বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর অধীনে সিএন্ডপি আরিচা শাখায় জালানী সরবরাহ করার জন্য গত ১২/০৯/২০২৪খ্রিঃ তারিখে মেসার্স পটুয়াখালী এজেন্সী ৩৫ নং সিরাজউদ্দৌলা রোড নামক প্রতিষ্ঠানটিকে ২০২৪-২০২৫খ্রিঃ অর্থ বছরের জন্য ডিজেল, লুব্রিকেন্ট, কেরোসিন তেল, অকটেন, পেট্রোল, গ্রীজ হাইড্রোলিক ওয়েল ইত্যাদি ১,৫৯,৪৮,৭৩৫/-টাকার জালানী সরবরাহ করার কার্য্যাদেশ (ঘঙঅ) প্রদান করা হয়েছে। ০৩/১১/২০২৪খ্রিঃ তারিখে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ২০২৪খ্রিঃ আংশিক মাসের জন্য জাহাজ ও পন্টুন সমূহে বিলের জন্য অনুমোদন পাঠান। ১১/১১/২০২৪খ্রিঃ তারিখে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘বিআইডব্লিউটিএ’ আরিচা অফিসে এসে কমিটির স্বাক্ষর নিয়ে বিল দাখিল করেন ৯,২৯,৮৮৬/- টাকার হিসাব বিভাগ বিলটি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। দরপত্রে শর্ত অনুযায়ী সরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিনষ্ঠানের আরিচা নদী বন্দর এলাকায় নির্ধারিত কোনো অফিস নেই। এছাড়া জালানী পরিবহনকারী ট্যাংক, লড়ি, ট্যাংকারও মজুদকৃত গুদাম কোন কিছুই নেই। বিআইডব্লিউটিএ থেকে জাহাজ বার্দিং করার অনুমতি নেই। কমিটির উপস্থিতিতে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা শাখায় তিনজন অফিসার সহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও মাষ্টার ড্রাইভারদের জাহাজে উপস্থিত হয়ে জালানী গ্রহন এর সময় লগ, ইনভয়েজ এর স্বাক্ষর করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কোন লোকজন উপস্থিত না থাকলে কার মাধ্যমে জাহাজে ‘বিআইডব্লিউটিএ’র অফিসারগণ কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী জলানী সরবরাহ করবে, নাকি অফিসে বসে লগ/ইনভয়েজে স্বাক্ষর করার কথা থাকলেও তা কোন দিনই হয়নি বলে সূত্র জানায়। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে এর সত্যতার প্রমান পাওয়া গেছে। ব্যপক তথ্যানুসন্ধান করে জানা গেছে, যে প্রতিষ্ঠানের নামে জালানী সরবরাহ দেখানো হয়েছে তার কোন অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগের ভিত্তির উপর নির্ভর করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের ডিজাইন ও মনিটরিং সেলের প্রধান প্রকৌশলী কে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কিন্তু তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পৌছানোর পরে পটুয়াখালী থেকে জাহাজ এসে পৌছায় বলে স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্র জানায়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)র নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) সাহাবুল ইসলাম সিহাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ কারীদের ডেকে নিয়ে নানা প্রকার ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) সাহাবুল ইসলাম সিহাবের মতামত জানতে চাইলে তিনি বিষয়কে পাশ কাটিয়ে বলেন তার কাছে কোন প্রমান পত্র নেই, তাছাড়া তিনি তদন্ত কমিটির কেউ নন বলে জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিএ’র জনৈক কর্মকতা প্রতিবেদককে জানান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর পরিচালক (ডিসিপি) মো. শাহজাহান ও অতিরিক্ত পরিচালক (ডিসিপি) আব্দুর রহিম স্টাফদেরকে নিয়ে পরস্পর যোগ সাজশে দীর্ঘদিন যাবত ভূয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকার অর্থ আত্নসাৎ করে আসছে।
এ ব্যাপারে মতামত জানার জন্য বিআইডব্লিউটিএ’ অফিসে যোগাযোগ করা হলে পরিচালক (ডিসিপি) ও অতিরিক্ত পরিচালক (ডিসিপি) দ্বয়কে সংশ্লিষ্ট অফিস কক্ষের দপ্তরে পাওয়া যায়নি।