১০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বর্তমান সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে শিশুর জীবন

  • প্রকাশিত ০৯:০৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪
  • ৪৩০ বার দেখা হয়েছে

আজকের সমাজ ব্যবস্থায়, মানুষ ক্রমশ একা হয়ে যাচ্ছে। কোনো একটা সময়ে একটা গ্রাম ছিলো একটা পরিবার, গ্রামের কারোর কোনো সমস্যা হলে, সেই সমস্যার সমাধানের জন্য সবাই ঝাঁপাতো। তারপর হলো একটা পাড়া, ঘোষ পাড়া, পাল পাড়া, এই এক একটা পাড়াই ছিলো এক একটা পরিবার। একাই রকম ভাবে হতো সমস্যার সমাধান। তারপর হলো যৌথ পরিবার। এক বাবার যদি ৫ টি সন্তান হয় তাঁদের নিয়ে হতো একান্নবর্তী। তারপর প্রত্যেক ভাই এর এক একটি পরিবার। এখন মানুষ একা। ক্রমাগত মানুষের মধ্যে ভাঙন একটা পৃথিবীব্যাপী মহামারী, যার নাম সিস্টেমিটিক করাপশন। যার ফলে সব থেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমার আপনার সন্তান। প্রতিটি মানুষ তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভিত,ভুগছে এক অজানা অনিশ্চয়তায় , আর এই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভয় প্রবাহিত হচ্ছে বাচ্চার মধ্যে ক্রমাগত।
২ বছর বয়সের পর থেকে তাকে লিপ্ত করা হচ্ছে প্রতিযোগিতায়, যে শিশুটির অধিকার ছিলো এই সময় মাতৃক্রোড়ে ললিত হবার, উচিত ছিলো প্রকৃতি থেকে শিক্ষিত হবার, আত্মবিশ্বাসী হবার, মুক্তোপন্থায় প্রকৃতির ভাষা শেখার, তার থেকে অনেক আলোকবর্ষ দূরে নিয়ে ভর্তি করা হচ্ছে কিডজি নামক বাক্সোতে শুধু মাত্র প্রি স্কুল নামক শিক্ষার অজুহাত দিয়ে। আর এইখান থেকেই শুরু জীবনের প্রথম চক্রবুহ। তাকে বলা হচ্ছে, তোমাকে প্রথম হতে হবে, হতে হবে সর্বোত্তম। আর কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তার শৈশব। আমরা জীবন বলতে বুঝি একটাই। কিন্তু জীবন একটা নয়, জীবন ৪টি।
ব্যাক্তিগত জীবন
পারিবারিক জীবন
পেশাগত জীবন
সামাজিক জীবন

বাচ্ছা শিশুর ব্যক্তিগত জীবনকে উন্নত করার জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত সেই সম্পর্কে মা বাবা প্রায়শই উদাসীন। তার ফলস্বরূপ ওই বাচ্ছার এই প্রতিযোগিতার নাগপাশে অমানুসিক পরিশ্রমে গড়ে তোলা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, উপার্জিত অর্থ ব্যায় হয় প্রত্যেক সন্ধ্যায় নেশার জগতে বা নাইট ক্লাবে। আর জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটে অজানা অবসাদে। যদিও ব্যক্তিগত জীবনে সে সফল। তার অন্যতম উদাহরণ আমেরিকার মতোন উন্নত দেশ যার ৬০% শতাংশেরও বেশী মানুষ এখন হতাশাগ্রস্ত। ভারতেও তার প্রভাব বিস্তার করেছে। মানুষ আজ একা হয়ে গেছে তার আত্মবিশ্বাস বলে কিছু নেই, যা আছে তা হলো সন্দেহের নিরন্তন অবকাশ। আর এই সন্দেহের মাঝে যখন শিশু বড়ো হচ্ছে, তার প্রতিটি জীবনশৈলীতে আসছে চরম অন্ধকার। ফলে এই শিশুদের বড়ো হবার পর যে পরিবার গঠন হচ্ছে, সেখানে স্বামী স্ত্রী এর মধ্যে কোনো প্রগারো সম্পর্ক থাকছে না থাকছে এডজাস্টমেন্ট। আর এর জন্য দায়ী সেই পিতামাতা। একজনকে মেনে নেবার জন্য তার যে ধৈর্য, তার রুচির বিরুদ্ধে কি করে সে কোনো খাদ্য গ্রহণ করবে, প্রতিকূলতার সাথে নিজিকে কি করে খাপ খাওয়াবে তার কোনো ভাবনা তাকে ভাবনো হয়নি। কারণ প্রতিটি মা বাবাই একটাই চিন্তা করেন যে আমার সন্তান যেন থেকে দুধে ভাতে, অর্থাৎ Comfort zone। আর এই comfort zone এ একটি শিশুকে করে তোলে আরামপ্রিয় আত্মকেন্দ্রিক। যার ফলে তার জীবনের সংস্কার সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে উল্টোদিকের মানুষটি যে তাকে ভরসা করে সংসার করতে আসে, সে তাকে বিশ্বাস করতে পারে না, আর এর থেকেই আসে পারিবারিক জীবনে ভাঙন।
পেশাগত জীবনটি দেখা যাক, একটি মানুষ তার সম্পূর্ণ জীবনী শক্তির ২৫ % শতাংশের কম যখন তার কর্মজীবনে প্রয়োগ করে তখন তিনি হন দরিদ্র। যখন ৫০% শক্তি প্রয়োগ করে তখন হয় মধ্যবিত্ত। আর ৫০% এর বেশী প্রয়োগ করে হয় উচ্চবিত্ত। ১০০ % প্রয়োগ করা হাতে গোনা ব্যক্তিগণ হয় বিশ্ববিখ্যাত। মানুষের এই কাজের ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ হয় তার অন্তর্নিহিত ঈশ্বর প্রদত্ত শক্তি দিয়ে যদি কাজ করে। একটি উদাহরণ দি, গায়ক যদি আজ হিসাবরক্ষক হয় আর হিসাবরক্ষক যদি খেলোয়াড় হয় তাহলে তার আগ্রহ কখনই প্রকাশিত হবে না। আজ এটাই সমস্যা। সব মা বাবাই তার সন্তানকে প্রোডাক্ট বানাচ্ছেন, সেই ট্রেনডিং প্রোডাক্ট যার বাজারদর আজ খুব বেশী। তার অন্তরের শক্তির কোনো মূল্য আজ পাচ্ছে না সেই শিশুটি। ফলে সেই শিশুটির জীবনে আসছে উদাসীনতা। নিজের কাজের প্রতি আসেনা আগ্রহ। ফলে পেশাগত জীবনটি হয় ব্যার্থতায় পরিপূর্ণ।

সামাজিক দিকটি দেখা যাক

মানুষ আজকে মানুষের সাথে সম্পর্ক ভুলে গিয়ে যন্ত্রের প্রতি নির্ভরশীল। প্রতিটি মা বাবা চায় তার বাচ্ছা যেন সামাজিক স্বীকৃতি পায়

তারপর আসি সামাজিক জীবনে।

মানুষ আজ সোশ্যাল ডিসটেন্সসিং এর শিকার, নেই মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক আছে যন্ত্রের উপর নির্ভরশীলতা। প্রতিটি মা বাবা চায় তার বাচ্ছা যেন সামাজিক স্বীকৃতি পায়, সামাজিক সন্মান পায়, পরিচিতি পায় সমাজে। কিন্তু তা পেতে গেলে যে দায়বদ্ধ হতে হয়। সে সম্পর্কে করে রাখছে উদাসীন। ফলে মা বাবা শিক্ষার নামে দ্বায়িত্ব এর নামে যে অজুহাত ক্রমাগত দিয়ে যাচ্ছে সেটা একটা লজ্জার বিষয়। মা বাবা তার নিজের অতীত ও আগামী অনিশ্চত ভবিষ্যৎ এর জন্য নিজে ভিত, নিজে সন্দেহের মধ্যে জীবনযাপন করছে, তার উচিৎ সন্তানকে না শিখিয়ে সন্তানের কাছ থেকে শেখা। যখন একটি শিশু ৫ বছর বয়সের মধ্যে হয়, সে সম্পূর্ণ বর্তমানে বাঁচে। তার মধ্যে অতীতের কোনো ঘটনার প্রভাব পরে না। আর আমরা মা বাবারা জোর করে তাকে বর্তমান উপেক্ষা করে ভবিষ্যৎকে প্রধান্য দিতে শেখাই। আর তার জীবনে আমরাই নিয়ে আসি দুঃখ। ফলে সন্তানকে না শিখিয়ে যদি সন্তানের কাছ থেকে শেখা যায় তাহলে মনে হয় আমাদের জীবনটা আরো অনেক বেশী আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই আমরা সবাই হয়তো ব্যক্তিগত জীবনে সফল আর এই সফলতার ছায়ায় আমার আপনার সন্তানরা হয়ে আসছে ব্যর্থ। তাই আমি সফল পিতা বা সফল মাতা সেটা যতনা তৎপর্যপূর্ণ তার থেকে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ আমি একজন পূর্ণ পিতা বা মাতা হতে পারলাম কিনা। পূর্ণ পিতা বা মাতা সেই, যে সন্তানের কাছ থেকে লব্ধ শিক্ষাকেই জীবনেরর ব্রত হিসাবে গ্রহণ করে। কারণ সন্তান ঈশ্বর দেন পিতা মাতা কে শিক্ষা প্রদানের জন্য। তার অন্তর্নিহিত প্রতিভাকে প্রস্ফুটিত করার জন্য শুধুমাত্র মা-বাবার পরিচর্যা চায়। কিন্তু উল্টে মা-বাবা তাদের জীবনের অনিশ্চয়তা বা অসম্পূর্ণতাকে পূর্ণ করার স্বপ্ন ওই শিশুর জীবনে চাপিয়ে দেয়।
এই চক্রবুহ্এর ফলে আজকের সন্তানরা মেরুদন্ডহীন, দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন, এক পরজীবী তৈরী হচ্ছে, ফলে ভারতবর্ষ যদিও পৃথিবীর বুকে ইউথ কান্ট্রি হিসিবে স্বীকৃতি পেয়েছে। যাদের জন্য এই স্বীকৃতি সেই ইউথ আজ কর্ম বিমুখ, অদক্ষ হিসাবে পরিচিত হচ্ছে এবং তাঁদের জীবেন অনেক বেশী দুঃখ। আমাদের উচিৎ তাঁদের জন্য উপযুক্ত পৃথিবী তৈরী করে দেওয়া।

 

চন্দন পাল
সম্পাদক
বিরাটি গ্লোব ভিশন সোসাইটি
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

বর্তমান সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে শিশুর জীবন

প্রকাশিত ০৯:০৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪

আজকের সমাজ ব্যবস্থায়, মানুষ ক্রমশ একা হয়ে যাচ্ছে। কোনো একটা সময়ে একটা গ্রাম ছিলো একটা পরিবার, গ্রামের কারোর কোনো সমস্যা হলে, সেই সমস্যার সমাধানের জন্য সবাই ঝাঁপাতো। তারপর হলো একটা পাড়া, ঘোষ পাড়া, পাল পাড়া, এই এক একটা পাড়াই ছিলো এক একটা পরিবার। একাই রকম ভাবে হতো সমস্যার সমাধান। তারপর হলো যৌথ পরিবার। এক বাবার যদি ৫ টি সন্তান হয় তাঁদের নিয়ে হতো একান্নবর্তী। তারপর প্রত্যেক ভাই এর এক একটি পরিবার। এখন মানুষ একা। ক্রমাগত মানুষের মধ্যে ভাঙন একটা পৃথিবীব্যাপী মহামারী, যার নাম সিস্টেমিটিক করাপশন। যার ফলে সব থেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমার আপনার সন্তান। প্রতিটি মানুষ তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভিত,ভুগছে এক অজানা অনিশ্চয়তায় , আর এই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভয় প্রবাহিত হচ্ছে বাচ্চার মধ্যে ক্রমাগত।
২ বছর বয়সের পর থেকে তাকে লিপ্ত করা হচ্ছে প্রতিযোগিতায়, যে শিশুটির অধিকার ছিলো এই সময় মাতৃক্রোড়ে ললিত হবার, উচিত ছিলো প্রকৃতি থেকে শিক্ষিত হবার, আত্মবিশ্বাসী হবার, মুক্তোপন্থায় প্রকৃতির ভাষা শেখার, তার থেকে অনেক আলোকবর্ষ দূরে নিয়ে ভর্তি করা হচ্ছে কিডজি নামক বাক্সোতে শুধু মাত্র প্রি স্কুল নামক শিক্ষার অজুহাত দিয়ে। আর এইখান থেকেই শুরু জীবনের প্রথম চক্রবুহ। তাকে বলা হচ্ছে, তোমাকে প্রথম হতে হবে, হতে হবে সর্বোত্তম। আর কেড়ে নেওয়া হচ্ছে তার শৈশব। আমরা জীবন বলতে বুঝি একটাই। কিন্তু জীবন একটা নয়, জীবন ৪টি।
ব্যাক্তিগত জীবন
পারিবারিক জীবন
পেশাগত জীবন
সামাজিক জীবন

বাচ্ছা শিশুর ব্যক্তিগত জীবনকে উন্নত করার জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত সেই সম্পর্কে মা বাবা প্রায়শই উদাসীন। তার ফলস্বরূপ ওই বাচ্ছার এই প্রতিযোগিতার নাগপাশে অমানুসিক পরিশ্রমে গড়ে তোলা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, উপার্জিত অর্থ ব্যায় হয় প্রত্যেক সন্ধ্যায় নেশার জগতে বা নাইট ক্লাবে। আর জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটে অজানা অবসাদে। যদিও ব্যক্তিগত জীবনে সে সফল। তার অন্যতম উদাহরণ আমেরিকার মতোন উন্নত দেশ যার ৬০% শতাংশেরও বেশী মানুষ এখন হতাশাগ্রস্ত। ভারতেও তার প্রভাব বিস্তার করেছে। মানুষ আজ একা হয়ে গেছে তার আত্মবিশ্বাস বলে কিছু নেই, যা আছে তা হলো সন্দেহের নিরন্তন অবকাশ। আর এই সন্দেহের মাঝে যখন শিশু বড়ো হচ্ছে, তার প্রতিটি জীবনশৈলীতে আসছে চরম অন্ধকার। ফলে এই শিশুদের বড়ো হবার পর যে পরিবার গঠন হচ্ছে, সেখানে স্বামী স্ত্রী এর মধ্যে কোনো প্রগারো সম্পর্ক থাকছে না থাকছে এডজাস্টমেন্ট। আর এর জন্য দায়ী সেই পিতামাতা। একজনকে মেনে নেবার জন্য তার যে ধৈর্য, তার রুচির বিরুদ্ধে কি করে সে কোনো খাদ্য গ্রহণ করবে, প্রতিকূলতার সাথে নিজিকে কি করে খাপ খাওয়াবে তার কোনো ভাবনা তাকে ভাবনো হয়নি। কারণ প্রতিটি মা বাবাই একটাই চিন্তা করেন যে আমার সন্তান যেন থেকে দুধে ভাতে, অর্থাৎ Comfort zone। আর এই comfort zone এ একটি শিশুকে করে তোলে আরামপ্রিয় আত্মকেন্দ্রিক। যার ফলে তার জীবনের সংস্কার সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে উল্টোদিকের মানুষটি যে তাকে ভরসা করে সংসার করতে আসে, সে তাকে বিশ্বাস করতে পারে না, আর এর থেকেই আসে পারিবারিক জীবনে ভাঙন।
পেশাগত জীবনটি দেখা যাক, একটি মানুষ তার সম্পূর্ণ জীবনী শক্তির ২৫ % শতাংশের কম যখন তার কর্মজীবনে প্রয়োগ করে তখন তিনি হন দরিদ্র। যখন ৫০% শক্তি প্রয়োগ করে তখন হয় মধ্যবিত্ত। আর ৫০% এর বেশী প্রয়োগ করে হয় উচ্চবিত্ত। ১০০ % প্রয়োগ করা হাতে গোনা ব্যক্তিগণ হয় বিশ্ববিখ্যাত। মানুষের এই কাজের ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ হয় তার অন্তর্নিহিত ঈশ্বর প্রদত্ত শক্তি দিয়ে যদি কাজ করে। একটি উদাহরণ দি, গায়ক যদি আজ হিসাবরক্ষক হয় আর হিসাবরক্ষক যদি খেলোয়াড় হয় তাহলে তার আগ্রহ কখনই প্রকাশিত হবে না। আজ এটাই সমস্যা। সব মা বাবাই তার সন্তানকে প্রোডাক্ট বানাচ্ছেন, সেই ট্রেনডিং প্রোডাক্ট যার বাজারদর আজ খুব বেশী। তার অন্তরের শক্তির কোনো মূল্য আজ পাচ্ছে না সেই শিশুটি। ফলে সেই শিশুটির জীবনে আসছে উদাসীনতা। নিজের কাজের প্রতি আসেনা আগ্রহ। ফলে পেশাগত জীবনটি হয় ব্যার্থতায় পরিপূর্ণ।

