বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং আতিথেয়তার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। কক্সবাজারের বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু করে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর, পানাম নগর কিংবা সিলেটের চা-বাগান—সবই বিশ্ববাসীর কাছে আকর্ষণীয়। তবুও দেশের পর্যটন শিল্প এখনও প্রত্যাশিত সম্ভাবনা পূরণ করতে পারেনি। এই খাতকে সমৃদ্ধ ও টেকসই করার জন্য আমাদের কিছু করণীয় হলো:
১. অবকাঠামো উন্নয়ন
পর্যটন স্থানে নিরাপদ সড়ক, মানসম্মত হোটেল-মোটেল, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণে বাড়বে।
২. নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা
পর্যটকরা যেখানে ভ্রমণ করেন, সেখানে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ভ্রমণকালে প্রতারণা, হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণের মতো সমস্যা দূর করতে হবে।
৩. প্রচারণা ও বিপণন
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম ফেয়ার ও গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে হবে। মানসম্মত ছবি, ভিডিও ও তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করা সম্ভব।
৪. প্রশিক্ষণ ও দক্ষ জনবল তৈরি
ট্যুর গাইড, হোটেল ম্যানেজমেন্ট কর্মী এবং পর্যটন-সম্পর্কিত সেবাদানকারীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। দক্ষ জনবল পর্যটন অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করবে।
৫. পরিবেশ সংরক্ষণ
সুন্দরবন, পাহাড়, সমুদ্রসৈকত ও প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থানগুলিকে দূষণ ও ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে হবে। ইকো-ট্যুরিজমের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
৬. নীতিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ
সরকারি নীতির সহায়তা, ট্যাক্স রেয়াত, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) এর মাধ্যমে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।
৭. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ
লোকসংগীত, হস্তশিল্প, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও লোকজ সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করলে বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প বিকাশ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ। সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে এই খাতকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব। যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রধান পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।
রিফাত মাহবুব সাকিব – লেখক, গবেষক, কলামিস্ট, ব্যাংকার