০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনের শিশু” ফারুক আহম্মেদ জীবন

  • প্রকাশিত ০৩:১৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪
  • ২০৪ বার দেখা হয়েছে
ফিলিস্তিনের শিশু”
ফারুক আহম্মেদ জীবন
মধ্য-রাত। ধ্বংস স্তুপ আর মৃত্যু পুরীতে পরিণত হওয়া গাজা ভূখণ্ডের অভিবাসী নারী শিশুরা মৃত্যু
ভয়ে নিদ্রাহীন হয়ে জেগে রয়েছে প্রায় সকলেই।মাথার উপর দিয়ে ইজ্রায়েলের যুদ্ধ বিমান গুলো মার মার হুহু শাঁ শাঁ শব্দ করে উড়ে যাচ্ছে।ছোট্ট শিশু গুলো সব ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে তাদের নিজেদের মাকে শক্ত করে দু,হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। যেটুকু অবশিষ্ট অক্ষত আছে মাথা গুজার মতো জায়গা। সেখানে তাদের মায়েরা ঠাঁই নিয়েছে। মায়েরা তাদের কোলের দুধের শিশুদের নিজের বুকের সাথে আষ্টেপৃষ্টে ধরে রেখেছে।যাতে ইজ্রায়েলের সৈন্য নামক মানব রূপের ঐসব দানবেরা। তাদের বুকের ধন, নয়নের মণি,কোলের শিশুদের জীবনটা কেড়ে নিতে না পারে।তিন বছর বয়সের ছোট্ট একটা অবুঝ শিশু আবু ত্বহা। সে তার মাকে বললো।মা আমার না, খুব ভয় করছে। তার মা জয়তুন নেছা ছেলেটাকে সাহস যুগিয়ে বললো। কিসের ভয় বাবা? কোনো ভয় নেই। এই তো, আমি আছি না..। এই বলে কপালে চুমু দিয়ে, বুকের সাথে শক্ত করে লেপ্টে ধরে রাখলো।
হঠাৎ! বিকট মুহুর্মুহু শব্দ করে গুলি আর বোমার আওয়াজ। চারিদিকে মানুষ দিশেহারা হয়ে দৌড় দিচ্ছে। মানুষের ক্রন্দন আর আর্তচিৎকারে ভারী
হয়ে উঠেছে রাতের বাতাস। কান্নার রোল পড়ে গেছে চারিদিকে কে কাকে বাঁচাবে? কে কাকে বাঁচাতে নিয়ে যাবে চিকিৎসার জন্য হসপিটালে? কে-যে কোথায় শত্রুর ছুঁড়া তপ্ত গুলি আর জ্বলন্ত বোমার আঘাতে মরে পড়ে আছে। তার কোনো ঠিক নেই। আশ-পাশের সুস্থ অক্ষত লোকজন গুলো এসে। বোমার আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া ক্ষত বিক্ষত দেহের মানুষ গুলোকে নিয়ে গাড়িতে হাসপাতালে ছুটছে। দেহের অসহনীয় ক্ষত নিয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে বহু নারী শিশু। মা..মা
বলে কোথায় যেনো ছোট্ট একটা শিশু আহাজারি
করছে। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না লোকজনে। সব তড়িঘড়ি করে ভাঙ্গা বিল্ডিং এর খন্ড গুলো
সরাতে লাগলো। হঠাৎ! একজনের চোখে পড়লো
একটা নারী রক্তাক্ত দেহে পড়ে আছে। আর তার
দুটি বাহু দিয়ে বুকের মাঝে আঁকড়ে ধরে আছে
সন্তানটিকে। সেই সন্তানটি আর কেউ নয়। একটু
আগে যে শিশুটি তার মায়ের সাথে কথা বলছিল
সেই আবু ত্বহা। কি আশ্চর্য! শিশুটির মা জয়তুন
নেছা বেঁচে নেই। কিন্তু আবু ত্বহা সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় জীবিত আছে।
