১১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মসজিদে ঢুকে ফারুক মেম্বার ও রাসেল বাহিনীর বর্বর হামলা

  • প্রকাশিত ০৪:১৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০২৪
  • ২৯২ বার দেখা হয়েছে

রক্তাক্ত হলো পবিত্র আল্লাহর ঘর। ১১ রমজানের ২’য় জুম্মার নামাজ চলাকালীন মসজিদে ঢুকে মুসল্লীদের ওপর ইসরায়েলী ইয়াহুদীদের মতো বর্বর হামলা চালিয়েছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু বাহিনী।

প্রায় এক ঘন্টার হামলায় আহত হয়েছেন সাংবাদিক-সহ অন্তত ১০ জন। এরমধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। রমজানের পবিত্রতা নষ্ট করে পরিকল্পিতভাবে এ হামলার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। প্রার্থনার জায়গা রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ।

মসজিদের ভিতর প্রায় এক ঘন্টা চলে সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডব। রমজান মাসের মাগফেরাতের প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা নদীরপাড় (মোল্লাবাড়ি-পশ্চিমপাড়া) মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়ে জড়ো হন শতাধিক মুসল্লীরা। কিন্তু নামাজ পড়ে সহিসালামতে বাড়ি ফিরতে পারেননি অনেকেই। রক্ত ঝরেছে জায়নামাজেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, জুম্মার নামাজরত অবস্থায় মসজিদের ভিতরে ঢুকে হামলা চালায় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু ফারুক মেম্বার ও রাসেল বাহিনী। এ ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেছে মুসল্লীরা। ইসরায়েলী ইয়াহুদী বাহিনীর মতো বর্বরতা চালায় তাঁরা। স্থানীয়দের অভি

যোগ, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ওমর ফারুক ভূঁইয়া এবং কায়েতপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আল হোসাইন রাসেলের নেতৃত্বে এ হামলায় সাংবাদিক-সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সরেজমিনে ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার (২২ মার্চ, ২০২৪) দুপুর অনুমান ১:৪৫ ঘটিকার দিকে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা নদীরপাড় (মোল্লাবাড়ি-পশ্চিমপাড়া) মসজিদের ভিতরে এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, ফারুক মেম্বার ও রাসেল বাহিনীর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মসজিদে আলোচনা হয় এবং তাঁরা নামাজ আদায় করার পর মানববন্ধনের আয়োজন করে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুক মেম্বার ও রাসেল বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়াবহ হামলা করে।

এ বিষয়ে শুক্রবার (২২ মার্চ, ২০২৪) সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ থানায় ফারুক মেম্বারকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট ১৭ জনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মাঝিনা নদীরপাড় (মোল্লাবাড়ি) এলাকার আব্দুল কুদ্দুস। এ হামলায় আহতরা হলেন; ১. আল আমিন (৩৮), পিতা- আব্দুল কুদ্দুস ২. কেরামত আলী (৬৫), পিতা- মাহমুদ আলী মুন্সি ৩. মাহমুদউল্লাহ (৪৫), পিতা- ঈমান আলী সাউদ; সর্ব সাং- মাঝিনা নদীরপাড়, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। এছাড়াও অনলাইন পোর্টাল নারায়ণগঞ্জ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাংবাদিক লিটন হোসেনসহ আরও ৬ জন আহন হন। এ ঘটনায় আহত দশজনের মধ্যে আল আমিনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাঁর পেটে ছুরিকাঘাত করায় এখন তিনি মৃত্যুশয্যায়। আল আমিনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। কেরামত আলী, মাহমুদউল্লাহ ও সাংবাদিক লিটন হোসেনসহ নয়জনকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আহতের স্বজনেরা জানান, ফারুক মেম্বার ও রাসেল বাহিনী এলাকায় অন্যের জমিতে অবৈধভাবে বালু ভরাট ও জমি দখলসহ চাঁদাবাজি, লুটপাট, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রতিবাদ করায় আল আমিনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিলো। তাঁরা আরও বলেন, ফারুক মেম্বার ও রাসেলের বাহিনীর সন্ত্রাসীরা এলাকায় নানা অপরাধে জড়িত। এছাড়াও এই বাহিনীর লোকজনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও ফিটিং দিয়ে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ আছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাঁর উপর চালানো হয় হামলা ও নির্যাতন। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফারুক মেম্বার ও রাসেলের বাহিনীর সন্ত্রাসীদের আগ্রাসনে ভীতসন্ত্রস্ত ও অসহায় এলাকাবাসী। এ নিয়ে অনেকবার বিচারও হয়েছে। কিন্তু কোনো এক রহস্যজনক কারণে আইনের অধরায় ফারুক মেম্বার ও রাসেল। তাদের একের পর এক নানামাত্রিক অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে রূপগঞ্জ থানা-প্রশাসন, ইউএনও এবং জনপ্রতিনিধির কাছে কয়েকবার অভিযোগসহ মানববন্ধনও করেছে এলাকাবাসী। কিন্তু কিছুতেই ফারুক মেম্বার ও রাসেলের বাহিনীর দৌরাত্ম্য থামছে না।

