১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রাজু আলীম :

বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে শরিফ জহিরের অন্তর্দৃষ্টি

  • প্রকাশিত ০৩:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
  • ২৫ বার দেখা হয়েছে

শরীফ জহীর বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা, যিনি বর্তমানে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবেও পরিচিত। শরীফ জহীরের পিতা, হুমায়ুন জহীর, ছিলেন ইউসিবির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ১৯৯৩ সালে তাঁর অকাল প্রয়াণের পর, মা কামরুন নাহার ব্যবসার হাল ধরেন। শরীফ জহীর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং দেশে ফিরে এসে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের আগস্টে ইউসিবির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন শরীফ জহীর। তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংকটি আধুনিকীকরণ ও সংস্কারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি আমার পরিকল্পনা ও প্রযোজনায় রিজভী নেওয়াজ এর উপস্থাপনায় জনপ্রিয় টকশো ইউসিবি টু দ্য পয়েন্টে উপস্থিত হন।
কথা বলেন বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্প বানিজ্য এবং ভবীষ্যৎ নিয়ে। বাংলাদেশের শিল্প খাতের গতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফ জহির-তার অভিজ্ঞতা এবং বিশ্লেষণে বলেন, শিল্প বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং ব্যাংকিং খাতের সমন্বয় এসব বিষয় দেশের অর্থনীতির জন্য দিকনির্দেশক। দিনি দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সামাজিক বাস্তবতার কিছু বিষয় তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। শরিফ জহির স্পষ্টভাবে বলেন, “বাংলাদেশের শিল্প খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা। উদ্যোক্তারা সঠিক সময়ে এবং সঠিকভাবে ফাইনান্স না পেলে, তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ সম্ভব হয় না।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমকে ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকিং সমর্থন অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, “ঋণ পুনর্গঠন শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা বাঁচানোর একটি হাতিয়ার নয়, এটি শিল্প ও উৎপাদন খাতকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।” এই মন্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শিল্প সম্প্রসারণের মধ্যে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিল্প প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রযুক্তি এবং ডিজিটালাইজেশন ছাড়া শিল্প খাতের উন্নয়ন অসম্ভব। অনন্ত গ্রুপ নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, সেগুলো উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারছে।” এটি স্পষ্ট করে যে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া বাংলাদেশের শিল্প খাত বৈশ্বিক মানে পৌঁছাতে পারবে না।
শরিফ জহির মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “শিল্প প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র মেশিন বা উৎপাদনশীলতার উপর নির্ভর করতে পারে না। দক্ষ, প্রশিক্ষিত এবং প্রফেশনাল মানবসম্পদই একটি প্রতিষ্ঠানের মূল সম্পদ। তাদের প্রতি বিনিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং ভালো কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।” এটি শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা এবং ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শরিফ জহির সরকারী নীতি এবং প্রশাসনিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “সরকারি নীতি, প্রণোদনা এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার সমর্থন শিল্প খাতের জন্য অপরিহার্য। যদি নীতি স্থিতিশীল, সুশৃঙ্খল এবং বাস্তবসম্মত হয়, তবে উদ্যোক্তারা নতুন শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হবে।” তাঁর বিশ্লেষণ অনুসারে, নীতি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ছাড়া শিল্প সম্প্রসারণ অসম্ভব।
শরিফ জহির ব্যাংকিং খাতের ভূমিকাকে আরও স্পষ্ট করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “ব্যাংক এবং ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানদের উচিত শুধু ঋণ দেওয়া নয়, বরং শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারকে সমর্থন করা। সঠিক রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং স্বচ্ছ ঋণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপে না আসে।” এটি দেখায় যে, শিল্প বিনিয়োগ এবং ব্যাংকিং সমর্থনের মধ্যে সমন্বয় কৌশল প্রয়োগ অপরিহার্য।
রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের শিল্প যদি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে চায়, তবে মান নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। অনন্ত গ্রুপের অভিজ্ঞতা থেকে বলি, যে প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান অনুসারে উৎপাদন করে, তাদের রপ্তানি বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আসে।” এটি স্পষ্ট করে যে, আন্তর্জাতিক মান এবং প্রফেশনাল প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া শিল্প সম্প্রসারণ সফল হতে পারবে না।
শরিফ জহির সাম্প্রতিক শিল্প বিনিয়োগ ও উদ্যোগ নিয়ে বলেন, “অনন্ত গ্রুপের সাম্প্রতিক প্রকল্পগুলোতে আমরা বিশেষভাবে প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং দক্ষ শ্রমিক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করছি। এটি কেবল ব্যবসায়িক লাভ নয়, দেশের সামগ্রিক শিল্প উন্নয়নে অবদান রাখবে।” তাঁর বক্তব্যে দেশের টেকসই শিল্প বিনিয়োগ এবং আধুনিকায়নের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
শিল্প সম্প্রসারণের সঙ্গে তিনি স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, “যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান নতুন প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে, তারা স্থানীয় কর্মী নিয়োগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নয়, সামাজিক ও মানসিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, শিল্প বিনিয়োগ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক প্রভাবও বিস্তার করে।
শরিফ জহির বাংলাদেশের শিল্প খাতের ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, “যদি শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যাংকিং খাত এবং নীতি প্রণেতারা একসাথে কাজ করে, তবে বাংলাদেশের শিল্প খাত দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এটি শুধু অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, কর্মসংস্থান এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের সুযোগও বৃদ্ধি করবে।” এই বক্তব্যে শিল্প সম্প্রসারণের জন্য সমন্বিত এবং সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
তিনি বাংলাদেশের শিল্প বিনিয়োগে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সম্ভাবনাও আলোচনা করেছেন। “আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আমাদের প্রযুক্তিগত মান উন্নয়নে সহায়তা করবে এবং বিদেশি বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এটি বাংলাদেশের শিল্প খাতকে বৈশ্বিক মানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে।” তার বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের শিল্প সম্প্রসারণে এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
শরিফ জহির বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য উদ্ভাবনী ধারণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “উদ্যোক্তারা যদি নতুন প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং টেকসই উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেয়, তবে বাংলাদেশের শিল্প খাত বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে।” এই বক্তব্যে দেশের শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং উদ্ভাবনের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
শরিফ জহিরের বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় যে, শিল্প সম্প্রসারণের জন্য প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, ব্যাংকিং সহায়তা, নীতি সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব একসাথে কাজ করতে হবে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও অন্তর্দৃষ্টি বাংলাদেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, “শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তি ও আর্থিক সমর্থনের সঙ্গে কাজ করে, তবে শুধু উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে না, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক মানে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।” এটি স্পষ্ট করে যে, শিল্প বিনিয়োগ ও নীতি সমন্বয় ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
শরিফ জহিরের এই আলোচনায় এবং বিশ্লেষণে দেশের শিল্প বিনিয়োগকারীদের জন্য এক প্রভাবশালী নির্দেশিকা পাওয়া যায়। যা বাংলাদেশের শিল্প খাতকে শক্তিশালী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য একটি স্পষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।

