবানে।
আমি জানি এই অভিযোগটা কেস হিসাবে নিলে একটা সার্চ শিট পাঠাবে আদালতে। কিন্তু আমাদের নামে মারামারি যে ধারা দিবে সেটা আদালতে ঘোপে টিকবে না। এটা ওসি ও এস আই মারুফও ভালো জানে। মারুফ আমাকে বিভিন্ন দিক আমাকে বোঝাচ্ছে কি হতে পারে কেস রেকর্ড হলে‌।‌ কিন্তু আমি মনে মনে হাসছি আর বলছি এই অভিযোগে যদি আমি একাই আসামি হতাম তাহলে তোমার কাছে আমি আসতাম না। যারা মারামারি করেছে তারা আমার প্রতিবেশী। ওদের কারণেই শেষ পর্যন্ত ওসির কাছে গেলাম।
আমি ওসিকে বললাম দেখেন যেহেতু এটা ভাইয়ে ভাইয়ে হাতাহাতি করে মারামারি করেছে সেহেতু এটা বাড়তে না দিয়ে উভয়কে ডেকে একটা মিমাংসা করে দেন।
এস আই মারুফ আমাদের সাথে ওসির রুমে ছিল। ওসি মারুফকে বলল আপনি বিষয়টা দেখেন।
আমরা ওসির রুমের বাইরে আসলে এস আই মারুফ বলল বুঝলেন তো স্যার কি বলতে চাইলেন। আমি বললাম দেখেন এটা খুব সিম্পল অভিযোগ, আমরা ১০ হাজার টাকা দিচ্ছি ওদের ডেকে এনে ঝামেলা মিটায় দেন। এস আই মারুফ আমার কথাতে খুশি হতে পারলেন না। বললেন তাহলে স্যারের কতো দিবেন। আমি বললাম ওটার ভিতরেই সব করবেন। মারুফ বলল তাহলে আমি স্যারের সাথে কথা না বলে কিছু বলতে পারবো না। মারুফ ওসির কাছে গেলেন। কিছুক্ষণ পর বের হয়ে বললেন স্যার বলেছে ৫০ হাজার টাকা যদি দিতে পারে তাহলে তিনি করতে পারবেন। তা না হলে কেস নিতে বললেন।
এদিকে মুল আসামিরা ভীত হওয়ায় তারা মিমাংসা করতে চায় কমবেশি টাকা দিয়ে। সর্বশেষ আমরা তিনজন থেকে এস আই মারুফকে বললাম আমরা ২০ হাজার পর্যন্ত দিতে পারবো। কিন্তু মারুফ তাতেও সন্তোষ্ট হতে না পেরে বলল আমি স্যারের সাথে আবার কথা না বলে কিছু বলতে পারছি না। মারুফ আবার ওসির কাছে গেলে। ফিরে এসে আমাদের তিনজনকে জানাল স্যার বলল ৩০ হাজারের কম হলে হবে না। আমি বললাম মারুফ ভাই তাহলে আমরা বাড়ি গিয়ে আলোচনা করে পরে আপনাকে জানাবো। চলে আসলাম সবাই। আর জানাই নি তাকে।
গতকাল জানতে পারলাম ওসি পায়েলের বিরুদ্ধে আসামি টর্চার করে টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছে এক ভুক্তভোগী। থানা থেকে বের হয়ে ভাবতে থাকলাম থানায় এখন ওপেন মামলা বাণিজ্য করছে সকল পুলিশ কোন রাখঢাক ছাড়াই। তারা সবাই মনে করছে এখনই সময় মামলা বাণিজ্য করার।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

প্রসেনজিৎ বিশ্বাস:

যশোর জেলার চৌগাছা থানার ওপেন ঘুষ বাণিজ্য।

প্রকাশিত ০২:২৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪

 

যশোর জেলার চৌগাছা থানার ক্লোজড ওসি পায়েল আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিল একটা মারামারি অভিযোগ মিমাংসা করে দিবে বলে। ঐ অভিযোগে আমাকে এক নং আসামি করা হয়েছে।
এস আই মারুফ ঐ অভিযোগের সকল আসামিদের থানায় ডাকলে আমরা গেছিলাম। এস আই মারুফ আমাকে বলে ওসি স্যার বলেছে একটা কেস নিতে। তারপর যা হবে আপনি তো ভালোই জানেন। আমি বললাম এখন কি করতে হবে বলে আপনি মনে0 করেন?? এস আই মারুফ বলল অভিযোগ টা মিমাংসা0 করে নেন কিছু টাকা দিয়ে। ওসি স্যারের কাছে আপনাকে নিয়ে গিয়ে কথা বলে দিবানে।
আমি জানি এই অভিযোগটা কেস হিসাবে নিলে একটা সার্চ শিট পাঠাবে আদালতে। কিন্তু আমাদের নামে মারামারি যে ধারা দিবে সেটা আদালতে ঘোপে টিকবে না। এটা ওসি ও এস আই মারুফও ভালো জানে। মারুফ আমাকে বিভিন্ন দিক আমাকে বোঝাচ্ছে কি হতে পারে কেস রেকর্ড হলে‌।‌ কিন্তু আমি মনে মনে হাসছি আর বলছি এই অভিযোগে যদি আমি একাই আসামি হতাম তাহলে তোমার কাছে আমি আসতাম না। যারা মারামারি করেছে তারা আমার প্রতিবেশী। ওদের কারণেই শেষ পর্যন্ত ওসির কাছে গেলাম।
আমি ওসিকে বললাম দেখেন যেহেতু এটা ভাইয়ে ভাইয়ে হাতাহাতি করে মারামারি করেছে সেহেতু এটা বাড়তে না দিয়ে উভয়কে ডেকে একটা মিমাংসা করে দেন।
এস আই মারুফ আমাদের সাথে ওসির রুমে ছিল। ওসি মারুফকে বলল আপনি বিষয়টা দেখেন।
আমরা ওসির রুমের বাইরে আসলে এস আই মারুফ বলল বুঝলেন তো স্যার কি বলতে চাইলেন। আমি বললাম দেখেন এটা খুব সিম্পল অভিযোগ, আমরা ১০ হাজার টাকা দিচ্ছি ওদের ডেকে এনে ঝামেলা মিটায় দেন। এস আই মারুফ আমার কথাতে খুশি হতে পারলেন না। বললেন তাহলে স্যারের কতো দিবেন। আমি বললাম ওটার ভিতরেই সব করবেন। মারুফ বলল তাহলে আমি স্যারের সাথে কথা না বলে কিছু বলতে পারবো না। মারুফ ওসির কাছে গেলেন। কিছুক্ষণ পর বের হয়ে বললেন স্যার বলেছে ৫০ হাজার টাকা যদি দিতে পারে তাহলে তিনি করতে পারবেন। তা না হলে কেস নিতে বললেন।
এদিকে মুল আসামিরা ভীত হওয়ায় তারা মিমাংসা করতে চায় কমবেশি টাকা দিয়ে। সর্বশেষ আমরা তিনজন থেকে এস আই মারুফকে বললাম আমরা ২০ হাজার পর্যন্ত দিতে পারবো। কিন্তু মারুফ তাতেও সন্তোষ্ট হতে না পেরে বলল আমি স্যারের সাথে আবার কথা না বলে কিছু বলতে পারছি না। মারুফ আবার ওসির কাছে গেলে। ফিরে এসে আমাদের তিনজনকে জানাল স্যার বলল ৩০ হাজারের কম হলে হবে না। আমি বললাম মারুফ ভাই তাহলে আমরা বাড়ি গিয়ে আলোচনা করে পরে আপনাকে জানাবো। চলে আসলাম সবাই। আর জানাই নি তাকে।
গতকাল জানতে পারলাম ওসি পায়েলের বিরুদ্ধে আসামি টর্চার করে টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছে এক ভুক্তভোগী। থানা থেকে বের হয়ে ভাবতে থাকলাম থানায় এখন ওপেন মামলা বাণিজ্য করছে সকল পুলিশ কোন রাখঢাক ছাড়াই। তারা সবাই মনে করছে এখনই সময় মামলা বাণিজ্য করার।