১০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মোহাম্মদ আকবর হোসেন ভুঁইয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

ভূমি মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা রামগড় স্থলবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ

  • প্রকাশিত ০৮:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩৮ বার দেখা হয়েছে

৫ বছর পূর্বে প্রতি শতক ৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিলেও
বর্তমানে প্রতি শতকের মূল্য ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা নির্ধারণ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সাবেক মহকুমা শহর রামগড় স্থলবন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন করে অধিগ্রহণের জন্য জমির ধার্য্য করা মূল্য প্রকৃত মূল্যের (বাজার মূল্যের) কয়েকগুণ কম বলে অভিযোগ করেছেন ভূমি মালিকেরা। এ নিয়ে ভূমি মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভূমি মালিকেরা অভিযোগ করেন, ৫ বছর পূর্বে একই প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির যে মূল্যে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়েছে, এখন একই খতিয়ান ও দাগের ভূমির ধার্য্যকৃত মূল্য পূর্বের তুলনায় কয়েকগুণ কম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রামগড় ¯স্থলবন্দর সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়ে) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ একর জমি নতুন করে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ভূমির মালিকদের কাছে জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে প্রতি শতক ভূমি ক্ষতিপূরণ অর্থের পরিমাণ ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৪০১ টাকা উল্লেখ করা হয়। নোটিশ হাতে পাওয়ার পর ক্ষতিপূরণের টাকার পরিমাণ দেখে ভূমির মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। উগ্যজাই মারমা নামে ভূমির মালিক বলেন, ২০২০ সালে রামগড় স্থলবন্দরের জন্য একই খতিয়ানের একই দাগের অধিগ্রহণ করা ভূমির ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় প্রতি শতকে ৭ লক্ষ টাকা হারে। অথচ ৫ বছর পর একই জায়গার ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারন করা হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা। দীলিপ রক্ষিত নামে অপর এক ভূমি মালিক বলেন, বর্তমানে ঐ ভূমির প্রতি শতকের মূল্য ৩-৪ লক্ষ টাকা। ক্ষতিপূরণের নিয়ম অনযায়ী ৩ গুণ মূল্যে প্রতি শতক ৯-১২ লক্ষ টাকা হওয়ার কথা। রিভা মারমা নামে আরেকজন বলেন, অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ৬ একর ভূমির মালিক প্রায় ৪০ পরিবার। এদের মধ্যে অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবার। অধিকাংশ ভূমির মালিকেই অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায়। দেশের উন্নয়নে আমরা সকলেই ভূমি দিতে রাজি। কিন্তু আমাদের ন্যায্য মূল্য দিতে হবে।

আরেক জমির মালিক আবু তাহের বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ জারির পূর্বের ১২ মাসে সম-সুবিধা ও সম-শ্রেণীভুক্ত ভূমির ক্রয়-বিক্রয়ের মূল্য পর্যালোচনা করে ক্ষতিপূরণের জন্য গড় মূল্য নির্ধারণ করার কথা। কিন্তু এ নিয়ম না মেনে প্রত্যন্ত এলাকার অনুন্নত ভূমির কেনাবেচার মূল্য অনুপাতে আমাদের উচ্চমূল্যে ভূমিগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভূমির মালিকেরা জানান, অধিগ্রহণের ন্যায্যমূল্যে ক্ষতিপূরণের জন্য তারা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, অধিগ্রহণ আইনের ধারা অনুসরণ করে এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে গত ২১ আগষ্ট রামগড় স্থলবন্দর প্রকল্প পরিদর্শন শেষে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) কবির আহামদ ভূমি অধিগ্রহণের মূল্য নিয়ে ভূমি মালিকদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের ব্যাপারে বলেন, ‘জমির মালিকরা যেন ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান তা অবশ্যই দেখবো। এ ব্যাপারে ডিসি সাহেবের সাথে কথা বলবো’।

