১০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শেখ সাদী সুমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতি নিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘ধর্ষণের’ পর সেই দুই ছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়

  • প্রকাশিত ০৬:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৪
  • ১৮০ বার দেখা হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজ সেই দুই ছাত্রীকে ‘ধর্ষণের’ পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে জানিয়েছেন চিকিৎসক এবং ময়নাতদন্তে এ সংক্রান্ত আলামত পেয়েছেন তারা। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের সাদেকপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত চারদিন যাবত নিখোঁজ ছিলেন এই দুই শিক্ষার্থী। বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। নিহত দুই শিক্ষার্থী উপজেলার ময়না বেগম ইসলামিয়া হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয় লোকজন, মাদ্রাসা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যায় ওই দুই শিক্ষার্থী। সকালে তাদের কক্ষের দরজা খোলা দেখতে পান মাদ্রাসার লোকজন। পরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বিষয়টি দুই শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের জানান। দুই শিক্ষার্থীর বাবাসহ পরিবারের লোকজন ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বিষয়টি নিয়ে জেলা শহরের কাজীপাড়ার কবিরাজ (খনকার) জামাল মিয়ার কাছে যান। দুই শিক্ষার্থী দ্রুত বাসায় ফিরে আসবেন বলে পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন ওই কবিরাজ। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের সাদেকপুর মসজিদের পূর্বদিকের কাঁচার রাস্তার পাশে দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুমন ভূইয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্নকারী চিকিৎসক অনিক দেব বলেন, দুপুরে দুই শিক্ষার্থীর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। তাদের স্পর্শকাতর স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চার দিন আগে তারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ধর্ষণের বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে তাদের সোয়াব নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত সোয়াব পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে। দুই শিক্ষার্থীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত এক ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন বলেন, মাদ্রাসার এক শিক্ষক ঘটনার পর থেকে একেক ধরনের কথা বলছেন। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এরই মধ্যে ওই শিক্ষক পালিয়ে গেছেন।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নেওয়া হয়। মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক, প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষার্থী কাউকেই পাওয়া যায়নি। তারা পলাতক। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে শিক্ষক ও পরিবারের লোকজনের অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

শেখ সাদী সুমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতি নিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘ধর্ষণের’ পর সেই দুই ছাত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়

প্রকাশিত ০৬:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজ সেই দুই ছাত্রীকে ‘ধর্ষণের’ পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে জানিয়েছেন চিকিৎসক এবং ময়নাতদন্তে এ সংক্রান্ত আলামত পেয়েছেন তারা। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের সাদেকপুর গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত চারদিন যাবত নিখোঁজ ছিলেন এই দুই শিক্ষার্থী। বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। নিহত দুই শিক্ষার্থী উপজেলার ময়না বেগম ইসলামিয়া হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয় লোকজন, মাদ্রাসা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যায় ওই দুই শিক্ষার্থী। সকালে তাদের কক্ষের দরজা খোলা দেখতে পান মাদ্রাসার লোকজন। পরে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বিষয়টি দুই শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের জানান। দুই শিক্ষার্থীর বাবাসহ পরিবারের লোকজন ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা বিষয়টি নিয়ে জেলা শহরের কাজীপাড়ার কবিরাজ (খনকার) জামাল মিয়ার কাছে যান। দুই শিক্ষার্থী দ্রুত বাসায় ফিরে আসবেন বলে পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন ওই কবিরাজ। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের সাদেকপুর মসজিদের পূর্বদিকের কাঁচার রাস্তার পাশে দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুমন ভূইয়া ও ময়নাতদন্ত সম্পন্নকারী চিকিৎসক অনিক দেব বলেন, দুপুরে দুই শিক্ষার্থীর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। তাদের স্পর্শকাতর স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। চার দিন আগে তারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ধর্ষণের বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে তাদের সোয়াব নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত সোয়াব পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হবে। দুই শিক্ষার্থীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত এক ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন বলেন, মাদ্রাসার এক শিক্ষক ঘটনার পর থেকে একেক ধরনের কথা বলছেন। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এরই মধ্যে ওই শিক্ষক পালিয়ে গেছেন।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় নেওয়া হয়। মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক, প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষার্থী কাউকেই পাওয়া যায়নি। তারা পলাতক। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে এ বিষয়ে শিক্ষক ও পরিবারের লোকজনের অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।