আসলে আবু ত্বহার মা জয়তুন নেছা তার নিজের জীবন দিয়ে বুকের মধ্যে আগলে রেখে সে সন্তান আবু ত্বহাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। ভাঙ্গা বিল্ডিং এর শক্ত খন্ড খন্ড টুকরো। আর বোমার জ্বলন্ত বারুদ
জয়তুন নেছার দেহটাকে ক্ষত বিক্ষত করলেও।
মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত এতটুকুও আঘাত লাগতে দেয়নি সে তার সন্তানটিকে।
আহা!এরই নাম বুঝি মা। যে- কিনা নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখে। আর এ জন্যই বুঝি
প্রভু মায়ের পদতলে রেখেছেন সন্তানের বেহেশত।
মায়ের দেহের তাজা রক্তে আবু ত্বহার সারা শরীর ভিজে গেছে। জয়তুন নেছা কথা বলছে না। আবু ত্বহা মা…মাগো…ও মা, কথা বলছো না কেনো? কি হয়েছে মা তোমার? মা..ও মা, মাগো, কথা বলো..।
এভাবে মায়ের মুখে হাত দিয়ে ত্বহা ডুকরে ডুকরে কাঁদছে আর সে তার মাকে সমানে ডেকে চলেছে।
আশপাশের আপনজনেরা এসে হাউমাউ করে সব
কাঁদছে এমন করুণ দৃশ্য দেখে। ওদের মধ্যে কেউ একজন জয়তুন নেছার হাত দুটি আবু ত্বহার দেহ
থেকে ছাড়িয়ে আবু ত্বহাকে কোলে তুলে নিলো।উহু! কতোটা বেদনাদায়ক নিদারুণ করুণ দৃশ্য। এক মুহুর্তেই ঘাতকেরা কেড়ে নিলো একটা অবুঝ
শিশুর কাছ থেকে চিরতরে তার মাকে। কখনো আর আবু ত্বহা সে তার মাকে দেখতে পাবে না। মা
বলে ডেকে দৌড়ে মাকে জড়িয়ে ধরতে পারবে না।
কিছুদিন আগে আবু ত্বহা সে তার আব্বুকে হারিয়েছে এই যুদ্ধে। শেষ আশ্রয় ছিলো তার মা।
আজ ইজ্রায়েলের ইয়াহুদী জালেম ঘাতক গোষ্ঠী
সে আশ্রয় টুকুও কেড়ে নিলো। কিভাবে বাঁচবে আবু ত্বহার মতো মা- বাবা হারা সন্তানরা এতিম অসহায় শিশুরা একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে?
আজ যদি ফিলিস্তিনের কবি হেবা কামাল বেঁচে থাকতো। তাহলে হয়তো শিশুটিকে দুটি হাতে উঁচু করে উপরে তুলে বিশ্বের জাতিসংঘ মানবতাবাদী
সকল মনুষ্যত্ব বিবেকবানদেরকে উদ্দেশ্য করে
চিৎকার করে বলতো…
ও বিশ্ববাসী, তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না?কতো- শত, না ফোটা পুষ্প মিষ্টি সুবাস ছড়ানোর আগেই কেমন করে আজ কুড়িতেই ঝরে পড়ছে? ঝরে যাচ্ছে অবুঝ শিশুর মায়াবী নিষ্পাপ মুখের হাসি?
কিম্বা, হয়তো আজ কবি হেবা কামাল কবিতার ভাষায় লিখতো….
উঁহু! আর কতো দেখতে হবে….
দেখতে হবে এভাবে…
নিষ্পাপ অবুঝ দুধের শিশুর লাশ?
কতো মা-বাবার জীবন কেড়ে
ওরা শিশুদের করবে এতিম করবে সর্বনাশ?
কতো আর মা-বাবা সন্তান হারায়
আরশ পানে দু,হাত তুলে,
বিচার চাইবে মহান প্রভুর পাক দরবারে
কেঁদে কেঁদে চোখের জলে?
কবে বন্ধ করবে ঐ পাষণ্ড নিষ্ঠুর বর্বরদের
চিরতরের জন্য নিঃশ্বাস?
আর…আর কবে বিশ্ব বিবেক বলো জাগবে…
কবে বিশ্ব বিধাতা রাগবে?
কবে আর নিষ্পাপ শিশু হত্যার করবে বিচার…
শেষ হবে ইজ্রায়েলের জালেম গোষ্ঠীর
সকল জুলুম অবিচার?
কবে আর মজলুমের পাশে সব দাঁড়াবে…
এই অন্যায় যুদ্ধ বন্ধ করতে
কবে সব অসহায়দের দিকে হাত বাড়াবে?
