১১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি: সাহাবুল হক

মেহেরপুরে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে বিনষ্ট ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল

  • প্রকাশিত ১০:৫১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ১৪০ বার দেখা হয়েছে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের ফলে গত ৩ দিনের টানা দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে মেহেরপুরের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একই সাথে ঝড় ও বৃষ্টির কবলে বিভিন্ন ধরনের গাছপালার ডাল ভেঙে গেছে, পানির নিচে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও পুকুর এবং হাঁটু পানি জমেছে অনেক বসতবাড়িতে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানসহ মাঠের ৪ হাজার ২’শ ৩৫ হেক্টর জমির ফসল।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর), দুপুর থেকে সন্ধা অবধি জেলার সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার মাইলমারী, হিন্দা, নওপাড়া, ভোমরদহ, জোড়পুকুরিয়া, ষোলটাকা, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, হিজলবাড়ীয়া, যুগিন্দা, আজান, ধর্মচাকী, কাথুলী, মটমুড়া, চর গোয়ালগ্রাম, হাড়াভাংগা, কাজীপুর, সহড়াতলা, খাসমহল, রংমহল, সোনাপুর ও কাঁঠালপোতাসহবেশ কিছু গ্রাম ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে মেলে।
এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন নিচু এলাকার পুকুর, আমন ধানের ক্ষেত, লাউ, পটল, পাতা কপি, মাষকলাই, কাঁচা মরিচ, টমেটো, বেগুন ও পেঁপেসহ বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজি ফসল। তাছাড়া টানা বৃষ্টিতে সকল ধরনের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও জীবন-যাপন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে।
মাইলমারী গ্রামের ফসির আলী জানান, আমার ৩ বিঘা জমির ধান ক্ষেতের সবটুকু পানিতে প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
একই গ্রামের নাজমুল জানান, আমি পদ্মবিলের পাড়ে লাউ ও ধুন্দলের আবাদ করেছিলাম, যা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।
কাথুলী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাবের আলী জানান, আমার পুকুর ভেসে সকল মাছ মাঠের পানিতে চলে গেছে।
এদিকে মাইলমারী মসজিদপাড়ার হায়দার আলী, দলিল মিয়া, জিয়ারুল ইসলাম, সিপারুল, শফিউল, আব্দুল জলিল, খয়ের আলী ও নূর ইসলামসহ বেশ কয়েকটি বসতবাড়ির আঙ্গিনায় হাঁটু পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
জুগিন্দা গ্রামের মরিচ চাষী রাজিব বলেন, ১০ কাঠা জমিতে মরিচ লাগিয়েছিলাম। প্রায় ১০ হাজার টাকার মরিচও বিক্রি করেছি। শেষ অবধি লক্ষাধিক টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবো ভাবলেও টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়াতে মরিচ গাছগুলো আর হয়তো টিকবেনা।
নওপাড়া গ্রামের নিজাম উদ্দীনের বাড়ির পাশের কয়েকজন জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আমাদের উঠানে হাঁটু পানি জমেছে। পানির কারণে চলাচল করা যাচ্ছে না। তাছাড়া হাঁটু ও দাবনা পানি জমে থাকায় শিশুদের নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন রয়েছি।
প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়াতে হিন্দা ব্রীজের সন্নিকটে একটি কাঁচা ঘরও ভেঙে পড়েছে। তবে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
কাজীপুর গ্রামের ফুল চাঁদ আলী জানান, ঝোড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে আমাদের মাঠের সকল ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি চলমান থাকলে আমাদের বসতবাড়ির শয়নকক্ষেও পানি ঢুকে যেতে পারে।
এদিকে মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, এখন অবধি ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে আমন ধানসহ ৪ হাজার ২” শ ৩৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত রোববার পর্যন্ত টানা ৩ দিনে মেহেরপুরে ১৮২.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টায় ৭৩.৮ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
এমন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে বলে আশংকায় রয়েছেন কৃষকরা। এমতবস্থায় ফসলসহ বসতবাড়ির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি: সাহাবুল হক

