১২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কালাই (জয়পুরহাট ) প্রতিনিধি :

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠ ও বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার

  • প্রকাশিত ০৫:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
  • ১৮৪ বার দেখা হয়েছে

জয়পুরহাটের কালাইয়ে একটি রাস্তা সরকারি পুকুরে বিলীন হওয়ায় কাঠ ও বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি গ্রামের শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন থেকে যাতায়াত করছেন। রাস্তাটি পুনঃ নির্মাণের জন্য গ্রামবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও কোন ফল পায়নি। ফলে নিরুপায় গ্রামবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় ওই সরকারি পুকুরটি ভরাট করে রাস্তাটি আগের অবস্থায় ফিরে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
জানা গেছে. কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের সাঁতার পূর্বপাড়া গ্রামের মাগুড়া গাড়ি নামক প্রায় দুই বিঘা আয়তনের একটি খাস পুকুর সরকারিভাবে ইজারা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষের ফলে গ্রামবাসীর চলাচলের পূরনো একমাত্র রাস্তাটি ওই পুকুর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে উপকার না পাওয়ায় আট মাস আগে গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে প্রায় এক লক্ষ টাকা খরচ করে টানা তিন ধরে কাঠ ও বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। এখনও ঝুঁকি নিয়ে ওই সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করছেন।
সরজমিনে,সাতার গ্রামের ইউনুস,আব্দুল আজিজ, বুলবুল গাফফার, কালামসহ অন্তত ১২ জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জীবন ও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন তাদের এই পথে চলাচল করতে হয়-যা তাদের জন্য অত্যন্ত আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এদুর্ভোগের শিকার। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং প্রসূতি মহিলাদের দুর্ভোগ বেশি কষ্টদায়ক।
ইউসুব আলী জানান,তার ছয় বছরের মেয়ে সাড়াবান তহুড়া ঝুঁকিপূর্ন এই বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ইতিপূর্বে তিন বার পুকুরে পড়ে যায়। এলাকাবাসীর নজরে পড়ায় মেয়েটি তিন বারই প্রাণে বেঁচে যায়। ফলে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। আলতাফুন্নেসা, ফেরদৌস হোসেনসহ অনেকে অনুরুপ মন্তব্য করেন।
একাব্বর হোসেন (৭৫) জানান, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে যাননা তিনি। গ্রামের বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে বাঁশের সাঁকোর কথা মনে পড়ে ভয় কাজ করে তার।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রত পরির্দশন শেষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

Tag :
জনপ্রিয়

বাহারছড়ায় ঈদে মিলাদুন্নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপলক্ষে জুলুস অনুষ্ঠিত

কালাই (জয়পুরহাট ) প্রতিনিধি :

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠ ও বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার

প্রকাশিত ০৫:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

জয়পুরহাটের কালাইয়ে একটি রাস্তা সরকারি পুকুরে বিলীন হওয়ায় কাঠ ও বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি গ্রামের শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন থেকে যাতায়াত করছেন। রাস্তাটি পুনঃ নির্মাণের জন্য গ্রামবাসী একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও কোন ফল পায়নি। ফলে নিরুপায় গ্রামবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় ওই সরকারি পুকুরটি ভরাট করে রাস্তাটি আগের অবস্থায় ফিরে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
জানা গেছে. কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের সাঁতার পূর্বপাড়া গ্রামের মাগুড়া গাড়ি নামক প্রায় দুই বিঘা আয়তনের একটি খাস পুকুর সরকারিভাবে ইজারা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষের ফলে গ্রামবাসীর চলাচলের পূরনো একমাত্র রাস্তাটি ওই পুকুর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে উপকার না পাওয়ায় আট মাস আগে গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে প্রায় এক লক্ষ টাকা খরচ করে টানা তিন ধরে কাঠ ও বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। এখনও ঝুঁকি নিয়ে ওই সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করছেন।
সরজমিনে,সাতার গ্রামের ইউনুস,আব্দুল আজিজ, বুলবুল গাফফার, কালামসহ অন্তত ১২ জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জীবন ও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর উপর দিয়ে প্রতিদিন তাদের এই পথে চলাচল করতে হয়-যা তাদের জন্য অত্যন্ত আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এদুর্ভোগের শিকার। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং প্রসূতি মহিলাদের দুর্ভোগ বেশি কষ্টদায়ক।
ইউসুব আলী জানান,তার ছয় বছরের মেয়ে সাড়াবান তহুড়া ঝুঁকিপূর্ন এই বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ইতিপূর্বে তিন বার পুকুরে পড়ে যায়। এলাকাবাসীর নজরে পড়ায় মেয়েটি তিন বারই প্রাণে বেঁচে যায়। ফলে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। আলতাফুন্নেসা, ফেরদৌস হোসেনসহ অনেকে অনুরুপ মন্তব্য করেন।
একাব্বর হোসেন (৭৫) জানান, জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে যাননা তিনি। গ্রামের বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন হলে বাঁশের সাঁকোর কথা মনে পড়ে ভয় কাজ করে তার।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রত পরির্দশন শেষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।