০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ডাকাতিয়াকে নদীকে বাঁচাতে উদ্যোগ নিলেন ২ শতাধিক তরুণ।

  • প্রকাশিত ০৬:৩২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৪
  • ১৫৪ বার দেখা হয়েছে

স্বেচ্ছাশ্রমে নদীর কচুরিপানা অপসারণ শুরু
ডাকাতিয়া নদীতে জমাটবাঁধা কচুরিপানা, বিভিন্ন তরুলতাসহ আগাছা ও বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কনকাপৈত উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক ভোর থেকে কাজ করছেন। এ কর্মসূচি সপ্তাহব্যাপী চলবে বলে জানা গেছে।
শনিবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মরকটা স্টীল ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় এ উপলক্ষে আয়োজিত কাজের নেতৃত্ব দেন কনকাপৈত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো: ইকবাল হোসেন মজুমদার।
সরেজমিন স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীর দুই পাড় অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দখলে এগিয়ে রয়েছে এলাকার প্রভাবশালীরা। বিভিন্ন স্থানে কল-কারখানার দূষিত বর্জ্য, জমাটবাঁধা কচুরিপানা ও আবর্জনা ফেলে বিষাক্ত করে তুলেছে নদীটিকে। এছাড়া যুগ যুগ ধরে খনন না করায় পলি মাটি জমে ভরাট হয়ে নদীটি নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। সামান্য বৃষ্টি হলে নদীর পাশে অবস্থিত ফসলী জমিগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সম্প্রতিক সময়ে বয়ে যাওয়া বন্যার পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়। এতে করে চৌদ্দগ্রামের প্রায় ৫০০ কোটির টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। নদীটিকে বাঁচাতে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্যোগ গ্রহন করে।
কনকাপৈত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো: ইকবাল হোসেন মজুমদার বলেন, কনকাপৈত ইউনিয়ন উন্নয়ন ফোরাম এর উদ্যোগে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ডাকাতিয়া নদীর বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আজ মরকটা স্টীল ব্রীজ এলাকা থেকে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। সম্পূর্ণ বর্জ্য অপসারণ পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। ডাকাতিয়ার বিভিন্ন স্থানে যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমাট বেঁধে রয়েছে, এগুলো অপসারণ করতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগবে। উন্নয়ন ফোরামের প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিরলসভাবে কাজ করছে এ কর্মসূচিতে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা, খাল ও নদীর অবৈধ দখলের ফলে পরিবেশ দূষণ সহ বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দেয়। ২০২৪ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে, নদীমাতৃক এ দেশে খাল ও নদীর গুরুত্ব কী? আশা করছি, ডাকাতিয়ার এ বর্জ্যগুলো অপসারিত হলে ডাকাতিয়া নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ চালুর পাশাপাশি ইউনিয়নে সাতাশটি গ্রাম সহ আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক সমাজ বেশ উপকৃত হবে। কনকাপৈত ইউনিয়নকে একটি কৃষি বান্ধব মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরে কনকাপৈত উন্নয়ন ফোরাম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি ভবিষ্যতেও ইউনিয়নের সামগ্রীক উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কনকাপৈত ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান-০১) মীর হোসেন, তারাশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার নুরুল ইসলাম মজুমদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: নাছির উদ্দিন মজুমদার, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো: আহসান উল্লাহ বেপারী, মো. রেজাউল করিম মোল্লা, ডা. জহিরুল ইসলাম মজুমদার, সাবেক ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম, যুবনেতা মো: শাহআলম মজুমদার, প্রবাসী মো: ইমাম হোসেন মজুমদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: মনির হোসেন, মাওলানা রুহুল আমিন, যুবনেতা ফুয়াদ ইবনে মোস্তফা, নুরুল আলম, মো: ফারহান, হোসাইন মামুন, কাজী আরিফ হোসেন, আরাফাত,আবু তাহের চুট্টু, ইমন প্রমুখ।

Tag :
জনপ্রিয়

খুলনায় গ্যাস সরবরাহের দাবিতে খুলনা নাগরিক সমাজের আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ডাকাতিয়াকে নদীকে বাঁচাতে উদ্যোগ নিলেন ২ শতাধিক তরুণ।

প্রকাশিত ০৬:৩২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৪

স্বেচ্ছাশ্রমে নদীর কচুরিপানা অপসারণ শুরু
ডাকাতিয়া নদীতে জমাটবাঁধা কচুরিপানা, বিভিন্ন তরুলতাসহ আগাছা ও বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কনকাপৈত উন্নয়ন ফোরামের উদ্যোগে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক ভোর থেকে কাজ করছেন। এ কর্মসূচি সপ্তাহব্যাপী চলবে বলে জানা গেছে।
শনিবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মরকটা স্টীল ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় এ উপলক্ষে আয়োজিত কাজের নেতৃত্ব দেন কনকাপৈত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো: ইকবাল হোসেন মজুমদার।
সরেজমিন স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীর দুই পাড় অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দখলে এগিয়ে রয়েছে এলাকার প্রভাবশালীরা। বিভিন্ন স্থানে কল-কারখানার দূষিত বর্জ্য, জমাটবাঁধা কচুরিপানা ও আবর্জনা ফেলে বিষাক্ত করে তুলেছে নদীটিকে। এছাড়া যুগ যুগ ধরে খনন না করায় পলি মাটি জমে ভরাট হয়ে নদীটি নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। সামান্য বৃষ্টি হলে নদীর পাশে অবস্থিত ফসলী জমিগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সম্প্রতিক সময়ে বয়ে যাওয়া বন্যার পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হয়। এতে করে চৌদ্দগ্রামের প্রায় ৫০০ কোটির টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। নদীটিকে বাঁচাতে এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্যোগ গ্রহন করে।
কনকাপৈত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো: ইকবাল হোসেন মজুমদার বলেন, কনকাপৈত ইউনিয়ন উন্নয়ন ফোরাম এর উদ্যোগে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ডাকাতিয়া নদীর বর্জ্য অপসারণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আজ মরকটা স্টীল ব্রীজ এলাকা থেকে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। সম্পূর্ণ বর্জ্য অপসারণ পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। ডাকাতিয়ার বিভিন্ন স্থানে যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য জমাট বেঁধে রয়েছে, এগুলো অপসারণ করতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগবে। উন্নয়ন ফোরামের প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিরলসভাবে কাজ করছে এ কর্মসূচিতে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা, খাল ও নদীর অবৈধ দখলের ফলে পরিবেশ দূষণ সহ বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা দেয়। ২০২৪ সালের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে, নদীমাতৃক এ দেশে খাল ও নদীর গুরুত্ব কী? আশা করছি, ডাকাতিয়ার এ বর্জ্যগুলো অপসারিত হলে ডাকাতিয়া নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ চালুর পাশাপাশি ইউনিয়নে সাতাশটি গ্রাম সহ আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক সমাজ বেশ উপকৃত হবে। কনকাপৈত ইউনিয়নকে একটি কৃষি বান্ধব মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরে কনকাপৈত উন্নয়ন ফোরাম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় তিনি ভবিষ্যতেও ইউনিয়নের সামগ্রীক উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কনকাপৈত ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান-০১) মীর হোসেন, তারাশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার নুরুল ইসলাম মজুমদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: নাছির উদ্দিন মজুমদার, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো: আহসান উল্লাহ বেপারী, মো. রেজাউল করিম মোল্লা, ডা. জহিরুল ইসলাম মজুমদার, সাবেক ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম, যুবনেতা মো: শাহআলম মজুমদার, প্রবাসী মো: ইমাম হোসেন মজুমদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: মনির হোসেন, মাওলানা রুহুল আমিন, যুবনেতা ফুয়াদ ইবনে মোস্তফা, নুরুল আলম, মো: ফারহান, হোসাইন মামুন, কাজী আরিফ হোসেন, আরাফাত,আবু তাহের চুট্টু, ইমন প্রমুখ।