বরং আগের চেয়েও অনেক বেশি বেপরোয়া এই বাহিনী। স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আল আমিন শুক্রবার (২২ মার্চ ২০২৪) জুম্মার নামাজের জন্য মাঝিনা নদীরপাড়, মোল্লাবাড়ি (পশ্চিমপাড়া) মসজিদে গেলে সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ফারুক মেম্বার ও রাসেলের সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। প্রায় ৩০ জন মিলে এ হামলায় অংশগ্রহণ করে। এসময় মসজিদের ভিতরে ঢুকে আল আমিনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত আল আমিনকে রক্ষা করতে স্থানীয় বাসিন্দা কেরামত আলী ও মাহমুদউল্লাহ এগিয়ে আসলে ফারুক মেম্বার ও রাসেলের সঙ্গীরা তাদেরকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আঘাত করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা আহত আল আমিন বলেন, ‘কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ওমর ফারুক ভূঁইয়া ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আল হোসাইন রাসেল তাদের দলবল নিয়ে মসজিদের ভিতরে ঢুকে আমার উপর হামলা চালায়।

মূলত এলাকাবাসীকে রক্ষায় তাঁর বাহিনীর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদই আমার জন্য কাল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এলাকার ত্রাস ফারুক মেম্বার ও রাসেলের নির্দেশে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আমার উপর এ হামলা করেছে। আমি এর সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার চাই।’ অভিযুক্তরা হলেন- ১. ওমর ফারুক ভূঁইয়া (৩০), পিতা- আব্দুর রশীদ ভূঁইয়া, (তিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার) ২. মোস্তফা আল হোসাইন রাসেল (৩৮) পিতা- আব্দুল খালেক; (তিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক) উভয় সাং- ইছাখালী, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। ৩. মেহেদী হাসান (২৬) পিতা- ইকবাল হোসেন ডিব্বা, ৪. মনির (৪৮) পিতা- মৃত আব্দুল মতিন, ৫. মিলন (২৮) পিতা- মৃত লাল মাহমুদ, ৬. শান্ত (২৪) পিতা- মোর্শেদ, ৭. রাজন (২৪) পিতা- অজ্ঞাত, মাতা- নাজমা বেগম, ৮. ছানু (৪০) পিতা- মৃত রইস মিয়া, ৯. মুরাদ (২৫) পিতা- আইয়ুব হোসেন, ১০. কাইউম (২৪) পিতা- মনির, ১১. রাকিব (২৫) পিতা- আমান, ১২. মুন্না (২৬) পিতা- শরীফ, ১৩. জাহাঙ্গীর (৩২) পিতা- অজ্ঞাত, ১৪. লোকমান (৪০) পিতা- আব্দুল আজিজ, ১৫. মহসিন (৩৮) পিতা- মোশাররফ; সর্ব সাং- মাঝিনা নদীরপাড়, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। ১৬. সাগর মিয়া (৩২) পিতা- খোকন, ১৭. হিমেল (২২) পিতা- সাইদুল ইসলাম; উভয় সাং- রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন (মাউছপাড়া), রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফারুক মেম্বার ও রাসেলের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানাসহ আশপাশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এহেন কোনো অপকর্ম নেই, যা তাঁরা করেননা।

তাদের কাছে জিম্মি এলাকাবাসী। এ বিষয়ে জানতে ফারুক মেম্বারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি ও তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি, তাঁকে ফোনে এসএমএস করা হলেও তাঁর রিপ্লাই দেননি। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার বলেন, ‘থানায় অভিযোগ করেছেন আহতের স্বজনেরা। তদন্ত করে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

