০২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাথায়- কোমরে ৩ গুলি, জুলাইযোদ্ধা দেলোয়ার হোসাইন নির্ঘুম রাত কাটান

  • প্রকাশিত ০৫:০৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮৬ বার দেখা হয়েছে

প্রতিবেদক : জুলাইযোদ্ধা মো: দেলোয়ার হোসাইন- গ্যাজেট নং ৬৬৫ মেডিকেল কেস আইডি নং ৩৭৮৫২। চব্বিশের ৫ আগস্ট কুটুরিয়া বাসষ্টেশান থেকে দেলোয়ারসহ হাজারো ছাত্র জনতা একত্রিত হয়ে আর্মি বেরিকেড ভেঙ্গে সাভারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রেডিও কলোনি নামক স্থানে পৌছানোর পরপরই আওয়ামী সন্ত্রাসীবাহিনী পুলিশের সহায়তায় বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে এলোপাথারি কাদানে গ্যাস, ছড়রা গুলি, রাবার বুলেট এমনকি মরনাস্ত্র দিয়ে সাধারণ ছাত্র জনতার উপর সরাসরি আক্রমণ ও গুলি বর্ষন করতে থাকে। এতে প্রচুর সংখ্যক মানুষ আহত হয় এবং ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এতেও সাহসী বীর যোদ্ধাদের দমিয়ে রাখা যায়নি, বুক পেতে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে তারা। জনতার বাধভাঙ্গা স্রোতে পুলিশ ও আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীবাহিনী পিছু হটতে থাকে।

তখন আনুমানিক দুপুর ১২টা। দেলোয়ারসহ হাজার হাজার ছাত্র-জনতা সাভার থানার নিকটবর্তী আন্দোলনে সরব ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আওয়ামী সন্ত্রাসীবাহীনী ও পুলিশের এলোপাতাড়ি ছোড়া ছররা গুলি দেলোয়ার শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায়। রক্তাত্ত শরীর নিয়েও বিকেল পর্যন্ত আন্দোলনে সক্রিয় থাকেন দেলোয়ার। বিকেল ৪ টার দিকে স্থানীয় ও অন্যান্য সহযোদ্ধাদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে বেসরকারি হাসপাতাল এনাম মেডিকেলে তাকে নেওয়া হয়। দেলোয়ারসহ শত শত আহতরা চিকিৎসা নেয়।

কুটুরিয়া বাসস্ট্যাণ্ডের পল্লি চিকিৎসক আকবর পালোয়ান জানান, মিছিলে ছাত্রলীগ ও পুলিশ হামলা চালায় মো: দেলোয়ার হোসেনের শরীরে আঠারো বিশটার মত গুলি লাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আমি দুই তিনটা গুলি বের করে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য তাকে হাসপাতালে প্রেরণ করি।

৫ আগষ্ট সাভারে আহত জুলাইযোদ্ধা নাজমুল হোসেন বলেন, কুটুরিয়ার দেলোয়ার হোসেন আমার সহযোদ্ধা। আমি এখন পিজি হাসপাতালে ভর্তি। দেলোয়ার ভাইয়ের শরীরে এখনও বুলেট রয়েছে। অন্দোলন করতে যেয়ে আমরা আহত হই।
জুলাই যোদ্ধা সুজন মিয়া বলেন, ৫ আগষ্টে আমি ও দেলোয়ার হোসেন আন্দেলনে অংশগ্রহণ করে আহত হই। আমরা সরকারের কাছে ন্যায্য বিচার দাবি করছি।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ডেফোডিল ইন্টারন্যাশানাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রত্যয় জানান, কুটুরিয়া থেকে আমরা আন্দেলনে অংশগ্রহণ করি আমাদের সাথে দেলোয়ার ভাইও অংশগ্রহণ করে। রেডিও কলোনি যাওয়ার পর আমাদের উপর কাদাঁনে গ্যাস ও গুলি চালানো হয়, তখন অনেকে মৃত্যুবরণ করে। রাতে খবর পাই দেলোয়ার ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমরা রাতেই তাকে দেখতে যাই। সরকারের কাছে ন্যায্য বিচার আশা করছি।

আলাপকালে কিশোরগঞ্জের যশোদলের মো: আ: রহমান ও সেলিনা আক্তারের বড় সন্তান জুলাইযোদ্ধা দেলোয়ার বলেন, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার পতনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ব্যবসার সুবাদে তখনো আমি সাভারের কুটুরিয়ায় বসবাস করতাম। ওখান থেকেই আমি আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলাম। আগস্টের ৫ তারিখ সকাল থেকেই আন্দোলন চলাকালীন সাভার থানার নিকটবর্তী স্থান থেকে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে। এতে আমার সামনেই একজন ছেলে ও একজন মেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তাদেরকে আমরা রোজ ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাই তারপর আমি আবারো আন্দোলনে শরীক হই, পরে জানতে পারি তারা মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের বাচাঁনো যায়নি। আনুমানিক দুপুর ১২টা আমিসহ কয়েকশত আন্দোলনকারীর শরীরের বিভিন্ন স্থান ছররা গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাই এবং এতে অর্ধশতাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি আরও বলেন, এনাম মেডিকেলের ডাক্তাররা আমার শরীর থেকে বেশ কয়েকটি গুলি বের করেন। পরবর্তীতে গণস্বস্থ্য হাসপাতালে ৩টি অপারেশনের মাধ্যমে ২টি বুলেট বের করা হয়। বর্তমানে মাথায় দুটি ও কোমরে একটি বুলেট রয়েছে। আমি অসুস্থ, ডাক্তারগণ আমাকে উন্নততর চিকিৎসা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। রাতে আমি ঘুমাতে পারি না। অসহনীয় যন্ত্রণায় ছটফট করি। আমার উন্নত চিকিৎসা দরকার।

দেলোয়ারের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও মো: কামরুল হাসান মারুফ জানান, দেলোযার সাহেব আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে তার সাথে আলোচনা করে যেখানেই উন্নত চিকিৎসা নিতে চান আমরা সে ব্যবস্থা করব।

Tag :
জনপ্রিয়

তারেক রহমান যেন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে না পারে, সে জন্য ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত

মাথায়- কোমরে ৩ গুলি, জুলাইযোদ্ধা দেলোয়ার হোসাইন নির্ঘুম রাত কাটান

প্রকাশিত ০৫:০৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

প্রতিবেদক : জুলাইযোদ্ধা মো: দেলোয়ার হোসাইন- গ্যাজেট নং ৬৬৫ মেডিকেল কেস আইডি নং ৩৭৮৫২। চব্বিশের ৫ আগস্ট কুটুরিয়া বাসষ্টেশান থেকে দেলোয়ারসহ হাজারো ছাত্র জনতা একত্রিত হয়ে আর্মি বেরিকেড ভেঙ্গে সাভারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। রেডিও কলোনি নামক স্থানে পৌছানোর পরপরই আওয়ামী সন্ত্রাসীবাহিনী পুলিশের সহায়তায় বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে এলোপাথারি কাদানে গ্যাস, ছড়রা গুলি, রাবার বুলেট এমনকি মরনাস্ত্র দিয়ে সাধারণ ছাত্র জনতার উপর সরাসরি আক্রমণ ও গুলি বর্ষন করতে থাকে। এতে প্রচুর সংখ্যক মানুষ আহত হয় এবং ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এতেও সাহসী বীর যোদ্ধাদের দমিয়ে রাখা যায়নি, বুক পেতে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে তারা। জনতার বাধভাঙ্গা স্রোতে পুলিশ ও আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীবাহিনী পিছু হটতে থাকে।

তখন আনুমানিক দুপুর ১২টা। দেলোয়ারসহ হাজার হাজার ছাত্র-জনতা সাভার থানার নিকটবর্তী আন্দোলনে সরব ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে আওয়ামী সন্ত্রাসীবাহীনী ও পুলিশের এলোপাতাড়ি ছোড়া ছররা গুলি দেলোয়ার শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায়। রক্তাত্ত শরীর নিয়েও বিকেল পর্যন্ত আন্দোলনে সক্রিয় থাকেন দেলোয়ার। বিকেল ৪ টার দিকে স্থানীয় ও অন্যান্য সহযোদ্ধাদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে বেসরকারি হাসপাতাল এনাম মেডিকেলে তাকে নেওয়া হয়। দেলোয়ারসহ শত শত আহতরা চিকিৎসা নেয়।

