বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, বীর উত্তম চিত্ত রঞ্জন দত্ত (সি আর দত্ত, ১৯২৭–২০২০)-এর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে উনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
সি আর দত্ত মুক্তিযুদ্ধের সময় ৪নং সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে অসামান্য নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত হন। তিনি ছিলেন শুধু মুক্তিযোদ্ধা নন, বরং বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তার সংগ্রামের আলোকবর্তিকা।
১৯৮২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ১৯৭২ সালের সংবিধান বাস্তবায়ন ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষাই ছিল তাঁর আজীবন আন্দোলনের লক্ষ্য। তিনি ঐক্য পরিষদের আজীবন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এরশাদ সরকারের সময় ৮ম সংশোধনীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি ছিলেন প্রথম সারির নেতা। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার থাকার কারণে তাঁর ওপর বোমা হামলা চালানো হয়, তবুও তিনি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি।
সি আর দত্ত ছিলেন সততা, আন্তরিকতা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের প্রতীক। কোনো সরকারের কাছে তিনি মাথা নত করেননি, কোনো পদ-পদবীর লোভ তাঁকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি লড়াই করেছেন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার ও দেশের কল্যাণের জন্য।
তাঁর অভিমানমাখা কথা আজও বেদনাদায়কভাবে প্রাসঙ্গিক—
“মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, কিন্তু কখনো ভাবিনি আমাকে এই দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য লড়াই করতে হবে।”
বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে জানাচ্ছে—
“হে নেতা, তোমার পতাকা যাদের হাতে দিয়েছ, তাদের বহিবার শক্তি দাও।