কিন্তু, আজ যে কবি হেবা কামাল আর বেঁচে নেই।তাকেও যে জীবন দিতে হয়েছে ইজ্রায়েলের ঐ-সব নিষ্ঠুর নির্দয় বর্বর পাষণ্ডদের ছুঁড়া বোমার আঘাতে। আর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তো বহু আগেই আমাদের ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন। তা- না হলে হয়-তো সে আজ বেঁচে থাকলে। প্রতিবাদী মুখি হয়ে তার কবিতার ভাষায় আগুন ঝরানো হুংকার তুলে লিখতো…..
তুরা, সব রণ সাজে সেজে নে
এবার, বিদায় নিয়ে নে,
মস্তকে বেঁধে নে সব সাদা কাফনের বস্ত্র
চল, লড়তে হবে এবার রণাঙ্গনে
হাতে তুলে নে সব অস্ত্র।
মারছে যারা আজ দুধের শিশু
ওরা যে সব জংলী পশু…
ওরা তো মানে না কৃঞ কিম্বা মোহাম্মদ
কোন ঈসা মসীহ যিশু
যারা ফেরেশতা ন্যায় শিশুর জীবন কাড়ে
করতে হবে তাদের পরাস্ত।
ওরা, আর তো পাবে না ছাড়
চল, ভাঙ্গতে হবে হাড়…
যেনো, সোজা হয়ে না পারে আর দাঁড়াতে
চল রণাঙ্গনে হবে ওদের হারাতে
ওদের করতে হবে নিরস্ত্র।
আজ যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের গাজার পুরো ভূখণ্ডের আকাশ বাতাস জুড়ে বিষাক্ত ককটেল বোমা আর গোলা বারুদের দুর্গন্ধ কালো ধোঁয়ায় ভরে গেছে। প্রাণ নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো কোথাও এতোটুকুও জায়গা বাকি নেই।স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে মানুষের বসত-ঘরবাড়ি এমনকি হসপিটাল গুলোতে ইজ্রায়েলের ঐ-সব নিষ্ঠুর পাষন্ড নরখাদক মানুষ রূপের বর্বর হায়েনারা নির্মম ভাবে বোমা নিক্ষেপ করছে। নারী, পুরুষ দুধের শিশু আজ কারোর জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। ওদের ছুঁড়া বোমা গোলা বারুদের আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে গাড়ি বাড়ি মিল-কলকারখানা সর্বত্রই। পুড়ছে মানুষের বসত ঘর- বাড়ি। কে আজ প্রতিবাদ করবে ওদের বিরুদ্ধে? কে রুখে দাঁড়াবে? কে অকুতোভয় মনে বলিষ্ঠ হস্তে লিখবে ঐ পাষণ্ডদের  বিরুদ্ধে। ওরা নিরীহ
মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, ডাক্তার দার্শনিক
বৈজ্ঞানিক সাংবাদিক এমনকি কবি সাহিত্যিকদের
ও নির্বিচারে হত্যা করছে। হয়তো এ অন্যায় যুদ্ধ একদিন শেষ হবে। বিশ্বের দরবারে ফিলিস্তিন বাসীও পূর্ণ স্বাধীনতার স্বীকৃতি পাবে। আবু ত্বহার মতো মাতৃ পিতৃ হারা শিশুরা যদি বেঁচে থাকে। তারাও একদিন সব বড় হবে।তারা সেদিন জানতে পারবে তাদের মাতৃভূমি পবিত্র ভূখণ্ড ফিলিস্তিনের মসজিদুল আকসাকে কেন্দ্র করে ইজ্রায়েলের শাসকগোষ্ঠী তাদের মা-বাবাকে মেরে ফেলেছিল।
যুদ্ধ নামে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে চালিয়েছিলো এই
নির্মম হত্যাযজ্ঞ। আর বিশ্বের জাতিসংঘ, বড় বড়
শক্তিশালী দেশগুলো। যারা মানবতার কথা বলে।
তারা নির্বাক হয়ে শুধু দর্শকের ভূমিকা পালন করে
