ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে অবস্থিত এ.বি. ফুলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ একরামুল হকের বিরুদ্ধে সাড়ে ১২ লক্ষ টাকা আত্নসাধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মৃত হারুনুর রশীদের ছেলে মোঃ ফাহিম (১৮) ।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ দাখিলকৃত রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ থেকে জানা যায়, মোঃ ফাহিমের পিতা মৃত হারুনুর রশীদ এ.বি. ফুলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ একরামুল হকের কথামত ০১/০৭/২০০৪ তারিখে পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সহকারি শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) ৮ম শ্রেণী (খ) পদে যোগদান করান। এমতাবস্থায় তার পিতার নিকট প্রধান শিক্ষক মোঃ একরামুল হক চাকুরীর সুবাদে নগদ ১০.০০.০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা গ্রহণ করেন। চাকুরীতে যোগদান করার পরে তার বেতন-ভাতার জন্য প্রধান শিক্ষক মোঃ একরামুল হক আরো ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা চাইলে অভিযোগকারীর পিতার নিকট টাকা না থাকায় তাদের একটি পালিত গরু বিক্রি করে প্রধান শিক্ষককে ২,৫০,০০০/- টাকা প্রদান করেন। এমপিও ভূক্তি সংক্রান্তে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের স্মারক নং-৩৭.০২.০০০০.১০৭.৯৯.৩৫৬.১৯-২০৬৩, তারিখ-০৩/১২/২০২০খ্রি. মূলে অনলাইনে নিষ্পত্তির জন্য বলা হলেও প্রধান শিক্ষক অভিযোগকারীর পিতার পরিবর্তে মোঃ শাহজাহান আলী নামে নতুন শিক্ষক নিয়োগ করে উক্ত শিক্ষকের বেতন-ভাতাদির জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। যার কারনে উক্ত শিক্ষক এমপিও ভুক্ত হয়। বেতন না হওয়ার কারনে মানসিক টেনশনে হঠাৎ ১৭/০৮/২০২২ইং তারিখে হারুনুর রশীদ মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানানো হলে প্রধান শিক্ষক উক্ত ১২,৫০,০০০/- টাকা প্রদান করবেন বলে লোকজনের সামনে আশ্বস্ত করেন। তবে, বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক মৃত হারুনুর রশীদের পুত্র মোঃ ফাহিমকে মাত্র ১৯,০০০/- (উনিশ হাজার) টাকা দিয়েছেন। মোঃ ফাহিম বাকি টাকা ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত পাননি বলে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া মোঃ ফাহিম টাকা চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ একরামুল হক কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকির কথা উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এই রিপোর্টার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে এ.বি. ফুলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে গেলে অফিস চলাকালীন সময়ে প্রধান শিক্ষককে পাননি।
সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ মতিয়ার রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক মোঃ একরামুল হক ২৩ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির আবেদন জমা দিয়েছেন।
অফিসে প্রাপ্ত ছুটির আবেদনে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রকিবুল হাসানের ছুটি অনুমোদনের কোন স্বাক্ষরযুক্ত সিলমোহর পাওয়া যায়নি।
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষক মোঃ একরামুল হক জানান, তিনি সিলেটে আছেন।
অভিযোগ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রকিবুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে, তিনি অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।