০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
রাজু আলীম :

বিএফডিসি সংস্কারে যত বাঁধাই আসুক, সংস্কার করবোই মাসুমা রহমান তানি, এমডি, বিএফডিসি

  • প্রকাশিত ০৩:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫
  • ৩০ বার দেখা হয়েছে

গত ৫ আগস্ট পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন বিএফডিসির এমডি পদে যুক্ত হয়েছেন পরিচালক সমিতির সদস্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মাসুমা রহমান তানি। যিনি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় কর্মী। এমডি হিসেবে বিএফডিসির সংস্কার এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চ্যানেল আইয়ের মুখোমুখি হন তিনি। বলেন এফডিসির সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সরকারের ভবীষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের কার্যক্রমে বিএফডিসিতে এমডি হিসেবে নিযুক্ত হবার নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন মাসুমা রহমান তানি।

তিনি বলেন ‘আমরা আসলে অনেক দুরবস্থার মধ্যে আছি। এ জন্য বিষয়টা চ্যালেঞ্জিং। কারণ এফডিসি আমার অনেক ভালোবাসার একটা জায়গা। এফডিসিতে আমার প্রথম আসা, একজন ডিরেক্টর হিসেবে। পরিচালক হিসেবে। সেই প্রথম যখন এসেছি। আমার কাছে প্রথমেই এটার প্রতি একটা অদ্ভুত মায়া কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল আমার আমার ইউনিভার্সিটি বা আমার ক্যাম্পাস। আমি চারুকলা থেকে আসা। ওখানটার জন্য আমার যেমন একটা একটা মায়া, ওটা যেমন সেকেন্ড হোম টাইপের একটা ফিল দিত, সে রকম একটা অনুভূতি জন্ম হয় এফডিসিতে প্রথম আসার দিন থেকেই। আমাদের বয়সী যারা নির্মাতা তারা বেশিরভাগই আসলে এফডিসির এই মাটায় আছেন। এই মায়া সবার কাছেই কাজ করে। তবে বেশিরভাগই আসলে এফডিসি থেকে একটু দূরে থাকতেই পছন্দ করেন। কারণ বলা হয় এখানে কিছু নাই, ধ্বংসপ্রাপ্ত। এখানে এই জায়গাটা নিয়ে আসলে নানা রকম অপপ্রচার আছে যেটা ঠিক না।

বিএফডিসির সমস্যা, সঙ্কট ও পরিস্থিতি নিয়ে মাসুমা রহমান তানি বলেন, শুরুর সময় থেকে একজন ডিরেক্টর হিসেবে এখানকার সমস্যাগুলা দেখতাম। এখন চাই সেই সমস্যাগুলো সমাধান করা হোক। আসলে একজন ডিরেক্টরের পক্ষে এফডিসির আভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না। সেই জায়গা থেকে ওইটুকু অনুধাবন করাই সম্ভব যে আসলে কী কী কারণে ডিরেক্টর প্রডিউসাররা বিমুখ হচ্ছেন। সেই জায়গা থেকে আমি জানি, ডিরেক্টর প্রডিউসার কী কারণে বিমুখ হচ্ছেন। এখন যখন এই জায়গায় আল্লাহতালা আমাকে পৌঁছে দিয়েছেন, এই চেয়ারে বসে আমি জানি এখানকার মানুষগুলো আসলে কতটা দায়িত্ব মাথায় নিয়ে চলে। কিন্তু সাপোর্টটা নাই। মিনিমাম ব্যাকআপটা তাদের জন্য নাই। এরা এমন না যে এখানে কোন সার্ভিস বা কোন কিছু তাদেরকে দিতে চাচ্ছেন না। তাদের কাছে রিসোর্স গুলা নাই। তাদের কাছে যে ফ্লোর গুলো আছে, সেই ফ্লোর গুলার খুব খারাপ অবস্থা।
এই সরকার এসে, পাঁচ তারিখের পরে কিছু জিনিস সংস্কার করার পর, দুটো ফ্লোর ভাড়া হচ্ছে রেগুলার। অনেক নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা ছিল। যে কারণে মানুষ আরও অনুৎসাহিত হতো। ভাড়া বেশি ছিল। ভাড়া একদম কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এই সরকার আসার পরে ফ্লোর গুলো কিছু সংস্কার করা হয়েছে। যেটা করার পরে দুটা ফ্লোর ব্যবহার করা যাচ্ছে এবং এগুলো কিন্তু রেগুলার ভাড়া হচ্ছে।