মেহেরপুরে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে বিনষ্ট ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল

প্রকাশিত ১০:৫১:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের ফলে গত ৩ দিনের টানা দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে মেহেরপুরের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। একই সাথে ঝড় ও বৃষ্টির কবলে বিভিন্ন ধরনের গাছপালার ডাল ভেঙে গেছে, পানির নিচে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও পুকুর এবং হাঁটু পানি জমেছে অনেক বসতবাড়িতে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানসহ মাঠের ৪ হাজার ২’শ ৩৫ হেক্টর জমির ফসল।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর), দুপুর থেকে সন্ধা অবধি জেলার সদর, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলার মাইলমারী, হিন্দা, নওপাড়া, ভোমরদহ, জোড়পুকুরিয়া, ষোলটাকা, লক্ষ্মীনারায়ণপুর, হিজলবাড়ীয়া, যুগিন্দা, আজান, ধর্মচাকী, কাথুলী, মটমুড়া, চর গোয়ালগ্রাম, হাড়াভাংগা, কাজীপুর, সহড়াতলা, খাসমহল, রংমহল, সোনাপুর ও কাঁঠালপোতাসহবেশ কিছু গ্রাম ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে মেলে।
এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন নিচু এলাকার পুকুর, আমন ধানের ক্ষেত, লাউ, পটল, পাতা কপি, মাষকলাই, কাঁচা মরিচ, টমেটো, বেগুন ও পেঁপেসহ বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজি ফসল। তাছাড়া টানা বৃষ্টিতে সকল ধরনের মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও জীবন-যাপন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে।
মাইলমারী গ্রামের ফসির আলী জানান, আমার ৩ বিঘা জমির ধান ক্ষেতের সবটুকু পানিতে প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
একই গ্রামের নাজমুল জানান, আমি পদ্মবিলের পাড়ে লাউ ও ধুন্দলের আবাদ করেছিলাম, যা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।
কাথুলী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাবের আলী জানান, আমার পুকুর ভেসে সকল মাছ মাঠের পানিতে চলে গেছে।
এদিকে মাইলমারী মসজিদপাড়ার হায়দার আলী, দলিল মিয়া, জিয়ারুল ইসলাম, সিপারুল, শফিউল, আব্দুল জলিল, খয়ের আলী ও নূর ইসলামসহ বেশ কয়েকটি বসতবাড়ির আঙ্গিনায় হাঁটু পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
জুগিন্দা গ্রামের মরিচ চাষী রাজিব বলেন, ১০ কাঠা জমিতে মরিচ লাগিয়েছিলাম। প্রায় ১০ হাজার টাকার মরিচও বিক্রি করেছি। শেষ অবধি লক্ষাধিক টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারবো ভাবলেও টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়াতে মরিচ গাছগুলো আর হয়তো টিকবেনা।
নওপাড়া গ্রামের নিজাম উদ্দীনের বাড়ির পাশের কয়েকজন জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আমাদের উঠানে হাঁটু পানি জমেছে। পানির কারণে চলাচল করা যাচ্ছে না। তাছাড়া হাঁটু ও দাবনা পানি জমে থাকায় শিশুদের নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন রয়েছি।
প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়াতে হিন্দা ব্রীজের সন্নিকটে একটি কাঁচা ঘরও ভেঙে পড়েছে। তবে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
কাজীপুর গ্রামের ফুল চাঁদ আলী জানান, ঝোড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে আমাদের মাঠের সকল ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি চলমান থাকলে আমাদের বসতবাড়ির শয়নকক্ষেও পানি ঢুকে যেতে পারে।
এদিকে মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, এখন অবধি ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে আমন ধানসহ ৪ হাজার ২” শ ৩৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত রোববার পর্যন্ত টানা ৩ দিনে মেহেরপুরে ১৮২.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টায় ৭৩.৮ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
এমন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হবে বলে আশংকায় রয়েছেন কৃষকরা। এমতবস্থায় ফসলসহ বসতবাড়ির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা।