এদিকে বর্তমান পরিস্থিতি বিএনপির জন্য একটি বড় সুযোগ, যদি তারা কাজে লাগাতে পারে। বিরোধীদের একত্রিত করে এবং একটি স্পষ্ট সংস্কারের এজেন্ডা উপস্থাপন করে বর্তমান ক্ষমতার শূন্যতা দখল করতে পারে বিএনপি। তবে, এজন্য অভ্যন্তরীণ বিভাজনগুলো কাটিয়ে ওঠা এবং কার্যকরভাবে জনসাধারণের সমর্থন সংগঠিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এখানেও বিএনপি’কে মনে রাখতে হবে, এরুপ একটি সময়ে জোড় খাটিয়ে কিছু আদায় করা যাবে না। তাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং তাদের করা আগের ভুলগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে। বিএনপি’তে নেতৃতের সংকট খুবই পরিস্কার যা তাদের দ্রুতই কাটিয়ে উঠতে হবে।
যদি বিএনপি এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করতে এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন মিটিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তারা আরও দীর্ঘ সময় প্রান্তিক দল হয়ে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যার ফলে অন্যান্য শক্তি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে।
বর্তমান আন্দোলন পদ্ধতিগত সংস্কার এবং স্বচ্ছতার পক্ষে একটি জোট গঠন করতে পারে, যা সম্ভাব্যভাবে আরও গণতান্ত্রিক রাজনীতির পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম । এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে বর্তমানে চলমান আন্দোলনে এখন পর্যন্ত দেশের সাধারন মানুষের একটা বড় সমর্থন রয়েছে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে খুব সহজেই একটি জোট গঠন করে তা কার্যকরীভাবে পরিচালনা করা খুব একটা সহজ না। তবে যাই হোক, এরুপ সম্ভাবনাকে বর্তমান পরিস্থিতিতে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও নতুন জোট গঠন হলেও তাদের পথচলা খুব সহজ হবে না বরং তাদেরকেও যথেষ্ট প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হবে।
“দেখা যাক এই সংহতি কতদিনের” – এমন একটা কথা ইদানিং শোনা যাচ্ছে। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যদি কোনো নতুন দল প্রতিষ্ঠিত হয়, সংহতি হবে তার একমাত্র হাতিয়ার। এই সংহতিকে টিকিয়ে রাখা এবং সঠিক পথে দীর্ঘ সময় পরিচালিত করা নতুন প্রতিষ্ঠিত দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে, যার ফলে তাদের প্রান্তিক-করণ হতে পারে।
ড. মুহম্মদ ইউনূস ক্ষুদ্রঋণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনে তার কাজের জন্য পরিচিত। রাজনৈতিক কিছু বিবাদ ও শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ড. মুহম্মদ ইউনূসের একটি সাধারণ গ্রহণযোগ্যতা আছে যা বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি স্থিতিশীল প্রভাব আপাতদৃষ্টিতে রাখতে পারে। তার আন্তর্জাতিক খ্যাতিও এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী সমর্থন আকর্ষণ করতে পারে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে পারে বলে আশা করা যায়।
তার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ড. ইউনূস বেশকিছু উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন। তাকে অবশ্যই একটি গভীর মেরুকৃত রাজনৈতিক দৃশ্যপটের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে যেখানে আরও যুক্ত থাকবে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং মানবাধিকারের উদ্বেগ। তার সাফল্য নির্ভর করবে একটি স্থিতিশীল সরকারে শান্তিপূর্ণ স্থানান্তর নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই দাবিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর।
মোঃ মাহবুবুল আলম সহযোগী সম্পাদক
জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা
পরবর্তি মন্তব্য নিয়ে আবার আসব…