Tag :
জনপ্রিয়

তারেক রহমান যেন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে না পারে, সে জন্য ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত

মোহাম্মদ আকবর হোসেন ভুঁইয়া, পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

ভূমি মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা রামগড় স্থলবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ

প্রকাশিত ০৮:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

৫ বছর পূর্বে প্রতি শতক ৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিলেও
বর্তমানে প্রতি শতকের মূল্য ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা নির্ধারণ

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সাবেক মহকুমা শহর রামগড় স্থলবন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন করে অধিগ্রহণের জন্য জমির ধার্য্য করা মূল্য প্রকৃত মূল্যের (বাজার মূল্যের) কয়েকগুণ কম বলে অভিযোগ করেছেন ভূমি মালিকেরা। এ নিয়ে ভূমি মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভূমি মালিকেরা অভিযোগ করেন, ৫ বছর পূর্বে একই প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির যে মূল্যে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়েছে, এখন একই খতিয়ান ও দাগের ভূমির ধার্য্যকৃত মূল্য পূর্বের তুলনায় কয়েকগুণ কম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রামগড় ¯স্থলবন্দর সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়ে) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ একর জমি নতুন করে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ভূমির মালিকদের কাছে জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে প্রতি শতক ভূমি ক্ষতিপূরণ অর্থের পরিমাণ ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৪০১ টাকা উল্লেখ করা হয়। নোটিশ হাতে পাওয়ার পর ক্ষতিপূরণের টাকার পরিমাণ দেখে ভূমির মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। উগ্যজাই মারমা নামে ভূমির মালিক বলেন, ২০২০ সালে রামগড় স্থলবন্দরের জন্য একই খতিয়ানের একই দাগের অধিগ্রহণ করা ভূমির ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় প্রতি শতকে ৭ লক্ষ টাকা হারে। অথচ ৫ বছর পর একই জায়গার ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারন করা হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা। দীলিপ রক্ষিত নামে অপর এক ভূমি মালিক বলেন, বর্তমানে ঐ ভূমির প্রতি শতকের মূল্য ৩-৪ লক্ষ টাকা। ক্ষতিপূরণের নিয়ম অনযায়ী ৩ গুণ মূল্যে প্রতি শতক ৯-১২ লক্ষ টাকা হওয়ার কথা। রিভা মারমা নামে আরেকজন বলেন, অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত ৬ একর ভূমির মালিক প্রায় ৪০ পরিবার। এদের মধ্যে অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবার। অধিকাংশ ভূমির মালিকেই অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায়। দেশের উন্নয়নে আমরা সকলেই ভূমি দিতে রাজি। কিন্তু আমাদের ন্যায্য মূল্য দিতে হবে।

আরেক জমির মালিক আবু তাহের বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ জারির পূর্বের ১২ মাসে সম-সুবিধা ও সম-শ্রেণীভুক্ত ভূমির ক্রয়-বিক্রয়ের মূল্য পর্যালোচনা করে ক্ষতিপূরণের জন্য গড় মূল্য নির্ধারণ করার কথা। কিন্তু এ নিয়ম না মেনে প্রত্যন্ত এলাকার অনুন্নত ভূমির কেনাবেচার মূল্য অনুপাতে আমাদের উচ্চমূল্যে ভূমিগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভূমির মালিকেরা জানান, অধিগ্রহণের ন্যায্যমূল্যে ক্ষতিপূরণের জন্য তারা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, অধিগ্রহণ আইনের ধারা অনুসরণ করে এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে গত ২১ আগষ্ট রামগড় স্থলবন্দর প্রকল্প পরিদর্শন শেষে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) কবির আহামদ ভূমি অধিগ্রহণের মূল্য নিয়ে ভূমি মালিকদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের ব্যাপারে বলেন, ‘জমির মালিকরা যেন ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান তা অবশ্যই দেখবো। এ ব্যাপারে ডিসি সাহেবের সাথে কথা বলবো’।