ছিলো..। তখন মন থেকে ঘৃণা করবে ওরা সুশীল শান্তিময় নামক এ অশ্লীল অশান্তিময় বিশ্বকে। ধিক্কার দিবে তাদের-কে। যারা মানবতার কথা বলে অমানবিকতার কাজের সহায়তা করে। এ লজ্জা, ব্যক্তি বিশেষে শুধু কারোর একার নয়। এ লজ্জা যে সমগ্র বিশ্ব সমাজের মানুষের। এ লজ্জা যে আপনার আমার আমাদের সবার….।
Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

ফিলিস্তিনের শিশু” ফারুক আহম্মেদ জীবন

প্রকাশিত ০৩:১৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪
ফিলিস্তিনের শিশু”
ফারুক আহম্মেদ জীবন
মধ্য-রাত। ধ্বংস স্তুপ আর মৃত্যু পুরীতে পরিণত হওয়া গাজা ভূখণ্ডের অভিবাসী নারী শিশুরা মৃত্যু
ভয়ে নিদ্রাহীন হয়ে জেগে রয়েছে প্রায় সকলেই।মাথার উপর দিয়ে ইজ্রায়েলের যুদ্ধ বিমান গুলো মার মার হুহু শাঁ শাঁ শব্দ করে উড়ে যাচ্ছে।ছোট্ট শিশু গুলো সব ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে তাদের নিজেদের মাকে শক্ত করে দু,হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। যেটুকু অবশিষ্ট অক্ষত আছে মাথা গুজার মতো জায়গা। সেখানে তাদের মায়েরা ঠাঁই নিয়েছে। মায়েরা তাদের কোলের দুধের শিশুদের নিজের বুকের সাথে আষ্টেপৃষ্টে ধরে রেখেছে।যাতে ইজ্রায়েলের সৈন্য নামক মানব রূপের ঐসব দানবেরা। তাদের বুকের ধন, নয়নের মণি,কোলের শিশুদের জীবনটা কেড়ে নিতে না পারে।তিন বছর বয়সের ছোট্ট একটা অবুঝ শিশু আবু ত্বহা। সে তার মাকে বললো।মা আমার না, খুব ভয় করছে। তার মা জয়তুন নেছা ছেলেটাকে সাহস যুগিয়ে বললো। কিসের ভয় বাবা? কোনো ভয় নেই। এই তো, আমি আছি না..। এই বলে কপালে চুমু দিয়ে, বুকের সাথে শক্ত করে লেপ্টে ধরে রাখলো।
হঠাৎ! বিকট মুহুর্মুহু শব্দ করে গুলি আর বোমার আওয়াজ। চারিদিকে মানুষ দিশেহারা হয়ে দৌড় দিচ্ছে। মানুষের ক্রন্দন আর আর্তচিৎকারে ভারী
হয়ে উঠেছে রাতের বাতাস। কান্নার রোল পড়ে গেছে চারিদিকে কে কাকে বাঁচাবে? কে কাকে বাঁচাতে নিয়ে যাবে চিকিৎসার জন্য হসপিটালে? কে-যে কোথায় শত্রুর ছুঁড়া তপ্ত গুলি আর জ্বলন্ত বোমার আঘাতে মরে পড়ে আছে। তার কোনো ঠিক নেই। আশ-পাশের সুস্থ অক্ষত লোকজন গুলো এসে। বোমার আঘাতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া ক্ষত বিক্ষত দেহের মানুষ গুলোকে নিয়ে গাড়িতে হাসপাতালে ছুটছে। দেহের অসহনীয় ক্ষত নিয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে বহু নারী শিশু। মা..মা
বলে কোথায় যেনো ছোট্ট একটা শিশু আহাজারি
করছে। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না লোকজনে। সব তড়িঘড়ি করে ভাঙ্গা বিল্ডিং এর খন্ড গুলো
সরাতে লাগলো। হঠাৎ! একজনের চোখে পড়লো
একটা নারী রক্তাক্ত দেহে পড়ে আছে। আর তার
দুটি বাহু দিয়ে বুকের মাঝে আঁকড়ে ধরে আছে
সন্তানটিকে। সেই সন্তানটি আর কেউ নয়। একটু
আগে যে শিশুটি তার মায়ের সাথে কথা বলছিল
সেই আবু ত্বহা। কি আশ্চর্য! শিশুটির মা জয়তুন
নেছা বেঁচে নেই। কিন্তু আবু ত্বহা সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় জীবিত আছে।
আসলে আবু ত্বহার মা জয়তুন নেছা তার নিজের জীবন দিয়ে বুকের মধ্যে আগলে রেখে সে সন্তান আবু ত্বহাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। ভাঙ্গা বিল্ডিং এর শক্ত খন্ড খন্ড টুকরো। আর বোমার জ্বলন্ত বারুদ
জয়তুন নেছার দেহটাকে ক্ষত বিক্ষত করলেও।
মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত এতটুকুও আঘাত লাগতে দেয়নি সে তার সন্তানটিকে।
আহা!এরই নাম বুঝি মা। যে- কিনা নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখে। আর এ জন্যই বুঝি
প্রভু মায়ের পদতলে রেখেছেন সন্তানের বেহেশত।
মায়ের দেহের তাজা রক্তে আবু ত্বহার সারা শরীর ভিজে গেছে। জয়তুন নেছা কথা বলছে না। আবু ত্বহা মা…মাগো…ও মা, কথা বলছো না কেনো? কি হয়েছে মা তোমার? মা..ও মা, মাগো, কথা বলো..।
এভাবে মায়ের মুখে হাত দিয়ে ত্বহা ডুকরে ডুকরে কাঁদছে আর সে তার মাকে সমানে ডেকে চলেছে।
আশপাশের আপনজনেরা এসে হাউমাউ করে সব
কাঁদছে এমন করুণ দৃশ্য দেখে। ওদের মধ্যে কেউ একজন জয়তুন নেছার হাত দুটি আবু ত্বহার দেহ
থেকে ছাড়িয়ে আবু ত্বহাকে কোলে তুলে নিলো।উহু! কতোটা বেদনাদায়ক নিদারুণ করুণ দৃশ্য। এক মুহুর্তেই ঘাতকেরা কেড়ে নিলো একটা অবুঝ
শিশুর কাছ থেকে চিরতরে তার মাকে। কখনো আর আবু ত্বহা সে তার মাকে দেখতে পাবে না। মা
বলে ডেকে দৌড়ে মাকে জড়িয়ে ধরতে পারবে না।
কিছুদিন আগে আবু ত্বহা সে তার আব্বুকে হারিয়েছে এই যুদ্ধে। শেষ আশ্রয় ছিলো তার মা।
আজ ইজ্রায়েলের ইয়াহুদী জালেম ঘাতক গোষ্ঠী
সে আশ্রয় টুকুও কেড়ে নিলো। কিভাবে বাঁচবে আবু ত্বহার মতো মা- বাবা হারা সন্তানরা এতিম অসহায় শিশুরা একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে?
আজ যদি ফিলিস্তিনের কবি হেবা কামাল বেঁচে থাকতো। তাহলে হয়তো শিশুটিকে দুটি হাতে উঁচু করে উপরে তুলে বিশ্বের জাতিসংঘ মানবতাবাদী
সকল মনুষ্যত্ব বিবেকবানদেরকে উদ্দেশ্য করে
চিৎকার করে বলতো…
ও বিশ্ববাসী, তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না?কতো- শত, না ফোটা পুষ্প মিষ্টি সুবাস ছড়ানোর আগেই কেমন করে আজ কুড়িতেই ঝরে পড়ছে? ঝরে যাচ্ছে অবুঝ শিশুর মায়াবী নিষ্পাপ মুখের হাসি?
কিম্বা, হয়তো আজ কবি হেবা কামাল কবিতার ভাষায় লিখতো….
উঁহু! আর কতো দেখতে হবে….
দেখতে হবে এভাবে…
নিষ্পাপ অবুঝ দুধের শিশুর লাশ?
কতো মা-বাবার জীবন কেড়ে
ওরা শিশুদের করবে এতিম করবে সর্বনাশ?
কতো আর মা-বাবা সন্তান হারায়
আরশ পানে দু,হাত তুলে,
বিচার চাইবে মহান প্রভুর পাক দরবারে
কেঁদে কেঁদে চোখের জলে?
কবে বন্ধ করবে ঐ পাষণ্ড নিষ্ঠুর বর্বরদের
চিরতরের জন্য নিঃশ্বাস?
আর…আর কবে বিশ্ব বিবেক বলো জাগবে…
কবে বিশ্ব বিধাতা রাগবে?
কবে আর নিষ্পাপ শিশু হত্যার করবে বিচার…
শেষ হবে ইজ্রায়েলের জালেম গোষ্ঠীর
সকল জুলুম অবিচার?
কবে আর মজলুমের পাশে সব দাঁড়াবে…
এই অন্যায় যুদ্ধ বন্ধ করতে
কবে সব অসহায়দের দিকে হাত বাড়াবে?
কিন্তু, আজ যে কবি হেবা কামাল আর বেঁচে নেই।তাকেও যে জীবন দিতে হয়েছে ইজ্রায়েলের ঐ-সব নিষ্ঠুর নির্দয় বর্বর পাষণ্ডদের ছুঁড়া বোমার আঘাতে। আর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তো বহু আগেই আমাদের ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন। তা- না হলে হয়-তো সে আজ বেঁচে থাকলে। প্রতিবাদী মুখি হয়ে তার কবিতার ভাষায় আগুন ঝরানো হুংকার তুলে লিখতো…..
তুরা, সব রণ সাজে সেজে নে
এবার, বিদায় নিয়ে নে,
মস্তকে বেঁধে নে সব সাদা কাফনের বস্ত্র
চল, লড়তে হবে এবার রণাঙ্গনে
হাতে তুলে নে সব অস্ত্র।
মারছে যারা আজ দুধের শিশু
ওরা যে সব জংলী পশু…
ওরা তো মানে না কৃঞ কিম্বা মোহাম্মদ
কোন ঈসা মসীহ যিশু
যারা ফেরেশতা ন্যায় শিশুর জীবন কাড়ে
করতে হবে তাদের পরাস্ত।
ওরা, আর তো পাবে না ছাড়
চল, ভাঙ্গতে হবে হাড়…
যেনো, সোজা হয়ে না পারে আর দাঁড়াতে
চল রণাঙ্গনে হবে ওদের হারাতে
ওদের করতে হবে নিরস্ত্র।
আজ যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের গাজার পুরো ভূখণ্ডের আকাশ বাতাস জুড়ে বিষাক্ত ককটেল বোমা আর গোলা বারুদের দুর্গন্ধ কালো ধোঁয়ায় ভরে গেছে। প্রাণ নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো কোথাও এতোটুকুও জায়গা বাকি নেই।স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে মানুষের বসত-ঘরবাড়ি এমনকি হসপিটাল গুলোতে ইজ্রায়েলের ঐ-সব নিষ্ঠুর পাষন্ড নরখাদক মানুষ রূপের বর্বর হায়েনারা নির্মম ভাবে বোমা নিক্ষেপ করছে। নারী, পুরুষ দুধের শিশু আজ কারোর জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। ওদের ছুঁড়া বোমা গোলা বারুদের আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে গাড়ি বাড়ি মিল-কলকারখানা সর্বত্রই। পুড়ছে মানুষের বসত ঘর- বাড়ি। কে আজ প্রতিবাদ করবে ওদের বিরুদ্ধে? কে রুখে দাঁড়াবে? কে অকুতোভয় মনে বলিষ্ঠ হস্তে লিখবে ঐ পাষণ্ডদের  বিরুদ্ধে। ওরা নিরীহ
মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, ডাক্তার দার্শনিক
বৈজ্ঞানিক সাংবাদিক এমনকি কবি সাহিত্যিকদের
ও নির্বিচারে হত্যা করছে। হয়তো এ অন্যায় যুদ্ধ একদিন শেষ হবে। বিশ্বের দরবারে ফিলিস্তিন বাসীও পূর্ণ স্বাধীনতার স্বীকৃতি পাবে। আবু ত্বহার মতো মাতৃ পিতৃ হারা শিশুরা যদি বেঁচে থাকে। তারাও একদিন সব বড় হবে।তারা সেদিন জানতে পারবে তাদের মাতৃভূমি পবিত্র ভূখণ্ড ফিলিস্তিনের মসজিদুল আকসাকে কেন্দ্র করে ইজ্রায়েলের শাসকগোষ্ঠী তাদের মা-বাবাকে মেরে ফেলেছিল।
যুদ্ধ নামে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে চালিয়েছিলো এই
নির্মম হত্যাযজ্ঞ। আর বিশ্বের জাতিসংঘ, বড় বড়
শক্তিশালী দেশগুলো। যারা মানবতার কথা বলে।
তারা নির্বাক হয়ে শুধু দর্শকের ভূমিকা পালন করে
ছিলো..। তখন মন থেকে ঘৃণা করবে ওরা সুশীল শান্তিময় নামক এ অশ্লীল অশান্তিময় বিশ্বকে। ধিক্কার দিবে তাদের-কে। যারা মানবতার কথা বলে অমানবিকতার কাজের সহায়তা করে। এ লজ্জা, ব্যক্তি বিশেষে শুধু কারোর একার নয়। এ লজ্জা যে সমগ্র বিশ্ব সমাজের মানুষের। এ লজ্জা যে আপনার আমার আমাদের সবার….।