মসজিদে ঢুকে ফারুক মেম্বার ও রাসেল বাহিনীর বর্বর হামলা

প্রকাশিত ০৪:১৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০২৪

রক্তাক্ত হলো পবিত্র আল্লাহর ঘর। ১১ রমজানের ২’য় জুম্মার নামাজ চলাকালীন মসজিদে ঢুকে মুসল্লীদের ওপর ইসরায়েলী ইয়াহুদীদের মতো বর্বর হামলা চালিয়েছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু বাহিনী।

প্রায় এক ঘন্টার হামলায় আহত হয়েছেন সাংবাদিক-সহ অন্তত ১০ জন। এরমধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। রমজানের পবিত্রতা নষ্ট করে পরিকল্পিতভাবে এ হামলার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। প্রার্থনার জায়গা রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ।

মসজিদের ভিতর প্রায় এক ঘন্টা চলে সন্ত্রাসী বাহিনীর তান্ডব। রমজান মাসের মাগফেরাতের প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা নদীরপাড় (মোল্লাবাড়ি-পশ্চিমপাড়া) মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়ে জড়ো হন শতাধিক মুসল্লীরা। কিন্তু নামাজ পড়ে সহিসালামতে বাড়ি ফিরতে পারেননি অনেকেই। রক্ত ঝরেছে জায়নামাজেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, জুম্মার নামাজরত অবস্থায় মসজিদের ভিতরে ঢুকে হামলা চালায় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু ফারুক মেম্বার ও রাসেল বাহিনী। এ ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেছে মুসল্লীরা। ইসরায়েলী ইয়াহুদী বাহিনীর মতো বর্বরতা চালায় তাঁরা। স্থানীয়দের অভি

যোগ, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ওমর ফারুক ভূঁইয়া এবং কায়েতপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আল হোসাইন রাসেলের নেতৃত্বে এ হামলায় সাংবাদিক-সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সরেজমিনে ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার (২২ মার্চ, ২০২৪) দুপুর অনুমান ১:৪৫ ঘটিকার দিকে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের মাঝিনা নদীরপাড় (মোল্লাবাড়ি-পশ্চিমপাড়া) মসজিদের ভিতরে এ বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, ফারুক মেম্বার ও রাসেল বাহিনীর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে মসজিদে আলোচনা হয় এবং তাঁরা নামাজ আদায় করার পর মানববন্ধনের আয়োজন করে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুক মেম্বার ও রাসেল বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়াবহ হামলা করে।

এ বিষয়ে শুক্রবার (২২ মার্চ, ২০২৪) সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ থানায় ফারুক মেম্বারকে প্রধান অভিযুক্ত করে মোট ১৭ জনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মাঝিনা নদীরপাড় (মোল্লাবাড়ি) এলাকার আব্দুল কুদ্দুস। এ হামলায় আহতরা হলেন; ১. আল আমিন (৩৮), পিতা- আব্দুল কুদ্দুস ২. কেরামত আলী (৬৫), পিতা- মাহমুদ আলী মুন্সি ৩. মাহমুদউল্লাহ (৪৫), পিতা- ঈমান আলী সাউদ; সর্ব সাং- মাঝিনা নদীরপাড়, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। এছাড়াও অনলাইন পোর্টাল নারায়ণগঞ্জ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাংবাদিক লিটন হোসেনসহ আরও ৬ জন আহন হন। এ ঘটনায় আহত দশজনের মধ্যে আল আমিনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। তাঁর পেটে ছুরিকাঘাত করায় এখন তিনি মৃত্যুশয্যায়। আল আমিনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। কেরামত আলী, মাহমুদউল্লাহ ও সাংবাদিক লিটন হোসেনসহ নয়জনকে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আহতের স্বজনেরা জানান, ফারুক মেম্বার ও রাসেল বাহিনী এলাকায় অন্যের জমিতে অবৈধভাবে বালু ভরাট ও জমি দখলসহ চাঁদাবাজি, লুটপাট, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রতিবাদ করায় আল আমিনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিলো। তাঁরা আরও বলেন, ফারুক মেম্বার ও রাসেলের বাহিনীর সন্ত্রাসীরা এলাকায় নানা অপরাধে জড়িত। এছাড়াও এই বাহিনীর লোকজনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও ফিটিং দিয়ে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ আছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাঁর উপর চালানো হয় হামলা ও নির্যাতন। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফারুক মেম্বার ও রাসেলের বাহিনীর সন্ত্রাসীদের আগ্রাসনে ভীতসন্ত্রস্ত ও অসহায় এলাকাবাসী। এ নিয়ে অনেকবার বিচারও হয়েছে। কিন্তু কোনো এক রহস্যজনক কারণে আইনের অধরায় ফারুক মেম্বার ও রাসেল। তাদের একের পর এক নানামাত্রিক অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে রূপগঞ্জ থানা-প্রশাসন, ইউএনও এবং জনপ্রতিনিধির কাছে কয়েকবার অভিযোগসহ মানববন্ধনও করেছে এলাকাবাসী। কিন্তু কিছুতেই ফারুক মেম্বার ও রাসেলের বাহিনীর দৌরাত্ম্য থামছে না।

বরং আগের চেয়েও অনেক বেশি বেপরোয়া এই বাহিনী। স্থানীয় সূত্র জানায়, আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আল আমিন শুক্রবার (২২ মার্চ ২০২৪) জুম্মার নামাজের জন্য মাঝিনা নদীরপাড়, মোল্লাবাড়ি (পশ্চিমপাড়া) মসজিদে গেলে সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ফারুক মেম্বার ও রাসেলের সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। প্রায় ৩০ জন মিলে এ হামলায় অংশগ্রহণ করে। এসময় মসজিদের ভিতরে ঢুকে আল আমিনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ও পেটে ছুরিকাঘাত করে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত আল আমিনকে রক্ষা করতে স্থানীয় বাসিন্দা কেরামত আলী ও মাহমুদউল্লাহ এগিয়ে আসলে ফারুক মেম্বার ও রাসেলের সঙ্গীরা তাদেরকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আঘাত করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা আহত আল আমিন বলেন, ‘কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ওমর ফারুক ভূঁইয়া ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আল হোসাইন রাসেল তাদের দলবল নিয়ে মসজিদের ভিতরে ঢুকে আমার উপর হামলা চালায়।

মূলত এলাকাবাসীকে রক্ষায় তাঁর বাহিনীর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদই আমার জন্য কাল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এলাকার ত্রাস ফারুক মেম্বার ও রাসেলের নির্দেশে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আমার উপর এ হামলা করেছে। আমি এর সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার চাই।’ অভিযুক্তরা হলেন- ১. ওমর ফারুক ভূঁইয়া (৩০), পিতা- আব্দুর রশীদ ভূঁইয়া, (তিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার) ২. মোস্তফা আল হোসাইন রাসেল (৩৮) পিতা- আব্দুল খালেক; (তিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক) উভয় সাং- ইছাখালী, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। ৩. মেহেদী হাসান (২৬) পিতা- ইকবাল হোসেন ডিব্বা, ৪. মনির (৪৮) পিতা- মৃত আব্দুল মতিন, ৫. মিলন (২৮) পিতা- মৃত লাল মাহমুদ, ৬. শান্ত (২৪) পিতা- মোর্শেদ, ৭. রাজন (২৪) পিতা- অজ্ঞাত, মাতা- নাজমা বেগম, ৮. ছানু (৪০) পিতা- মৃত রইস মিয়া, ৯. মুরাদ (২৫) পিতা- আইয়ুব হোসেন, ১০. কাইউম (২৪) পিতা- মনির, ১১. রাকিব (২৫) পিতা- আমান, ১২. মুন্না (২৬) পিতা- শরীফ, ১৩. জাহাঙ্গীর (৩২) পিতা- অজ্ঞাত, ১৪. লোকমান (৪০) পিতা- আব্দুল আজিজ, ১৫. মহসিন (৩৮) পিতা- মোশাররফ; সর্ব সাং- মাঝিনা নদীরপাড়, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। ১৬. সাগর মিয়া (৩২) পিতা- খোকন, ১৭. হিমেল (২২) পিতা- সাইদুল ইসলাম; উভয় সাং- রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন (মাউছপাড়া), রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফারুক মেম্বার ও রাসেলের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানাসহ আশপাশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এহেন কোনো অপকর্ম নেই, যা তাঁরা করেননা।

তাদের কাছে জিম্মি এলাকাবাসী। এ বিষয়ে জানতে ফারুক মেম্বারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি ও তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি, তাঁকে ফোনে এসএমএস করা হলেও তাঁর রিপ্লাই দেননি। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার বলেন, ‘থানায় অভিযোগ করেছেন আহতের স্বজনেরা। তদন্ত করে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’