কুটুরিয়া বাসস্ট্যাণ্ডের পল্লি চিকিৎসক আকবর পালোয়ান জানান, মিছিলে ছাত্রলীগ ও পুলিশ হামলা চালায় মো: দেলোয়ার হোসেনের শরীরে আঠারো বিশটার মত গুলি লাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আমি দুই তিনটা গুলি বের করে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য তাকে হাসপাতালে প্রেরণ করি।

৫ আগষ্ট সাভারে আহত জুলাইযোদ্ধা নাজমুল হোসেন বলেন, কুটুরিয়ার দেলোয়ার হোসেন আমার সহযোদ্ধা। আমি এখন পিজি হাসপাতালে ভর্তি। দেলোয়ার ভাইয়ের শরীরে এখনও বুলেট রয়েছে। অন্দোলন করতে যেয়ে আমরা আহত হই।
জুলাই যোদ্ধা সুজন মিয়া বলেন, ৫ আগষ্টে আমি ও দেলোয়ার হোসেন আন্দেলনে অংশগ্রহণ করে আহত হই। আমরা সরকারের কাছে ন্যায্য বিচার দাবি করছি।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ডেফোডিল ইন্টারন্যাশানাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রত্যয় জানান, কুটুরিয়া থেকে আমরা আন্দেলনে অংশগ্রহণ করি আমাদের সাথে দেলোয়ার ভাইও অংশগ্রহণ করে। রেডিও কলোনি যাওয়ার পর আমাদের উপর কাদাঁনে গ্যাস ও গুলি চালানো হয়, তখন অনেকে মৃত্যুবরণ করে। রাতে খবর পাই দেলোয়ার ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমরা রাতেই তাকে দেখতে যাই। সরকারের কাছে ন্যায্য বিচার আশা করছি।

আলাপকালে কিশোরগঞ্জের যশোদলের মো: আ: রহমান ও সেলিনা আক্তারের বড় সন্তান জুলাইযোদ্ধা দেলোয়ার বলেন, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার পতনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ব্যবসার সুবাদে তখনো আমি সাভারের কুটুরিয়ায় বসবাস করতাম। ওখান থেকেই আমি আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলাম। আগস্টের ৫ তারিখ সকাল থেকেই আন্দোলন চলাকালীন সাভার থানার নিকটবর্তী স্থান থেকে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে। এতে আমার সামনেই একজন ছেলে ও একজন মেয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তাদেরকে আমরা রোজ ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাই তারপর আমি আবারো আন্দোলনে শরীক হই, পরে জানতে পারি তারা মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের বাচাঁনো যায়নি। আনুমানিক দুপুর ১২টা আমিসহ কয়েকশত আন্দোলনকারীর শরীরের বিভিন্ন স্থান ছররা গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাই এবং এতে অর্ধশতাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি আরও বলেন, এনাম মেডিকেলের ডাক্তাররা আমার শরীর থেকে বেশ কয়েকটি গুলি বের করেন। পরবর্তীতে গণস্বস্থ্য হাসপাতালে ৩টি অপারেশনের মাধ্যমে ২টি বুলেট বের করা হয়। বর্তমানে মাথায় দুটি ও কোমরে একটি বুলেট রয়েছে। আমি অসুস্থ, ডাক্তারগণ আমাকে উন্নততর চিকিৎসা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। রাতে আমি ঘুমাতে পারি না। অসহনীয় যন্ত্রণায় ছটফট করি। আমার উন্নত চিকিৎসা দরকার।

দেলোয়ারের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও মো: কামরুল হাসান মারুফ জানান, দেলোযার সাহেব আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে তার সাথে আলোচনা করে যেখানেই উন্নত চিকিৎসা নিতে চান আমরা সে ব্যবস্থা করব।