বিএফডিসির সংকট, সম্ভাবনা, পরিকল্পনা নিয়ে মাসুমা রহমান তানি বলেন, আপনারা নিজেরাও অনেকটা জানেন যে সময়ের সাথে সাথে আপডেট না হওয়া ইকুইপমেন্ট, ক্যামেরা, আমাদের লাইট বা আমাদের যে এডিটিং প্যানেলের যন্ত্রপাতি, সেগুলো কিছুই পর্যাপ্ত নাই। আমি আপনাকে বললাম নাই! এ কারণে বললাম যে এ গুলো হচ্ছে ছোট ছোট নাই। যেগুলো খুব সহজেই আছেতে পরিণত করা যায়। এগুলোর জন্য শত শত কোটি টাকার মেগা প্রজেক্টের দরকার হয় না। এবং এই জিনিসটাই যদি করা হয়, আমার মনে হয় পরিস্থিতি বদলে যাবে। যে সাতটা ফ্লোর এফডিসিতে আছে, সেটা একটা প্রাইম লোকেশনে আছে। শুটিং সংশ্লিষ্ট মানুষ হিসেবে অনেকেই জানেন, এরকম একটা লোকেশনে যদি আমাদের নির্মাতারা ফ্লোর পায়, ঠিকঠাক মতো সব সুবিধা পায়, তাহলে কি তারা দূরে কোথাও যাবে শুটিং করতে? নেগেটিভ কথা অনেক কিছু শুনেছেন। এখন শুনেন পজিটিভি কথা। এখানে সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো লোকেশন। এখানকার যত জায়গা আছে, যতখানি জায়গা আছে, যত বড় বড় ফ্লোর আছে তা কিন্তু অনেক বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিতেও নাই। সেগুলো যদি আমরা ব্যবহার উপযোগী করে ফেলি, তারা বাইরে যেই সেবাটা পায়, সেই সেবাটা যদি এখানে ঠিকঠাক ভাবে দিতে পারি তাহলে বাইরের নির্মাতারাও আসবেন এখানে। পুরস্কার থেকে শুরু করে চ্যানেলে যারা আছেন তারা সবাই আসবেন। সবাই আমাদের কাছে মোস্ট ওয়েলকাম। আমি, আমরা ওই জিনিসগুলো দেয়ার চেষ্টা করব|
আমার যে প্ল্যানটা আছে তা হলো আগামী ছ মাসের মধ্যে ছোট বাজেটের যে পরিকল্পনা আছে তা বাস্তবায়ন করা। এখানকার রিসোর্সগুলা কাজে লাগানো।

বিএফডিসির সংস্কার প্রসঙ্গে নবনিযুক্ত এমডি বলেন, প্রতিবন্ধকতা বলতে, আমাদের এখানে কিছু ইকুইপমেন্ট নাই। আমাদের ক্যামেরা লেন্স, যে লাইট এগুলো সরবরাহ নাই। দুই একটা ছাড়া বাকিগুলো মিউজিয়ামে রাখা যায়। মানে একটা আর্কাইভ করে সেখানে রাখার মতোই। তাছাড়া আমরা যে প্রজেক্ট রেডি করছি তাতে আমাদের সচিব সাহেব খুব সাপোর্টিভ। আমাদের যে উপদেষ্টা মহোদয় এসেছেন এবং নতুন আগের উপদেষ্টার কাছেও আমরা সার্বিকভাবে কৃতজ্ঞ। এখন যে উপদেষ্টায় এসেছেন উনি চলচ্চিত্র বান্ধব। আমি জানি উনি সিনেমা নিয়ে আগ্রহী এবং উনি এসব নিয়ে পড়ালেখাও করেন। সে জন্য আমি আরো আশাবাদী। আমাদের যে স্বপ্নগুলো সেগুলো উনি নিশ্চয়ই বুঝবেন। উনি একজন সিনেমা প্রেমী মানুষ হিসেবেই বিএফডিসির জন্য একটা আলাদা সদয় দৃষ্টি উনি রাখবেন।

বিএফডিসির এমডির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কতটুকু চাপ অনুভব করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়, আল্লাহতালার ইচ্ছায় সরকার যখন আমাকে এই সুযোগটা দিয়েছে, আমাদের মহান জুলাই এর বিনিময়ে, সেইখানে যেন সত্যি সংস্কারটা করতে পারি। সেটার জন্য যতটা ভয়ভীতি বা যতটুকু প্রেসার আসুক সবকিছু পার হয়ে আমি এটা করবই। করার চেষ্টা করেই যাব। সেজন্যই আপনাদের সাথে যোগাযোগ রাখা। এই জায়গা থেকে নরমালি এই যোগাযোগ গুলো করা হয় না। কিন্তু আমি চাই মানুষ প্রত্যেকে আমাদের জানুক যে আমরা কী কী করছি। আপনাদের মাধ্যমে পৌঁছে যাক। বিএফডিসি আসলে এরকম আড়ালে রাখা ধ্বংসস্তুপ না। আপনারা আসেন, বিএফডিসি সব রকম সেবা দিতে প্রস্তুত। নিজের যা কিছু লাগে তার সবকিছু আমরা ইনশাল্লাহ গুছিয়ে ফেলবো।

এফডিসিকে নতুন রূপে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে কারা বিরোধীতা করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো আসলে কাউকে বিরোধিতা করতে দেখছি না। কারণ আমি এখানকারই মেয়ে। আমি চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সদস্য, আমি প্রডিউসার সমিতির সদস্য। এখানে সব সময়ের আনাগোনা আমার। আমাকে প্রত্যেকে শুভকামনা জানিয়েছেন প্রত্যেকে আমাকে দোয়া করেছেন এবং প্রত্যেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। শুধু ফুলের শুভেচ্ছা না। আমি নিজেই মানা করে দিয়েছি যে এইসব আনুষ্ঠানিকতার কোন প্রয়োজন নাই।

সিনেমা সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করে বিএফডিসি পরিচালনা প্রসঙ্গে এফিডিসির নবনিযুক্ত এমডি বলেন, আমি শুধু তাদের কাছে চেয়েছি বিএফডিসির যেই উন্নয়নটা যে সংস্কারটা আমি করতে চাচ্ছি তারা যেন তাদের সব রকম সহযোগিতা, তাদের দোয়া এবং পরামর্শ দিয়ে আমার সাথে থাকেন। এফডিসি কে আসলে আগের জায়গায় নিতে হলে সিনেমা সংশ্লিষ্ট মানুষদের সিনেমা নিয়ে কাজ বাড়াতে হবে। এর বিকল্প নাই। সিনেমা সম্পর্কিত যাবতীয় সেবা যখন এখানে সহজেই পাওয়া যাবে তখন এটুকু ছাড়া আর কিচ্ছু করা প্রয়োজন হবে না।
এখান থেকে একটা সিনেমা বানাতে যা কিছু প্রয়োজন হবে তার সব ব্যবস্থা এখানে আছে। যে জিনিসগুলো একটু আপডেট করা উচিত, যে রিসোর্সগুলো একটু গুছিয়ে নেয়া উচিত সেগুলো আমরা গুছিয়ে নিব। আর যে বড় প্ল্যানগুলো আছে সেগুলো তো আছেই। আমরা চেষ্টা করবো সবাই মিলে বিএফডিসিকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার যেখানে একজন নির্মাতা, সে নতুন হোক, পুরাতন হোক, সে সিনেমা বানাতে যেয়ে যেন সব রকমের সহযোগিতা বিএফডিসি থেকে পায়। এটুকু যখন মানুষ পেয়ে যাবে তখন আসলে এই জনশূন্য হয়ে পড়ে থাকা বা পরিত্যক্ত হয়ে থাকার প্রশ্নই আসবে না ইনশাআল্লাহ।

 

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

রাজু আলীম :

বিএফডিসি সংস্কারে যত বাঁধাই আসুক, সংস্কার করবোই মাসুমা রহমান তানি, এমডি, বিএফডিসি

প্রকাশিত ০৩:৪৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫

গত ৫ আগস্ট পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন বিএফডিসির এমডি পদে যুক্ত হয়েছেন পরিচালক সমিতির সদস্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মাসুমা রহমান তানি। যিনি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় কর্মী। এমডি হিসেবে বিএফডিসির সংস্কার এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চ্যানেল আইয়ের মুখোমুখি হন তিনি। বলেন এফডিসির সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সরকারের ভবীষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের কার্যক্রমে বিএফডিসিতে এমডি হিসেবে নিযুক্ত হবার নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন মাসুমা রহমান তানি।

তিনি বলেন ‘আমরা আসলে অনেক দুরবস্থার মধ্যে আছি। এ জন্য বিষয়টা চ্যালেঞ্জিং। কারণ এফডিসি আমার অনেক ভালোবাসার একটা জায়গা। এফডিসিতে আমার প্রথম আসা, একজন ডিরেক্টর হিসেবে। পরিচালক হিসেবে। সেই প্রথম যখন এসেছি। আমার কাছে প্রথমেই এটার প্রতি একটা অদ্ভুত মায়া কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল আমার আমার ইউনিভার্সিটি বা আমার ক্যাম্পাস। আমি চারুকলা থেকে আসা। ওখানটার জন্য আমার যেমন একটা একটা মায়া, ওটা যেমন সেকেন্ড হোম টাইপের একটা ফিল দিত, সে রকম একটা অনুভূতি জন্ম হয় এফডিসিতে প্রথম আসার দিন থেকেই। আমাদের বয়সী যারা নির্মাতা তারা বেশিরভাগই আসলে এফডিসির এই মাটায় আছেন। এই মায়া সবার কাছেই কাজ করে। তবে বেশিরভাগই আসলে এফডিসি থেকে একটু দূরে থাকতেই পছন্দ করেন। কারণ বলা হয় এখানে কিছু নাই, ধ্বংসপ্রাপ্ত। এখানে এই জায়গাটা নিয়ে আসলে নানা রকম অপপ্রচার আছে যেটা ঠিক না।

বিএফডিসির সমস্যা, সঙ্কট ও পরিস্থিতি নিয়ে মাসুমা রহমান তানি বলেন, শুরুর সময় থেকে একজন ডিরেক্টর হিসেবে এখানকার সমস্যাগুলা দেখতাম। এখন চাই সেই সমস্যাগুলো সমাধান করা হোক। আসলে একজন ডিরেক্টরের পক্ষে এফডিসির আভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব না। সেই জায়গা থেকে ওইটুকু অনুধাবন করাই সম্ভব যে আসলে কী কী কারণে ডিরেক্টর প্রডিউসাররা বিমুখ হচ্ছেন। সেই জায়গা থেকে আমি জানি, ডিরেক্টর প্রডিউসার কী কারণে বিমুখ হচ্ছেন। এখন যখন এই জায়গায় আল্লাহতালা আমাকে পৌঁছে দিয়েছেন, এই চেয়ারে বসে আমি জানি এখানকার মানুষগুলো আসলে কতটা দায়িত্ব মাথায় নিয়ে চলে। কিন্তু সাপোর্টটা নাই। মিনিমাম ব্যাকআপটা তাদের জন্য নাই। এরা এমন না যে এখানে কোন সার্ভিস বা কোন কিছু তাদেরকে দিতে চাচ্ছেন না। তাদের কাছে রিসোর্স গুলা নাই। তাদের কাছে যে ফ্লোর গুলো আছে, সেই ফ্লোর গুলার খুব খারাপ অবস্থা।
এই সরকার এসে, পাঁচ তারিখের পরে কিছু জিনিস সংস্কার করার পর, দুটো ফ্লোর ভাড়া হচ্ছে রেগুলার। অনেক নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা ছিল। যে কারণে মানুষ আরও অনুৎসাহিত হতো। ভাড়া বেশি ছিল। ভাড়া একদম কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এই সরকার আসার পরে ফ্লোর গুলো কিছু সংস্কার করা হয়েছে। যেটা করার পরে দুটা ফ্লোর ব্যবহার করা যাচ্ছে এবং এগুলো কিন্তু রেগুলার ভাড়া হচ্ছে।

বিএফডিসির সংকট, সম্ভাবনা, পরিকল্পনা নিয়ে মাসুমা রহমান তানি বলেন, আপনারা নিজেরাও অনেকটা জানেন যে সময়ের সাথে সাথে আপডেট না হওয়া ইকুইপমেন্ট, ক্যামেরা, আমাদের লাইট বা আমাদের যে এডিটিং প্যানেলের যন্ত্রপাতি, সেগুলো কিছুই পর্যাপ্ত নাই। আমি আপনাকে বললাম নাই! এ কারণে বললাম যে এ গুলো হচ্ছে ছোট ছোট নাই। যেগুলো খুব সহজেই আছেতে পরিণত করা যায়। এগুলোর জন্য শত শত কোটি টাকার মেগা প্রজেক্টের দরকার হয় না। এবং এই জিনিসটাই যদি করা হয়, আমার মনে হয় পরিস্থিতি বদলে যাবে। যে সাতটা ফ্লোর এফডিসিতে আছে, সেটা একটা প্রাইম লোকেশনে আছে। শুটিং সংশ্লিষ্ট মানুষ হিসেবে অনেকেই জানেন, এরকম একটা লোকেশনে যদি আমাদের নির্মাতারা ফ্লোর পায়, ঠিকঠাক মতো সব সুবিধা পায়, তাহলে কি তারা দূরে কোথাও যাবে শুটিং করতে? নেগেটিভ কথা অনেক কিছু শুনেছেন। এখন শুনেন পজিটিভি কথা। এখানে সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো লোকেশন। এখানকার যত জায়গা আছে, যতখানি জায়গা আছে, যত বড় বড় ফ্লোর আছে তা কিন্তু অনেক বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিতেও নাই। সেগুলো যদি আমরা ব্যবহার উপযোগী করে ফেলি, তারা বাইরে যেই সেবাটা পায়, সেই সেবাটা যদি এখানে ঠিকঠাক ভাবে দিতে পারি তাহলে বাইরের নির্মাতারাও আসবেন এখানে। পুরস্কার থেকে শুরু করে চ্যানেলে যারা আছেন তারা সবাই আসবেন। সবাই আমাদের কাছে মোস্ট ওয়েলকাম। আমি, আমরা ওই জিনিসগুলো দেয়ার চেষ্টা করব|
আমার যে প্ল্যানটা আছে তা হলো আগামী ছ মাসের মধ্যে ছোট বাজেটের যে পরিকল্পনা আছে তা বাস্তবায়ন করা। এখানকার রিসোর্সগুলা কাজে লাগানো।

বিএফডিসির সংস্কার প্রসঙ্গে নবনিযুক্ত এমডি বলেন, প্রতিবন্ধকতা বলতে, আমাদের এখানে কিছু ইকুইপমেন্ট নাই। আমাদের ক্যামেরা লেন্স, যে লাইট এগুলো সরবরাহ নাই। দুই একটা ছাড়া বাকিগুলো মিউজিয়ামে রাখা যায়। মানে একটা আর্কাইভ করে সেখানে রাখার মতোই। তাছাড়া আমরা যে প্রজেক্ট রেডি করছি তাতে আমাদের সচিব সাহেব খুব সাপোর্টিভ। আমাদের যে উপদেষ্টা মহোদয় এসেছেন এবং নতুন আগের উপদেষ্টার কাছেও আমরা সার্বিকভাবে কৃতজ্ঞ। এখন যে উপদেষ্টায় এসেছেন উনি চলচ্চিত্র বান্ধব। আমি জানি উনি সিনেমা নিয়ে আগ্রহী এবং উনি এসব নিয়ে পড়ালেখাও করেন। সে জন্য আমি আরো আশাবাদী। আমাদের যে স্বপ্নগুলো সেগুলো উনি নিশ্চয়ই বুঝবেন। উনি একজন সিনেমা প্রেমী মানুষ হিসেবেই বিএফডিসির জন্য একটা আলাদা সদয় দৃষ্টি উনি রাখবেন।

বিএফডিসির এমডির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কতটুকু চাপ অনুভব করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়, আল্লাহতালার ইচ্ছায় সরকার যখন আমাকে এই সুযোগটা দিয়েছে, আমাদের মহান জুলাই এর বিনিময়ে, সেইখানে যেন সত্যি সংস্কারটা করতে পারি। সেটার জন্য যতটা ভয়ভীতি বা যতটুকু প্রেসার আসুক সবকিছু পার হয়ে আমি এটা করবই। করার চেষ্টা করেই যাব। সেজন্যই আপনাদের সাথে যোগাযোগ রাখা। এই জায়গা থেকে নরমালি এই যোগাযোগ গুলো করা হয় না। কিন্তু আমি চাই মানুষ প্রত্যেকে আমাদের জানুক যে আমরা কী কী করছি। আপনাদের মাধ্যমে পৌঁছে যাক। বিএফডিসি আসলে এরকম আড়ালে রাখা ধ্বংসস্তুপ না। আপনারা আসেন, বিএফডিসি সব রকম সেবা দিতে প্রস্তুত। নিজের যা কিছু লাগে তার সবকিছু আমরা ইনশাল্লাহ গুছিয়ে ফেলবো।

এফডিসিকে নতুন রূপে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে কারা বিরোধীতা করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো আসলে কাউকে বিরোধিতা করতে দেখছি না। কারণ আমি এখানকারই মেয়ে। আমি চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সদস্য, আমি প্রডিউসার সমিতির সদস্য। এখানে সব সময়ের আনাগোনা আমার। আমাকে প্রত্যেকে শুভকামনা জানিয়েছেন প্রত্যেকে আমাকে দোয়া করেছেন এবং প্রত্যেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। শুধু ফুলের শুভেচ্ছা না। আমি নিজেই মানা করে দিয়েছি যে এইসব আনুষ্ঠানিকতার কোন প্রয়োজন নাই।

সিনেমা সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ত করে বিএফডিসি পরিচালনা প্রসঙ্গে এফিডিসির নবনিযুক্ত এমডি বলেন, আমি শুধু তাদের কাছে চেয়েছি বিএফডিসির যেই উন্নয়নটা যে সংস্কারটা আমি করতে চাচ্ছি তারা যেন তাদের সব রকম সহযোগিতা, তাদের দোয়া এবং পরামর্শ দিয়ে আমার সাথে থাকেন। এফডিসি কে আসলে আগের জায়গায় নিতে হলে সিনেমা সংশ্লিষ্ট মানুষদের সিনেমা নিয়ে কাজ বাড়াতে হবে। এর বিকল্প নাই। সিনেমা সম্পর্কিত যাবতীয় সেবা যখন এখানে সহজেই পাওয়া যাবে তখন এটুকু ছাড়া আর কিচ্ছু করা প্রয়োজন হবে না।
এখান থেকে একটা সিনেমা বানাতে যা কিছু প্রয়োজন হবে তার সব ব্যবস্থা এখানে আছে। যে জিনিসগুলো একটু আপডেট করা উচিত, যে রিসোর্সগুলো একটু গুছিয়ে নেয়া উচিত সেগুলো আমরা গুছিয়ে নিব। আর যে বড় প্ল্যানগুলো আছে সেগুলো তো আছেই। আমরা চেষ্টা করবো সবাই মিলে বিএফডিসিকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার যেখানে একজন নির্মাতা, সে নতুন হোক, পুরাতন হোক, সে সিনেমা বানাতে যেয়ে যেন সব রকমের সহযোগিতা বিএফডিসি থেকে পায়। এটুকু যখন মানুষ পেয়ে যাবে তখন আসলে এই জনশূন্য হয়ে পড়ে থাকা বা পরিত্যক্ত হয়ে থাকার প্রশ্নই আসবে না ইনশাআল্লাহ।