১১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
তন্ময় মাহমুদ :

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাত: মামুন রশিদের বিশ্লেষণ

  • প্রকাশিত ০৩:২০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩৮ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে মামুন রশিদ এক পরিচিত মুখ। সাবেক এই ব্যাংকার এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষক তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশের আর্থিক খাতকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। প্রায় চার দশক ধরে তিনি কেবল ব্যাংকিং পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ছিলেন দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও ব্যবস্থাপনার একজন পরিচালক এবং পর্যবেক্ষক।
মামুন রশিদের পেশাদার জীবনের শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং দিয়ে। সিটিব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, এবং এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সাথে সংযুক্ত ছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে তিনি ব্যাংকিং থেকে শুরু করে পেশাদার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসি-এর ব্যবস্থাপনা অংশীদার হিসেবেও নেতৃত্ব দেন।
বর্তমানে তিনি বিটুবি কমার্স প্ল্যাটফর্ম শপআপের প্রেসিডেন্ট এবং ন্যাশনাল টি কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যবসা এবং উৎপাদন খাতের সঙ্গে যুক্ত।
সম্প্রতি রাজু আলীমের পরিকল্পনা ও প্রযোজনায় রিজভী নেওয়াজ এর উপস্থাপনায় এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় টক শো ইউসিবি টু দ্য পয়েন্টে এসেছিলেন তিনি। কথা বলেছেন অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। সাবেক ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মামুন রশিদ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এবং অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যে বিশ্লেষণ করেছেন, তা শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার প্রতিফলন নয় বরং দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের দিকনির্দেশকও বটে। তার বক্তব্যে উঠে আসে ব্যাংকিং খাতের নানাবিধ সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাব্য সমাধান এবং নীতি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ।
টু দ্যা পয়েন্টে এসে দেশের ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে মামুন রশিদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, “বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নন-পেরফর্মিং লোন। অনেক ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দিতে ভয় পাচ্ছে, কিন্তু এর ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের ব্যবসা স্থবির হচ্ছে। যদি আমরা সঠিকভাবে ঋণ পুনর্গঠন করি, তবে শিল্প ও উৎপাদন খাত নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।” তিনি মনে করিয়েছেন, ঋণ পুনর্গঠন কেবল একটি আর্থিক সুবিধা নয়, বরং এটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা পুনরুজ্জীবিত করার একটি কৌশল।
তিনি আরও বলেন, “অনেকে মনে করেন, ঋণ পুনর্গঠন মানে সব ঋণমুক্তি। এটা মোটেই সত্য নয়। প্রকৃত সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে, এবং যারা দায়মুক্তির সুযোগের অপব্যবহার করবে তাদের জন্য কঠোর ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারব।” মামুন রশিদের এই মন্তব্য দেশের ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।
ব্যাংকিং খাতের অস্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক জটিলতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে, ঋণ পুনর্গঠনও সফল হবে না। ঝুঁকি যাচাই, অভ্যন্তরীণ অডিট এবং স্পষ্ট নীতিমালা থাকলে ব্যাংক ব্যবসায়ীদের সঠিকভাবে সমর্থন করতে পারবে।” মামুন রশিদ এখানে ব্যাংকিং খাতের প্রফেশনালিজমের ওপর জোর দিচ্ছেন এবং মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বচ্ছ এবং কার্যকর ঋণ সুবিধা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
বাংলাদেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের রপ্তানি-মুখী শিল্প, নতুন উদ্যোক্তা, এবং বিনিয়োগকারীদের সাপোর্ট করার জন্য ব্যাংকিং খাতকে আরো কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হবে। ঋণ পুনর্গঠন এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এটি শুধু ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের সাহায্য করছে না, বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে।” তিনি উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন যে, পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক উদ্যোক্তা আবার বড় অর্ডার গ্রহণ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে সক্ষম হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যবসায়ীদের অনিরাপত্তার দিকে ইঙ্গিত করে মামুন রশিদ বলেন, “বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য কেবল বাজারের চাপে নয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকেও সংবেদনশীল। নির্বাচনী সময়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম স্থবির করতে পারে। তাই ঋণ পুনর্গঠন এবং নীতি বাস্তবায়ন কৌশলগুলো সময়োপযোগী হতে হবে।” তার বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, অর্থনীতি এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহায়তা অপরিহার্য।
মামুন রশিদ আন্তর্জাতিক তুলনার কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “ভারত, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনসহ অন্যান্য দেশে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদেরও সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হবে। সঠিক নীতি, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং ঝুঁকি যাচাই এই প্রক্রিয়াকে সফল করে তুলবে।” তাঁর বিশ্লেষণে বাংলাদেশের জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা উঠে আসে: আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ব্যাংকিং প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং নিয়মকানুনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
তিনি অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ ও শিল্প সম্প্রসারণের জন্যও সুপারিশ প্রদান করেছেন। মামুন রশিদ বলেন, “সরকারি নীতি, প্রণোদনা, এবং প্রশাসনিক সহায়তা শিল্প খাতের বৃদ্ধির জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং খাতকে শুধু ফাইনান্সিয়াল সেবা দেওয়ার ক্ষেত্র হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাকে নীতি প্রয়োগ এবং শিল্প সম্প্রসারণের সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।” তিনি এই বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু ব্যাংকিং খাতের আর্থিক সমর্থন যথেষ্ট নয়; নীতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ঋণ পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের জন্য এই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যারা স্বেচ্ছায় ঋণ পরিশোধ করতে চাইছে না বা দায়মুক্তির সুযোগের অপব্যবহার করতে পারে, তাদের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য রক্ষা পাবে।” তার এই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাংকিং খাতকে আরও দায়িত্বশীল ও ফলপ্রসূ করতে সহায়তা করছে।
মামুন রশিদের বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে হলে ব্যাংকিং খাতের প্রফেশনালিজম, ঋণ পুনর্গঠন, নীতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যে সমন্বয় জরুরি। তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে, কারণ দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি। তাদের পুনরায় সক্রিয় করা দেশের অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেবে।”
মামুন রশিদের বক্তব্য এবং বিশ্লেষণ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ, সমাধান এবং নীতি নির্মাণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। ঋণ পুনর্গঠন, স্বচ্ছতা, এবং সঠিক নীতি প্রয়োগের সমন্বয় দেশের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও উদ্যোক্তাদের শক্তিশালী সহায়তা নিশ্চিত করতে পারে। তার এই অভিজ্ঞতা এবং অন্তর্দৃষ্টি ব্যাংক কর্মকর্তা, নীতি নির্ধারক এবং উদ্যোক্তাদের জন্য অনন্য রেফারেন্সও বলা চলে।

Tag :
জনপ্রিয়

তারেক রহমান যেন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে না পারে, সে জন্য ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত

তন্ময় মাহমুদ :

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাত: মামুন রশিদের বিশ্লেষণ

প্রকাশিত ০৩:২০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে মামুন রশিদ এক পরিচিত মুখ। সাবেক এই ব্যাংকার এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষক তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশের আর্থিক খাতকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। প্রায় চার দশক ধরে তিনি কেবল ব্যাংকিং পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ছিলেন দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও ব্যবস্থাপনার একজন পরিচালক এবং পর্যবেক্ষক।
মামুন রশিদের পেশাদার জীবনের শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং দিয়ে। সিটিব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, এবং এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংকের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সাথে সংযুক্ত ছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে তিনি ব্যাংকিং থেকে শুরু করে পেশাদার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসি-এর ব্যবস্থাপনা অংশীদার হিসেবেও নেতৃত্ব দেন।
বর্তমানে তিনি বিটুবি কমার্স প্ল্যাটফর্ম শপআপের প্রেসিডেন্ট এবং ন্যাশনাল টি কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যবসা এবং উৎপাদন খাতের সঙ্গে যুক্ত।
সম্প্রতি রাজু আলীমের পরিকল্পনা ও প্রযোজনায় রিজভী নেওয়াজ এর উপস্থাপনায় এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় টক শো ইউসিবি টু দ্য পয়েন্টে এসেছিলেন তিনি। কথা বলেছেন অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। সাবেক ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মামুন রশিদ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এবং অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে যে বিশ্লেষণ করেছেন, তা শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার প্রতিফলন নয় বরং দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের দিকনির্দেশকও বটে। তার বক্তব্যে উঠে আসে ব্যাংকিং খাতের নানাবিধ সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাব্য সমাধান এবং নীতি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ।
টু দ্যা পয়েন্টে এসে দেশের ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে মামুন রশিদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, “বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নন-পেরফর্মিং লোন। অনেক ব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ দিতে ভয় পাচ্ছে, কিন্তু এর ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের ব্যবসা স্থবির হচ্ছে। যদি আমরা সঠিকভাবে ঋণ পুনর্গঠন করি, তবে শিল্প ও উৎপাদন খাত নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।” তিনি মনে করিয়েছেন, ঋণ পুনর্গঠন কেবল একটি আর্থিক সুবিধা নয়, বরং এটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা পুনরুজ্জীবিত করার একটি কৌশল।
তিনি আরও বলেন, “অনেকে মনে করেন, ঋণ পুনর্গঠন মানে সব ঋণমুক্তি। এটা মোটেই সত্য নয়। প্রকৃত সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে, এবং যারা দায়মুক্তির সুযোগের অপব্যবহার করবে তাদের জন্য কঠোর ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারব।” মামুন রশিদের এই মন্তব্য দেশের ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।
ব্যাংকিং খাতের অস্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক জটিলতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে, ঋণ পুনর্গঠনও সফল হবে না। ঝুঁকি যাচাই, অভ্যন্তরীণ অডিট এবং স্পষ্ট নীতিমালা থাকলে ব্যাংক ব্যবসায়ীদের সঠিকভাবে সমর্থন করতে পারবে।” মামুন রশিদ এখানে ব্যাংকিং খাতের প্রফেশনালিজমের ওপর জোর দিচ্ছেন এবং মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বচ্ছ এবং কার্যকর ঋণ সুবিধা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।
বাংলাদেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের রপ্তানি-মুখী শিল্প, নতুন উদ্যোক্তা, এবং বিনিয়োগকারীদের সাপোর্ট করার জন্য ব্যাংকিং খাতকে আরো কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হবে। ঋণ পুনর্গঠন এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এটি শুধু ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের সাহায্য করছে না, বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে।” তিনি উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন যে, পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনেক উদ্যোক্তা আবার বড় অর্ডার গ্রহণ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে সক্ষম হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যবসায়ীদের অনিরাপত্তার দিকে ইঙ্গিত করে মামুন রশিদ বলেন, “বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য কেবল বাজারের চাপে নয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকেও সংবেদনশীল। নির্বাচনী সময়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম স্থবির করতে পারে। তাই ঋণ পুনর্গঠন এবং নীতি বাস্তবায়ন কৌশলগুলো সময়োপযোগী হতে হবে।” তার বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, অর্থনীতি এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সহায়তা অপরিহার্য।
মামুন রশিদ আন্তর্জাতিক তুলনার কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “ভারত, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইনসহ অন্যান্য দেশে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ঋণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদেরও সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হবে। সঠিক নীতি, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং ঝুঁকি যাচাই এই প্রক্রিয়াকে সফল করে তুলবে।” তাঁর বিশ্লেষণে বাংলাদেশের জন্য একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা উঠে আসে: আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ব্যাংকিং প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন এবং নিয়মকানুনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
তিনি অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ ও শিল্প সম্প্রসারণের জন্যও সুপারিশ প্রদান করেছেন। মামুন রশিদ বলেন, “সরকারি নীতি, প্রণোদনা, এবং প্রশাসনিক সহায়তা শিল্প খাতের বৃদ্ধির জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকিং খাতকে শুধু ফাইনান্সিয়াল সেবা দেওয়ার ক্ষেত্র হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তাকে নীতি প্রয়োগ এবং শিল্প সম্প্রসারণের সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।” তিনি এই বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু ব্যাংকিং খাতের আর্থিক সমর্থন যথেষ্ট নয়; নীতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ঋণ পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের জন্য এই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যারা স্বেচ্ছায় ঋণ পরিশোধ করতে চাইছে না বা দায়মুক্তির সুযোগের অপব্যবহার করতে পারে, তাদের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য রক্ষা পাবে।” তার এই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাংকিং খাতকে আরও দায়িত্বশীল ও ফলপ্রসূ করতে সহায়তা করছে।
মামুন রশিদের বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে হলে ব্যাংকিং খাতের প্রফেশনালিজম, ঋণ পুনর্গঠন, নীতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যে সমন্বয় জরুরি। তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে, কারণ দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি। তাদের পুনরায় সক্রিয় করা দেশের অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেবে।”
মামুন রশিদের বক্তব্য এবং বিশ্লেষণ বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ, সমাধান এবং নীতি নির্মাণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। ঋণ পুনর্গঠন, স্বচ্ছতা, এবং সঠিক নীতি প্রয়োগের সমন্বয় দেশের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও উদ্যোক্তাদের শক্তিশালী সহায়তা নিশ্চিত করতে পারে। তার এই অভিজ্ঞতা এবং অন্তর্দৃষ্টি ব্যাংক কর্মকর্তা, নীতি নির্ধারক এবং উদ্যোক্তাদের জন্য অনন্য রেফারেন্সও বলা চলে।