সামাজিক দিকটি দেখা যাক

মানুষ আজকে মানুষের সাথে সম্পর্ক ভুলে গিয়ে যন্ত্রের প্রতি নির্ভরশীল। প্রতিটি মা বাবা চায় তার বাচ্ছা যেন সামাজিক স্বীকৃতি পায়

তারপর আসি সামাজিক জীবনে।

মানুষ আজ সোশ্যাল ডিসটেন্সসিং এর শিকার, নেই মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক আছে যন্ত্রের উপর নির্ভরশীলতা। প্রতিটি মা বাবা চায় তার বাচ্ছা যেন সামাজিক স্বীকৃতি পায়, সামাজিক সন্মান পায়, পরিচিতি পায় সমাজে। কিন্তু তা পেতে গেলে যে দায়বদ্ধ হতে হয়। সে সম্পর্কে করে রাখছে উদাসীন। ফলে মা বাবা শিক্ষার নামে দ্বায়িত্ব এর নামে যে অজুহাত ক্রমাগত দিয়ে যাচ্ছে সেটা একটা লজ্জার বিষয়। মা বাবা তার নিজের অতীত ও আগামী অনিশ্চত ভবিষ্যৎ এর জন্য নিজে ভিত, নিজে সন্দেহের মধ্যে জীবনযাপন করছে, তার উচিৎ সন্তানকে না শিখিয়ে সন্তানের কাছ থেকে শেখা। যখন একটি শিশু ৫ বছর বয়সের মধ্যে হয়, সে সম্পূর্ণ বর্তমানে বাঁচে। তার মধ্যে অতীতের কোনো ঘটনার প্রভাব পরে না। আর আমরা মা বাবারা জোর করে তাকে বর্তমান উপেক্ষা করে ভবিষ্যৎকে প্রধান্য দিতে শেখাই। আর তার জীবনে আমরাই নিয়ে আসি দুঃখ। ফলে সন্তানকে না শিখিয়ে যদি সন্তানের কাছ থেকে শেখা যায় তাহলে মনে হয় আমাদের জীবনটা আরো অনেক বেশী আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই আমরা সবাই হয়তো ব্যক্তিগত জীবনে সফল আর এই সফলতার ছায়ায় আমার আপনার সন্তানরা হয়ে আসছে ব্যর্থ। তাই আমি সফল পিতা বা সফল মাতা সেটা যতনা তৎপর্যপূর্ণ তার থেকে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ আমি একজন পূর্ণ পিতা বা মাতা হতে পারলাম কিনা। পূর্ণ পিতা বা মাতা সেই, যে সন্তানের কাছ থেকে লব্ধ শিক্ষাকেই জীবনেরর ব্রত হিসাবে গ্রহণ করে। কারণ সন্তান ঈশ্বর দেন পিতা মাতা কে শিক্ষা প্রদানের জন্য। তার অন্তর্নিহিত প্রতিভাকে প্রস্ফুটিত করার জন্য শুধুমাত্র মা-বাবার পরিচর্যা চায়। কিন্তু উল্টে মা-বাবা তাদের জীবনের অনিশ্চয়তা বা অসম্পূর্ণতাকে পূর্ণ করার স্বপ্ন ওই শিশুর জীবনে চাপিয়ে দেয়।
এই চক্রবুহ্এর ফলে আজকের সন্তানরা মেরুদন্ডহীন, দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন, এক পরজীবী তৈরী হচ্ছে, ফলে ভারতবর্ষ যদিও পৃথিবীর বুকে ইউথ কান্ট্রি হিসিবে স্বীকৃতি পেয়েছে। যাদের জন্য এই স্বীকৃতি সেই ইউথ আজ কর্ম বিমুখ, অদক্ষ হিসাবে পরিচিত হচ্ছে এবং তাঁদের জীবেন অনেক বেশী দুঃখ। আমাদের উচিৎ তাঁদের জন্য উপযুক্ত পৃথিবী তৈরী করে দেওয়া।

 

চন্দন পাল
সম্পাদক
বিরাটি গ্লোব ভিশন সোসাইটি
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত