নওগাঁয় ভুয়া নিকাহনামা তৈরি করে ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর ও আদালতে যৌতুকের মামলা করার অভিযোগ উঠেছে দুবলহাটি ইউনিয়নে বনগ্রামের মোঃ রাজ্জাক শেখের মেয়ে মোছাঃ রেশমা বেগম এর বিরুদ্ধে, সরেজমিনে গিয়ে শিকার পুর ইউনিয়নের পার শিকার পুর গ্রামের মোঃ আমিনুল ইসলামের ছেলে মোঃ আমিন শাহরিয়ার কাছে থেকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মোছাঃ রেশমা বেগম এর সাথে কথা হয়,আমি তাকে আগে থেকে চিনতাম না, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার সাথে আমার পরিচয় হয় সেই থেকে মাঝেমধ্যে মোবাইল ফোনে কথা হত আমি রাজশাহীতে পড়া লেখা করি, হঠাৎ করে আমার সাথে দেখা করতে চায় এবং সে বলে রাজশাহীতে এসেছে, একপর্যায়ে আমি তার অনুরোধ রাখতে দেখা করতে গেলে সেখানে গিয়ে আমার সাথে অমানবিক আচরণ করে আমাকে মারপিট করে এবং জোর করে তার লোক জন দিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেই আমি তখন নিরুপায় হয়ে স্বাক্ষর দেই এই স্বাক্ষর যেন আমার জীবনের কাল, সেই সাদা স্ট্যাম্প দিয়ে সে এফিডেভিট করে ২২,৯,২০২৪ তারিখে রাজশাহী নোটারী পাবলিকের কার্যালয় থেকে, আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না এবং ঔ এফিডেভিট দিয়ে ১৮,৯,২০২৪ তারিখের একটি ভুয়া নিকাহনামা তৈরি করে আমাকে স্বামী হিসেবে দাবি করে, তখন আমি বলি তোমার সাথে তো আমার কোনো বিয়ে হয় নাই, আমি তখন রাজশাহী থেকে গ্রামের বাড়িতে আছি এবং এই ঘটনা বিষয়ে বাবা ও মায়ের সাথে আলোচনা করি, আমার বাবা তখন তার পরিবারের সাথে দেখা করে, এই ঘটনাটি সঠিক নয় তার পরেও গ্রামের কিছু লোকজন এই বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে আমাদের মাঝে খোলা তালাক হয় ১৫,১০,২০২৪ তারিখে, আমি আবারও মানুষের মুখে শুনতে পাই সে নাকি আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে তখন আমি আমার বাবাকে বিষয় টি বলি আমার বাবা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন সে সত্যই মামলা করেছে, মামলার কাগজ তুলে দেখা যায় সে নতুন করে আবার একটি এফিডেভিট ও ভুয়া নিকাহনামা তৈরি করেছে সেখানে দেনমোহর পাঁচ লক্ষ টাকা উল্লেখ আছে, আমি কোনদিন এই এফিডেভিট ও কাবিননামায় স্বাক্ষর করি নাই যাহা ভুয়া ও জাল আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি সঠিক তদন্ত করে অপরাধীকে আইনের মুখোমুখি করা হোক। এই ঘটনা বিষয়ে বাদীর কাছে থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার সঙ্গে সে প্রেম করেছে এবং গত ২২,৯,২০২৪ তারিখে রাজশাহীতে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে এছাড়াও রেজিঃ করি ১৮,৯,২০২৪ তারিখে, আমরা বিয়ে করে স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করাকালে বনিবনা না হওয়ার কারণে গত ১৫,১০,২০২৪ তারিখে খোলাতলাক হয়, তালাক হওয়ার পরে পুনরায় মোঃ আমিন শাহরিয়ার ১৭,১০,২০২৪ তারিখে নওগাঁ কোটে এফিডেভিটের মাধ্যমে এবং কাজীর মাধ্যমে বিয়ে রেজিস্ট্রি করি, ঘর সংসার করা কালে আমার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে আমি টাকা দিতে না পারায় আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় আমি এরপর মামলা করি। রেশমার কাছ থেকে ১৭,১০,২০২৪ তারিখের কাবিলনামা সঠিক নয় জানতে চাইলে সে বলে আমি কিছু জানি না যা কিছু করেছে ছেলে করেছে, এই ঘটনা বিষয়ে মেয়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা বলেন আমরা কিছু বলতে পারবো না যা বলবে মেয়ে, এই ঘটনা বিষয়ে ছেলের বাবার কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন সবকিছুই সাজানো-গোছানো নাটক এবং মিথ্যাও বানোট যা সত্য নয়, ১৩,১১,২০২৪ তারিখে আমার ছেলে সহ আমাকে হুমকি দেয়,তখন আমি বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় রেশমা ও আরমান হোসেন এর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করি, সরেজমিনে গিয়ে আরও জানা যায় যে গত ১৫,১০,২০২৪ তারিখে উভয় পক্ষ বসে দুবলহাটি কাজীর মাধ্যমে খোলা তালাক হয় তা সত্য, সেই সময় উপস্থিত ছিলেন শিকারপুর গ্রামের মেহের আলীর ছেলে মোঃ শাহী আলম সহ অনেকে, শাহী আলমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় খোলা তালাক হয়েছে তা সত্য আমি সহ ইসলাম ও চান্দু এবং নয়ন উপস্থিত ছিল, রাজশাহী কোটের গত ২২,৯,২০২৪ তারিখের এফিডেভিটে দেখা যায় বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে ১৮,৯,২০২৪ তারিখে ছেলের বয়স ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স ৩১ বছর দেনমোহর এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা সংখ্যায় লেখা আছে কিন্তু কথায় লেখা নাই, যে নিকাহনামা দেখানো হয়েছে তা তে ছেলে ও মেয়ে পক্ষের সাক্ষীদের পিতার নামও ঠিকানা লেখা নেই এবং কোন কাজী বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন তাহার কোন নাম ঠিকানা স্বাক্ষর ও চিল নেই, দুবলহাটি গ্রামের নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন বনগ্রামের রাজ্জাক শেখের মেয়ে রেশমা ইতিপূর্ব একাধিকবার এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন কেউ কিছু বলতে গেলে তাদের কথা শোনে না বরং ঝড়গাঝাটি শুরু করে দেই এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেয় তাই ভয়ে কেউ কিছু বলেনা এই ধরনের অপকর্মের জন্য এই মেয়ের সাজা পাওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি, গত ১৭,১০,২০২৪ তারিখের নিকাহনামা ভলিউম নং( এ)এবং পাতা নং ৬৯৷ দেনমোহর পাঁচ লক্ষ টাকা সম্পর্কে জানতে চাইলে কাজী মোসাদ্দেক হোসেন বলেন ছেলে মোঃ আমিন শাহরিয়ার এবং মেয়ে মোছাঃ রেশমা বেগমের বিয়ে পরাই নাই এবং রেজিস্ট্রি আমার এখানে হয় নাই , ছেলের বাবা মোঃ আমিনুল ইসলাম আমার বাড়িতে এসেছিলেন এবং যে কাগজটি আমাকে দেখান সেই কাগজটি আমার মনে হয়েছে ভুয়া ও জাল সেই কারণে আমি একটি প্রত্যয়ন পত্র দিয়েছি যেহেতু আমি বিয়ের রেজিস্ট্রি বা বিয়ে পরাই নাই আমি ছেলে ও মেয়ে কে চিনি নাই ও কোনদিন দেখি নাই ছেলের বাবাকে যে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি তা সত্য, কাজীর কাছে থেকে নিকাহনামায় দেওয়ান মোসাদ্দেক নাম টি কার জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার নাম হলো কাজী মোসাদ্দেক হোসেন, হয়তো আমাকে ফাঁসানোর জন্য কেউ আমার এই নাম ব্যবহার করেছেন ভুয়া নিকাহনামা সৃষ্টি করেছেন, গত ১৭,১০,২০২৪ তারিখে যে বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে সেখানে ছেলের বয়স ২৫ বছর এবং মেয়ের বয়স ২৩ বছর দেখানো হয়েছে, ছেলের জন্ম তারিখ ১০,৮,২০০৫ সাল কিন্তু রাজশাহীর এফিডেভিটে ছেলের জন্ম তারিখ দেখানো হয়েছে ১০,৮,২০২৩ সাল সেইটা সঠিক নয়, মেয়ে প্রথম থেকেই এই ছেলের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে বলে অভিযোগ করেন ছেলের পরিবার, আমরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাধারণ লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারি এই মেয়ের অন্য জায়গায় বিয়ে হয়েছিল কিন্তু এই ধরনের অপকর্মের কারণে তার সেখানে ঘর সংসার হয় নাই একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে এই ধরনের অপকর্ম করেছেন তার খপ্পরে পড়েই অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য ঘটনাটি উদঘাটন করার জন্য অনুরোধ করেছেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের চাওয়া পাওয়া সত্য ঘটনাটি উদঘাটন হোক অপরাধীর শাস্তির দাবি করেন , বর্তমানে মোঃ আমিন শাহরিয়ার বলেন আমি ও আমার পরিবার নিয়ে নিরাপত্তা হীনতায় ভুগিতেছি যে কোনো সময় তার গুন্ডাবিনী দিয়ে যে কোনো ধরনের দূর ঘটনা ঘটাইতে পারে ভুক্তভোগী প্রশাসনের কাছে তার ও পরিবারে জন্য নিরাপত্তা চেয়েছেন।
১০:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম