০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
অশোক ধর

জেহাদ ছিলেন নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ঐক্যের প্রতীক

  • প্রকাশিত ১২:২৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪
  • ১৩৭ বার দেখা হয়েছে

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্র তরের দিকে যাচ্ছে। সারাদেশে সকল ছাত্র সংগঠন গুলো এরশাদ সরকারের পতনের জন্য প্রতিদিন আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।১০ অক্টোবর ছিল একটি ঐতিহাসিক দিন।সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে ঢাকা এসে ছাত্রদের মিছিলে জেহাদ এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করে ১০ই অক্টোবর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পেটুয়া বাহিনীর করা গুলিতে নাজির উদ্দিন জেহাদ শহিদ হন। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পুলিশ বাহিনী দ্বারা নিহত হওয়ার পর শহীদ জেহাদের লাশ কে সামনে রেখে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গঠিত হয় এবং সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের নেতারা শপথ নেয় স্বৈরাচার এরশাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না। সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গঠিত হওয়ার পর অপরায় বাংলার পাদ্যদেশে তারপর থেকে স্বৈরাচারি এরশাদের পতন শুধুমাত্র দিন আর ক্ষণের অপেক্ষা আসে। উল্লেখ্য যে ১৯৯০ সালে অক্টোবর মাসে তখন কিন্তু মোবাইল কিংবা ডিজিটালের যুগ ছিল না। কিন্তু জেহাদের মত সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গঠন স্বৈরাচারী এরশাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে না যাওয়া সারা দেশে খবরটি ছড়িয়ে যায়। এমনকি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। স্বৈরাচার এরশাদ ভিত নড়বড়ে হয়ে যায় যেমন একদিকে অপরদিকে সকল রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ বিএনপি সহ কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের পষ্য দালাল রাজনৈতিক দল ছাড়া। দেশের সকল রাজনৈতিক দল সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য সাথে ঐক্যমত হয়। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। কৃষক শ্রমিক ছাত্র-জনতা মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে সামিল হয়।৮ দল, ৭ দল, ৫ দল, মিলে তিনজোটের রূপরেখা প্রণীত হয় এবং ছাত্র সমাজের দশ দফা । তিন জোটের রুপরেখা ও ছাত্র সমাজের দশ দফা বাস্তবায়ন করা হয় এবং যাদের পতনের পর নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় যায়, মূলত তিন জোটের রূপরেখা ও ছাত্র সমাজে দশ দফা ছিল একটি আদর্শের দলিল এবং জেহাদ শহীদ হওয়ার পর রক্তের মধ্যে দিয়ে সূচিত হয় ঐক্যের প্রতীক। শহীদ জেহাদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল করলেও তখন প্রত্যেক ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো আদর্শ ছিল এক ও অভিন্ন। স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনির্মাণ অর্জিত স্বাধীনতা মূল্যবোধের অর্জিত বাংলাদেশ গঠন হবে।যে বাংলাদেশে স্বাধীনতা সামাজিক ন্যায় বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের বাস্তবায়নের সাথে সাথে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক নিরাপত্তা দিবে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের মালিক হবে জনগণ। স্বৈরাচারী এরশাদের পদত্যাগের ঘোষনার পর এবং ৬ ডিসেম্বর এরশাদ আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন কে তত্ত্বাবধায় সরকারের প্রধান করে এরশাদ পদত্যাগ করে। পর পর চারটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন হয় ক্ষমতার অধীন হয়েছে কিন্তু তিন জোটের রূপরেখা ও ছাত্রসমাজে ১০ দফা বাস্তবায়ন করা হয় নাই। প্রতিবছর ১০ অক্টোবর পালিত হয় জেহাদ দিবস। বার বার ফিরে আসে ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস। আসে ফিরে ইতিহাসের শহীদ জেহাদের অবদান।৩৪ বছর পরেও মানুষ বলে জেহাদের কথা। তিন জোটের রূপরেখা ও ছাত্র সমাজে দশ দফার কথা

Tag :

টঙ্গীতে ভাড়াটিয়ার মাদক কারবার বন্ধের নির্দেশ প্রদান করায় বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে জখম করলো ভাড়াটিয়া

অশোক ধর

জেহাদ ছিলেন নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের ঐক্যের প্রতীক

প্রকাশিত ১২:২৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৪

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্র তরের দিকে যাচ্ছে। সারাদেশে সকল ছাত্র সংগঠন গুলো এরশাদ সরকারের পতনের জন্য প্রতিদিন আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।১০ অক্টোবর ছিল একটি ঐতিহাসিক দিন।সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে ঢাকা এসে ছাত্রদের মিছিলে জেহাদ এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করে ১০ই অক্টোবর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পেটুয়া বাহিনীর করা গুলিতে নাজির উদ্দিন জেহাদ শহিদ হন। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পুলিশ বাহিনী দ্বারা নিহত হওয়ার পর শহীদ জেহাদের লাশ কে সামনে রেখে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গঠিত হয় এবং সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের নেতারা শপথ নেয় স্বৈরাচার এরশাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাবো না। সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গঠিত হওয়ার পর অপরায় বাংলার পাদ্যদেশে তারপর থেকে স্বৈরাচারি এরশাদের পতন শুধুমাত্র দিন আর ক্ষণের অপেক্ষা আসে। উল্লেখ্য যে ১৯৯০ সালে অক্টোবর মাসে তখন কিন্তু মোবাইল কিংবা ডিজিটালের যুগ ছিল না। কিন্তু জেহাদের মত সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গঠন স্বৈরাচারী এরশাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে না যাওয়া সারা দেশে খবরটি ছড়িয়ে যায়। এমনকি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। স্বৈরাচার এরশাদ ভিত নড়বড়ে হয়ে যায় যেমন একদিকে অপরদিকে সকল রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ বিএনপি সহ কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের পষ্য দালাল রাজনৈতিক দল ছাড়া। দেশের সকল রাজনৈতিক দল সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য সাথে ঐক্যমত হয়। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। কৃষক শ্রমিক ছাত্র-জনতা মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে সামিল হয়।৮ দল, ৭ দল, ৫ দল, মিলে তিনজোটের রূপরেখা প্রণীত হয় এবং ছাত্র সমাজের দশ দফা । তিন জোটের রুপরেখা ও ছাত্র সমাজের দশ দফা বাস্তবায়ন করা হয় এবং যাদের পতনের পর নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় যায়, মূলত তিন জোটের রূপরেখা ও ছাত্র সমাজে দশ দফা ছিল একটি আদর্শের দলিল এবং জেহাদ শহীদ হওয়ার পর রক্তের মধ্যে দিয়ে সূচিত হয় ঐক্যের প্রতীক। শহীদ জেহাদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল করলেও তখন প্রত্যেক ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো আদর্শ ছিল এক ও অভিন্ন। স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনির্মাণ অর্জিত স্বাধীনতা মূল্যবোধের অর্জিত বাংলাদেশ গঠন হবে।যে বাংলাদেশে স্বাধীনতা সামাজিক ন্যায় বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের বাস্তবায়নের সাথে সাথে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক নিরাপত্তা দিবে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের মালিক হবে জনগণ। স্বৈরাচারী এরশাদের পদত্যাগের ঘোষনার পর এবং ৬ ডিসেম্বর এরশাদ আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন কে তত্ত্বাবধায় সরকারের প্রধান করে এরশাদ পদত্যাগ করে। পর পর চারটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন হয় ক্ষমতার অধীন হয়েছে কিন্তু তিন জোটের রূপরেখা ও ছাত্রসমাজে ১০ দফা বাস্তবায়ন করা হয় নাই। প্রতিবছর ১০ অক্টোবর পালিত হয় জেহাদ দিবস। বার বার ফিরে আসে ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস। আসে ফিরে ইতিহাসের শহীদ জেহাদের অবদান।৩৪ বছর পরেও মানুষ বলে জেহাদের কথা। তিন জোটের রূপরেখা ও ছাত্র সমাজে দশ দফার কথা