Tag :
জনপ্রিয়

তারেক রহমান যেন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে না পারে, সে জন্য ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত

রাজু আলীম :

বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে শরিফ জহিরের অন্তর্দৃষ্টি

প্রকাশিত ০৩:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

শরীফ জহীর বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা, যিনি বর্তমানে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ন্যাশনাল ফাইন্যান্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবেও পরিচিত। শরীফ জহীরের পিতা, হুমায়ুন জহীর, ছিলেন ইউসিবির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ১৯৯৩ সালে তাঁর অকাল প্রয়াণের পর, মা কামরুন নাহার ব্যবসার হাল ধরেন। শরীফ জহীর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং দেশে ফিরে এসে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের আগস্টে ইউসিবির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন শরীফ জহীর। তাঁর নেতৃত্বে ব্যাংকটি আধুনিকীকরণ ও সংস্কারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি আমার পরিকল্পনা ও প্রযোজনায় রিজভী নেওয়াজ এর উপস্থাপনায় জনপ্রিয় টকশো ইউসিবি টু দ্য পয়েন্টে উপস্থিত হন।
কথা বলেন বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্প বানিজ্য এবং ভবীষ্যৎ নিয়ে। বাংলাদেশের শিল্প খাতের গতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফ জহির-তার অভিজ্ঞতা এবং বিশ্লেষণে বলেন, শিল্প বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং ব্যাংকিং খাতের সমন্বয় এসব বিষয় দেশের অর্থনীতির জন্য দিকনির্দেশক। দিনি দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সামাজিক বাস্তবতার কিছু বিষয় তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। শরিফ জহির স্পষ্টভাবে বলেন, “বাংলাদেশের শিল্প খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা। উদ্যোক্তারা সঠিক সময়ে এবং সঠিকভাবে ফাইনান্স না পেলে, তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ সম্ভব হয় না।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমকে ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল রাখতে ব্যাংকিং সমর্থন অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, “ঋণ পুনর্গঠন শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা বাঁচানোর একটি হাতিয়ার নয়, এটি শিল্প ও উৎপাদন খাতকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।” এই মন্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শিল্প সম্প্রসারণের মধ্যে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিল্প প্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রযুক্তি এবং ডিজিটালাইজেশন ছাড়া শিল্প খাতের উন্নয়ন অসম্ভব। অনন্ত গ্রুপ নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, সেগুলো উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারছে।” এটি স্পষ্ট করে যে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া বাংলাদেশের শিল্প খাত বৈশ্বিক মানে পৌঁছাতে পারবে না।
শরিফ জহির মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “শিল্প প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র মেশিন বা উৎপাদনশীলতার উপর নির্ভর করতে পারে না। দক্ষ, প্রশিক্ষিত এবং প্রফেশনাল মানবসম্পদই একটি প্রতিষ্ঠানের মূল সম্পদ। তাদের প্রতি বিনিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং ভালো কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।” এটি শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা এবং ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শরিফ জহির সরকারী নীতি এবং প্রশাসনিক সমর্থনের প্রয়োজনীয়তাও গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “সরকারি নীতি, প্রণোদনা এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার সমর্থন শিল্প খাতের জন্য অপরিহার্য। যদি নীতি স্থিতিশীল, সুশৃঙ্খল এবং বাস্তবসম্মত হয়, তবে উদ্যোক্তারা নতুন শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করতে উৎসাহী হবে।” তাঁর বিশ্লেষণ অনুসারে, নীতি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ছাড়া শিল্প সম্প্রসারণ অসম্ভব।
শরিফ জহির ব্যাংকিং খাতের ভূমিকাকে আরও স্পষ্ট করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “ব্যাংক এবং ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানদের উচিত শুধু ঋণ দেওয়া নয়, বরং শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারকে সমর্থন করা। সঠিক রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং স্বচ্ছ ঋণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপে না আসে।” এটি দেখায় যে, শিল্প বিনিয়োগ এবং ব্যাংকিং সমর্থনের মধ্যে সমন্বয় কৌশল প্রয়োগ অপরিহার্য।
রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের শিল্প যদি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে চায়, তবে মান নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। অনন্ত গ্রুপের অভিজ্ঞতা থেকে বলি, যে প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান অনুসারে উৎপাদন করে, তাদের রপ্তানি বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আসে।” এটি স্পষ্ট করে যে, আন্তর্জাতিক মান এবং প্রফেশনাল প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া শিল্প সম্প্রসারণ সফল হতে পারবে না।
শরিফ জহির সাম্প্রতিক শিল্প বিনিয়োগ ও উদ্যোগ নিয়ে বলেন, “অনন্ত গ্রুপের সাম্প্রতিক প্রকল্পগুলোতে আমরা বিশেষভাবে প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং দক্ষ শ্রমিক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করছি। এটি কেবল ব্যবসায়িক লাভ নয়, দেশের সামগ্রিক শিল্প উন্নয়নে অবদান রাখবে।” তাঁর বক্তব্যে দেশের টেকসই শিল্প বিনিয়োগ এবং আধুনিকায়নের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
শিল্প সম্প্রসারণের সঙ্গে তিনি স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন, “যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান নতুন প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে, তারা স্থানীয় কর্মী নিয়োগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নয়, সামাজিক ও মানসিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, শিল্প বিনিয়োগ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক প্রভাবও বিস্তার করে।
শরিফ জহির বাংলাদেশের শিল্প খাতের ভবিষ্যত নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, “যদি শিল্প উদ্যোক্তা, ব্যাংকিং খাত এবং নীতি প্রণেতারা একসাথে কাজ করে, তবে বাংলাদেশের শিল্প খাত দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। এটি শুধু অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, কর্মসংস্থান এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের সুযোগও বৃদ্ধি করবে।” এই বক্তব্যে শিল্প সম্প্রসারণের জন্য সমন্বিত এবং সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
তিনি বাংলাদেশের শিল্প বিনিয়োগে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সম্ভাবনাও আলোচনা করেছেন। “আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আমাদের প্রযুক্তিগত মান উন্নয়নে সহায়তা করবে এবং বিদেশি বাজারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এটি বাংলাদেশের শিল্প খাতকে বৈশ্বিক মানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে।” তার বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের শিল্প সম্প্রসারণে এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
শরিফ জহির বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য উদ্ভাবনী ধারণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “উদ্যোক্তারা যদি নতুন প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং টেকসই উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেয়, তবে বাংলাদেশের শিল্প খাত বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে।” এই বক্তব্যে দেশের শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং উদ্ভাবনের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
শরিফ জহিরের বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় যে, শিল্প সম্প্রসারণের জন্য প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, ব্যাংকিং সহায়তা, নীতি সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব একসাথে কাজ করতে হবে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও অন্তর্দৃষ্টি বাংলাদেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, “শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তি ও আর্থিক সমর্থনের সঙ্গে কাজ করে, তবে শুধু উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে না, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক মানে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।” এটি স্পষ্ট করে যে, শিল্প বিনিয়োগ ও নীতি সমন্বয় ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
শরিফ জহিরের এই আলোচনায় এবং বিশ্লেষণে দেশের শিল্প বিনিয়োগকারীদের জন্য এক প্রভাবশালী নির্দেশিকা পাওয়া যায়। যা বাংলাদেশের শিল্প খাতকে শক্তিশালী, প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য একটি স্পষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।